সাবেক সেনাপ্রধান হারুন অর রশিদের মৃত্যু

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) এম হারুন অর রশিদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবের গেস্টহাউসের একটি কক্ষ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ জোনের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, রাত্রে তিনি চট্টগ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ক্লাবের ৩০৮ নম্বর কক্ষে রাত্রিযাপন করেন। পরদিন সকালে তার একটি জরুরি মিটিং ছিল, কিন্তু সকাল থেকে একাধিকবার মোবাইলে কল করেও তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

ক্লাব কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলে রুমে নক করা হয়, কিন্তু কোনো সাড়া না মেলায় বারান্দার গ্লাসের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে তার মরদেহ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

চট্টগ্রাম ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ উদ্দিন জানান, হারুন অর রশিদ গেস্টহাউসের ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১২টার পর কোনো সাড়া না পেয়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘুমের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী, পুলিশ, সিআইডি, ক্রাইম সিন ইউনিটসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা উপস্থিত ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে। মরদেহে আপাতত কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পরিবারের সম্মতি সাপেক্ষে মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

উল্লেখ্য, হারুন অর রশিদ ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০২ সালের ১৬ জুন অবসর গ্রহণ করেন। অবসরের পর তিনি ডেসটিনি গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

সাবেক এই সেনাপ্রধানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার ৪৮ যুবকের তাজা প্রাণ দেশের স্বপ্নে শহীদ

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে দেশের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলেন ভোলার বিভিন্ন উপজেলার ৪৮ তরুণ। কিন্তু ফিরে এসেছেন কফিনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৬ জন, পদদলিত ও পানিতে পড়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২ জনের। পরিবারে ভরনপোষণের স্বপ্ন নিয়ে যারা রাজধানী পাড়ি জমিয়েছিলেন, তারা আজ পরিণত হয়েছেন শহীদ হিসেবে ইতিহাসের পাতায়।

ভোলার সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও তজুমুদ্দিন উপজেলার হতভাগ্য শহীদ পরিবারের বুক ফাটা কান্না এখনো থামেনি। স্বজন হারানোর বেদনায় ডুবে থাকা এসব পরিবার আজ ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

কে কবে শহীদ হলেন:

  • ১৯ জুলাই: প্রাণ হারান ১৩ জন

  • ৪ আগস্ট: নিহত ৭ জন

  • ৫ আগস্ট: প্রাণ হারান ৮ জন


ভোলা সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের শহীদ রনি ছিলেন এক নবম শ্রেণির ছাত্র। কোটা সংস্কার আন্দোলনের খবরে ঢাকা যান ভাইয়ের সঙ্গে কাজ করতে, পরে আন্দোলনে অংশ নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান। বাবার কান্না থামে না, প্রতিদিন কবরের পাশে গিয়ে সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের শামিম ইলেকট্রনিক্স মিস্ত্রি হিসেবে ঢাকায় কাজ করতেন। তার মৃত্যুতে তিনটি ছোট সন্তান ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুরো পরিবার। মা বিউটি বেগম বললেন, “আমার ছেলের ছেলেদের ভবিষ্যৎ কে গড়বে?”

চরফ্যাশনের শহীদ হাচনাইন ঢাকায় ইন্টারনেট সার্ভিসে কাজ করতেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর বহু হাসপাতাল ঘুরেও সেবা পাননি বলে অভিযোগ তার মা হাছিনা বেগমের। “চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেল আমার ছেলে, ওরা শুধু একটা সীল মেরে বললো মৃত।”

শহীদ ওমর ফারুকের বাবা মিলন ফরাজি বলেন, “আমার ছেলে নির্মমভাবে নিহত হয়েছে, এখনও বিচার হয়নি।”

আন্দোলনকারী রাহিম ইসলাম বলেন, “শহীদ পরিবারগুলো আজও অবহেলিত। কেউ খোঁজ নিচ্ছে না। ভোট ও রাজনীতির মধ্যে শহীদদের গল্প হারিয়ে যাচ্ছে।”


ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, “প্রতিটি শহীদ পরিবারের পাশে আছি। সরকারি-বেসরকারি ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহায়তা দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতেও চলবে।”

তবে শহীদ পরিবারের একটাই দাবি—দ্রুত গণহত্যার বিচার ও পুনর্বাসন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জামায়াত আমিরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠালেন রাষ্ট্রপতি

বাইপাস সার্জারির পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্টের এপিএস মুহাম্মাদ সাগর হোসাইনকে।

রোববার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি ইউনাইটেড হাসপাতালে পৌঁছান। সেখানেই তাকে অভ্যর্থনা জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং ডা. শফিকুর রহমানের ছোট ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ফখরুল ইসলাম, যিনি সিলেট মহানগর জামায়াতের আমিরও।

রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দিয়ে এপিএস সাগর হোসাইন জানান, রাষ্ট্রপতি ডা. শফিকুর রহমানের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তার সুস্থতা কামনায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতির এ খোঁজখবর নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ভিন্নমতের নেতার স্বাস্থ্য সংকটে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারী প্রতিনিধি পাঠিয়ে মানবিকতা প্রদর্শন করলেন।




গাজায় খাদ্য সহায়তার লাইনে ইসরায়েলি বোমা, একদিনেই নিহত ১১৯ ফিলিস্তিনি

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের টানা বিমান ও স্থল হামলায় আরও একদিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৯ জন ফিলিস্তিনি। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই খাদ্য সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনে গাজায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা এখন ৬০ হাজার ৮৩৯ জন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে পৌঁছেছে আরও ১১৯টি মরদেহ ও ৮৬৬ জন আহত। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ ও রাস্তায় পড়ে থাকা বহু মরদেহ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, শুধু মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ৬৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৫১১ জনেরও বেশি। চলতি বছরের ২৭ মে থেকে সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টাকালে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৮৭ জন এবং আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫৭৮ জন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নতুন করে ২৯০টি মরদেহ শনাক্ত করে নিহতের তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। সংকট গভীর হওয়ায় মানবিক সহায়তা সংগ্রহের চেষ্টায় ফিলিস্তিনিরা প্রতিনিয়তই নিজেদের জীবন বিপন্ন করছেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের যে চুক্তি হয়েছিল, তা ১৮ মার্চ ইসরায়েলের নতুন হামলার মধ্য দিয়ে ভেঙে যায়। এরপর থেকে ওই সময়ের মধ্যে ৯ হাজার ৩৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩৭ হাজার ৫৪৭ জন।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলছে গণহত্যার মামলাও।

বিশ্ব সম্প্রদায় যখন গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে, তখন টিকে থাকার জন্য প্রতিদিন যুদ্ধ করছে খাদ্য সহায়তা নিতে আসা লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি।




তরুণদের ঘিরেই রাজনৈতিক পুনর্জাগরণে বিএনপি: তারেক রহমান

তরুণদের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, যুগোপযোগী শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং চরমপন্থা প্রতিরোধ—এই পাঁচ দিকনির্দেশনায় দেশের ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় ছাত্র সমাবেশে ভিডিও বার্তায় এসব দিক তুলে ধরে তরুণদের ‘ধানের শীষ’-এ ভোট দিতে আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক।’

তারেক রহমান বলেন, “দেশের ১৩ কোটি ভোটারের মধ্যে গত দেড় দশকে ৪ কোটিরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এই বিপুলসংখ্যক তরুণ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। সামনে সেই অধিকার পুনরুদ্ধারের সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই।”

শিক্ষা ও দক্ষতা: আমূল সংস্কারের বার্তা

শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির এ নেতা বলেন, “কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষা শিক্ষা, ই-কমার্স ও আউটসোর্সিংয়ে দক্ষতা অর্জন, উচ্চশিক্ষায় মেধার বিকাশ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে বিএনপি।”

তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে স্কুলস্তর থেকেই আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে, যাতে বিশ্ববাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা তৈরি হয়।

প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের সুযোগ

তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর একটি কর্মমুখী ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, “নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিশ্বায়নের এই যুগে সম্ভাবনার সব দরজা খোলা। তরুণদের এসব সম্ভাবনাকে সাফল্যে রূপ দিতে আইসিটি ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জন করা ছাড়া বিকল্প নেই।”

চরমপন্থা ও উগ্রবাদ প্রতিরোধে তরুণদের দায়িত্ব

তারেক রহমান বলেন, “আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তরুণদেরকেই ফ্যাসিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার পুনর্বাসন ঠেকাতে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীদিনের রাষ্ট্র নির্মাতা।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও উদ্যোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই ঐতিহাসিক বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নিরাপদ ভূমি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আবাসন সংকট ও খাবারের মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সুপারিশ চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

তিনি একইভাবে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাও চিহ্নিত করে সমাধানের প্রস্তাবনা তৈরির নির্দেশ দেন।

নবীন-প্রবীণের সম্মিলনে স্বপ্নের বাংলাদেশ

তারেক রহমান বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটা একজন মায়ের চোখে কাঙ্ক্ষিত। সেই বাংলাদেশ গড়তে নবীন-প্রবীণ সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শামসুজ্জামান দুদু, আসাদুজ্জামান রিপন, আমানউল্লাহ আমান, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।




‘নতুন পথের দিশা’ দিতে ৫ আগস্ট আসছে জুলাই ঘোষণাপত্র

গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির উদ্দেশে তাদের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে যাচ্ছে। আগামী ৫ আগস্ট বিকেল ৫টায় ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ উপস্থাপন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তথ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঘোষণাপত্রের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা সরকারপ্রধান নিজেই জাতির উদ্দেশে পাঠ করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বহু প্রতীক্ষিত এ ঘোষণাপত্র হতে যাচ্ছে দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি মৌলিক রূপরেখা। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকার তার নীতিগত অবস্থান, সাংবিধানিক সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা স্পষ্ট করবে।

রাজনীতি থেকে অর্থনীতি—বদলের রূপরেখা

জুলাই ঘোষণাপত্রে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আগামী নির্বাচনকে ঘিরে কাঠামোগত পরিকল্পনা, প্রশাসনিক রদবদলের সম্ভাবনা এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো স্থান পাচ্ছে।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই থাকবে এই ঘোষণার মূল প্রতিপাদ্য।

গণআন্দোলনের পর প্রথম রাজনৈতিক নীতিপত্র

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার মূলত একটি পুনর্গঠনের ম্যান্ডেট নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুলাই ঘোষণাপত্র সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের প্রথম সরকারিভাবে ঘোষিত দিকনির্দেশনা।

অনেকেই এই ঘোষণাকে ‘নতুন পথের দিশা’ হিসেবেই দেখছেন, যা পরবর্তী সরকারের কাঠামো, নির্বাচন এবং সমাজিক ভারসাম্য তৈরির ক্ষেত্রে গাইডলাইন হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।




ভবিষ্যতের রাষ্ট্র কাঠামোর রূপরেখা দিল এনসিপি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের দিক-নির্দেশনা ঘোষণা করল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটি এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় ‘নতুন বাংলাদেশ’-এর জন্য ২৪ দফার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশ করেছে, যেখানে জোর দেওয়া হয়েছে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, জনগণের ওপর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রত্যাবর্তন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার ওপর।

দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ২৪ দফা কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য একটি কাঠামোগত রূপরেখা।

ক্ষমতার কেন্দ্রীভবনের অবসান চায় এনসিপি

ইশতেহারে বলা হয়েছে, একচ্ছত্র ক্ষমতার রাজনীতি নতুন বাংলাদেশে আর থাকবে না। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ করা, সংসদের বিকেন্দ্রীকরণ, প্রশাসনিক বিভাগীয় কাঠামোর গণতান্ত্রিক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রীয় পদে ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে দলটি।

সংবিধান ও নাগরিক অধিকারে রূপান্তরমূলক প্রতিশ্রুতি

দলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান ও সংবিধানের চেতনার ভিত্তিতে নতুন এক সমাজগঠনের। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, নাগরিক তথ্যের অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের মর্যাদা সংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার ঘোষণা এসেছে।

গণঅভ্যুত্থান ও সেনা কর্মকর্তাদের স্বীকৃতি

একটি ব্যতিক্রমী দফায় এনসিপি বলেছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনীর যারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানের দিকনির্দেশনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কাঠামোগত সংলাপ শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর ও উৎপাদনভিত্তিক পরিকল্পনা

গুটিকয়েক গোষ্ঠীর হাতে অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অবসান চায় এনসিপি। তারা বলছে, উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে সম্পদের বণ্টন, একক দাতা নির্ভরতা থেকে মুক্তি, এবং শ্রমিক-কৃষকের ঐক্য ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করবে তারা।

প্রযুক্তি ও আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি

ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর ন্যায্য বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এবং তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে জাতীয় স্তরের প্ল্যাটফর্ম গড়ার কথাও বলা হয়েছে।

নতুন কূটনীতি ও আঞ্চলিক বন্ধুত্বের দৃষ্টিভঙ্গি

ঔপনিবেশিক প্রভাব ও পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত থাকার সংকল্পে এনসিপি বলেছে, তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বন্ধুত্ব নয়, সমতা ও সংহতি’র ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরপেক্ষ ও বিকল্প কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে।

নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার

নারী-পুরুষের বৈষম্যমুক্ত সমাজ গঠনে সংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার, শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তৃতীয় লিঙ্গসহ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এনসিপি।

এক নজরে এনসিপির প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলো:

  • গণঅভ্যুত্থানের ভিত্তিতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন
  • শাসন কাঠামোয় বিকেন্দ্রীকরণ ও বিভাগীয় স্বায়ত্তশাসন
  • প্রশাসনিক সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
  • সংবাদমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা ও তথ্যের অধিকার আইন
  • সামরিক বাহিনীর গণমুখী রূপান্তর এবং স্বীকৃতি প্রদান
  • অর্থনৈতিক গোষ্ঠীপ্রভুত্বের অবসান ও উৎপাদন-ভিত্তিক অর্থনীতি
  • ধর্ম ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি
  • নারীবান্ধব, শিশু-সহায়ক ও পরিবেশবান্ধব রাষ্ট্রনীতি
  • প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কূটনীতি

এনসিপি জানায়, তারা এ ২৪ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কেবল নতুন সরকার নয়, এক নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চায়—যেখানে ক্ষমতা জনগণের, রাষ্ট্রের নয়।




এক দশক ধরে তালাবদ্ধ পিরোজপুরের নৌ আবহাওয়া অফিস

প্রায় এক দশক ধরে বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে পিরোজপুরের কাউখালীতে নির্মিত কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি নৌ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রটি। স্থানীয়দের অভিযোগ—যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো থাকলেও নেই কোনো কার্যক্রম, নেই সেবাপ্রদান। বরং এখন সেটি পরিণত হয়েছে আবাসিক হোটেলের মতো এক পরিত্যক্ত ভবনে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। পাশের পকেট গেট দিয়ে ঢুকে দেখা যায়, অফিস কক্ষগুলোতে বসার টেবিল সরিয়ে বিছানা পাতা, চলছে রান্নাবান্না, কাপড় শুকানো। অফিসের আসবাবপত্র রাখা হয়েছে বাইরে। অনেকটা যেন সরকারি দপ্তরের নামে একটি বসবাসযোগ্য আবাস।

২০০৮ সালে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে শুরু হয় নৌ আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ। মূল ভবনের কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে এবং হস্তান্তর হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৮ সালে কিছুসংখ্যক জনবল নিয়োগ দেওয়া হলেও সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা মেলে না বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এমনকি অফিসে নিযুক্ত আনসার সদস্যও নিয়মিত থাকেন না।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর তারা অফিস খোলা দেখেননি। ব্যবসায়ী সোয়াইব সিদ্দিক বলেন, “এটি উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। আমরা এই অফিসের কোনো সুফল পাইনি।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, মংলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত নৌপথে কাউখালী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে দুটি নদীপথ বিভক্ত হয়ে বরিশাল ও স্বরূপকাঠী হয়ে ঢাকায় গিয়ে মিশেছে। তাই এখানে একটি কার্যকর আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রটির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজেদুল হক বলেন, “আমি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এখানে দায়িত্বে রয়েছি এবং নিয়মিত অফিস চালাচ্ছি। কিছু যন্ত্রপাতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ থাকলেও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাত্রিকালীন ডিউটির কারণে বিশ্রামের জন্য বিছানা রাখা হয়েছে, এর বাইরে কিছু নয়।”

তবে স্থানীয়দের দাবি, একটি কার্যকর পূর্বাভাস কেন্দ্র চালুর উদ্দেশ্যে নির্মিত এই সরকারি স্থাপনাটি যেন অদক্ষতা, অবহেলা ও অনিয়মের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




৪৫০ বছর পর জেগে উঠল রাশিয়ার মৃত আগ্নেয়গিরি

রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কামচাটকা অঞ্চলে প্রায় ৪৫০ বছর পর হঠাৎ করে জেগে উঠেছে ‘ক্র্যাশেনিনিকভ’ নামের একটি মৃত আগ্নেয়গিরি। ১৫৫০ সালের পর এই প্রথম আগ্নেয়গিরিটি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে। ভূপৃষ্ঠের গভীর থেকে উদ্গিরিত ছাইয়ের বিশাল কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ে, যা অঞ্চলজুড়ে এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও বাসস জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতটি সাম্প্রতিক একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই শুরু হয়। গত বুধবার কামচাটকায় ৮.৮ মাত্রার একটি ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল পেত্রোপাভলোভস্ক-কামচাটস্কি শহর থেকে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার পূর্বে।

এ ভূমিকম্পের পর শুধু ক্র্যাশেনিনিকভই নয়, কামচাটকার আরেকটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি ‘ক্লিউচেভস্কয়’ থেকেও অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। উচ্চতায় ১৫,৫৮০ ফুট এই আগ্নেয়গিরিটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর মধ্যে একটি। ২০২২ সালে এখানেই পর্বতারোহণের সময় আটজন অভিযাত্রী প্রাণ হারান।

রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাভার স্রোত এখনো প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখনো পর্যন্ত কোনও ছাই পড়ার ঘটনা রেকর্ড হয়নি। তবে, যে কোনও সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে বিমান চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দীর্ঘ চার শতকেরও বেশি সময় ঘুমিয়ে থাকা আগ্নেয়গিরির এমন জেগে ওঠা প্রকৃতির ভয়াবহতারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈদেশিক মুদ্রার উৎস এখন পিরোজপুরের কচুরিপানা

এক সময় অযত্ন আর অবহেলার প্রতীক ছিল কচুরিপানা, এখন তা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মানুষের জন্য রীতিমতো স্বপ্নের সোপান। উপজেলার দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের এই জলজ উদ্ভিদ এখন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়রা কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন পাপোশ, রকমারি ফুলদানি, দৃষ্টিনন্দন ঝুড়ি, রঙিন পাটি, ব্যাগ, টুপি, জায়নামাজসহ নানা ধরনের কুটির শিল্প পণ্য। এসব পণ্য পরিবেশবান্ধব হওয়ায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে আয় হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

প্রথমে জলাশয় থেকে ১৮ ইঞ্চি মাপের কচুরিপানা সংগ্রহ করে তা কেটে ৩-৪ দিন রোদে শুকানো হয়। শুকনো কচুরিপানা প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন, তৈরি হচ্ছে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থান।

সরেজমিন দেখা গেছে, ছোট ছোট গ্রামীণ সড়কের পাশে কর্মচঞ্চল শ্রমিকরা কচুরিপানা শুকানোর কাজে ব্যস্ত। মৌসুম মাঘ থেকে জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হলেও, সারা বছরই এ কাজ চলে।

মাদরাসা ছাত্র হাফিজুর রহমান বলেন, “অবসর সময়ে কচুরিপানা শুকিয়ে দৈনিক একশ থেকে দুইশ টাকা আয় করছি।” উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে এ শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান মিল্টন জানান, “নাজিরপুরের কৃষকদের উদ্ভাবনী শক্তি অসাধারণ। কচুরিপানা প্রসেসিং করে কুটির শিল্পের কাঁচামাল বানিয়ে তারা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছেন। এর পণ্যকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমরা উদ্যোগ নেব।”

অবহেলিত কচুরিপানার এমন রূপান্তর শুধু নাজিরপুর নয়, গোটা দেশের কুটির শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫