শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামি মূল্যবোধ সংযোজনের প্রস্তাব জামায়াতের, শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ইসলামিকরণ, শিক্ষকদের জাতীয়করণ ও নন-এমপিও শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণসহ একাধিক প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরে দলটির একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পথে ছিল। অনৈতিক ও ইসলামবিরোধী শিক্ষানীতির কারণে জাতির ভবিষ্যৎ হুমকিতে পড়েছিল। এখন সময় এসেছে একটি ঈমানভিত্তিক, নৈতিকতা-নির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার।”
জামায়াত প্রতিনিধি দলের প্রধান দাবি ছিল—দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের জাতীয়করণ। তাদের মতে, “শিক্ষা জাতি গঠনের মেরুদণ্ড হলে, শিক্ষকই হলেন শিক্ষার মেরুদণ্ড। শিক্ষক যদি উপেক্ষিত থাকেন, তাহলে জাতিও গঠিত হতে পারে না।”
দ্বিতীয় প্রধান দাবি হিসেবে তারা নন-এমপিও শিক্ষকদের দ্রুত এমপিওভুক্তির আহ্বান জানায়। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ভাতা দ্রুত প্রদানের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্ত করার দাবিও জানায় দলটি।
সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে একটি সর্বজনগ্রাহ্য কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে জামায়াত প্রতিনিধি দল বলেন, “দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিনিধি নিয়ে এমন একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা দরকার।”
শিক্ষা উপদেষ্টা দাবি-দাওয়াগুলো গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান জামায়াত নেতা।
বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।








