“অনেক কিছু দেখবেন”— শুল্ক বাড়িয়ে চীন-ভারতকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতসহ আরও অনেক দেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পরেই এ বার্তা দেন তিনি।

বুধবার (৬ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আপনারা আরও অনেক কিছু দেখবেন। প্রচুর সেকেন্ডারি স্যাংশন (পरोক্ষ নিষেধাজ্ঞা) আসছে।” তিনি বলেন, রুশ জ্বালানি কিনে তা পুনরায় রপ্তানি করে ভারত বিপুল মুনাফা করছে। এ কারণেই তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

ট্রাম্প জানান, শুধু ভারত নয়, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ব্যবসায় জড়িত থাকলে চীনসহ আরও অনেক দেশকেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

এই মন্তব্যের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এ আদেশ ২১ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়াবে ৫০ শতাংশে।

একই আদেশে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাশিয়ান তেল সরবরাহে জড়িত দেশগুলোকে চিহ্নিত করার জন্য।

ট্রাম্প আরও জানান, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলাপ এবং মস্কো সফরে নিযুক্ত বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরবর্তী নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গত ৩১ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একসঙ্গে ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্কহার ঘোষণা করেন। তখন থেকেই ভারতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ দেখা গেল এই নতুন শুল্ক ও হুঁশিয়ারির মধ্যে।




অর্থনীতিতে ফিরে এসেছে স্থিতিশীল গতি : অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার ভাষায়, এক সময় ধ্বংসপ্রায় হয়ে পড়া অর্থনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধির জন্য শুধু বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বরং গভীর অন্তর্দৃষ্টি দরকার। কারণ, গত কয়েক মাসেই নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির দুটি পৃথক সভায় সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের আগে দেশের অর্থনীতি ছিল এক ভয়াবহ সংকটে। সেই জায়গা থেকে আজকের অবস্থান অনেক বেশি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে, সামনে এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতিকে আরও নিয়ন্ত্রণে আনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতের উন্নয়ন সেই চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনাটাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ বিগত সময়গুলোতে এই খাতটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও নন-ফুড মূল্যস্ফীতি এখনও বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। এটি কোনো গাড়ির ব্রেক নয় যে এক মুহূর্তে থামিয়ে ফেলা যাবে—এর জন্য সময় ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক বিষয়ক আলোচনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ৩৫ শতাংশ শুল্ক হার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। যা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে খারাপ নয় এবং নিটওয়্যার শিল্প এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। তবে ওভেন গার্মেন্টস কারখানাগুলোর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, কারণ তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ সাপোর্ট এখনও দুর্বল।

তিনি আরও জানান, এই চুক্তি এখনো স্বাক্ষর হয়নি এবং কোন খাতে শুল্ক হ্রাস করা হবে তা বিশ্লেষণ করে দেখা হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিছু আর্থিক সংস্কার হাতে নিয়েছে এবং মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য প্রয়োজন হবে আরও কিছু সময়। ব্যাংকিং খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি রোডম্যাপ প্রস্তুত করেছে, যার বাস্তবায়ন ধাপে ধাপে করা হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও সংস্কার চলছে, যার ইতিবাচক প্রভাব অচিরেই দৃশ্যমান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এনবিআরকে দুটি বিভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—একটি রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং অন্যটি রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ডিসেম্বরের মধ্যে এর বাস্তব রূপায়ণে অগ্রগতি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অবশেষে উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন জানান, সরকার এমন প্রকল্প গ্রহণ করছে, যা বাস্তবায়নযোগ্য এবং দেশের প্রয়োজনের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



লাওসকে হারিয়ে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়ে দুর্দান্ত সূচনা বাংলাদেশের

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শুরুটা হয়েছে স্বপ্নময়। শক্তিশালী পারফরম্যান্সে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়ানে অনুষ্ঠিত ম্যাচে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে জয় তুলে নেয় পিটার জেমস বাটলারের দল।

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের মেয়েরা নিয়ন্ত্রণে নেয় খেলার লাগাম। প্রথমার্ধে বারবার আক্রমণ শানালেও শুরুতে গোলের দেখা মিলছিল না। ম্যাচের ১৪ মিনিটে তৃষ্ণা রানী সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। তবে হতাশা কাটে ৩৬তম মিনিটে। কর্নার কিক থেকে দুর্দান্ত এক হেডে দলকে লিড এনে দেন সাগরিকা। লাওসের গোলরক্ষক কিছুই করার ছিল না সেই হেড ঠেকাতে। প্রথমার্ধের বাকি সময়টায় আর গোল না হলেও ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আগ্রাসী হয়ে নামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে বাংলাদেশের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুনকি আক্তার। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেদ করে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ২-০ করেন তরুণ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচের এই পর্যায়ে এসে একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখে বাংলাদেশ।

তবে গোল ব্যবধান বাড়ানোর একাধিক সুযোগ পেলেও ভাগ্য সহায় ছিল না। শিখার একটি দুরপাল্লার শট এবং সাগরিকার হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে। ঠিক এমন সময়ে, ৮৫তম মিনিটে ম্যাচে ফিরতে চায় লাওস। আন্না কেও ওনসির এক গোলে ব্যবধান কমায় স্বাগতিকরা। গোলরক্ষক স্বর্ণা রানী মন্ডল বল ধরতে এগিয়ে এসে বিপদে পড়েন এবং বলটি জালে প্রবেশ করে।

লাওস যখন সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা করছে, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আবারও দৃশ্যপটে সাগরিকা। সতীর্থের ছোট পাসে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই দুর্দান্ত ফিনিশিং করেন তিনি। ম্যাচ শেষ হয় ৩-১ ব্যবধানে বাংলাদেশের জয় দিয়ে।

এই জয়ের মাধ্যমে ‘এইচ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ তিমুর লেস্তে, যারা প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। ফলে আত্মবিশ্বাসের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

দলের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন করে আশার আলো জ্বালিয়েছে। সামনের ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের সামনে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রিজার্ভে স্বস্তি: ৩০ বিলিয়ন ছাড়াল বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। সম্প্রতি রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধি পাওয়ায় রিজার্ভে যে চাপ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল, তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) গৃহীত হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গতকাল (বুধবার, ৬ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।

উল্লেখ্য, মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিলে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ পাওয়া যায়। তবে এর বাইরে রয়েছে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে না। এই ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ হিসাব করতে আইএমএফের এসডিআর (Special Drawing Rights), ব্যাংকগুলোর ক্লিয়ারিং হিসাব এবং আকুর (Asian Clearing Union) বিল বাদ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি।

প্রতিমাসে গড়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয়ের বিবেচনায়, বর্তমান রিজার্ভ দিয়ে সাড়ে তিন মাসের আমদানি ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব। অর্থনীতিবিদদের মতে, তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমান রিজার্ভ একটি দেশের জন্য ন্যূনতম নিরাপদ সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রিত থাকায় ডলারের চাহিদা কমেছে। এতে টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময়মূল্যও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে।

গত এক বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে না। এর ফলে রিজার্ভের ওপর চাপও অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এক্ষেত্রে বাজেট সহায়তা, বৈদেশিক ঋণ এবং দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা রিজার্ভ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়, বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে হু হু করে বাড়ে অর্থ পাচার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নজিরবিহীনভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে পাচার হয় বলেও অর্থনীতিবিদদের অভিযোগ রয়েছে।

ফলে রিজার্ভ টিকে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় আকারে ডলার বিক্রি শুরু করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২২ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশ সরকার আইএমএফ-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে।

বর্তমানে সামষ্টিক অর্থনীতিতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির ফলে বৈদেশিক সহায়তা আবারও আসতে শুরু করেছে। তারই প্রভাবে রিজার্ভ ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক হোন দেশের স্বার্থে — রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি তারেক রহমানের আহ্বান

রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে সকল দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, দেশ, জনগণ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এক কণ্ঠে কথা বলতে হবে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক বিজয় র‌্যালির পূর্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনে রাজনৈতিক দলগুলোকে পারস্পরিক মতভেদ দূর করে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে সেই মতভেদ যেন জাতীয় ইস্যুতে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করার পর্যায়ে না পৌঁছায়। আমাদের রাষ্ট্র সকলের। ধর্ম, দর্শন যার যার—কিন্তু দেশের কল্যাণে আমাদের এক হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এখনই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়। নাগরিকদের প্রতি আমার আহ্বান—নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সকলকে সচেতন হতে হবে। যারা দেশকে বন্দিশালায় পরিণত করেছে, যারা জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

তারেক রহমান মনে করেন, দেশের ইতিহাসে যে রক্তাক্ত সময় পার হয়েছে, তা পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়। তিনি বলেন, “চব্বিশের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সুযোগ এসেছে, তা কাজে লাগিয়ে যদি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে পারবে না। দেশকে পরাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রও রুখে দেয়া সম্ভব হবে।”

তিনি বিজয় র‌্যালি প্রসঙ্গে বলেন, “আজকের মিছিল শুধু বিজয়ের প্রতীক নয়, এটি একটি ঘোষণা—অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার। পতিত ফ্যাসিস্টদের শাসনে যেসব ঘোর অন্ধকার নেমে এসেছিল, সেখান থেকে গণতন্ত্র ও অধিকার পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রা আজ শুরু হয়েছে।”

তার বক্তব্যে উঠে এসেছে সমঝোতার বার্তা, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা এবং একটি গণতান্ত্রিক, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোট উৎসবের পথে প্রথম পদক্ষেপ: নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এ লক্ষ্যে আজ (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ও কার্যক্রম দ্রুত শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এতে নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণেরও তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গতকাল (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ঘোষণা করেন এবং নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়ার কথা বলেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই চিঠি পাঠানো হলো।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিগত পনেরো বছরে দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতায় ২০২৬ সালের নির্বাচন যেন আনন্দঘন, স্মরণীয় ও উদ্‌যাপনযোগ্য একটি গণতান্ত্রিক উৎসবে পরিণত হয়—এমনটাই প্রত্যাশা প্রধান উপদেষ্টার। নির্বাচন যেন হয় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যে পরিপূর্ণ—এমন নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দেবে বলেও জানানো হয়েছে।

নির্বাচনে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে চিঠিতে।

সবশেষে, প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণার আলোকে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়।




দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও এক কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেন আমীর খসরু

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় আগামী ১৮ মাসের মধ্যে এক কোটি মানুষকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, দেশের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার এবং দ্রব্যমূল্য কমিয়ে জনজীবন স্বাভাবিক রাখার অঙ্গীকার নিয়েছে বিএনপি।

বুধবার (৬ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের নিউ মার্কেট মোড়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির তিনটি জেলা ইউনিটের আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে নিউ মার্কেট থেকে শুরু হয়ে চেরাগি মোড় ঘুরে প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয় একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি।

আমীর খসরু বলেন, “জনগণ আজ প্রমাণ করেছে, তারা জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য ১৬ বছর ধরে ত্যাগ স্বীকার করছি। এই আন্দোলন জনগণের মালিকানা পুনরুদ্ধারের জন্য। আমরা এখন নির্বাচনের পথে আছি, দেশবাসী ধানের শীষের জন্য প্রস্তুত।”

অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শৃঙ্খলিত রাজনীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে খসরু জানান, দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পাঁচ থেকে ছয় হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কোনো দখলদার, চাঁদাবাজ বা ভাইয়ের রাজনীতি বিএনপিতে চলবে না। জনগণের জন্য রাজনীতি করতে হবে। আমরা নতুন রাজনীতির সূচনা করেছি—যেখানে মতপার্থক্য থাকবে, কিন্তু সম্মানবোধও থাকবে।”

সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “তারা রাজনীতি করবে কিন্তু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে না। জনগণকে বাইরে রেখে একতরফাভাবে দেশ চালানোর চেষ্টা আবারও শুরু হয়েছে, কিন্তু জনগণ সেটা আর মেনে নেবে না।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও তরিকুল ইসলাম তেনজিং।




‘রক্তের ইতিহাস উপেক্ষিত’: শাপলা গণহত্যা বাদ পড়ায় ক্ষুব্ধ হেফাজত

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ‘নৃশংস গণহত্যা’ নিয়ে জুলাই ঘোষণাপত্রে কোনো বক্তব্য না থাকায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দলটির শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন, গণপ্রতিরোধে আলেম-ওলামা ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের রক্ত ও আত্মত্যাগ থাকা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ঘোষণাপত্রে শাপলার শহীদদের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধাও জানানো হয়নি।

বুধবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব সাজেদুর রহমান এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই ঘোষণাপত্রে শাপলা গণহত্যার বিচার নিয়ে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই—এমনকি একটি বাক্যও নেই। অথচ ঘোষণাপত্র পাঠের সময় আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে উপস্থিত ছিল। এটি কোনো ভুল নয়, এটি সচেতন অবহেলা। আমরা মর্মাহত, বিক্ষুব্ধ এবং বিস্মিত।”

তারা জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে নিরস্ত্র আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনী বর্বর হামলা চালিয়েছিল। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। বরং ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কোনো নিরাপত্তা পান না। অন্তর্বর্তী সরকার প্রশাসন ও গোয়েন্দা কাঠামোতে এখনও মূল সংস্কার আনতে না পারায় তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

বিবৃতিতে মোদির আগমনবিরোধী বিক্ষোভে শহীদদের কথাও স্মরণ করা হয়। নেতারা বলেন, “শাহবাগী ফ্যাসিবাদ ও দিল্লির আধিপত্যবাদ ঠেকাতে হেফাজত শুরু থেকেই সামনে থেকেছে। শাপলার শহীদদের ইতিহাস কোনো দিন মুছে ফেলা যাবে না।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাই ঘোষণায় এই রক্তাক্ত অধ্যায়কে উপেক্ষা করে সত্যকে আড়াল করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের স্মৃতি দীর্ঘমেয়াদি। সরকার যদি শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত না করে, তাহলে এই উপেক্ষার জবাব জনগণই দেবে।”




‘হতাহতের তথ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা’, জুলাই ঘোষণায় ঘাটতির অভিযোগ এনসিপির

সরকার গত এক বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, এই ব্যর্থতার ছাপই ‘জুলাই ঘোষণাপত্রে’ প্রতিফলিত হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ও প্রধান উপদেষ্টার ভাষণের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় দলের অবস্থান তুলে ধরেন আখতার হোসেন।

তিনি বলেন, “এক বছরের মধ্যে সরকার আহত ও নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছে। এই অপারগতা ঘোষণাপত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।”

আখতার আরও বলেন, “ঘোষণাপত্রে উপনিবেশবিরোধী লড়াইয়ের কথা থাকলেও ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের কোনো উল্লেখ নেই। অথচ এই ধারাবাহিকতাই বর্তমান সংগ্রামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত।”

তিনি দাবি করেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের গণহত্যা, জুডিশিয়াল কিলিং, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলন, মোদি-বিরোধী বিক্ষোভ, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলোকে ঘোষণাপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হলে সেটি আরও সমৃদ্ধ হতো।

এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন সংবিধানের দাবি জানিয়ে আসছি। গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের দিয়ে একটি নতুন সংবিধান লেখার প্রস্তাব বারবার দিয়েছি। কিন্তু ঘোষণাপত্রে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই।”

তিনি জানান, এনসিপি মনে করে নতুন বাংলাদেশের রূপরেখায় অতীত ইতিহাস, শহীদদের ত্যাগ ও গণমানুষের অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দিকনির্দেশনা স্পষ্টভাবে থাকতে হবে।




‘গুরুত্বপূর্ণ দিবসে ব্যক্তিগত সফর’— এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাকে দলীয় অনুমতি ছাড়া কক্সবাজার ভ্রমণে যাওয়ার ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে হাজির হয়ে দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের কাছে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে বলা হয়, “গতকাল ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বর্ষপূর্তি ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসে আপনি এবং দলের আরও চারজন কেন্দ্রীয় সদস্য ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজার গিয়েছেন। সফরের বিষয়ে ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’কে কোনো ধরনের পূর্ব অবগত না করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন—দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “এই সিদ্ধান্ত দলের ভেতরে শৃঙ্খলাবিরোধী এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বসম্পন্ন দিবসের প্রতি অসংবেদনশীল আচরণ হিসেবেই গণ্য হচ্ছে।”

গতকাল (৫ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১১টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে পাঁচ নেতা কক্সবাজারে পৌঁছান। খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে দাবি করেন, ওই নেতারা কক্সবাজারে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে একটি হোটেলে বৈঠক করতে গেছেন। এ গুঞ্জনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা ওই হোটেলের সামনে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভও করেন।

তবে পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো প্রমাণ মেলেনি এবং এনসিপি সূত্রও এ দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছে।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মতে, “দলীয় দায়িত্বশীলরা এমন দিনে ব্যক্তিগত সফরে গেলে জনমানসে ভুল বার্তা যায়। শৃঙ্খলা রক্ষায় দলকে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।”