তিন শর্তে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমিরের

জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণেই আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে তিনটি মৌলিক শর্তের ভিত্তিতে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে চায় জামায়াতে ইসলামী, যেখানে কোনো একক দল নয়, জনগণের প্রতিনিধিরাই হবে মূল চালিকাশক্তি।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান, স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকা—এই তিন শর্ত মানলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অপশাসনের কারণে উত্তরাঞ্চলের প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। তিনি বলেন, কিছু ধুরন্ধর গোষ্ঠীর কারণে এ অঞ্চলের মানুষ দারিদ্র্যের বেড়াজালে আটকে আছে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে উত্তরাঞ্চল কৃষিভিত্তিক শিল্পের বড় কেন্দ্র হতে পারত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, দেশ ইনসাফের ভিত্তিতে পরিচালিত হলে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবে। পাশাপাশি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে মানসম্মত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

বেকার সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান নয়, বরং বেকার যুবকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে জামায়াতের লক্ষ্য। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘরকে এক একটি উৎপাদনমুখী কেন্দ্রে পরিণত করা হবে, যাতে মানুষ নিজের ঘর থেকেই আয়ের সুযোগ পায়।

এর আগে সূচি অনুযায়ী শুক্রবার তিনি ঠাকুরগাঁও ছাড়াও পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে জনসভায় অংশ নেন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনসভা করার কথা রয়েছে তার। এরপর গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় সফর শেষে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) তিনি ঢাকা-৫, ৬ ও ৭ আসনে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুছাব্বির হত্যায় আরেক শুটার গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরও এক ধাপ এগোল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই মামলার অন্যতম শুটার রহিমকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মুছাব্বির হত্যা মামলার তদন্তে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে নরসিংদী জেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার হওয়া শুটার রহিমকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের মূল পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত তথ্য এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে জানায় পুলিশ প্রশাসন। তবে আগামী দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিবি পুলিশ। গত ১০ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জিন্নাতকে, আব্দুল কাদির ও মো. রিয়াজকে আটক করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল এবং তাদের মধ্যে পেশাদার শুটারও ছিল।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৭ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের পেছনে স্টার হোটেলের সামনে মুছাব্বিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড রাজধানীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা পুলিশ বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে একের পর এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না—এমন আশ্বাস দিয়ে পুলিশ প্রশাসন বলছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১২ ফেব্রুয়ারির ভোটই ভবিষ্যৎ নির্বাচনের মানদণ্ড হবে: ইউনূস

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সব নির্বাচনের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে সদ্য নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সরকারের অবস্থান, প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠাবে। এতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি ভবিষ্যতের ভালো নির্বাচনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তিনি সবাইকে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, নির্বাচন নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা ও প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি নেই।

সাক্ষাৎকালে জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও শ্রম আইন সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শ্রম আইনে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্যপদ অর্জনে উদ্যোগী হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে সার্ককে কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শুল্ক হ্রাস পাবে, যা দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কারমূলক উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। কৃষিপণ্য ও বাণিজ্য সম্প্রসারণকে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা মতবিনিময় হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে খেলছে না বাংলাদেশ, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াল লাল-সবুজ

শেষ পর্যন্ত বাস্তব হলো শঙ্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া আসরটি ভারতে আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে কোনো সমাধানে না পৌঁছানোয় বিশ্বকাপের মঞ্চে নামার আগেই সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

সরকার ও বিসিবি শুরু থেকেই ভারতে খেলতে যাওয়ার বিষয়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাতে সম্মতি দেয়নি। উল্টো একদিন আগে বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ সরকার কোনো অবস্থাতেই দলকে ভারতে পাঠাবে না। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে আপস করার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ন্যায্যতা পায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং আশা প্রকাশ করেন, আইসিসি শেষ মুহূর্তে হলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে।

ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর বিসিবির অবস্থানও পরিষ্কার হয়ে যায়। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, তারা এখনও চান বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় হোক এবং সেই দাবিতে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে আইসিসির অনমনীয় অবস্থান ও ভোটাভুটির ফল বিসিবির সেই প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়।

আইসিসির বোর্ড সভায় বাংলাদেশ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভোটের মাধ্যমে। সেখানে বিসিবি পরাজিত হয় ১২-২ ভোটে। বাংলাদেশের পক্ষে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ভোট দেয়। অধিকাংশ পূর্ণ সদস্য দেশের সমর্থন না পাওয়ায় ক্রিকেট কূটনীতিতে বিসিবির সব প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে।

ভোটাভুটির পর আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের সব ম্যাচ ভারতেই আয়োজন করা হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও জানায় তারা। একই সঙ্গে আইসিসি জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশ অংশ না নিলে ‘সি’ গ্রুপে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রথম তিনটি ম্যাচ ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সূচি অনুযায়ী খেলতে রাজি না হওয়ায় ২০০৭ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপে খেলে আসা বাংলাদেশের ধারাবাহিকতায় বড় ছেদ পড়ল। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম কোনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ঘটছে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপরই বিসিবি নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি তোলে।

পরবর্তী প্রায় ২০ দিন বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক চিঠি চালাচালি, বৈঠক এবং আলোচনা হয়। আইসিসির প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে বৈঠকও করে। বিসিবি বারবার দাবি করে, তাদের অবস্থান আইনসম্মত ও যুক্তিসংগত। অন্যদিকে আইসিসি জানায়, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আয়োজক দেশের আশ্বাস অনুযায়ী ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।

আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ে ভারতীয় প্রভাব এবং ভোটিং কাঠামো নিয়েও নানা আলোচনা উঠে আসে ক্রিকেট অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে সংস্থাটি।

সব যুক্তি-পাল্টা যুক্তির পর দেশের নিরাপত্তা ও সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। এর ফলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। ক্রিকেটপ্রেমী দেশটির জন্য এটি কেবল ক্রীড়াগত নয়, ভাবমূর্তির দিক থেকেও বড় এক ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগামী নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে: মেজর হাফিজ

আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরে দেশের মানুষ নির্বাচনের নামে প্রহসনের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের দলীয় মনোনীত প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে প্রকৃত অর্থে গণতন্ত্র ফেরানোর একটি বড় সুযোগ।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন পৌরশহরের শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

মেজর হাফিজ বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার জনগণ অবাধ ও নিরাপদ পরিবেশে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে।

তিনি আরও বলেন, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। যারা বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে পারবে, সেই দলের যোগ্য প্রার্থীকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ—যেখানে সবাই শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করবে।

মেজর হাফিজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউ মন্দির কমিটির সভাপতি নীরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. ছাদেক মিয়া জান্টু, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারীসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দাঁড়িপাল্লায় ভোটের আহ্বান এনসিপি নেত্রীর

জামায়াত জোটের প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর–কাঁঠালিয়া) আসন থেকে নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতু। দলীয় সিদ্ধান্তের আলোকে তিনি জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের পক্ষে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডা. মাহমুদা মিতু। তিনি লেখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়ন প্রত্যাহার করলাম। আমার জীবনের প্রথম ভোট ইনশাআল্লাহ দাঁড়িপাল্লায় হবে। কাঁঠালিয়া-রাজাপুর আসনে যারা আমাকে ভালোবাসেন ও আমার পাশে থাকতে চেয়েছেন, তাদের কাছে অনুরোধ—আমার ভাই ড. ফয়জুল হকের পাশে থাকুন।”

এরপর একই দিন রাতে তিনি আরেকটি পোস্টে সরাসরি দাঁড়িপাল্লায় ভোট চান। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ সমর্থিত জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হককে সঙ্গে নিয়ে ১০ দলীয় জোটের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে রাজাপুরে পরিচিতি ও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ডা. মাহমুদা মিতু লেখেন,
“ইনশাআল্লাহ আগামীকাল (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় কাঁঠালিয়ায় থাকব। এখান থেকেই আমাদের ১০ দলীয় জোটের কার্যক্রম শুরু হলো। ঝালকাঠি-১ আসনের মাটিতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাই। আর ঢাকা-১১ আসনে শাপলা কলিতে ভোট চাই। পুরো বাংলাদেশে এবার ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের জয় হবে ইনশাআল্লাহ।”

এনসিপি নেত্রীর এ ঘোষণার পর ঝালকাঠি-১ আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অপরাধ না করা আ.লীগ নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা সরকারের দায়িত্ব: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও বরিশাল সদর-বাকেরগঞ্জ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আওয়ামী লীগের যেসব নেতাকর্মী কোনো অপরাধে জড়িত নন, তাদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। তারা যাকে ইচ্ছা তাকেই ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নির্বাচনী প্রতীক গ্রহণের পর দুপুরে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম অভিযোগ করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে আসামি না হলেও যাকে-তাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। বিগত সময়ে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যেন মানুষ নিরাপত্তার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনে প্রশাসন যেন একদিকে ঝুঁকে না পড়ে। কালো টাকা ও দখলদারিত্বের ব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাউকে হয়রানি করা যাবে না। হয়রানি চলতে থাকলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নতুন করে কোনো জোটে যাওয়ার সুযোগ দেখছে না। তবে যদি শরিয়াভিত্তিক কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আইন প্রণয়নের সুযোগ তৈরি হয়, তখন পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের এক সময়ের জোটের মূল থিম ছিল ইসলামের পক্ষে একটি বাক্স। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা ইসলামের নীতি থেকে সরে গেছে। তাই ইসলামী আন্দোলন জোট ছেড়েছে। এখন ইসলামের পক্ষে হাতপাখার একটি বাক্স রয়েছে।”

জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে ভোট না করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এককভাবেই মাঠে থাকবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। নির্বাচিত হলে তিনি দুর্নীতিমুক্ত বরিশাল গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ এছহাক মোহাম্মাদ আবুল খায়েরসহ দলটির জেলা ও মহানগরের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




উন্নয়ন কাজ দেখতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইউপি সদস্যের মৃত্যু

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোহসিন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মোহসিন বলদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য ছিলেন। তিনি বয়া গ্রামের মো. শাহবুদ্দিন মিয়ার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আহম্মদ জানান, সকালে মোহসিন নিজ ওয়ার্ডের একটি লোহার সেতু (লোহারপুল) মেরামতের কাজ পরিদর্শনে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত ওয়েলডিং মেশিনের বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. শাহিন হোসাইন বলেন, “হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

এদিকে মোহসিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইদুল ইসলাম সাঈদ। তিনি বলেন, “মোহসিন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধি ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ একজন দক্ষ ও দায়িত্বশীল সদস্যকে হারাল।”

একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে কর্মস্থলে প্রাণ হারানোতে এলাকায় ব্যাপক শোক ও আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণভোটের আইনি ভিত্তি নেই: মেজর (অব.) হাফিজ

গণভোটের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী জনগণের ওপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে এবং যেভাবে গণভোটের প্রচার চালানো হচ্ছে, তাতে নানা ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে ভোলার লালমোহন উপজেলার উত্তর বাজার এলাকায় মদন মোহন মন্দির প্রাঙ্গণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার একমাত্র জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের। এখানে ঢাকার একটি এলিট গোষ্ঠী জনগণের ওপর বিষয়টি চাপিয়ে দিয়েছে। আমাদের দেশ এখনো এ ধরনের ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। শুরুতে বিএনপি এতে রাজি ছিল না। কিন্তু বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনই হবে না—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই বাস্তবতার প্রেক্ষিতে বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কিছুটা বাধ্য হয়েই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। এরপর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে গিয়ে সংবিধানকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেবে। পৃথিবীর কিছু দেশে নির্দিষ্ট কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, তবে সেসব ক্ষেত্রেও তা আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়—এমন একটি গোষ্ঠী হঠাৎ ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে গণভোটের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছে। এই গণভোটের আইনগত ভিত্তি নেই, তবে একটি নৈতিক ভিত্তি রয়েছে। যেহেতু আমরা জুলাই অভ্যুত্থানকে সমর্থন করি, সে কারণে জনগণকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাবো।

অনুষ্ঠানে লালমোহন মদন মোহন মন্দির কমিটির সভাপতি নিরব কুমার দে’র সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলায় ধর্ষণ মামলার দুই পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

ভোলার মনপুরা ও লালমোহন উপজেলায় সংঘটিত পৃথক দুটি ধর্ষণ মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মনপুরা উপজেলার গণধর্ষণ মামলার ৩ নম্বর আসামি মো. ইদ্রিস মাঝি এবং লালমোহন উপজেলার শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মো. জামাল।

র‍্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রিফাত বুধবার (২১ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

র‍্যাব জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮ বরিশালের আওতাধীন ভোলা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাকিমউদ্দিন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. ইদ্রিস মাঝিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বোরহানউদ্দিন থানায় হস্তান্তর করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গত ১৬ জানুয়ারি রাতে ইদ্রিস মাঝিসহ আরও কয়েকজন আসামি মনপুরা উপজেলায় এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ইদ্রিস ছিল অন্যতম অভিযুক্ত। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

অন্যদিকে একই দিন ভোর রাতে র‍্যাব ভোলা ক্যাম্পের আরেকটি দল লালমোহন উপজেলায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে লালমোহন উপজেলার চরভুতা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান পলাতক আসামি মো. জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকেও পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লালমোহন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তার জামাল গত ১৫ ডিসেম্বর রাতে এক শিশুকে যৌন নির্যাতন করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনার পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে এবং অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তাদের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫