নির্বাচনী আস্থা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ: সিইসি নাসির উদ্দিন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। এ আস্থা ফিরিয়ে ভোটকেন্দ্রমুখী করা এখন নির্বাচন কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভোটারদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে তাদের ভোট না দিলেও কেউ না কেউ দিয়ে দেবে। এই মানসিকতা কাটিয়ে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে আনা কঠিন হলেও জরুরি।

তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগে নতুন কৌশল গ্রহণের কথা জানান সিইসি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সিইসি বলেন, “এআই দিয়ে মিথ্যা বক্তব্য তৈরি করে প্রচার করা হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না। যাচাই ছাড়া এসব তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষতি হচ্ছে।”

তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনকে নিজের ‘ইমানি দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “আইন-কানুন মেনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করব। কারও পক্ষে বা বিপক্ষে যাব না।”

সভায় রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন সিইসি।




গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যা; ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দিতে হবে

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিলের ঘোষণা দিয়েছেন গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর মহানগরীর ওয়্যারলেস গেট এলাকায় জিএমপি সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। কমিশনার বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলেই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হবে।

তিনি স্বীকার করেন, এ ঘটনায় পুলিশের ব্যর্থতা রয়েছে। “সুরক্ষার দায়িত্ব আমাদের ছিল, কিন্তু প্রতিরোধ করতে পারিনি,” বলেন তিনি। একই সঙ্গে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং জনবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা চান।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জিএমপি কমিশনার জানান, হত্যার দিন স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা মিয়া একটি এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলেছিলেন। এরপর গোলাপি নামে এক নারী ও তার সহযোগীরা তাকে হানি ট্র্যাপে ফেলতে চেষ্টা করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাদশা মিয়া গোলাপিকে ঘুষি মারেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সহযোগীরা বাদশাকে চাপাতি দিয়ে কোপায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক তুহিন হামলার ভিডিও ধারণ করছিলেন। আসামিরা বিষয়টি টের পেয়ে তুহিনের ওপর চড়াও হয়ে ভিডিও কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে এবং ধাওয়া করে একটি চা স্টল থেকে ধরে কুপিয়ে হত্যা করে।

ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান কমিশনার। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি কেটু মিজানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বাকি একজনকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কমিশনার বলেন, “সাংবাদিক তুহিন সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে আছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে অপরাধ দমন সম্ভব হবে।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত তুহিন দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে গেছেন।




সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের আহ্বান তারেক রহমানের

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পেরেছে। এখন সরকার গঠনে স্বচ্ছতা ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি জনগণের সরকার গঠন করার আহ্বান করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কাউন্সিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট ছিল বহুল প্রত্যাশিত পরিবর্তনের দিন। সেদিন হঠাৎ করেই দেশের মানুষ অনুভব করেছিল—তারা মুক্তভাবে শ্বাস নিতে পারছে।”

তারেক রহমান জানান, দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন চায়, বিশেষ করে একটি ‘ভালো পরিবর্তন’। যদিও মুহূর্তে সবকিছু ঠিক হবে না, তবুও পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। “মানুষ বিশ্বাস করে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই উদ্যোগ নেবে এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে দেশকে এগিয়ে নেবে,” বলেন তিনি।

বিএনপির ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো গণতন্ত্রের কথা বললেও নিজেদের মধ্যে তা সবসময় চর্চা করে না—এ অভিযোগ আংশিক সত্য। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আমাদের দলের ভেতরে গণতন্ত্রের প্রক্রিয়া চালু করতে হবে।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করেছিলেন এবং দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া স্বৈরাচার পতনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। “আমাদের নেতারা যে পথ দেখিয়েছেন, সেই উত্তরাধিকার ধরে রাখতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত এবং দলের ভেতরে সব স্তরে গণতন্ত্রকে মজবুত করতে হবে,” যোগ করেন তিনি।




টিসিবির ভ্রাম্যমাণ ট্রাকে সাশ্রয়ী দামে পণ্য বিক্রি শুরু

ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) দেশের সাধারণ জনগণের জন্য ভর্তুকি মূল্যে ভোজ্যতেল, চিনি ও মশুর ডাল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী রোববার (১০ আগস্ট) থেকে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

শনিবার (৯ আগস্ট) টিসিবির উপপরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১০ আগস্ট থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩০ দিন (শুক্রবার বাদে) ঢাকা মহানগরীতে ৬০টি ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি হবে। প্রতিটি ট্রাক থেকে প্রতিদিন ৫০০ জন ভোক্তা ভর্তুকি মূল্যে এসব নিত্যপণ্য কিনতে পারবেন।

রাজধানীর বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ২৫টি, গাজীপুর মহানগরীতে ৬টি, কুমিল্লা মহানগরীতে ৩টি, ঢাকা জেলায় ৮টি, কুমিল্লা জেলায় ১২টি, ফরিদপুর জেলায় ৪টি, পটুয়াখালী জেলায় ৫টি এবং বাগেরহাট জেলায় ৫টি ট্রাক চলাচল করবে। এসব জেলায় ১০ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১৯ দিন (শুক্রবার বাদে) বিক্রি চলবে।

টিসিবি নির্ধারিত দামে প্রতিটি পণ্যের মূল্য হবে—ভোজ্যতেল ২ লিটার ২৩০ টাকা, চিনি ১ কেজি ৮০ টাকা এবং মশুর ডাল ২ কেজি ১৪০ টাকা। যেকোনো ভোক্তা ট্রাকের কাছ থেকে সরাসরি এসব পণ্য ক্রয় করতে পারবেন, এজন্য আলাদা কোনো কার্ডের প্রয়োজন হবে না।

টিসিবি জানায়, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ ও উৎসবের আগে পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এটি বড় সহায়তা হবে।

ভোক্তারা জানিয়েছেন, এ উদ্যোগ তাদের দৈনন্দিন খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগের কার্যক্রমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে হলেও তারা কম দামে মানসম্মত পণ্য পাওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

টিসিবির এই ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কার্যক্রমে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ টিম কাজ করবে এবং অনিয়ম রোধে প্রতিদিনই মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং চালানো হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন মির্জা ফখরুল

রাজধানীর কাকরাইলে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, স্বাস্থ্য সেবা ও মৌলিক চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যতের লক্ষ্য।

শনিবার (৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। তার এ মন্তব্যে উপস্থিত নেতাকর্মীরা করতালিতে সাড়া দেন এবং তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। তবে মির্জা ফখরুল তা থামিয়ে দিয়ে বলেন, “স্লোগানের রাজনীতি বাদ দিতে হবে, কাজের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের নেতা, ভবিষ্যতের কাণ্ডারি ও প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী আজ ভার্চুয়ালি যুক্ত আছেন। আমি চাই তিনি স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিন। কারণ এই খাতের উন্নয়ন ১৮ কোটি মানুষের জন্য অপরিহার্য।” তিনি উল্লেখ করেন, তারেক রহমানের স্ত্রী একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁর বিশেষ মনোযোগ থাকবে বলে আশা করছেন।

ওষুধনীতি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকারের নীতির কারণে ওষুধ শিল্পে সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক প্রস্তুতকারক রপ্তানি বন্ধের মুখে পড়ছেন এবং কারখানা বন্ধের আশঙ্কা করছেন। অথচ এই খাত একসময় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করছিল।

জুলাই আন্দোলনের সময় আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে যেসব চিকিৎসক বাধার মুখে পড়েছিলেন, তাদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন তিনি। একইসঙ্গে আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।

ড্যাবের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা শুধু চিকিৎসক নন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার অংশীদারও। স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহযোগিতা করুন।”

নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ফখরুল অভিযোগ করেন, কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ অবস্থায়ও তাকে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। বিদেশে চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অনুমতি দেওয়া হয়নি; শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে চিকিৎসার সুযোগ পান তিনি।

তিনি বলেন, “পারস্পরিক হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি আমাদের সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই কালচার বদলাতে হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“বাংলাদেশে দাঙ্গা লাগাতে পারে আ.লীগ ও ভারত : গয়েশ্বরের অভিযোগ”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দাঙ্গা উসকে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার দাবি, আওয়ামী লীগ ও ভারতের স্বার্থে দেশে একটি দাঙ্গা লাগানো হতে পারে, যা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে এবং নির্বাচন বানচাল করতে ব্যবহৃত হতে পারে।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট আয়োজিত সনাতনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গয়েশ্বর। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব বিহারি-বাঙালি দাঙ্গা লাগিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েছিলেন। রাজনৈতিক স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার পেছনে আওয়ামী লীগ অত্যন্ত পটু—দরকার হলে নিজের ঘরে আগুনও দেবে।”

গয়েশ্বর আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার মধ্যে রাজনৈতিক কৌশল লুকিয়ে থাকে, যা বহু বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, “বাংলাদেশে মুসলমান নয়, হিন্দুরাই হিন্দুদের সবচেয়ে বড় শত্রু। যেখানে যত মন্দির আছে, সবগুলোকে দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করে সীমানা চিহ্নিত করা উচিত।”

সমাবেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং অভিযুক্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, “শেখ হাসিনা বিদেশে থেকেও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। কলকাতায় আওয়ামী লীগের একটি অফিস নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে বড় ধরনের পরিকল্পনা হতে পারে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, যুগ্ম মহাসচিব মীর সরাফত আলী, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী এবং জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক।




“ঢাবির হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল : উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান। শুক্রবার (৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে নিজের বাসভবনের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।

উপাচার্য জানান, গত বছরের ১৭ জুলাই হলে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে নীতিমালা গৃহীত হয়েছিল, সেটিই বহাল থাকবে। হল প্রশাসন এ নীতিমালার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ছাত্রদলের ঘোষিত কমিটি প্রসঙ্গে সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনার কথাও তিনি জানান।

তবে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করে হলে যেকোনো ধরনের রাজনীতির সম্পূর্ণ অবসান দাবি করেন। তারা ছয় দফা দাবি পেশ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—

  • কেন কমিটি দেওয়া হয়েছে, তার জবাব উপাচার্যকে দিতে হবে।
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল, শিবির, বাগছাস, বামসহ সকল গুপ্ত কমিটি বিলুপ্ত করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও একাডেমিক এলাকায় রাজনীতি নিষিদ্ধ করে পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা দিতে হবে।
  • সব হল কমিটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিলুপ্ত করতে হবে।
  • হল প্রভোস্টদের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে হবে।
  • দ্রুত ডাকসু বাস্তবায়ন করতে হবে।

এর আগে শুক্রবার দুপুর থেকে ঢাবি শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন হল ইউনিটে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও হল পর্যায়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ, তবুও কমিটি ঘোষণার পর রোকেয়া হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিকেল থেকে চলা এ বিক্ষোভ রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র হয় এবং রাত ১২টার পর সবগুলো হল থেকে শিক্ষার্থীরা টিএসসির রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হন। পরে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। দীর্ঘ হট্টগোলের পর উপাচার্যের পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে ২০২৪ সালের ১৭ জুলাইয়ের ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী প্রকাশ্য ও গুপ্ত— উভয় ধরনের হল রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে।




দখল-দূষণে মরছে বরিশালের নদ-নদী

বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীগুলো এখন দখল ও দূষণের করাল গ্রাসে অস্তিত্ব সংকটে। নদীর স্বাভাবিক গতি-প্রবাহ, পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের জীবনে পড়ছে মারাত্মক প্রভাব। প্রশাসনের নীরবতা আর প্রভাবশালীদের বেপরোয়া দখল—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে নদীমাতৃক বাংলার প্রাণ।

বিশেষ করে বরিশালের প্রাণ কীর্তনখোলা নদী এখন মারাত্মক হুমকির মুখে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন দপদপিয়া ও চরবাড়িয়া এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধের দুই পাশে চলছে দখলের প্রতিযোগিতা। নদীর বুক দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, স-মিল, ইট-বালুর ডিপো, অফিস, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭টি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান সরাসরি নদীদূষণ ও দখলের সঙ্গে জড়িত। কালিজিরা, কর্নকাঠী, রসুলপুর ও পলাশপুর এলাকায় নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ডকইয়ার্ড, গোডাউন ও কারখানা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব দখলের পেছনে প্রভাবশালী মহল সক্রিয়।

তালিকায় দেখা গেছে—

  • কীর্তনখোলায় দখলদার: ২১৪ জন

  • পটুয়াখালী নদীতে: ৩৫৫ জন

  • ভোলার জাঙ্গালিয়া নদীতে: ৩৫ জন

  • পিরোজপুরের বেলুয়া নদীতে: ৮৮ জন

  • বরগুনার পায়রা নদীতে: ১১০ জন

  • ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি নদীতে: ২৩ জন

পিরোজপুরের দামোদর নদের ব্রিজ এলাকা ও বলেশ্বর নদীও দখলের শিকার। স্থাপনা নির্মাণে হারিয়েছে নাব্যতা। এলাকাবাসীর দাবি—নদী রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের উপ-পরিচালক মো. সেলিম রেজা জানান, “কীর্তনখোলা নদীর ৪ হাজার ৩২০ জন অবৈধ দখলদারের খসড়া তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। জরিপ শেষে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।” বরিশাল জেলার ২৩টি নদীর দুই তীরই দখলের কবলে রয়েছে।

বরিশাল অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আহসান হাবীব বলেন, “প্রত্যেকটি নদীর দখলদারদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলেই দ্রুত উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




“নির্বাচন ও সংস্কার একে অপরের পরিপূরক, মুখোমুখি নয় : জোনায়েদ সাকি”

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন—এই তিনটি উপাদানই গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। এদের মধ্যে যেকোনো একটিকে গুরুত্ব না দিলে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে অগ্নিসেনা সোশ্যাল ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভার শিরোনাম ছিল—‘দ্রুত বিচার সম্পন্ন, মৌলিক সংস্কার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন’।

সাকি বলেন, “অনেকে শুধু নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একমাত্র উপায় মনে করছেন, আবার কেউ কেউ বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনবিমুখভাবে দাঁড় করাচ্ছেন। উভয় দৃষ্টিভঙ্গিই ভুল। একটি বাদ দিয়ে অন্যটিকে সামনে এগিয়ে নিলে দেশ রাজনৈতিকভাবে বিপজ্জনক পথে যেতে পারে।”

তিনি জানান, একটি জাতীয় সনদের ঘোষণা সামনে আসছে—তবে সেখানে মতপার্থক্য, আপত্তি ও ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। “একটি পক্ষ বলছে—এই সনদ না হলে নির্বাচনে অংশ নেবে না। এটি কোনো সমাধান নয়। যদি তারা সত্যিই নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের দাবি মানাতে চায়, সেটি তাদের রাজনৈতিক অধিকার। তবে বাস্তবতা হলো—নির্বাচনকে ঠেকানোর কোনো সুযোগ নেই,” বলেন সাকি।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন হচ্ছে সংস্কার বাস্তবায়নের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ পথ। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত সংস্কারে পৌঁছাতে হবে।”

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ঘোষণাপত্রে প্রকৃত প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি, বরং কিছু মনগড়া বক্তব্য ও নির্দিষ্ট দলের বিবৃতি তুলে ধরা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা ঐক্য ও স্বচ্ছতার পরিপন্থী।”

নুর বলেন, “যে আন্দোলন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু, সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে। সেই সংগ্রামের ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি ধরে রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আশাবাদ জানিয়ে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি দিয়েছে। আমরা একটি অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চাই, যা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে।”




পাক হাইকমিশনে পরিবর্তন: ঢাকায় এলেন নতুন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে ঢাকায় এসেছেন ইমরান হায়দার। শুক্রবার (৮ আগস্ট) সকালে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইমরান হায়দারকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা, হাইকমিশনের ডেপুটি হেডসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।

এর আগে, গত ১১ মে পূর্বসূরি সৈয়দ মারুফ হঠাৎ করে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেদিন পাকিস্তান হাইকমিশন কেবল মারুফের ঢাকা ছাড়ার তথ্য জানালেও, তিনি কেন যাচ্ছেন, কতদিনের জন্য যাচ্ছেন—তা স্পষ্ট করেনি। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, তিনি দুই সপ্তাহের ছুটিতে গেছেন। তবে দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ঢাকায় ফেরেননি।

এই প্রেক্ষাপটেই ইসলামাবাদ মিয়ানমারে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইমরান হায়দারকে ঢাকায় নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কূটনৈতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ইমরান হায়দার ২০২৩ সালের মার্চ থেকে মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি তাজিকিস্তানে রাষ্ট্রদূত (২০১৯–২০২৩), ইরানের তেহরানে ডেপুটি হেড অব মিশন (২০১৬–২০১৯), এবং আরও আগে স্পেন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউইয়র্কে বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করেন।

ইমরান হায়দার ১৯৯৬ সালে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন।