অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আস্থা ফিরিয়ে আনা: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায় অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে সামনে এখনো রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, জ্বালানি পরিস্থিতি এবং শুল্ক নীতি। আর সবকিছুর চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং স্থবির হয়ে পড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি সৃষ্টি।

বুধবার (৬ আগস্ট) অর্থনৈতিক ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের সভা শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনীতি এখন আর সেই টালমাটাল অবস্থায় নেই। খাদের কিনারা থেকে অনেকটা উপরে উঠে এসেছে। তবে এই অগ্রগতি বোঝার জন্য প্রয়োজন দৃষ্টি ও অন্তর্দৃষ্টি।”

তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান, শুল্ক—সবই চ্যালেঞ্জ। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বাণিজ্যে গতি ফেরানো। এখন আমরা সেসব প্রকল্পে মনোযোগ দিচ্ছি, যেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ও ব্যবসার পরিবেশ সহজতর করবে।”

মূল্যস্ফীতি সম্পর্কে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা এমন না যে ঘোড়ার লাগাম টেনে একদিনে নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। কিছুটা কমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত (নন-ফুড) খাত এখনো চ্যালেঞ্জিং।”

বাজেট ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। এখন পর্যন্ত ঘাটতি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ, যা আমাদের নির্ধারিত সীমা ৪ দশমিক ৫-এর মধ্যে রয়েছে।”

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যাংক রেজুলেশন আইন, এনবিআরের সংস্কার, পুঁজিবাজার উন্নয়নসহ কিছু উদ্যোগ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও কিছু বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক নিয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “শুল্ক আরও কিছুটা কমলে ভালো হতো। তবে তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ খুব খারাপ অবস্থায় নেই। আমাদের আরএমজি খাত এখনো প্রতিযোগিতায় রয়েছে।”

চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চুক্তি হয়নি, তবে দরকষাকষি চলছে। “ওয়ান-টু-ওয়ান নেগোশিয়েশনে অনেক কিছু বলা যায় না। তবে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের ওপর আস্থা আছে।”

তিনি বলেন, “শেভরন, মেটলাইফের মতো কোম্পানির অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও এখন অনেক ভালো।”




প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ঠেকাতে লটারি পদ্ধতিতে বদলি হবে এসপি-ওসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সব জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) ও অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলি এবার লটারির মাধ্যমে করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। নির্বাচনপূর্ব সময়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি ও করণীয় নির্ধারণে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির সূচনা ঘোষণা করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের বৈঠকে নির্বাচনের সময় প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা অনেক সময় নিজ এলাকার পছন্দের এসপি, ডিসি কিংবা ওসিকে চান। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গণমাধ্যমের সামনে লটারির মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”

তিনি জানান, এই লটারি প্রক্রিয়া শুধু এসপি ও ওসিদের জন্য প্রযোজ্য হবে। ওসিদের ক্ষেত্রে বিভাগভিত্তিক লটারি করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তফসিল ঘোষণার কিছুদিন আগেই এই লটারি সম্পন্ন করা হবে, যাতে নির্বাচনের ঘোষণার পর এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করা যায়। পরবর্তীতে কমিশন চাইলে তাদের নিজস্ব বিবেচনায় বদলির সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।”

এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচনপূর্ব প্রশাসনিক নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও পক্ষপাতের অভিযোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




অন্তর্বর্তী সরকার নয়, দেশ চালাবেন রাজনীতিবিদরাই: আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেছেন, বাংলাদেশ চালানো হবে রাজনীতিবিদদের মাধ্যমে, অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে নয়। তিনি বলেন, এজন্যই একে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ বলা হয়।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপে ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা : অভিযোগ ও স্ব-নিয়ন্ত্রণ অন্বেষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. আলী রীয়াজ সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কেন সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো সিভিল সোসাইটি যুক্ত করে কোন রিভিউ তৈরি করেনি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের মাঝে বিভাজন গভীর এবং তারা রাজনৈতিক দলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকতার নামে কিছু ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “এক বছর আগে জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এক বৈঠক করেছিলেন, সেখানে উপস্থিতরা কী বলেছিলেন, তা সবাই জানে। সেটাই সাংবাদিকতা?”

সাংবাদিকদের মধ্যে দলীয় বিভাজন নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডিইউজে) সহ বিভিন্ন সংগঠন দলীয়ভাবে বিভক্ত হয়ে কোথায় পৌঁছেছে তা সবাই দেখে।’ তিনি বলেন, এই অবস্থায় সাংবাদিকতার উন্নয়নের জন্য অন্যদের কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

ড. রীয়াজ বলেন, ‘দেশের রাজনীতির জন্য একটি বিকল্প সম্পাদক পরিষদ গঠিত হয়েছে যা রাজনৈতিক দলীয় স্বার্থে কাজ করছে।’


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচনের আগে লটারিতে এসপিদের বদলি, প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে বডি ক্যামেরা।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তুতি-সংক্রান্ত এক সভা শেষে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচন প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা তার আলোকে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে লজিস্টিকসহ নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছি।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সব প্রার্থীই চায় নিজের পরিচিত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্বাচনী এলাকায় রাখতে। এমন অভিযোগ এড়াতে এসপিদের লটারির মাধ্যমে বদলি করা হবে। নির্বাচন কমিশনের তারিখ ঘোষণার আগেই এই বদলি সম্পন্ন হবে। একইভাবে থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) বদলিও ডিভিশনভিত্তিক করা হবে। তবে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বদলির সিদ্ধান্ত নেবে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪৭ হাজার ভোট কেন্দ্রে প্রতিটিতে একটি করে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে থাকবে।

এছাড়া প্রিজাইডিং অফিসারদের কেন্দ্রে নিরাপদে দায়িত্ব পালনে আনসার-পুলিশসহ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। নির্বাচন উপলক্ষে সব বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং ট্রেনিং শেষে মহড়াও পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে প্রিজাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে।

এই পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




“জুলাই ঘোষণাপত্র গণতন্ত্রের নবদিগন্ত উন্মোচন করবে: ফখরুল

ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা কাটিয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হয়েছে। এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নই হবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।”

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচন আয়োজনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের পথ দেখাবে। আমরা আশা করি, খুব দ্রুত সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি একটি গ্রহণযোগ্য সরকার পাবে এবং সংকটের অবসান ঘটবে।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। জনগণ একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের জন্য প্রস্তুত। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি আন্তরিক হয়, তাহলে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব।”

এ সময় তিনি একটি শক্তিশালী জাতীয় সংসদ গঠনের লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে ফখরুল দাবি করেন, “আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপিকে নেতৃত্বশূন্য করে দলটিকে ধ্বংস করতে চেয়েছে। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে, তাতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ-লাওসের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট ২০২৫) ভিয়েতনামের হানোইতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন ভিয়েতনামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. লুৎফর রহমান এবং লাওসের রাষ্ট্রদূত খামফাও এনথাভান।

রাষ্ট্রদূত লুৎফর রহমান এই চুক্তিকে “ঐতিহাসিক মাইলফলক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশ ও লাওসের মধ্যে নিয়মিত কূটনৈতিক সভা ও আলোচনার পথ উন্মুক্ত করবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক এবং বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতা আরও গভীর হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশকে লাওসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে লাওসের রাষ্ট্রদূত খামফাও এনথাভান বাংলাদেশ দূতাবাসের সক্রিয় ভূমিকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের স্থায়ী ফোরাম গঠনের পথ সুগম হলো, যা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও গভীর করবে।”

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ ও লাওস কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। তবে এবারের সমঝোতা স্মারক দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক কূটনৈতিক সভা ও সংলাপ সংক্রান্ত প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ভিয়েতনামে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস লাওসের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার দায়িত্ব পালন করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের সাথে বৈঠকে বসছে ১২ দলীয় জোট শুক্রবার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী শুক্রবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান ১২ দলীয় জোটের প্রধান এবং জাতীয় পার্টি (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, “বৈঠকে চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, যুগপৎ আন্দোলনের কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা ঘোষণা পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে।”

এ বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকালীন সময়সীমা ঘোষণার পর এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল ও আগ্রহ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বিএনপির পরবর্তী কৌশল নির্ধারণে বড় ধরনের দিক নির্দেশনা দিতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শাকিবকে ঘিরে জয়ের মন্তব্য ভাইরাল: “দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব”

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা শাকিব খান ও তার ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে আলোচনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শাকিব খান ও চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর একগুচ্ছ রোমান্টিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এর আগে তিনি সময় কাটিয়েছেন সাবেক স্ত্রী অপু বিশ্বাস ও ছেলে আব্রাম খান জয়ের সঙ্গে।

এই দুই স্ত্রীর প্রসঙ্গ নিয়েই এবার নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়। রোববার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ছবি পোস্ট করেন তিনি। ছবিতে দেখা যায়, জয় বিমান ভ্রমণে রয়েছেন।

ছবির ক্যাপশনে জয় ইঙ্গিত করে লেখেন,
“শাকিব খানের দুই স্ত্রী এবং দুই সন্তান। তিনি সবার প্রতি সমানভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু তিনি এমন এক ফ্যাসাদে পড়েছেন, দায়িত্ব পালন করলেও খুশি করতে পারছেন না কাউকেই।”

তিনি আরও লেখেন, “অধিকাংশ মানুষ এক স্ত্রীকেই খুশি রাখতে পারে না। সেখানে দুই স্ত্রীকে খুশি রাখা অসম্ভব। তিনি যত বড় স্টার, তত বড় মেধাবী নন। আবার আমি যত মেধাবী, তত বড় স্টার নই।”

এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং শুরু হয় আলোচনার ঝড়। কেউ কেউ শাকিব খানের ‘দায়িত্বশীলতা’র প্রশংসা করছেন, অন্যদিকে অনেকেই জয়ের মন্তব্যকে বাস্তবসম্মত বলে মন্তব্য করছেন।

একজন নেটিজেন কমেন্টে লিখেছেন, “দুই পক্ষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেও কেউ খুশি নয়— কথাটা খুব সত্যি!”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “স্টার হতে হলে শুধু জনপ্রিয়তা না, ব্যক্তিগত জীবনেও ভারসাম্য থাকতে হয়।”

উল্লেখ্য, শাকিব খান বর্তমানে তার দুই সন্তান—আব্রাম ও শেহজাদ—এবং তাদের মায়েদের নিয়ে একের পর এক আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তবে, এসবের মাঝেও তিনি তার সন্তানদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেই মনে করছেন তার ভক্তরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোলার গজারিয়ায় নৌকা নির্মাণের ঐতিহ্য জ্বলজ্বল করছে কাঠের বৈঠায়

তারিকুর ইসলাম তুহিন,বরিশাল :: ভোলার লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া কাঠপট্টি নদী ও নৌকা জীবনযাপনের প্রাণকেন্দ্র। চারদিকে জলাঘেরা এই এলাকায় নৌকা শুধু যাতায়াতের বাহন নয়, এটি জীবিকার প্রধান অবলম্বন ও সংস্কৃতির অংশ। দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে চলমান নৌকা নির্মাণ শিল্পে কাঠের ঘ্রাণ আর করাতের শব্দে মুখরিত এই এলাকা।

প্রতিদিন গজারিয়ায় প্রায় ১০টি টিম্বার দোকানে তৈরি হচ্ছে ডিঙি নৌকা, জয়া নৌকা ও বড় ফিশিং বোট। নৌকার দাম আকার ও গুণগতমান অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে ছয় থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। শুধু ভোলাতেই নয়, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজারেও এই নৌকা সরবরাহ করা হয়।

এ শিল্পে প্রায় ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন, যাদের অধিকাংশই মৌসুমী, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ পর্যন্ত কর্মব্যস্ত থাকেন। কারিগর মনির উদ্দিন বলেন, “আগে মজুরি কম ছিল, এখন দিনে ৯০০ টাকা পাই, কিন্তু কাজ থাকে কেবল মৌসুমেই।”

নৌকা নির্মাণে সময় লাগে এক থেকে তিন সপ্তাহ, কাঠ, পেরেক, রঙ ও অন্যান্য উপকরণ মিলিয়ে নৌকায় লাখ টাকার খরচ হয়। লাভের অংশ সীমিত; ১ লাখ টাকার নৌকায় ২০ হাজার টাকা, আর ৫-৬ লাখ টাকার নৌকায় সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা লাভ হয়।

পাইকার নুরু ব্যাপারী জানান, “দৈনিক কয়েক লাখ টাকার নৌকা বিক্রি হয়, কিন্তু শ্রমিক উন্নয়ন ও পুঁজি বৃদ্ধির জন্য সরকারি কোনো সহায়তা নেই। অধিকাংশ কাজ চলছে এনজিও ঋণের মাধ্যমে।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আকন্দ বলেন, “এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

তবে কারিগররা দাবি করেন, শুধু আশ্বাস নয়, সরকার থেকে সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও উপকরণে ভর্তুকি চাই। তারা বলেন, এ শিল্পকে প্রয়োজন সুষ্ঠু সহযোগিতা যাতে ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয়।

গজারিয়া কাঠপট্টির কাজের গর্জন, শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম আর নৌকার নতুন রঙের গন্ধে স্পষ্ট যে, নদীর দেশ ভোলায় জীবন আজও কাঠের বৈঠা বেয়ে চলে। নদী যেখানে পথ, সেখানে নৌকা শুধু বাহন নয়, জীবনের প্রতিচ্ছবি। এই ঐতিহ্যবাহী নৌকা শিল্প রক্ষা করতে সরকারি দৃষ্টি ও সহযোগিতা অত্যাবশ্যক, কারণ এখানকার মানুষই দেশের উপকূলীয় সংস্কৃতি ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ধরে রেখেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পেতাম না” : শামীম সাঈদী

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেছারাবাদ উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত গণজমায়েত ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বড় ছেলে ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ শামীম সাঈদী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শামীম সাঈদী বলেন, “স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমরা মিটিং মিছিল তো দূরের কথা, জানাজার নামাজে কান্না করার সুযোগ পর্যন্ত পেতাম না। জামায়াতের নেতাকর্মীরা যদি কারও জানাজায় অংশগ্রহণ করত, তাদের পোষ্য পুলিশ বাহিনী দিয়ে গ্রেপ্তার করানো হত। এখন আমরা স্বাধীনভাবে চলতে পারছি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও মানবাধিকারের সব সীমা অতিক্রম করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে জনগণ তার যথাযথ জবাব দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে আমরা ইসলাম ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব ইনশাআল্লাহ।”

শামীম সাঈদী আরো বলেন, “শেখ পরিবারের সবাই চোর-ডাকাত। শেখ মুজিবের ছেলে স্বাধীনতার পরবর্তী বাংলাদেশে প্রথম ব্যাংক ডাকাতি করেছে। তার মেয়ে ১৪টি ব্যাংক ডাকাতি করেছে। সারা দেশের রাস্তাঘাটের কাজ না করে বিল তুলে নিয়ে দেশ থেকে পালিয়েছে। শুধু পিরোজপুরেই ছাব্বিশ শত কোটি টাকা চুরি করেছে। আমরা চোরদের বিরুদ্ধে। তাই জুলাইয়ের বিপ্লব ছিল বৈষম্যবিরোধী ও দুর্নীতিবিরোধী বিপ্লব।”

তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কোনো সংখ্যালঘু শব্দ নেই। পাসপোর্ট, ভিসা ও জাতীয় পরিচয়পত্রেও তা লেখা নেই। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ও মুসলমান সবাই এক সূত্রে গাঁথা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমার বাবা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন।”

শামীম সাঈদী বলেন, “৫ আগস্টের পরে যেমন হিন্দুদের বাড়িঘর আমরা আগলে রেখেছিলাম, আগামীতেও তাদের মন্দির, জান-মাল, জমি ও সন্তানদের রক্ষা করব। আগামী নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা মার্কাকে বিজয়ী করলে নেছারাবাদকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলব।”

নেছারাবাদ উপজেলা আমির মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি সিদ্দিকুল ইসলাম, সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, পৌর জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলামসহ নেছারাবাদ ফোরামের বিভিন্ন নেতারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫