কাজ না করেই ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুর্ভোগে পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ

বিগত সরকারের প্রভাবশালী এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে কাজ না করেই প্রায় ৪৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে বৈঠাকাটা পর্যন্ত ১৭ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার প্রকল্পে এই ভয়াবহ অনিয়মের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটির অধিকাংশ অংশে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। কোথাও কোথাও রাস্তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ। নাজিরপুর উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। পাশাপাশি জেলার সবচেয়ে বড় ভাসমান সবজির বাজার বৈঠাকাটায় যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় ব্যবসায়ী ও কৃষকরাও পড়েছেন বিপাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনা। খানাখন্দে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা উল্টে আহত হচ্ছেন যাত্রী, ভাঙছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ। রোগী পরিবহনেও দেখা দিয়েছে চরম সংকট।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘বরিশাল প্রশস্তকরণ প্রকল্প’-এর আওতায় মেসার্স ইফতি ইটিসিএল প্রা. লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চারটি প্যাকেজে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে এই সড়ক সংস্কারের কাজ পায়। ২০২৪ সালের জুনে কাজ শুরুর কথা থাকলেও ২০২৫ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় পার হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্যের ভাই এবং ভান্ডারিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে তিনি কোনো কাজ না করেই পুরো অর্থ উত্তোলন করে নেন।
বৈঠাকাটা এলাকার বাসিন্দা তৌফিক শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ছয়-সাত বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছি। পাকা রাস্তা এখন গ্রামের মেঠোপথের মতো। কাজ না করেই টাকা তুলে নেওয়ায় পাঁচ ইউনিয়নের মানুষ আজ অসহায়।”
অটোরিকশা চালক তরিকুল শেখ বলেন, “এই ১৭ কিলোমিটার পথ আগে আধা ঘণ্টায় পার হওয়া যেত। এখন এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। গাড়ি নষ্ট হচ্ছে, রোগী পরিবহনে কেউ আসতে চায় না।”
এ বিষয়ে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজুর রহমান দ্রুত কাজ শুরুর আশ্বাস দিলেও, কাজ না করেই কীভাবে পুরো অর্থ উত্তোলন করা হলো—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।
নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং যেগুলো তদন্তাধীন, সেগুলো আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দ্রুত কাজ শেষ করতে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








