যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য উত্তেজনা তুঙ্গে, আলোচনা স্থগিত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের

ভারতীয় পণ্যের ওপর দ্বিগুণ অর্থাৎ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির আগে ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বাণিজ্য আলোচনা সম্ভব নয়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) এনডিটিভি ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে জানায়, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেন, “না, এটা সমাধান হওয়ার আগে কিছুই হবে না।”

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশে জানানো হয়, রাশিয়া থেকে তেল আমদানির প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পণ্যের ওপর নতুন করে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হবে ২৮ আগস্ট থেকে। এর আগে ৭ আগস্ট থেকেই প্রথম দফার ২৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে।

এই সিদ্ধান্তে বলা হয়, ভারতের রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এই যুক্তিতে প্রেসিডেন্ট জরুরি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ব্যবহার করেছেন।

তবে কিছু নির্দিষ্ট পণ্য এবং ইতোমধ্যে রপ্তানির পথে থাকা চালানের ক্ষেত্রে সাময়িক ছাড় দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিবেচনায় শুল্ক নীতিতে পরিবর্তন আনার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দিল্লিতে এক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, “আমরা অর্থনৈতিক চাপের মুখেও আমাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরব না। ভারতের জন্য কৃষকের স্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে, কোনো আপস হবে না।”

ভারতের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, দেশের কোটি কোটি গ্রামীণ মানুষের জীবিকা সংবেদনশীল খাতগুলোর সঙ্গে জড়িত। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য সেগুলো খুলে দিলে তা তাদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত রাখা এবং উচ্চ শুল্ক আরোপ—এই দুই সিদ্ধান্তই দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদী উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।




যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের নিয়ে পরবর্তী রূপরেখা ঠিক করলেন তারেক রহমান

জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এ বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক। দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের কৌশল ও আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও ঘোষিত সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি দলগুলোর অবস্থান এবং যুগপৎ কর্মসূচির সমন্বয়।

১২ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক মোস্তফা জামাল হায়দার, এলডিপির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—বিএলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিকল্পধারা বাংলাদেশের অধ্যাপক নুরুল আমিন ব্যাপারী, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এম এ রকিব, জাগপার খন্দকার লুৎফুর রহমান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম।

বিএনপির পক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বৈঠকে অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, বিগত ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনে ১২ দলীয় জোট ও ১১ দলীয় জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট একত্রে অংশ নেয়। দলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), এলডিপির একাংশ, জাগপার একাংশ, কল্যাণ পার্টি, ন্যাপ-ভাসানী, বিকল্প ধারা, ইসলামী ঐক্যজোট, ইসলামিক পার্টি, ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু জনতা পার্টিসহ আরও বেশ কিছু দল।

বৈঠকে নতুন কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নির্বাচনী রূপরেখা নিয়েও প্রাথমিক পর্যায়ের কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গেছে।




নির্বাচন বিলম্বে জামায়াতের ‘থিউরি’ নিয়ে উদ্বেগ, সতর্ক করলেন হাফিজ

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার দাবি, জামায়াত আজব আজব ব্যাখ্যা দিয়ে নির্বাচন বিলম্বিত করার অপচেষ্টা করছে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন।

হাফিজ বলেন, ‘‘কিছু রাজনৈতিক দল বুঝে গেছে, নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। তাই তারা নতুন নতুন থিউরি দিচ্ছে। জামায়াতের এসব কথার কোনো ভিত্তি নেই। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের অধিকার থাকলেও এর জবাব দেবে জনগণ।’’

তিনি বলেন, ‘‘একটি দল বলেছে একাত্তরে নাকি জাতি পথভ্রষ্ট ছিল। আমরা অবাক হয়েছি। একাত্তর কোনো দলের বিষয় ছিল না, পুরো জাতির ছিল।’’

বিএনপির জোট রাজনীতির প্রেক্ষাপট টেনে হাফিজ বলেন, ‘‘অনেকদিন আমাদের মিত্র ছিল এমন কিছু দল নির্বাচন সামনে রেখে অদ্ভুত কথা বলছে। সংগ্রাম শেষে কৃতিত্ব দাবি করার লোকের অভাব নেই।’’

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার অধীনে ‘প্রহসনের নির্বাচন’ হয়েছে। গণতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলে আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তাই জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে একদফা আন্দোলনে নেমেছিল।

সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে হাফিজ জানান, বিএনপি বেশিরভাগ প্রস্তাবেই একমত। দু-একটি বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দেওয়া হয়েছে। ‘‘নির্বাচন এমন পদ্ধতিতে হওয়া উচিত, যা সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য।’’

পুলিশ প্রশাসন নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘‘আমরা আশা করেছিলাম বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীতে সংস্কার আনবে। কিন্তু হয়নি। এই বাহিনী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।’’




ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কলকাতায় ‘গোপন কার্যালয়’ খুলেছে আওয়ামী লীগ নেতারা

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে ‘দলীয় কার্যালয়’ খুলেছেন দলটির নেতারা। কলকাতার আশপাশের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে গোপনভাবে গঠিত এই অফিসে নিয়মিত বৈঠক করছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক নেতা ও কর্মী ভারতে আশ্রয় নেন। শুরুতে কেউ কেউ নিজেদের বাসায় ছোটখাটো দলীয় বৈঠক করলেও এখন দলীয় কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দিষ্ট একটি ‘পার্টি অফিস’ চালু করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাণিজ্যিক ভবনের অষ্টম তলায় গোপনীয়তা বজায় রেখেই সাজানো হয়েছে অফিসটি। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবেন না এটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শেখ হাসিনা বা বঙ্গবন্ধুর ছবি কিংবা দলীয় চিহ্ন। এমনকি অফিস সংক্রান্ত কাগজপত্রও সেখানে রাখা হয় না।

আওয়ামী লীগের এক পলাতক নেতা বিবিসিকে বলেন, ‘‘এই ঘরটার পরিচিতি আমরা প্রকাশ করতে চাইনি। শুধু দেখাসাক্ষাৎ বা বৈঠকের প্রয়োজনেই এটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এটি আসলে একটি পুরোনো বাণিজ্যিক অফিস, আগের চেয়ার-টেবিলই ব্যবহার করছি।’’

সেখানে একসঙ্গে ৩০-৩৫ জন বসতে পারেন। তবে শতাধিক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে বড় বৈঠকের জন্য রেস্টুরেন্ট বা ব্যাঙ্কুয়েট হল ভাড়া নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

বর্তমানে এই পার্টি অফিসটিকে ঘিরেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।




‘জুলাই সনদের’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে আবারও আলোচনায় বসবে ঐকমত্য কমিশন

‘জুলাই সনদ’-এর বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত ও বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও সংলাপে বসতে যাচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

শুক্রবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, “ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত ও স্বাক্ষরিত সনদের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আবারও আলোচনা জরুরি। সেই লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

আলী রীয়াজ আরও জানান, ইতোমধ্যে দুই দফা সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার-সুপারিশ পাওয়া গেছে।

প্রথম পর্বে ১৬৫টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬২টিতে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে, যার কিছু বাস্তবায়ন করেছে সরকার। দ্বিতীয় পর্বে ২০টি সাংবিধানিক বিষয়ের মধ্যে ১১টিতে সর্বদলীয় ঐকমত্য ও বাকি ৯টিতে অধিকাংশ দলের সমর্থন রয়েছে, যদিও কিছু দলের ভিন্নমত সংযুক্ত থাকবে।

তিনি জানান, প্রথম দফার আলোচনায় দলগুলোর অনীহার কারণে ২৫টি প্রস্তাব আলোচনার বাইরে ছিল। তবে এবার সব বিষয়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ মতবিনিময়ের আশা করছেন তারা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আশা প্রকাশ করেছে, খুব শিগগিরই সনদ বাস্তবায়নের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো নির্ধারণ সম্ভব হবে।




‘জুলাই ঘোষণাপত্রের দৃষ্টিভঙ্গি অসম্পূর্ণ; ইতিহাস বিকৃত’ — বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। সংগঠনটির মতে, এই ঘোষণাপত্রে আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ও চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ইতিহাস বিকৃতিও ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইনাম বলেন, “ঘোষণাপত্রটি একটি প্রামাণ্য দলিল হলেও এটি প্রকৃত অর্থে ‘প্রক্লেমেশন’ হয়ে উঠতে পারেনি। এতে বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও শহীদদের প্রসঙ্গ অনুল্লিখিত রয়ে গেছে, যা ঘোষণার ব্যাপকতা ও গাম্ভীর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য ঘোষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ মূলত ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ফ্যাসিস্ট দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় একটি প্রতীক্ষিত দলিল হলেও তা আকাঙ্ক্ষিত পরিপূর্ণতা পায়নি। বরং এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বাদ পড়েছে যা এই ঘোষণাকে সীমিত ও অসম্পূর্ণ করে তুলেছে।

সংগঠনটি উল্লেখ করে, ১৯৪৭ সালের উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর গণহত্যা, কোটা সংস্কার, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, আবরার ফাহাদ হত্যা, মোদিবিরোধী বিক্ষোভ এবং ভ্যাটবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মতো ঘটনাগুলো এই ঘোষণায় উপেক্ষিত হয়েছে। অথচ এসব আন্দোলন গণজাগরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘোষণাপত্রে শহীদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা দেওয়া হলেও তাদের হত্যাকারীদের বিচার ও প্রকৃত শহীদ সংখ্যা স্পষ্ট করা হয়নি। এতে শহীদদের প্রতি ইনসাফ হয়নি বলেই মনে করে সংগঠনটি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে সংগঠনটি বলছে, এই ঘোষণায় তাদের নেতৃত্বের ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা একধরনের ইতিহাস বিকৃতি। তাদের দাবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনই ছিল ২৪ জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী মূল প্ল্যাটফর্ম।

ঘোষণাপত্রে পরবর্তী সংসদের ওপর সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্ব অর্পণের বিষয়েও আপত্তি জানায় সংগঠনটি। তারা বলছে, “রাষ্ট্রের সংবিধান সংসদ নয়, নির্বাচিত গণপরিষদ বা গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি সংস্কার নয়, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থাকে রক্ষা করার কৌশল।”

সবশেষে, সংগঠনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়, ঘোষণা বাস্তবায়নের সঠিক পথ নির্ধারণ করে ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতি ন্যায়বিচার (ইনসাফ) প্রতিষ্ঠা করা হোক।




তার্কিশ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি করল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। আইএসপিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা সরকারি বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে তার্কিশ এয়ারলাইন্স ব্যবহার করলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবেন।

এই চুক্তি সেনাসদস্যদের যাতায়াত ব্যয় হ্রাসে সহায়ক হবে এবং সরকারি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ‘স্টার এলায়েন্স’-এর বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজলভ্য করে তুলবে।

সেনাবাহিনী মনে করছে, এ ধরনের সহযোগিতা বিদেশে দায়িত্ব পালনের সময় সেনাসদস্যদের অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ভ্রমণকেও আরও সাশ্রয়ী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করবে।




সাংবাদিক হত্যায় ক্ষুব্ধ জামায়াত, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ ঘটনা প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একদল সন্ত্রাসী দৈনিক ‘প্রতিদিনের কাগজ’-এর গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “তুহিন বিকেলে চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একটি লাইভ সম্প্রচার করেছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এতে প্রমাণিত হয়, একজন সাংবাদিকও আজ নিরাপদ নন। এ ধরনের ঘটনা জাতির জন্য অশনি সংকেত।”

তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তারা কেবল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই হামলা করছে না, বরং চাঁদা না পেলে মানুষকেও নির্মমভাবে হত্যা করছে। নিজেদের মধ্যেও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে খুনোখুনি করছে তারা।”

জামায়াত নেতা গোলাম পরওয়ার সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি নিহত সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।




সাংবাদিক নির্যাতন ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় উদ্বিগ্ন নোয়াব

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই উদ্বেগ জানায়। নোয়াবের সভাপতি এ কে আজাদ স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলি তুলে ধরে বলা হয়েছে—দেশের গণমাধ্যম এখন চরম চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে সর্বশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে দেশে গণমাধ্যম ও তথ্য প্রকাশের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের যে আশা দেশবাসী পোষণ করেছিল, তার ভিত্তি ছিল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন—বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

নোয়াবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত এক বছরে (অগাস্ট ২০২৪ থেকে জুলাই ২০২৫) মোট ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৬৬ জনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ সংক্রান্ত হত্যামামলায় আসামি করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় নিহত হয়েছেন তিনজন সাংবাদিক। চাকরিচ্যুত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন গণমাধ্যমকর্মী। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সংবাদপত্র ও টেলিভিশন চ্যানেলের সম্পাদক ও বার্তাপ্রধানসহ অনেকেই পদ হারিয়েছেন। আটটি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক এবং ১১টি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বার্তাপ্রধানকে বরখাস্ত করা হয়েছে—যা গণমাধ্যমের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ।

নোয়াব আরও বলেছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় পত্রিকা—দৈনিক জনকণ্ঠের বিরুদ্ধে ‘মব’ তৈরি করে অফিস দখল ও মালিকপক্ষকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কর্মীদের সঙ্গে কোনো বকেয়া বা দেনা-পাওনা থাকলে সেটি শ্রম আদালতের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা ছিল। আবার সংবাদ কিংবা কনটেন্ট সংক্রান্ত বিরোধ হলে, তা মীমাংসার নির্ধারিত জায়গা বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু এসব প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি এড়িয়ে পত্রিকা কার্যালয়ে গিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে মতপ্রকাশ ও সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা অপরিহার্য। একটি সভ্য সমাজে সংবাদমাধ্যম শুধু তথ্য প্রদানকারী নয়, বরং সমাজের আয়না হিসেবে কাজ করে। সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা, চাকরিচ্যুতি, মিথ্যা মামলা, কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শন গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংবাদপত্র কিংবা অন্য কোনো গণমাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মালিকপক্ষকে চাপে ফেলার সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কার্যকলাপ গণমাধ্যমের মৌলিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তা কেবল সাংবাদিকদের নয়, পুরো রাষ্ট্র ব্যবস্থারই কল্যাণ বয়ে আনবে।

নোয়াব সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে—গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও সংবাদপত্রের স্বাধীন পরিবেশ বজায় রাখতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। এই অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের সজাগ থাকা সময়ের দাবি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক বছর পূর্ণ করল ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আজ (৭ আগস্ট) তাদের এক বছর পূর্ণ করল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার স্বৈরশাসনের পতনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে। ৩৬ দিনের রক্তাক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর ৮ আগস্ট শপথ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার, যার নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়।

প্রথম দিন থেকেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শাসনব্যবস্থা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, গণমাধ্যম স্বাধীনতা, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, অর্থনীতি ও দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে বহুমুখী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেয়। ‘জুলাই শহীদদের’ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকার ৫ আগস্ট ‘গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালন করে এবং জাতির সামনে উপস্থাপন করে বহু প্রতীক্ষিত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’।

অন্তর্বর্তী সরকারের বড় অঙ্গীকার ছিল দ্রুত ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজন। এই লক্ষ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এর আগেই, ৬ আগস্ট, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছে যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রমজানের আগেই নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ প্রক্রিয়াগতভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐকমত্য গঠনের জন্য সরকার গঠন করেছে ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’-এর খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি হতে যাচ্ছে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের একটি মৌলিক দলিল।

একইসাথে, সরকার গঠন করেছে একাধিক সংস্কার কমিশন: নির্বাচন, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন, জনপ্রশাসন, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, শ্রমিক অধিকার ও নারী বিষয়ক। এসব কমিশনের সুপারিশ সরকার ইতোমধ্যেই বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। নির্বাচনী সংস্কার থেকে শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে অগ্রগতি দৃশ্যমান।

অর্থনৈতিক খাতে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপও ফল দিতে শুরু করেছে। জুন মাসে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৪৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৩৫ মাসে সর্বনিম্ন। জাতির উদ্দেশে ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বন্যা-পরবর্তী কৃষি ক্ষতি ও নিত্যপণ্যের সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকারের কৌশলগত হস্তক্ষেপ সফল হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের আস্থা অর্জন করাও অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম সাফল্য। গত অর্থবছরে বৈধ পথে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০৩৩ কোটি ডলার, যা রপ্তানি আয়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এনেছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, টাকার মান শক্তিশালী হয়েছে, এবং দীর্ঘদিন পর ডলারের বিপরীতে টাকার দাম বাড়তে শুরু করেছে।

একইসাথে, ১১ মাসে বৈদেশিক ঋণের সুদ ও মূলধন বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৪ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হলেও রিজার্ভে তার প্রভাব পড়েনি। বরং বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এখন আরও ইতিবাচক।

সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে অধ্যাপক ইউনূসের ভাষণ ছিল আত্মবিশ্বাসে পরিপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনায় পরিপূর্ণ। সবমিলিয়ে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়া দেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম