নতুন রাষ্ট্রগঠনের রূপরেখা প্রকাশ, ‘জাতীয় বীর’ সম্মানে শহীদদের স্বীকৃতি

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা করে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে “জুলাই ঘোষণাপত্র” পাঠ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই ২৮ দফার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্র বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ের ধারাবাহিক রূপরেখা। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয় শুধু একটি সরকারের পতন নয়, এটি ছিল জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতিষ্ঠা।”

শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা

ঘোষণাপত্রের ২৪ নম্বর দফায় বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করছে এবং তাদের পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।”

এছাড়া ২৭ নম্বর দফায় জানানো হয়েছে, এই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের সংস্কারকৃত সংবিধানের তফসিলে এই ঘোষণাপত্র সন্নিবেশিত থাকবে।

ঘোষণাপত্রে কী আছে?

২৮ দফার ঘোষণাপত্রে জাতির ইতিহাস, রাজনৈতিক চক্রান্ত, একদলীয় শাসনের সমালোচনা, ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বর্ণনা, বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের লুণ্ঠনসহ গত ষোলো বছরের শাসনের নানা অনিয়ম তুলে ধরা হয়।

বিশেষভাবে বলা হয়েছে—

  • শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশে গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
  • তিনটি জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮, ২০২৪) ছিল প্রহসনমূলক, যা জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে।
  • ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান ছিল গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের ফল, যা সর্বস্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে সফল হয়।

ঘোষণাপত্রের ২০ নম্বর দফায় ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সাংবিধানিক বৈধতা এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে নতুন সংবিধান সংস্কারের রূপরেখাও তুলে ধরা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের প্রতিশ্রুতি

শেষ দফাগুলোর একটিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই, জলবায়ু ও পরিবেশ সহিষ্ণু উন্নয়ন কাঠামোর মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি একটি বৈষম্যহীন, মানবিক, মূল্যবোধসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ

প্রধান উপদেষ্টার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনের পর গঠিত সরকার এই ঘোষণাপত্রকে সংবিধানের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করবে। জনগণের বিজয়কে সুরক্ষিত রাখতে সব ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ঘোষণাপত্রকে নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ইতিহাসের ধারাবাহিকতা, জনগণের রক্ত এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি মিলে তৈরি হয়েছে এই নতুন দিকনির্দেশনা।




বরগুনায় কোর্ট থেকে পালানো আসামি গ্রেপ্তার

বরগুনা আদালত চত্বর থেকে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যাওয়া আসামি আল আমিনকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার ক্রোক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

আল আমিন বরগুনা সদর উপজেলার লেমুয়া পাঠাকাটা গ্রামের বাসিন্দা এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি পারিবারিক মামলায় আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আল আমিনের প্রথম স্ত্রী ২০১৮ সালে বরগুনা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর আদালত তার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করেন। এরপরে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।

গত শনিবার (৩ আগস্ট) বরগুনা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে রোববার বিকেলে আদালত থেকে জেলহাজতে নেওয়ার সময় জেলা ও জজ আদালতের দক্ষিণ পাশের প্রধান ফটকের সামনে পুলিশি হেফাজত থেকে সে হাতকড়া খুলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সোমবার (৪ আগস্ট) একদিনের ব্যবধানে সদর উপজেলার ক্রোক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াকুব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “আসামিকে আবারও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তার পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে এবং কোর্ট পুলিশের দায়িত্বে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

আসামির এমন দুঃসাহসিক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আদালতপাড়ায় এবং প্রশাসনের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করায় স্বস্তি ফিরেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুর্গাসাগরের খাঁচা থেকে হরিণ উধাও, তদন্তে প্রশাসন

বরিশালের ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচা থেকে একটি হরিণ উধাও হয়ে গেছে। খাঁচায় থাকা ১৩টি হরিণের মধ্যে একটির হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন।

ঘটনাটি ঘটে বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশায় অবস্থিত দুর্গাসাগর দীঘির খাঁচায়। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে কিছু হরিণ সংরক্ষিত অবস্থায় খাঁচায় রাখা হয়েছিল। কিন্তু সোমবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে হরিণ পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচা পরিদর্শনের সময় দেখতে পান, একটি হরিণ খাঁচায় নেই।

এ বিষয়ে দুর্গাসাগর দীঘির তত্ত্বাবধায়ক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “রোববার রাতে নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বে ছিলেন অলিউল হাওলাদার, জাহিদুর রহমান ও বশির শিকদার। তারা যথারীতি সকালে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। এরপর পরিচর্যাকারী আশিক খাঁচার ভেতরে ১২টি হরিণ দেখতে পান। খাঁচার তালা ঠিকঠাক অবস্থায় থাকলেও একটি হরিণ গায়েব ছিল।”

তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয় এবং বরিশাল মহানগর পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবদুল মতিন খানসহ কর্মকর্তারা।

তবে খাঁচার আশপাশে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কাজ না করায় ফুটেজ দেখে কোনো তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাকির শিকদার বলেন, জিডি করার পর থেকেই আমরা হরিণ উদ্ধারে মাঠে কাজ করছি। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারুক আহমেদ জানান, “হরিণ উধাও হওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারও গাফিলতি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, দুর্গাসাগর দীঘি বরিশালের একটি ঐতিহাসিক জলাধার। এটি ১৭৮০ সালে চন্দ্রদ্বীপের পঞ্চদশ রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী দুর্গামতির নামানুসারে খনন করেন। বর্তমানে এটি “দুর্গাসাগর দীঘির উন্নয়ন ও পাখির অভয়ারণ্য” প্রকল্পের অধীনে বরিশাল জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

হরিণটির হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীসহ সচেতন মহলের মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত হরিণটি উদ্ধারে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছে এলাকাবাসী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরফ্যাশনের ১২ শহীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও দোয়া

গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত চরফ্যাশনের ১২ শহীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও কবর জিয়ারতের আয়োজন করেছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ আয়োজন করা হয়।

গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের সময় ঢাকায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান চরফ্যাশনের ১২ তরুণ। এই শহীদদের মধ্যে ছিলেন—ফজলে রাব্বি, মো. হাসনাইন, মো. মমিন, মো. ফজলু, মো. হাবিব, মো. ওমর ফারুক, মো. সিয়াম, রাকিব মোল্লা, মো. সোহাগ, মো. হোসেন, মো. তারেক এবং মো. বাহাদুর হোসেন মনির।

সকাল ৯টার দিকে প্রথমে জাহানপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে শহীদ ফজলে রাব্বির কবর জিয়ারত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি ও সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান। তারা সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেন।

পরবর্তীতে চরফ্যাশনের অন্যান্য এলাকায় অবস্থিত বাকি ১১ শহীদের কবরে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। শহীদদের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও এতে অংশগ্রহণ করেন।

এই শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে এলাকাবাসী আবারও স্মরণ করলো সেই বেদনাবিধুর সময়ের সাহসী সন্তানদের, যারা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জীবন দিয়েছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গৌরনদীতে বিএনপি সমাবেশে হিটস্ট্রোকে শিক্ষকের মৃত্যু

বরিশালের গৌরনদীতে বিএনপির একটি রাজনৈতিক সমাবেশে হিটস্ট্রোকে মিরাজ ফকির (৪৮) নামে এক শিক্ষক ও বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় সমাবেশস্থলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে গৌরনদী পৌরসভার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির সমাবেশে এই ঘটনা ঘটে। ওই সমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জহিরউদ্দিন স্বপন।

নিহত মিরাজ ফকির আগৈলঝাড়া উপজেলার পশ্চিম বাকাল গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি, বাকাল ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে মিরাজ ফকিরসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সমাবেশ শুরু হলেও প্রচণ্ড তাপদাহে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরাজ ফকির হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

তৎক্ষণাৎ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহম্মেদ ইত্তেখার মনিম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিরাজ ফকিরের মৃত্যুতে স্থানীয় বিএনপি ও শিক্ষকমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




স্বৈরাচার পতনের বর্ষপূর্তিতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার ডাক হেফাজতের

শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের বর্ষপূর্তিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সতর্ক বার্তা দিয়েছে—এই বিজয় যেন কোনো ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্রের দ্বারা বেহাত না হয়। আন্দোলনকারী ছাত্রনেতাদের আত্মঘাতী কোনো ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রনেতা, আলেম-ওলামা এবং জনগণের আস্থাভাজন নেতৃত্বের দূরদর্শী কৌশল ও কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তারা আরও বলেন, “স্বৈরাচারী ও ইসলামবিদ্বেষী হাসিনা সরকারের পতনে আমরা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। এই অভূতপূর্ব বিজয়ের জন্য আমরা শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁদের আত্মত্যাগ আল্লাহ কবুল করেছেন। কিন্তু সংগ্রাম এখনো শেষ নয়। এই বিজয়কে ন্যায়ভিত্তিক সংবিধান ও সরকারব্যবস্থায় পরিণত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।”

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সমঅধিকারের প্রতিশ্রুতি

বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা উল্লেখ করেন, “এই বিজয় শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের নয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও এর সুফল ভোগ করবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘুদের জানমাল, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে মুক্তচিন্তা বা নাস্তিকতার নামে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত মেনে নেওয়া হবে না। সংখ্যালঘুদের কোনোভাবে রাজনীতির বলির পাঁঠা বানানো যাবে না।”

ইসলামী সংস্কৃতির স্ববিরোধহীন প্রকাশের আশা

হেফাজত নেতৃবৃন্দ বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের নিপীড়নের অবসানে আজ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায় মুক্তির স্বাদ পেয়েছে। এখন জাতীয় জীবনে ইসলামী পরিচয় ও সংস্কৃতির পূর্ণ প্রকাশ ঘটবে বলে আমরা আশা করি।”

ভারতীয় আধিপত্য ও দালালদের বিচারের দাবি

তারা আরও বলেন, “শুধু গণহত্যার বিচার নয়—ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের সহযোগী সেক্যুলার শক্তিরও বিচার করতে হবে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিভেদহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কারও ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গুম-খুন কিংবা পুলিশি নির্যাতন আর থাকবে না।”

এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইসলাম দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করল।




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ‘মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকারে ৫ আগস্ট—তারেক রহমানের বার্তা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ৫ আগস্টকে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রতিজ্ঞার দিন হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এর প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আজ ও আগামীর প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র, সুশাসন প্রতিষ্ঠা আর মানবিক মানুষ হয়ে ওঠার অঙ্গীকারের দিন।”

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রসঙ্গে স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটি ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট শাসকের পতনের দিন। বিজয়ের মুহূর্তে আমি বলেছিলাম, বিজয়ী যদি পরাজিতকে নিরাপত্তা দেয়, তবেই সে বিজয় মহিমান্বিত হয়। সেই আহ্বান আজও প্রাসঙ্গিক। কেউ যেন আইন হাতে তুলে না নেন, সহিংসতায় না জড়ান, নারীর প্রতি সহিংসতা না করেন এবং সকলের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকেন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেটি হবে ‘মায়ের চোখে বাংলাদেশ’। যেখানে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে—বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী কেউই বঞ্চিত হবে না।”

আওয়ামী লীগ শাসনের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে পলাতক স্বৈরাচার গুম, খুন, নির্যাতন আর নিপীড়নের সংস্কৃতি চালু করেছিল। ‘আয়নাঘর’ নামে গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো, অনেকে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। বিএনপির সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলমের আজও খোঁজ মেলেনি।”

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “ব্যাংকব্যবস্থা ধ্বংস করে, দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ব্যক্তিতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির জালে আবদ্ধ করা হয়েছিল।”

বার্তায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। দুই সংগ্রামেই শহীদের রক্ত আছে, বাংলাদেশের হৃদয়ে সেই রক্তচিহ্ন চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।”

তারেক রহমান বার্তার শেষাংশে বলেন, “এই সুমহান অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে আমি ও বিএনপি দেশের সব গণতন্ত্রকামী মানুষের সহানুভূতি ও সহযোগিতা কামনা করি।”




জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেব না: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ভিডিও বার্তা

জাতীয় পুনর্জাগরণ ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করব।”

মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশজুড়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় এই বার্তা দেন তিনি। বার্তায় তিনি বলেন, “আজ আমরা অতীত স্মরণ করতে আসিনি, এসেছি শপথ নিতে—নিপীড়নের কাছে মাথা নত করব না। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণ রেখা।”

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট একটি প্রতিজ্ঞার দিন। এটি গণজাগরণ ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জাতির নবজাগরণের উপাখ্যান। “আজকের দিনে আমরা স্মরণ করি ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। “তরুণ প্রজন্ম, যাদের মেধা ও পরিশ্রম সত্ত্বেও তারা পেত না চাকরি। দুর্নীতিগ্রস্ত কোটা পদ্ধতি, ঘুষ, তদবির, মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য—এই ছিল তাদের বাস্তবতা।”

সরকারি চাকরি, শিক্ষা, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুবিধাভোগী শ্রেণির দৌরাত্ম্য তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা শাসকের পক্ষে কাজ করেছে, তারাই পেয়েছে সুযোগ। বাকিরা বঞ্চিত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দাবি আদায়ের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সরকার গুলি চালিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা না দিয়ে চক্ষু ও অঙ্গ হারানোর পথে ঠেলে দিয়েছে।”

প্রফেসর ইউনূস বলেন, “গত ১৬ বছরে সরকারের সমালোচকদের গুম-গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লাখো বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ২৪ জুলাই জাতি এক হয়েছে।”

জুলাই শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। আপনাদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না।”

তিনি জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৬ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫ পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারগুলোর বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান।

এছাড়া আহত ১৩,৮০০ জনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন গুরুতর আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায়। চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা একটি সত্যিকারের কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব—যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, থাকবে না শোষণ ও দুর্নীতি।”




আজ জাতির সামনে উন্মোচিত হচ্ছে ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক রূপরেখা ও সংস্কার পরিকল্পনার দলিল ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ আজ জাতির সামনে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে। অভ্যুত্থানে জড়িত রাজনৈতিক দল ও অংশীদারদের প্রতিনিধিরা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে।

তবে অনুষ্ঠান আয়োজন ঘিরে রয়েছে কিছু বিতর্কও। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ১৫৮ জন শীর্ষস্থানীয় সমন্বয়ককে দাওয়াত না দেওয়ায় অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ। সোমবার (৪ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এদিকে একইদিন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে ‘৩৬ জুলাই’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতায় এ আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। এরইমধ্যে একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে অনুষ্ঠানসূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে শিশু, কিশোর, তরুণ ও সব বয়সী মানুষকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্যোগ মূলত আসে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে। তবে তৎকালীন সরকারের প্রতিশ্রুতির পরিপ্রেক্ষিতে তারা সে সময় নিজ উদ্যোগে দলিল প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

পরে অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টি নিজ হাতে নেয় এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে একটি খসড়া তৈরি করে। কমিশনটি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ভিত্তিতে খসড়া চূড়ান্ত করে এবং ২৮ জুলাই তা সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়।

এর ধারাবাহিকতায় আজ (৫ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণাপত্রটি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশ গঠনের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঐক্যের ডাক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের

ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তিতে অভ্যুত্থানপন্থি ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন ও রক্তিম শুভেচ্ছা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই বার্তা দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের সেই রক্তাক্ত বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছিল। সহস্রাধিক শহীদ ও আহতের আত্মত্যাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা। এই দিনটিকে ‘অভ্যুত্থানের বিজয় দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আহতদের প্রতি অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জানায় সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একজন স্বৈরশাসকের পতন নয়, বরং তা ছিল একটি ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅসন্তোষের বিস্ফোরণ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এখনো অনেক পথ বাকি।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভিযোগ করে, অভ্যুত্থানের এক বছর পরেও শহীদ হত্যার বিচার হয়নি, বরং রাষ্ট্রযন্ত্রে এখনো ফ্যাসিবাদী উপাদান রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় ‘জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশ’ গঠনের পথে তা প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করে সংগঠনটি।

তবে বিবৃতিতে স্বীকার করা হয়, কাঠামোগত পরিবর্তন এখনো সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান না হলেও কিছু সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সর্বশেষে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অভ্যুত্থানপন্থি ছাত্র-জনতাকে অভিনন্দন জানিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, ‘জুলাই পরবর্তী নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে সকলে যেন ঐক্যবদ্ধভাবে অগ্রসর হয়।