‘ভোট দিন ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে’— যুব সমাবেশে তারেক রহমান

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জনরায় পেলে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ভোট দিলে ধানের শীষে, দেশ গড়বো মিলে-মিশে।”

মঙ্গলবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘যুব সমাবেশের প্রত্যাশা ও বিএনপির পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে, এক দশকের বেশি সময় পর ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে জনগণের সমর্থন পেলে বিএনপি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে।”

তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপির রাজনীতি মানে কর্মসংস্থানের রাজনীতি। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ কর্মক্ষম। এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডই হতে পারে আমাদের উন্নয়নের চালিকা শক্তি, যদি আমরা তাদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি।”

তিনি বলেন, “জনগণ এখন আর শুধু প্রতিশ্রুতি চায় না, চায় তার বাস্তবায়ন। বিএনপি প্রতিটি খাতে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা করছে, যা জনগণের রায় পেলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএস জিলানী। সঞ্চালনায় ছিলেন যুব দলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, উপদেষ্টা মাহাদি আমিন, সাংবাদিক মুক্তাদির রশীদ রুমি ও শরীফুল ইসলাম খান, নাট্য নির্মাতা মাসরুর রশীদ বান্নাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাফসীর।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজকে বিএনপির “জনমুখী ও গণমুখী” কর্মপরিকল্পনা ছড়িয়ে দিতে আহ্বান জানান।




“সংস্কারের আগে নির্বাচন নয়, শহীদদের রক্তের হিসাব দিন: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, সরকার নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও সেই নির্বাচন বাস্তবে অনুষ্ঠিত হবে না।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) আয়োজিত ‘জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫’-এ এ মন্তব্য করেন তিনি। সম্মেলনের আয়োজন করে এনসিপির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’।

নাসীরুদ্দীন বলেন, “যদি সত্যিই ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, তাহলে যেসব ভাই শহীদ হয়েছেন, যারা সংস্কারের জন্য রক্ত দিয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরত দিতে হবে সরকারকে। একই সংবিধানে, একই ফ্যাসিবাদী কাঠামোয় নির্বাচন করলে সেই আত্মত্যাগের মানে কী?”

তিনি আরও বলেন, “যে ফ্যাসিবাদী সিস্টেমের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি, তার একটি প্রধান কারখানা এখনো টিকে আছে— সেটি বঙ্গভবন। সেই কারখানার পতন হবে তরুণদের হাত ধরেই।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে সরকারবিরোধী অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, বিদ্যমান সংবিধান ও শাসনব্যবস্থার ভেতরে থেকে কোনো অর্থবহ নির্বাচন সম্ভব নয়।




জাতীয় প্রতিরক্ষায় তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া আবশ্যক। তরুণদের গণপ্রতিরক্ষার অংশীদার করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সবসময় জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে প্রস্তুত থাকে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে (কেআইবি) জাতীয় নাগরিক পার্টির যুব সংগঠন ‘জাতীয় যুবশক্তি’ আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলন ২০২৫-এ তিনি এ কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরে যে তারুণ্য শক্তি বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। এই রাষ্ট্র কতটা প্রস্তুত সেই শক্তিকে কাজে লাগাতে— সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আমরা তরুণদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, ইনশাল্লাহ তা বাস্তবায়ন করব।”

তিনি জানান, জুলাই মাসে আয়োজিত ‘জুলাই পদযাত্রা’-তে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলার তরুণ সংগঠকদের অংশগ্রহণই প্রমাণ করে যে যুবশক্তি এখন সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ করতে নানা চেষ্টা করা হলেও সমীকরণ এখনও শেষ হয়নি। গত এক বছরে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি, কিন্তু ‘জুলাই সনদ’-এ আর এক শতাংশও ছাড় দেওয়া হবে না। এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।”

তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্য রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আবারও ১/১১-এর মতো পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই হতে হবে।”

চাঁদাবাজিসহ দলীয় অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশোধন ও সংস্কার শুরু করতে হবে নিজেদের ঘর থেকে। সুবিধাবাদীদের দলে স্থান দেওয়া যাবে না।”

শেষে তিনি বলেন, “যুবশক্তি শুধু এনসিপির নয়, বরং এটি দেশেরই ভ্যানগার্ড হবে। ক্ষমতার নির্ধারকরা যদি তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে।”




জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে: রিজভী

গণতন্ত্রবিরোধী একটি নতুন শক্তি বিএনপিকে টার্গেট করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর আরেকটি শক্তি ধর্মের অপব্যবহার করে বিএনপির ওপর নানা ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “১৯৮৬ থেকে শুরু করে ৯০’র দশক এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি — কিছু গোষ্ঠী আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে নানা অজুহাতে সহায়তা করেছে। এখন তারা আবারও বিএনপিকে টার্গেট করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই নতুন শক্তি দেশের নির্বাচনব্যবস্থাকে বিতর্কিত করার ষড়যন্ত্র করছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলন যখনই জোরালো হয়, তখনই তারা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে তৎপর হয়ে ওঠে।”

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আর শিডিউল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। তবে এ নির্বাচন ঘিরেও বিভিন্ন পক্ষ ষড়যন্ত্রে জড়িত রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

বিএনপির আন্দোলনের পটভূমি তুলে ধরে রিজভী বলেন, “আমরা একটি আদর্শের জন্য লড়ছি। এই আদর্শের জন্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আপসহীন ভূমিকা রেখেছেন। তাদের নেতৃত্বেই ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।”

আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে ‘স্বাভাবিক নয়’ দাবি করে রিজভী বলেন, “তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদ। শেখ হাসিনা সরকারের নিপীড়নের কারণেই কোকোর অকাল মৃত্যু হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাইয়েদুল আলম বাবুল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, দক্ষিণের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলামসহ অনেকে।

এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিএনপি নেতারা আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।




“শুধু শাস্তি নয়, দুর্নীতি রোধে চাই সচেতনতা ও সহযোগিতা” — দুদক চেয়ারম্যান

রংপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভাগীয় কার্যালয়ের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেছেন, শুধুমাত্র শাস্তি দিয়ে দুর্নীতি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য দরকার জনসচেতনতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সেবাদাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে সুসম্পর্ক।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর নগরীর আলমনগর স্টেশন রোডে ছয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চেয়ারম্যান বলেন, “দুদক শুধু দোষীদের শাস্তি দিতে চায় না, বরং সেবা দাতা ও গ্রহীতার মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সম্পর্ক তৈরি করতে চায়। এতে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে।”

তিনি জানান, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্বোধনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে। এতে এ অঞ্চলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন মাত্রা পাবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা নিজেই দুর্নীতির ঘোর বিরোধী। তার উপদেষ্টা পরিষদের কেউ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “দুর্নীতি প্রতিরোধে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সংবাদ সমাজ থেকে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে পারে।” একইসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গণসচেতনতা) আক্তার হোসেন, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. শাওন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ছয়তলা বিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণে চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ কোটি ১৩ লাখ ১২ হাজার টাকা।




বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগবান্ধব: কুয়ালালামপুরে ড. ইউনূসের বার্তা

মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ব্যবসা ও বিনিয়োগ ফোরামে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আরও ব্যবসাবান্ধব করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “অতীতে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক অগ্রগতি আশানুরূপ না হলেও বর্তমানে দৃশ্যপট বদলেছে। নতুন বাংলাদেশে ব্যবসা-বিনিয়োগের অসীম সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ এখন সৃজনশীল তরুণদের দেশ। বিদেশে ছড়িয়ে থাকা তরুণ প্রবাসীদের বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিআইডিএ ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বাংলাদেশের বিনিয়োগ-সুবিধা এবং সরকার ঘোষিত শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূরীকরণ উদ্যোগ তুলে ধরেন।

রবি’র মূল শেয়ারহোল্ডার আজিয়াটা গ্রুপের সিইও বিবেক সোদ বলেন, “বাংলাদেশে আজিয়াটার ২৮ বছরের সফল যাত্রা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।”

অনুষ্ঠানে পেট্রোনাস, খাজানাহ ন্যাশনাল, সিম ডার্বি, কেএলকে, আইওআই, এফজিভি, প্রোটন হোল্ডিংস ও টপ গ্লোভের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন সকালে মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (NCCIM) এবং বাংলাদেশের এফবিসিসিআই-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।




সাংবাদিক হত্যা নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা ইস্যুতে বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলমের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গাজীপুর সিএমএম কোর্টে বাসন থানা বিএনপির সভাপতি তানভীর সিরাজ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ আগস্ট দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের গাজীপুর প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। ওই দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম অভিযোগ করেন, তুহিন হত্যার সঙ্গে বিএনপির কর্মীরা জড়িত। পোস্টে তিনি লেখেন, “গাজীপুরে এক বিএনপি নেতার চাঁদাবাজি নিয়ে নিউজ করায় দুপুরে আনোয়ার নামের এক সাংবাদিককে ইট দিয়ে থেতলে দেয় বিএনপির কর্মীরা… তুহিনকে গাজীপুরের চৌরাস্তায় চা দোকানে রাতে গলা কেটে হত্যা করেছে ছিনতাইকারী সন্ত্রাসীরা।”

বাদী তানভীর সিরাজ দাবি করেন, এই পোস্টের মাধ্যমে সারজিস আলম ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছেন, যা বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি এ মামলা দায়ের করেছেন।

মামলাটি শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২-এর বিচারক আলমগীর আল মামুন সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

উল্লেখ্য, সাংবাদিক তুহিন হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখনো তদন্ত চলমান থাকলেও, এ ঘটনার জেরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, সারজিস আলমের বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




হাসপাতাল ত্যাগ করলেন জামায়াত আমির; পূর্ণ বিশ্রামে থাকবেন দুই সপ্তাহ

ওপেন হার্ট সার্জারির পর চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার কিছু পর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে তিনি বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের জানান, সার্জারির পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট। তবে তিনি এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। তার পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহ তিনি বাসায় বিশ্রামে থাকবেন এবং প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। তিন সপ্তাহ পর তিনি জনসম্মুখে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিশেষজ্ঞ ডা. শহিদ আলম চৌধুরী জানান, গত ২ আগস্ট ডা. শফিকুর রহমানের ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। তার হৃদযন্ত্রে পাঁচটি ব্লক ধরা পড়েছিল। ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি কার্ডিয়াক আইসিইউতে ছিলেন। এরপর ধীরে ধীরে তার অবস্থার উন্নতি হলে ৫ আগস্ট কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক জানান, তিনি নিজে হাঁটতে পারছেন এবং তার স্বাস্থ্য ধাপে ধাপে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

চিকিৎসকের ভাষ্যে, “আমরা তার সার্বিক উন্নতিতে খুবই সন্তুষ্ট। আশা করছি, আগামী এক মাসের মধ্যে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।”

উল্লেখ্য, গত ১৯ জুলাই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ডা. শফিকুর রহমান। প্রাথমিকভাবে ডিহাইড্রেশনের কারণে অসুস্থতা মনে করা হলেও, পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩০ জুলাই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং হার্টে ব্লকের বিষয়টি নিশ্চিত হন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসা শেষে জামায়াতের পক্ষ থেকে তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চাওয়া হয়েছে।




বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার

 বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও ভবিষ্যতমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপান্তরের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো’ সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।

মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পুত্রজায়ার পার্দানা পুত্রা ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অভিবাসন, জ্বালানি, শিক্ষা, নীল অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ইতিহাস, ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। মালয়েশিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, বিশেষত মানবসম্পদ রপ্তানি ও বাণিজ্য খাতে।”

আনোয়ার ইব্রাহিম ড. ইউনূসকে ‌“মালয়েশিয়ার বন্ধু” হিসেবে অভিহিত করে তার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকট, শিক্ষাবিনিময় ও অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে যৌথ সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে আটকে থাকা প্রায় ৮ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর প্রবেশাধিকার এবং একাধিকবার প্রবেশের ভিসা চালুর জন্য মালয়েশিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান ড. ইউনূস। তিনি বলেন, এতে শ্রমিকরা জরুরি প্রয়োজনে দেশে ফিরে যেতে পারবেন, চাকরির ঝুঁকি ছাড়াই।

আলোচনায় আইন, বিচার ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল মালয়েশিয়ায় চিকিৎসক ও প্রকৌশলীসহ দক্ষ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রবাসে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশিদের বৈধতা দেওয়ার অনুরোধ করেন।

মালয়েশিয়া সরকার জানায়, বাংলাদেশি কর্মীরা এখন থেকে স্থানীয়দের মতো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন এবং বাংলা ভাষায় অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্র্যাজুয়েট পাস’ ভিসা চালুর অনুরোধ জানানো হয়, যাতে তারা পড়াশোনা শেষে মালয়েশিয়ায় কাজ করতে পারেন।

বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমাতে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বাজারে ওষুধ, পাদুকা, ব্যাটারি, সিরামিক ও পাটজাত পণ্যের প্রবেশাধিকার চেয়েছে। পাশাপাশি উভয় দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা ত্বরান্বিত করতে ও যৌথ ব্যবসা পরিষদ কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।

জ্বালানি খাতে নতুন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যৌথ বিনিয়োগ এবং এলএনজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিরক্ষা, পর্যটন ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আসিয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার মর্যাদা অর্জনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক সম্মেলন এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মালয়েশিয়াকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে ড. ইউনূসকে গার্ড অব অনার ও লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, এলএনজি সরবরাহ, কৌশলগত গবেষণা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ, হালাল শিল্প এবং উচ্চশিক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়। মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

এই বৈঠক বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




কুয়াকাটার মেরিন ড্রাইভে দুদকের নজরদারি, মিলল অনিয়মের প্রমাণ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নির্মাণাধীন মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার সকাল ১১ আগস্ট দুদকের পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের একটি তদন্ত দল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে। দলটির নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস, সাথে ছিলেন উপসহকারী পরিচালক খালিদ হোসেন, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ইয়াসীন সাদেক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া এই মেরিন ড্রাইভ দুই দফায় ভেঙে গেছে, যা পুরো কাঠামোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। শুরু থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসী প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। অভিযোগ ছিল, নির্মাণ কাজে মানহীন উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি নকশাগত ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে কাঠামো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস জানান, “৪ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার এই প্রকল্পে ইতোমধ্যে ১ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার পুরো অর্থই অপচয় হয়েছে। প্রকল্প শুরুর আগে টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।” তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং প্রমাণসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্পের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা, যারা মনে করেন কুয়াকাটার পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পনাহীন কাজ ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম