লাল গালিচায় মালয়েশিয়ার অভ্যর্থনা পেলেন প্রধান উপদেষ্টা

তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১১ আগস্ট) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল তাকে অভ্যর্থনা জানান।

এসময় ড. ইউনূসকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিকেলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেন তিনি।

সফরের অংশ হিসেবে ১২ আগস্ট পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকসহ মোট পাঁচটি এমওইউ এবং তিনটি নোট অব এক্সচেঞ্জ সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই দিনে তিনি একটি ব্যবসায়িক সম্মেলনে অংশ নেবেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।

১৩ আগস্ট ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া (ইউকেএম) তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। ওই দিনই তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বিডা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।




জোট করলেও দলীয় প্রতীকে নির্বাচন বাধ্যতামূলক করবে ইসি: সানাউল্লাহ 

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল জোটে অংশ নিলেও নিজস্ব প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে বলে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১১ আগস্ট) কমিশন সভা শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, “এটা সংস্কার কমিশনেরও প্রস্তাব ছিল। রাজনৈতিক দল এককভাবে, দলীয়ভাবে বা জোটবদ্ধভাবে অংশগ্রহণ করুক—প্রত্যেককে নিজেদের সংরক্ষিত প্রতীক নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। কোনো একটি প্রতীক ব্যবহার করে পুরো জোট নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।”

তিনি আরও জানান, প্রার্থী কত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন—সে বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিষয়টি ঐকমত্যের ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি আরপিও-সংক্রান্ত আরও কিছু প্রভিশন এবং সংশোধনীর প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার।

ইসি আশা করছে, আগামী সপ্তাহে প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।




জাতীয় নির্বাচনে জুলাই সনদের প্রয়োগ চেয়ে জামায়াতের বিক্ষোভ মঙ্গলবার

জুলাই জাতীয় ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত স্বীকৃতি প্রদানের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই সনদের আলোকে আয়োজনের দাবিতে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৫টায় বিজয়নগরের পানির ট্যাংক এলাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিকে সফল করার জন্য ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও নগরবাসীর প্রতি শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।




৬.১ মাত্রার কম্পনে কেঁপে উঠলো তুরস্ক, ধসে পড়লো ১৬টি ভবন

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিন্দিরগিতে ৬ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, এতে কমপক্ষে একজন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (এএফএডি) জানিয়েছে, রোববার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। ইস্তাম্বুল ও পর্যটনকেন্দ্র ইজমিরসহ পশ্চিমাঞ্চলের বহু শহরে কম্পন ছড়িয়ে পড়ে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইয়েরলিকায়া জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারের পরপরই ৮১ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত ২৯ জনের কারও অবস্থা গুরুতর নয়। ভূমিকম্পে সিন্দিরগি ও আশপাশের এলাকায় ১৬টি ভবন ধসে পড়ে, যার মধ্যে চারটিতে লোকজন বসবাস করছিলেন। শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি তিনতলা ভবন ধসে পড়লে সেখান থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এএফএডি জানিয়েছে, উদ্ধারকাজে প্রায় ৩১৯ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ৩.৫ থেকে ৪.৬ মাত্রার অন্তত ২০টি আফটারশক আঘাত হানে।

তুরস্ক ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং ঐতিহাসিক আন্তাকিয়া নগরী ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া গত জুলাইয়ের শুরুতে একই অঞ্চলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে একজন নিহত ও ৬৯ জন আহত হয়েছিলেন।




বাংলাদেশে দায়িত্ব নিলেন জার্মানির নতুন রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজ

বাংলাদেশে জার্মানির নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত ৭ আগস্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে তিনি দায়িত্বভার নেন। সোমবার (১১ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জার্মান দূতাবাস এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে রাষ্ট্রদূত লোটজ বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের মনোবল সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। জার্মানি ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, আমরা এই পথ একসঙ্গে চলতে থাকব।”




জুলাই গণহত্যার বিচার বন্ধ হবে না, কেউ ছাড় পাবে না: চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কেউই আইনের হাত থেকে রক্ষা পাবে না। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “যারা মনে করেছিলেন বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়ে পার পাওয়া যাবে বা বিচারকাজ বানচাল করা সম্ভব—তাদের জন্য বার্তা পরিষ্কার, অপরাধীদের কেউ ছাড় পাবে না।”

তিনি জানান, বিচার প্রক্রিয়া কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। এদিন রাজধানীর চাঁনখারপুলে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থী আনাসসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “যেসব তরুণ রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বার মুক্ত করেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা বেঁচে আছেন। তাদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে দেড় হাজারেরও বেশি শহীদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

এদিন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে শহীদ আনাসের বাবা পলাশ আদালতে সাক্ষ্য দেন। তার মা-ও সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ১৪ জুলাই পলাতক চার আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে গ্রেফতার চার আসামি কারাগারে রয়েছেন—শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

পলাতক চারজনের মধ্যে আছেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং হাজিরের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চাঁনখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদী হাসান জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।




আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি : গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবকরাই অগ্রণী ভূমিকা রাখবে। জাতীয় জীবনে যুবকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের প্রতি দেশবাসীর প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে।

রোববার এক বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়— বিশ্বের বড় পরিবর্তনগুলো এসেছে যুবসমাজের হাত ধরে। তাই সুস্থ জাতি গঠনে যুবশক্তির বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গঠনে যুবসমাজ হবে পরিবর্তনের প্রধান শক্তি।

তিনি জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা সংগঠনকে আগামী ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, যুব র‌্যালি, সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামসহ নানা কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।




নির্বাচন নিরাপত্তায় ৪০ হাজার বডিক্যাম আসছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশের জন্য ৪০ হাজার বডি-ওয়্যার ক্যামেরা (বডিক্যাম) কেনার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের সময় দেশের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

রোববার (১০ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক বার্তায় বিষয়টি জানায়। এর আগে শনিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী খোদা বকস চৌধুরী এবং ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ।

ফয়েজ তৈয়ব আহমেদ জানান, বডিক্যাম কেনার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। অক্টোবরের মধ্যে এসব ক্যামেরা দেশে এনে পুলিশ সদস্যদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সক্ষমতাসহ অন্যান্য ফিচারের উপর পূর্ণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। জার্মানি, চীন ও থাইল্যান্ডের তিনটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে সরবরাহ নিশ্চিত করতে। নির্বাচনের সময় পুলিশ অফিসার ও কনস্টেবলরা বুকে ডিভাইসটি পরে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, “খরচ যাই হোক না কেন, আমাদের লক্ষ্য ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করে তোলা।”

প্রধান উপদেষ্টা কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্রয়প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি জানান, নির্বাচনের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত স্বচ্ছতা বাড়াতে একটি নির্বাচনী অ্যাপ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থীদের তথ্য, ভোটকেন্দ্রের লাইভ আপডেট এবং অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অ্যাপটি যেন দেশের ১০ কোটিরও বেশি ভোটারের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রধান উপদেষ্টার কাছে সুষ্ঠু পরিবেশে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই : এবি পার্টি চেয়ারম্যান মঞ্জু




অন্তর্বর্তী সরকারের রূপকল্পে সমর্থন, তবে সতর্কতার বার্তা এবি পার্টির

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে দলটি বলেছে, নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদীদের বিচার এবং জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা জরুরি। তা না হলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে না।

শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ফুয়াদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ঘোষিত জুলাই সনদ ঐতিহাসিক হলেও এটি জনগণের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, “সহস্রাধিক শহীদের রক্তে রঞ্জিত এই দলিল যেন কেবল অলঙ্কারিক বস্তু না হয়ে, কার্যকর নির্দেশিকা হিসেবে বাস্তবায়িত হয়—এটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সব বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো অবিলম্বে বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত। সনদের আইনগত ভিত্তি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত নির্ধারণ করা প্রয়োজন, যাতে ১৯৯০ বা ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতা পুনরাবৃত্তি না হয়।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখতে না পারার কথা জানিয়ে ফুয়াদ অভিযোগ করেন, প্রায় এক বছরেও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন বিষয়ে কোনো সংলাপ হয়নি এবং নির্বাচন সংস্কার কমিশনের অনেক সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। ফুয়াদের মতে, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে তৃণমূল পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে, যা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।