ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল, বড় পরিকল্পনা প্রবাসী ভোটারদের ঘিরে

আগামী ডিসেম্বর মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ রোববার (৭ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণবিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রবাসী ভোটারদের প্রসঙ্গেও গুরুত্বারোপ করেন। জানান, আগামী মাস থেকেই প্রবাসীদের ভোটার অ্যাডুকেশন কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন। এতে ভোটারদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

তবে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। তিনি জানান, যদি কোনো আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী না থাকে, সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রতিটি লাখ ভোটারের পোস্টাল ব্যালটের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় থেকে সাত কোটি টাকা।

৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যারা ভোটার হবেন, তাদের নামই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে এবং তারাই জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কমিশনের আজকের দিনের সভা আপাতত মুলতবি করা হলেও, ভোটার তালিকা প্রণয়নে সময়সীমা পরিষ্কার করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসীদের পাঠানো ব্যালটে শুধুমাত্র প্রতীক থাকবে, প্রার্থীর নাম থাকবে না। সময় ও খরচ কমানোর লক্ষ্যে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যালট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের মাধ্যমে। ব্যালট পাঠানো ও গ্রহণের সময়সীমা হবে তিন সপ্তাহ।

তিনি আরও বলেন, শুধু প্রবাসীরাই নয়—দেশের ভেতরেও আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নির্বাচন কমিশন প্রবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে দেশ ও বিদেশের সকল ভোটারের অধিকার নিশ্চিত হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা দৃঢ় হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি আবারও বেড়েছে

দেশজুড়ে আবারও বাড়ল মূল্যস্ফীতির চাপ। চলতি বছরের জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি—তিনটিই বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা জুন মাসে ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.০৭ শতাংশ। এটি দেশের ভোক্তাদের জন্য আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির দিক থেকে দেখা যায়, জুনে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা জুলাইয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ খাদ্যসামগ্রীর দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়েছে। জুন মাসে এর হার ছিল ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ, যা জুলাইয়ে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। যদিও বাড়ার পরিমাণ মাত্র ০.০১ শতাংশ, তবুও এতে প্রমাণ হয়—জ্বালানি, পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খাতে খরচ কমছে না বরং ধীরে ধীরে বাড়ছেই।

গ্রাম ও শহরভেদে মূল্যস্ফীতি বিশ্লেষণেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। গ্রামাঞ্চলে জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অপরদিকে শহরাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেশি। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার জুলাই মাসে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

এই তথ্যগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে, দেশের জনগণের উপর মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিবারগুলো এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—না হলে দীর্ঘমেয়াদে তা অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তফসিলের পরই দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরই দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) এ তথ্য জানিয়েছেন তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

তিনি বলেন, “এ বছরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন। নির্বাচনের তফসিল আগামী নভেম্বর মাসে ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘটবে।”

তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, “যে বাড়িতে তিনি উঠবেন, সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তার চলাচলের জন্য উপযুক্ত নিরাপত্তাবেষ্টিত যানবাহনও আনা হয়েছে।”

জাতীয় রাজনীতিতে এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর মতে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করবে এবং নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। পরদিন নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তারেক রহমান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও, বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগেই দেশে ফিরতে তাঁর আইনি ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি শেষের পথে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চায়ের দোকানে বসা অবস্থায় গাজীপুরে সাংবাদিক খুন

গাজীপুর মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) নামের এক সংবাদকর্মীকে। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তার মসজিদ মার্কেটের সামনে এ নির্মম ঘটনা ঘটে।

নিহত তুহিন গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। তিনি রাজধানী থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামে হলেও পরিবার নিয়ে তিনি গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয়রা জানান, হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে তুহিন নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যস্ত চৌরাস্তা এলাকায় পথচারীদের বিশৃঙ্খলভাবে রাস্তা পারাপারের দৃশ্য তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, “যেমন খুশি তেমন রাস্তা পার হওয়ার দৃশ্য। গাজীপুর চৌরাস্তা।”

ভিডিওটি পোস্ট করার কিছুক্ষণ পরই তিনি চা খেতে যান মসজিদ মার্কেটের পাশে একটি দোকানে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠিক সেই সময় কয়েকজন দুর্বৃত্ত অতর্কিতে এসে তাকে ঘিরে ফেলে। সবার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং গলা কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

খবর পেয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন খান জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত সহায়তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহল, গণমাধ্যমকর্মী, সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, একজন পেশাদার সাংবাদিককে এভাবে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করায় গণমাধ্যমের নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেব্রুয়ারির আগেই জাতীয় নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা হবে ডিসেম্বরের শুরুতে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, রমজান শুরুর আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ডিসেম্বরের শুরুতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

কমিশনার সানাউল্লাহ জানান, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ড্রোনের অপব্যবহার রোধে কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। আচরণবিধিতে এআই ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা শুধু প্রার্থী ও রাজনৈতিক দল নয়, অন্যান্য সম্ভাব্য পক্ষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। এজন্য একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “ভুল তথ্য ও বিদ্বেষ ছড়াতে এআই ব্যবহার করা হলে কমিশন তা কঠোরভাবে দমন করবে।”

নির্বাচনে প্রার্থীদের ড্রোন বা কোয়াডকপ্টার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন নিজস্ব পর্যবেক্ষণের জন্য ড্রোন ব্যবহার করতে পারে বলেও জানান তিনি।

ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ব্যবহারের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়ে কমিশনার বলেন, “সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো ব্যয়বহুল ও প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। ইতোমধ্যে একটি কমিটি বিকল্প উপায় খুঁজে দেখছে, যার মধ্যে বিদ্যমান ক্যামেরা ব্যবহার বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

এছাড়া নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এভাবে ১৮ থেকে ২০ লাখ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি আরপিও সংশোধনের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ।




জাতিসংঘ প্রতিনিধির সঙ্গে আইজিপির বৈঠক, নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার হবে

বাংলাদেশে অবস্থানরত জাতিসংঘ ও সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জাতিসংঘের বাংলাদেশ বিষয়ক নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিজ. টেস বি. ব্রেসনান

সাক্ষাৎকালে মিজ. ব্রেসনান বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পারস্পরিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা জোরদারকরণ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আইজিপি বাহারুল আলম বলেন,

“জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিদেশি সংস্থায় কর্মরতদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা চলবে।”

সাক্ষাৎকালে পুলিশের ডিআইজি (অপারেশনস) মো. রেজাউল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




‘দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো’ — হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ শোকজের জবাবে দলের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, “দলের উচিত ছিল গোয়েন্দা সংস্থা ও অসৎ মিডিয়ার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।”

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে শোকজের জবাব প্রকাশ করে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৫ আগস্ট জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণে যান এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা। ওই ঘটনায় ‘দলের অনুমতি না নেওয়ার’ অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করে এনসিপি।

শোকজের জবাবে হাসনাত বলেন, “আমরা যে ঘোষণা বা আয়োজন প্রত্যাশা করেছিলাম, সেখানে অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারীদের সম্মান ও অন্তর্ভুক্তি ছিল না। ফলে ব্যক্তিগতভাবে আমি ওই আয়োজনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি দাবি করেন, দলের আহ্বায়ককে তিনি ভ্রমণের ব্যাপারে অবহিত করেছিলেন। এরপরও শোকজ নোটিশকে ‘বিধিবহির্ভূত’ ও ‘অতি উৎসাহী পদক্ষেপ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শোকজের জবাবে আরও বলা হয়,

“ঘোষণাপত্রে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের ওপর অর্পণের যে কথা বলা হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা চেয়েছি গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান।”

তিনি দাবি করেন, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে কিছু গণমাধ্যমে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ভাবে প্রচার করা হয়েছে। এতে ‘গোপন বৈঠক’ ও ‘ষড়যন্ত্র’–এর অভিযোগ তোলা হয়, যা তিনি ‘গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

নারী নেত্রী তাসনিম জারাকে ঘিরে পরিচালিত অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন নারীকে টার্গেট করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ প্রচার চালানো হয়েছে। এটা নারী নেতৃত্বকে নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা।”

শেষে তিনি দলের প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে বলেন, “আমি এনসিপির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। গণতান্ত্রিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা দিয়েই আমাদের দল আরও পরিণত হবে।”




দ্বিতীয় অধ্যায়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য: নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন

অন্তর্বর্তী সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায় আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা আজ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম এবং প্রধান কাজ হচ্ছে একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা।”

সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত চলা এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠকে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা গতকাল নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারি মাসে রোজার আগেই নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। এখন থেকে আমাদের সব পরিকল্পনা এই নির্বাচনকে ঘিরে। আমরা চাই যেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিতে পারে।”

তিনি আরও জানান, সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে: ১) সুষ্ঠু নির্বাচন, ২) কাঠামোগত সংস্কার এবং ৩) বিচার প্রক্রিয়া বা ট্রায়াল।

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। সরকার যে সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার আলোকে কমিশন তারিখ জানাবে।”

নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পুলিশের এসপি ও ওসিদের লটারির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পথে বলেও জানান তিনি। ডিসিদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা চলছে। আগে ৮ লাখের মতো নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের কথা থাকলেও এখন ৫০-৬০ হাজার বাড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা হচ্ছে।”

প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দল অংশ নিতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে জানতে চাইলে প্রেস সচিব বলেন, “এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম আপাতত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাদের নেতাদের ট্রায়াল শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থা বজায় থাকবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা ও নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ঘোষণা প্রায় সব দলই ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। আগেও আলোচনা হয়েছে, সামনে আরও হবে। আমরা প্রত্যাশা করছি—এটা একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে।”

শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “এই নির্বাচন হবে ফ্রি, ফেয়ার এবং উৎসবমুখর। কেউ অভিযোগ করার সুযোগ পাবে না।”




সংস্কার কমিশনের অগ্রগতি: ১২১ সুপারিশের মধ্যে ১৬ বাস্তবায়িত, ৮৫ বাস্তবায়নাধীন

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে অগ্রগতি জানাতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ১২১টি সুপারিশের মধ্যে ১৬টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৮৫টি সুপারিশ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা মোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিলেন। এসব কমিশনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনের মধ্যে আইন উপদেষ্টা ১২১টি সুপারিশকে ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। আজকের বৈঠকে এসব সুপারিশের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়।”

এগুলোর মধ্যে ১৬টি সুপারিশ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে, ৮৫টি বাস্তবায়নাধীন এবং ১০টি আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। আর বাকি ১০টি সুপারিশ এখনো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে, বাস্তবায়নযোগ্য কি না তা নিরূপণ করা হচ্ছে।

তবে এসব সুপারিশের বিস্তারিত তালিকা বা নির্দিষ্ট কার্যক্রম সম্পর্কে প্রেস সচিব বিস্তারিত কিছু জানাননি।




“ড. ইউনূস ব্যর্থ হলে সেটি ইতিহাস মনে রাখবে”—বিএনপি উপদেষ্টা ফারুক

আগামী নির্বাচনে যদি সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের আমলের চেয়েও ভালো নির্বাচন না হয়, তবে সেটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদিন ফারুক।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিল আয়োজিত একক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক বলেন, “যদি ড. ইউনূস একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দায় সম্পূর্ণ তার কাঁধেই বর্তাবে।”

এ সময় অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনসমূহে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ফারুক বলেন, “১৪, ১৮ এবং ২৪ সালের নির্বাচনে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের যেন বদলির লটারিতে অন্তর্ভুক্ত না করা হয়। তাদের কারণে গণতন্ত্র কলঙ্কিত হয়েছে। তাই আগামী নির্বাচনে তারা কোনোভাবেই দায়িত্বে থাকতে পারেন না।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লটারির মাধ্যমে এসপি ও ওসি বদলির প্রস্তাবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত, যা অতীতের কুৎসিত চিত্রকে আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে ফারুক বলেন, “২০০৮ সালে আমি কারাগারে থাকাকালে আমার মা মারা যান। কিন্তু প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় তার শেষ মুখটাও দেখতে পারিনি।”

তিনি প্রয়াত রাজনীতিক শাহজাহান সিরাজের একটি মন্তব্য স্মরণ করে বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”

বিএনপি নেতা আরও বলেন, “রাজনীতি কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে সৎ রাজনীতির সূচনা করেছিলেন। আর খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক।”

শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “যদি তিনি গণতন্ত্রকে ধ্বংস না করতেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস না করতেন এবং বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত না করতেন, তাহলে হয়তো আজ তাঁকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে হতো না।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি আলী আশরাফ আখন্দ। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের আরেক উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব।