সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতে বাহিনী–প্রশাসনের সমন্বয়ের তাগিদ সেনাপ্রধানের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সামনে রেখে সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পটুয়াখালী সফর করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বরিশাল এরিয়ার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি তিনি মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনরত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।

সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। এই সমন্বয়ের মাধ্যমেই জনগণের আস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সেনাপ্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্ব পালনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মতবিনিময়কালে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ধৈর্যশীল ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে জনগণের পাশে থেকে কাজ করার আহ্বান জানান। তার মতে, সামান্য অসতর্কতাও নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই প্রতিটি সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন এমন অনেক ভোটার রয়েছেন। এই বাস্তবতায় ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের একটি বড় দায়িত্ব, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে।

এই সফরে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার বরিশাল এরিয়া, সেনাসদর ও বরিশাল এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধানের এই পরিদর্শন মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি ও সমন্বয়কে আরও কার্যকর করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাস্তব রূপ। তাই এই সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়োপযোগী।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী অতীতেও পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনেও তারা সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার আশাবাদী। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, সামান্য কোনো বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মতবিনিময় সভার শুরুতে ড. ইউনূস মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যেমন রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো নিয়ে মতামত জানাবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবে। ফলে এই নির্বাচনের গুরুত্ব অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

ড. ইউনূস বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি এমন অনেক নাগরিক রয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ভোট দিতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও আনন্দঘন পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত হতে হবে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করে যেন প্রতিটি নাগরিক নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

নির্বাচনের বাইরেও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে বক্তব্য দেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে কাজ শুরু করেছে। সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর স্বনির্ভরতা বাড়াতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে অনুরূপ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সশস্ত্র বাহিনীর আভিযানিক দক্ষতা ও সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. ইউনূস বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই পারে সেই পথ সুগম করতে।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান। সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাজাকার মন্তব্য ও এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি, বাউফলে বক্তব্য ঘিরে তীব্র আলোচনা

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী মাঠ। এই উত্তাপের মধ্যেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল আলম তালুকদার এক নির্বাচনী সভায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে ‘রাজাকার’ বলে আখ্যা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলে কিছু ব্যক্তিকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও একটি নির্বাচনী অফিস উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শহিদুল আলম তালুকদার। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সামনে তিনি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক হিসেবে তুলে ধরেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নেতিবাচকভাবে চিহ্নিত করে ভোটারদের প্রতি আবেগী আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, রাজাকাররা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে এবং দেশের মানুষের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়েছে। তার দাবি, যাদের অতীত বা অবস্থান নিয়ে এমন প্রশ্ন রয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সময় সভায় উপস্থিত সমর্থকরা তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ভোট প্রার্থনার অংশ হিসেবে শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, তার রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়, বরং এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে কিছু মানুষকে বাউফল ছেড়ে চলে যেতে হবে এবং নির্বাচনের পরদিনই এলাকায় তাদের আর দেখা যাবে না। নিজের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন প্রবীণ মানুষ হিসেবে তাকে এখন একজন ‘নব্য রাজাকারের’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে।

রাজনৈতিক জীবনের অতীত টেনে তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ১৯৭৩ সালে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, আওয়ামী লীগকে তিনি ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন না। যারা ভালো কাজ করবে, দল-মত নির্বিশেষে তারা তার কাছে গ্রহণযোগ্য। আর যারা দেশের ক্ষতি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।

সভায় জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং দলটির অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এই আসনে শহিদুল আলম তালুকদারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

বর্তমানে কার্যকর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার ১৫ নম্বর বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক বক্তব্য, মানহানিকর মন্তব্য কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ভাষা ব্যবহার করতে পারবেন না—এমন নির্দেশনা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। ফলে আলোচিত এই বক্তব্য আচরণবিধির আলোকে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চানখারপুল হত্যাকাণ্ডে সাবেক ডিএমপি কমিশনারসহ ৩ জনের ফাঁসি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও পাঁচ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর দুই আসামি হলেন ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, হত্যাকাণ্ডে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।

এ ছাড়া রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুলকে ছয় বছরের কারাদণ্ড, শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলামকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় মোট আটজন আসামির মধ্যে চারজন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন। তারা হলেন—আরশাদ হোসেন, সুজন মিয়া, ইমাজ হোসেন ইমন ও নাসিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণার আগে আজ সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুর রহমান, সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, শাহ আলম আখতারুল ইসলাম এবং সাজাপ্রাপ্ত ইমরুল এখনো পলাতক রয়েছেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেন, চানখারপুল এলাকায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওয়্যারলেস বার্তার মাধ্যমে অধস্তন পুলিশ সদস্যদের মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান—এ বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, যেদিন ক্ষমতাচ্যুত হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই দিন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয়জন। নিহতরা হলেন—শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইশমামুল হক ও মানিক মিয়া। ঘটনাটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মোট ২৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয় ১৯টি ভিডিও ফুটেজ, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ড, বিভিন্ন বই ও নথিপত্র এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ। এসব উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ট্রাইব্যুনাল আসামিদের দায় প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ ডিসেম্বর রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। প্রথমে ২০ জানুয়ারি রায় ঘোষণার কথা থাকলেও প্রস্তুতির অভাবে তা পিছিয়ে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটি প্রথম বিচারাধীন মামলা হলেও রায় ঘোষণার দিক থেকে দ্বিতীয় মামলা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কড়া অবস্থান, ভিসিসহ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চায় রাষ্ট্র

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে টানা শুনানি ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর প্রসিকিউশন এই অবস্থান স্পষ্ট করে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার তৃতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল। প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উপস্থাপন করেন। যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে তিনি ২০২৪ সালের ১৬ জুলাইয়ের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ওই ফুটেজে আবু সাঈদ হত্যার সময় বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটক এলাকায় সংশ্লিষ্ট আসামিদের অবস্থান ও গতিবিধি তুলে ধরা হয়।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্র বিশ্লেষণ করে দেখান, ঘটনার মুহূর্তে কে কোথায় ছিলেন এবং কার কী ভূমিকা ছিল। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই ফুটেজ মামলার অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ, যা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে।

যুক্তিতর্ক শেষ করে ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে প্রসিকিউটর বলেন, এই পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন শেষ হয়েছে এবং তারা অভিযুক্ত সকল আসামির জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষ হওয়ার পর আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো আদালতে বক্তব্য দেন। তিনি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজন আসামির পক্ষে আইনি লড়াই করছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় অভিযুক্ত ৩০ জনের মধ্যে বর্তমানে ছয়জন কারাগারে রয়েছেন। রোববার সকালে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কারাবন্দি আসামিরা হলেন—এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল এবং আনোয়ার পারভেজ।

অন্যদিকে, মামলার প্রধান অভিযুক্ত বেরোবির তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ আরও ২৪ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এই হত্যা শুধু একজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানি নয়, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ওপর সরাসরি আঘাত। তাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিরাপত্তা শঙ্কায় থানায় জিডি, আতঙ্কে হাদির পরিবার

নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শহীদ ওসমান হাদির মেঝো ভাই ওমর বিন হাদি। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, হত্যার আশঙ্কা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চান।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর শাহবাগ থানায় এই জিডি করা হয়। জিডিতে ওমর বিন হাদি উল্লেখ করেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি এবং হাদির সন্তান চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এখনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত মূল অপরাধী চক্র গ্রেপ্তার না হওয়ায় যে কোনো সময় তাদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

জিডির বিবরণে বলা হয়, হত্যার ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক গ্রুপ ও ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে পরিবারের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ওমর বিন হাদিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

ওমর বিন হাদি জিডিতে আরও জানান, এসব হুমকি ও অপপ্রচারের কারণে তিনি এবং হাদির সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। স্বাভাবিক জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কায় তারা সার্বক্ষণিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ওসমান হাদির পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, জিডির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। হুমকি ও অপপ্রচারের পেছনে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তাও নেওয়া হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোটেই চাঁদাবাজদের বিদায়: নাহিদ ইসলাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাধ্যমেই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস ও দখলবাজদের রাজনীতির শেষ দিন ঘনিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডা এলাকার সাতারকুলসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এলাকার সার্বিক সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে কর্মী-সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না। তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলবাজ রাজনীতির বিদায় ঘণ্টা বাজবে।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার নাগরিক সংকট, উন্নয়ন ঘাটতি ও জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার পরিবর্তনের নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের সুযোগ। মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং সাধারণ ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।

ভোটারদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। যাকে ভোট দেবেন, ভেবেচিন্তে দেবেন। কোনো লোভ, সুবিধা কিংবা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে ভোট দেওয়া উচিত নয়। যোগ্য ও সৎ প্রার্থী নির্বাচন করাই হবে এই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, এবারের ভোট শুধু একটি আসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে না, এটি পুরো দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। তাই প্রতিটি ভোট গুরুত্বপূর্ণ।

প্রচারণার শেষাংশে তিনি ভোটারদের শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্যারোলে মুক্তির খবর ভুয়া, জানাল জেলা প্রশাসন

বাগেরহাট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যে তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সঠিক নয় বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের কাছে প্যারোলে মুক্তির জন্য কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জুয়েল হাসান সাদ্দাম গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত হন। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু হয়, যার মধ্যে প্যারোলে মুক্তির আবেদন প্রত্যাখ্যানের দাবিও ছিল।

তবে জেলা প্রশাসন জানায়, সময়ের স্বল্পতা ও পারিবারিক বাস্তবতার কারণে জুয়েলের পরিবার প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে মরদেহ কারা ফটকে দেখানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের মৌখিক অনুরোধের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মানবিক বিবেচনায় কারাগারের ফটকে মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বন্দির স্ত্রীর নামে লেখা একটি চিঠি ও বন্দি অবস্থায় তোলা কয়েকটি ছবি নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব চিঠি ও ছবির সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

জেলা প্রশাসন আরও জানায়, ‘আবেদন করা হলেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি’—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। কারণ, প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা পড়েনি।

বিষয়টি পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়িত্বশীলতা ও তথ্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে না পড়ে এবং জনমনে ভুল বার্তা না যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সব বিতর্ক পেরিয়ে দলে ফিরছেন সাকিব

দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও নানা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাতীয় দলে ফিরছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিটনেস ঠিক থাকলে আগামীর সব হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজের জন্য সাকিবকে জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত বিসিবির বোর্ড সভায় সাকিব আল হাসানকে ঘিরে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এখন থেকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সাকিব আল হাসানকে দলে নির্বাচন করা হবে। এক্ষেত্রে তার ফিটনেসই হবে প্রধান শর্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলতে পারলেও সামনে বাংলাদেশের ব্যস্ত সূচি রয়েছে। আগামী মার্চে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে পাকিস্তান দল বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সিরিজ দিয়েই দীর্ঘ বিরতির পর আবারও লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠে নামবেন সাকিব আল হাসান।

বিসিবি সভায় আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে যেসব মামলা বা আইনি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো বোর্ডের পক্ষ থেকে আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি তাকে আবারও বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সাকিব আল হাসান সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। এরপর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাকে ঘিরে জনরোষ ও বিক্ষোভের শঙ্কা তৈরি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের বিদায়ী টেস্ট খেলার পরিকল্পনা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।

পরবর্তীতে দুবাই থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব আল হাসান জানান, তিনি দেশে ফিরতে চান এবং দেশের দর্শকদের সামনে খেলেই জাতীয় দলকে বিদায় জানাতে চান। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ফেরানোর দাবি জোরালো হতে থাকে।

সবশেষে বিসিবির এই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়েছে, বোর্ডও সাকিবের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে এখনো জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। ফিট থাকলে আবারও জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকায় দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল এই অলরাউন্ডারকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতার বিরোধীদের ক্ষমতায় আনলে বাংলাদেশ টিকবে না: মির্জা ফখরুল

যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তাঁদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দিলে দেশের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতার চেতনার প্রশ্নে কোনো আপস হলে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিরাপদ থাকবে না।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার দেবিপুর ইউনিয়নের গুচ্ছগ্রাম ও শোলটহরি বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, লিফলেট বিতরণ করেন এবং আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা দেওয়া হয়েছে এবং ১১ বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তিনি বলেন, এসব মামলা কোনো চুরি বা অপরাধের জন্য নয়, বরং ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে রাজপথে থাকার কারণেই তাঁকে জেলে যেতে হয়েছে। এসব নিয়ে তাঁর কোনো আফসোস নেই বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যারা দীর্ঘদিন জনগণের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, জনগণকে ফেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চলে গেছে।

বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক ও দায়িত্বশীল সরকার গঠন করা সম্ভব। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করেছিল। যারা তখন স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল—তাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে চলে যাবে।

তিনি আরও বলেন, আজ অনেকেই সুন্দর কথায় মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা একবারও স্বীকার করে না যে ১৯৭১ সালে তারা ভুল পথে ছিল। সেই সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যে নির্মম হামলা হয়েছিল, তা কেউ ভুলে যায়নি। হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টান—সবাই মিলে এই দেশ গড়েছে এবং আগামীতেও সবাইকে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বিএনপি ছাড়া এই মুহূর্তে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কার্যকর বিকল্প নেই। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, আগামী নির্বাচনে ভোট দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের একমাত্র পথ হচ্ছে অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এই ভোটের অধিকারের জন্যই বিএনপি দীর্ঘদিন সংগ্রাম করেছে। তাই দেশকে রক্ষা করতে হলে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ব্যালটে যে প্রতীকটি বেছে নিতে হবে, সেটি হচ্ছে ধানের শীষ।

প্রচারণাকালে তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম