শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের, শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামিকরণ, শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণসহ একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে ছিল। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির কারণে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে একটি ঈমানভিত্তিক, নৈতিকতা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”

জামায়াত প্রতিনিধি দলের প্রধান দাবি ছিল—দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ। তাদের মতে, “শিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড হলে, শিক্ষকই হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষক যদি উপেক্ষিত থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।”

দ্বিতীয় প্রধান দাবি হিসেবে তারা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আহ্বান জানায়। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দ্রুত প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানায় দলটি।

সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দল বলেন, “দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা দরকার।”

শিক্ষা উপদেষ্টা দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াত নেতা।

বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।




গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা : রাষ্ট্রপতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তরুণ প্রজন্মের বিস্ফোরিত ক্ষোভের প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছেন, “বহুদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, গুম, খুন ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে এই অভ্যুত্থান ছিল নির্যাতিত জনতার সম্মিলিত প্রতিবাদ।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, “এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আহত, পঙ্গুত্ব বরণকারী এবং দৃষ্টিশক্তি হারানো জুলাইযোদ্ধাদের প্রতিও রাষ্ট্র কৃতজ্ঞ। শহীদদের পরিবার এবং আহতদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব, এবং এই দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ।”

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয়ের রূপ নেয়। “এটি শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং জনগণের ক্ষমতায়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক অনন্য অর্জন। এই চেতনা ধারণ করে আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার মূলোৎপাটন এবং একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র ব্যাপক সংস্কার প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হচ্ছে। এই সংস্কার গণতন্ত্র, ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়বে—এটাই আমার প্রত্যাশা।”




গণতন্ত্রের উত্তরণে বাধা দিচ্ছে চক্রান্তকারীরা, জাতীয় ঐক্যের ডাক ফখরুলের

গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে দেশজুড়ে চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র যেন সঠিক পথে এগোতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়’ শীর্ষক যুবসমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

ফখরুল বলেন, “আমরা গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে প্রায় ৮ বছর তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এই লড়াই চালিয়ে গেছি। আজ যখন একটি ট্রানজিশন পিরিয়ডে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তখনই একদল চক্রান্তকারী অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের সময় পার করে আমরা এখন এমন একটি সময় অতিক্রম করছি, যেখানে সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেঙে পড়া অর্থনীতি ও রাজনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। ইতিহাস বলে, যখনই দেশ ভেঙে পড়ে, তখনই বিএনপি এগিয়ে এসে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নেয়। এবারও আমাদের সেই প্রস্তুতি থাকতে হবে।”

তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, পরস্পরের প্রতি কাদা ছোড়াছুড়ি না করে সম্মিলিতভাবে গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে পুনর্গঠনের কাজ করি। এটাই আমাদের সামনে বড় সুযোগ। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করানো সম্ভব।”

এই সমাবেশে বিএনপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বক্তৃতায় ফখরুল জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।




‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠে দেশজুড়ে জনসমাগম নিশ্চিতে সরকার ভাড়া নিল ১৬টি বিশেষ ট্রেন

জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ১৬টি (৮ জোড়া) বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে সরকার। আগামী ৫ আগস্ট দুপুরের মধ্যে এসব ট্রেনে অংশগ্রহণকারীরা রাজধানীতে পৌঁছাবেন এবং অনুষ্ঠান শেষে রাতেই ফিরে যাবেন নিজ নিজ গন্তব্যে।

রেলওয়ে ও মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ ব্যবস্থার জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৪৬ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

রোববার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তরের আবেদনের প্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে ট্রেন ভাড়ার নির্দেশ দেয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এরপরই ট্রেনের রুট, সময়সূচি ও কোচ সংখ্যা নির্ধারণ করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী—

  • রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে ট্রেনগুলো ছাড়বে ৪ আগস্ট রাতে ও ৫ আগস্ট ভোরে।
  • ঢাকার আশপাশের গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও ফরিদপুর থেকে ট্রেন ছাড়বে অনুষ্ঠান শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে।
  • অনুষ্ঠান শেষেই রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এসব ট্রেন গন্তব্যে ফিরতি যাত্রা শুরু করবে।

রেলওয়ের তথ্য মতে, রংপুর থেকে ১৪ কোচের একটি ট্রেনের ভাড়া ধরা হয়েছে সর্বোচ্চ—প্রায় ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম থেকে ১৬ কোচের ট্রেনের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য জেলার ট্রেনগুলোর ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে দূরত্ব ও কোচ সংখ্যার ভিত্তিতে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন, “আমরা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন ভাড়া দিয়েছি। এখানে মূল বিষয় হলো—সরকার নিজে অর্থ পরিশোধ করছে।”

এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিশেষ ট্রেন ভাড়া করেছে। রোববার ছাত্রদলের শাহবাগের ছাত্র সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে ২০ কোচের বিশেষ ট্রেন আনা হয়। এর আগে জামায়াতে ইসলামীর একটি কর্মসূচিতে চারটি রুটে ট্রেন চালানো হয়েছিল, যার ভাড়া ছিল প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

রেল কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন ভাড়ার জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে যে কোনো সংস্থা বা সংগঠনকে ট্রেন দেওয়া হয়ে থাকে। তবে এ ধরনের ভাড়ায় সাধারণ টিকিট মূল্যের তুলনায় গড়ে ৩০ শতাংশ বেশি চার্জ নেওয়া হয়।

সরকারের উদ্যোগে ট্রেন ব্যবস্থাপনার এই পদক্ষেপ ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে।




গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের ভিন্ন কৌশল অব্যাহত, তথ্য প্রবাহেও জট — টিআইবি

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি, বরং ভিন্ন কৌশলে নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে ‘নতুন বাংলাদেশ: কর্তৃত্ববাদী সরকার পতন-পরবর্তী এক বছরের ওপর পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে সংস্থাটি এই মূল্যায়ন তুলে ধরে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সাংবাদিক, লেখক ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চলেছে। এই সময় ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হন। তাদের মধ্যে ২৬৬ জনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত হত্যা মামলায় আসামি করা হয়। দায়িত্ব পালনের সময় হামলায় প্রাণ হারান তিনজন সাংবাদিক।

এছাড়া ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মীকে পদচ্যুত করা হয়, ১৫০ জনের বেশি সাংবাদিক চাকরি হারান এবং অন্তত ৮টি পত্রিকার সম্পাদক ও ১১টি টেলিভিশনের বার্তা প্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে, সংঘবদ্ধ মব তৈরি করে সংবাদমাধ্যম কার্যালয়ে ভীতি ছড়ানো হয়েছে। সরকার তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকারে বাধা দেওয়া হয়েছে।

২০২২ সালের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন নীতিমালায় সংশোধন আনা হলেও তা কার্যত গণমাধ্যমবান্ধব হয়নি বলে দাবি করা হয়।

টিআইবি আরও বলেছে, তথ্য কমিশনকে নিষ্ক্রিয় রেখে এবং তথ্য অধিকার আইন সংস্কারে সরকারের অনীহা জনগণের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সংকুচিত করছে। দপ্তরগুলোতে তথ্য গোপনের প্রবণতা এবং স্বপ্রণোদিতভাবে তথ্য না দেওয়ার সংস্কৃতি এখনো বহাল রয়েছে।

সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ সম্পর্কেও টিআইবির পর্যবেক্ষণ নেতিবাচক। সংস্থাটির মতে, কিছু ধারা সংশোধন হলেও জাতিসংঘের সুপারিশ পুরোপুরি মানা হয়নি। অস্পষ্ট সংজ্ঞা ও দমনমূলক কাঠামোর কারণে আইনের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গবেষণা পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামান, ফেলো মো. জুলকারনাইন, শাহজাদা এম আকরাম এবং ফারহানা রহমান।

টিআইবি তাদের মূল্যায়নে স্পষ্ট করে জানায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, যা গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক।




আগামীকাল উপস্থাপিত হচ্ছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’, জাতীয় সংসদে থাকবেন ইউনূস

আগামীকাল বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত সুধী সমাবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে বহুল আলোচিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’।

গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত নানা পক্ষের প্রতিনিধিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে দেশের বিশিষ্টজন, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের।

ঘোষণাপত্রটির বিষয়ে আগ্রহ বাড়তে থাকায় আয়োজক মহলের পক্ষ থেকে গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রূপরেখা এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পথনকশা নিয়েই মূলত ঘোষণাপত্রটি তৈরি করা হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছিল, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং সেটিই ঘোষণাপত্র আকারে প্রকাশ পাবে।


আল-আমিম



জালিয়াতি মামলায় খায়রুল হকসহ ৮ জন ফাঁসছেন

রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছয়তলা বাড়ি থাকার পরও সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে পূর্বাচলে প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকসহ রাজউকের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, খায়রুল হক প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বে থাকা অবস্থায় পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ১ নম্বর সেক্টরের ১০২ নম্বর রোডের ০০৪ নম্বর প্লটটি নিজের নামে রেজিস্ট্রেশন করান। অথচ তার নামে এরই মধ্যে ঢাকার নায়েম রোডে একটি ছয়তলা বাড়ি রয়েছে। এ তথ্য গোপন রেখে তিনি রাজউক বরাবর মিথ্যা হলফনামা দাখিল করেন।

পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে এমন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ সরকারি চাকরি আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। অভিযোগ উঠেছে, সাবেক বিচারপতি এই অনিয়ম করতে গিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং এ কাজে রাজউকের একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশ ছিল।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে তারা হলেন–
সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্ম সচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, আসামিরা আইনসম্মতভাবে প্লট বরাদ্দের যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও, একে অপরের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিজেদের এবং অন্যদের অবৈধভাবে লাভবান করেছেন। এতে শুধু সম্পদ আত্মসাৎই নয়, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহারও ঘটেছে।

তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১, ১৬৩, ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।

তদন্ত শেষ হলে খুব শিগগিরই আদালতে মামলাটি দায়ের করা হবে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ১০ আগস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ১০ আগস্ট দেশের খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। এরপর যাচাই-বাছাই ও আপত্তির প্রক্রিয়া শেষে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

ইসি সূত্র জানায়, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত ভোটার ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত এমন ভোটারদের তালিকা এবার হালনাগাদ হচ্ছে। ১ জানুয়ারি ২০০৭ বা তার পূর্বে যাদের জন্ম, এমন নাগরিকদের নাম থাকছে সম্পূরক তালিকায়। একইসঙ্গে মৃত ভোটারদের নাম কর্তনের কাজও সম্পন্ন করা হবে এ পর্যায়ে।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. শরিফুল আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে আবেদন গ্রহণ। যে কেউ তাদের নাম তালিকায় না থাকলে, ভুল থাকলে বা স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে সেই সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন।

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন এর ওপর ভিত্তি করেই আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। আগের একাধিক বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এইবার প্রায় ৪৪ লাখ ৬৬ হাজার নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় যোগ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আগামী নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকার নির্ভুলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে এবার ব্যাপকভাবে যাচাই-বাছাই, ওজর-আপত্তি ও তথ্য হালনাগাদের সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন চাইছে, যেন দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের নাম সঠিকভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকে এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নাম না থাকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অভিযান চলবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, “আমাদের অনেক অস্ত্র খোয়া গেছে। সেগুলো উদ্ধার করতে হবে। তাই এই অভিযান নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।”

৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জনমনে আতঙ্ক আছে কি না—এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, “৩ আগস্ট ঘিরেও কিছুটা আতঙ্ক ছিল, তবে আল্লাহর রহমতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক ভালো। সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় যা ছিল, তার তুলনায় আমরা অনেকটা অগ্রসর হয়েছি।”

তবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এখনো হয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি। তার ভাষায়, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে কি না, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”

৫ আগস্টকে ঘিরে বিশেষ সতর্কতা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সতর্কতা সব সময়ই থাকে। আমাদের বাহিনীও প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।”

 

এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের গতি অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সহিংসতা ঠেকাতেও এ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি, আতঙ্ক না ছড়ানোর দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছেন উপদেষ্টা।


মো. আল-আমিন
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘সমালোচনার চেয়ে অন্তর্দৃষ্টিতে দেখুন অগ্রগতি’ — পরামর্শ অর্থ উপদেষ্টার

অর্থনীতির অগ্রগতি মূল্যায়নে শুধু সমালোচনার চেয়ে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “দেখতে হলে দৃষ্টি লাগে, অন্তর্দৃষ্টি লাগে। দেখতে না চাইলে কেউই দেখতে পারবে না।”

সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন অর্থ উপদেষ্টা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের কর-ভ্যাট-কাস্টমস সংক্রান্ত পরিবর্তন তুলে ধরা এবং ই-রিটার্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, “আমাদের জুনিয়র অর্থনীতিবিদরা বলে কিছুই দেখেন না। আমি তাদের অনেককেই চিনি, কারণ ৭০ সাল থেকে শিক্ষকতা করছি। সমালোচনা থাকবে, তবে ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। যদি কেউ শুরু থেকেই ভাবেন, অনেক কিছুই নাই — তাহলে উন্নয়নের দিকে দৃষ্টি যাবে না।”

তিনি অনলাইনে আয়কর রিটার্ন ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “৬৫ বছরের বেশি বয়স আমার। আমি খুব টেকসেভি নই। শুধু ফোনে মেসেজ নিতে পারি, ইমেইল করতে পারি। এর বেশি করলে আটকে যাই। তাই আমি মনে করি, এই প্রক্রিয়াটি এমন হওয়া উচিত যেন সবার জন্য বোধগম্য হয়।”

সমালোচনার জায়গায় স্বচ্ছতা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, “আমি সব সময় বলি, সানশাইন ইজ দ্য বেস্ট এন্টিসেপটিক। যতই জীবাণুনাশক ব্যবহার করি, কিন্তু আসল নিরাময় হলো দিনের আলোয় সত্য প্রকাশ হওয়া।”

সেমিনারে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা বলেন, “বাজেটের পরে সরকার সংবাদ সম্মেলন করলেও এনবিআর থেকে গণমাধ্যমকে পরিষ্কার করে জানানো হয় না কোন পরিবর্তন এসেছে। এতে ভুল বোঝাবুঝি হয়, বিশেষ করে বেসরকারি খাত থেকে পাওয়া তথ্য সব সময় সঠিক নাও হতে পারে।”

তিনি বাজেটের পর গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এনবিআর আয়োজিত আলাদা সেমিনারের পরামর্শ দেন, যাতে তারা রাজস্ব নীতির সঠিক ব্যাখ্যা জাতির কাছে তুলে ধরতে পারেন।

সেমিনারে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাজেট সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পরিবর্তনের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উপস্থিত ছিলেন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।