নির্বাচন বিলম্বে লাভবান হচ্ছে একটি পক্ষ: জাপা চেয়ারম্যান

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের অভিযোগ করেছেন, দেশে এখন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একটি পক্ষ নির্বাচন বিলম্বিত করেই লাভবান হচ্ছে। তিনি বলেন, “যারা এখন যা খুশি করতে পারে, তারা তো নির্বাচন চাইবে না। নির্বাচন যত দেরি হবে, তাদের লাভ তত বাড়বে।”

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা জেলা শাখার মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। যদিও তিনি কোনো দলের নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যের আকারে এনসিপির দিকে ইঙ্গিত করেন।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, “গণতন্ত্রে সবাই কথা বলার সুযোগ পাবে, সেটা না হলে স্বৈরাচার হবে। আওয়ামী লীগ যখন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছিল, তখন আমি এর বিরোধিতা করেছি। একইভাবে বলছি, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা সরকারের অপকর্মের বিরোধিতা করছি, ঝুঁকি নিয়েও জনগণের পক্ষে কথা বলছি। এজন্য জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। আমাদের দলীয় প্রতীক লাঙ্গল অন্য কারও কাছে দিলে আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। দেশের মানুষ এখন আতঙ্কে বসবাস করছে, তাদের মুখে হাসি নেই।”

জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, অতীতে শেখ হাসিনা সরকার এবং বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার—দুই পক্ষই আইনের ফাঁদে ফেলে তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তার ভাষায়, “আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ বলা হয়, কিন্তু বর্তমান সরকারও যদি একই কাজ করে, তাহলে তাকে কী বলা হবে?”

তিনি জানান, প্রতীক নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং জাপাকে সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা—এসব এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপিকে একসময় মজলুম দল হিসেবে মানুষ সমর্থন করেছিল, আর এখন জাতীয় পার্টিও সেই অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেন তিনি।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, এতদিন জাপার সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান ছিল না, এতে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এখন থেকে দল জনগণের পক্ষে রাজনীতি করবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কোটা আন্দোলনের সময় থেকে শুরু করে বৈষম্যের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। তবে বৈষম্য এখনও সারাদেশে চলছে, আর এর প্রতিবাদে লড়াই অব্যাহত থাকবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. মো. রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান খলিলসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতারা। এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন একেএম নুরুজ্জামান জামান, আবুল খায়ের, মাহমুদ আলম, মোড়ল জিয়াউর রহমান, শেখ সরোয়ার, সমরেশ মন্ডল মানিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লুট হওয়া সাদা পাথর ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত, ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনীর নজরদারি

সিলেটের ভোলাগঞ্জে অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাদা পাথর এলাকায় নজিরবিহীন লুটপাটের পর, পাথর রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি লুট হওয়া পাথর উদ্ধার করে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সাদা পাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউজে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় সাদা পাথর রক্ষায় মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেগুলো হলো:

  1. সাদা পাথর ও জাফলং ইসিএ এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথ বাহিনীর টহল নিশ্চিত করা।
  2. গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে যৌথবাহিনীসহ পুলিশের চেকপোস্টে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন।
  3. অবৈধ পাথর ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা।
  4. পাথর চুরির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু।
  5. চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা।

এদিকে, সাদা পাথর লুটপাটের তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন, যাদের আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

দুদকও (দুর্নীতি দমন কমিশন) ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পাথর লুটের পেছনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ভোলাগঞ্জ এলাকায় লাগামহীনভাবে পাথর লুট চলতে থাকে। প্রকাশ্যে প্রশাসনের সামনেই শত শত নৌকার মাধ্যমে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট পাথর সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে কিছুদিন লুটপাট বন্ধ থাকলেও গত মাসের শেষ দিকে তা আবারও তীব্র আকার ধারণ করে।

বিশেষ করে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢলের পানি নামার পর বিপুল পরিমাণ পাথর ভোলাগঞ্জে এসে জমা হয়, যা লুটপাটকারীদের সুযোগ করে দেয়।

এদিকে, এই লুটপাটের সঙ্গে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন নেতাও এই লুটপাটে জড়িত থাকার অভিযোগের মুখে পড়েছেন, পাশাপাশি জেলা ও মহানগর পর্যায়ের কয়েকজন নেতার নামও ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।




সাদাপাথর লুটপাট: জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে দুদক

সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর এলাকায় পাথর লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে এলাকাটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ-পরিচালক রাফী মোহাম্মদ নাজমুস সাদাত।

৯ সদস্যের একটি দল নিয়ে তিনি সাদাপাথর এলাকা ঘুরে দেখেন এবং সরেজমিনে অবস্থা পর্যালোচনা করেন। তিনি জানান, যাদের সহযোগিতায় এ লুটপাট চালানো হয়েছে, তাদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হবে। তার ভাষ্য, “নির্বিচারে পাথর লুটপাটের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দায় স্থানীয় প্রশাসনের।”

তিনি আরও বলেন, “সাদাপাথর এলাকা থেকে কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ লুণ্ঠন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুদক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযান পরিচালনায় বিলম্ব হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, তারা কেন্দ্রীয় দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন এবং জনবলের অভাবে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সময় লেগেছে।

সাদাপাথর এলাকায় অব্যাহত লুটপাটের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। দুদকের এই পদক্ষেপে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এলাকাবাসী।




আগস্টের প্রথম ১২ দিনে প্রবাসী আয় ছাড়াল এক বিলিয়ন ডলার

আগস্ট মাসের মাত্র ১২ দিনে (১ থেকে ১২ আগস্ট) প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো আয় এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ছুঁয়েছে, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৮৫৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

তাঁর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে এসেছে ১০৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭২ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৪ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা শতাংশ হিসেবে প্রায় ৩৪% বেশি।

এর আগে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় হয়েছিল ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ১০ হাজার ডলার, যা প্রায় ৩০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা সমান। তবে জুলাই মাসে দেশের ৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে এক ডলারও রেমিট্যান্স আসেনি। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব), বেসরকারি খাতের কমিউনিটি ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক এবং বিদেশি খাতের হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান ও স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রয়েছে।

পূর্ববর্তী অর্থবছরের (২০২৪-২৫) মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে, যা সেই বছরের রেকর্ড। পুরো অর্থবছর শেষে প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ২৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।

গত অর্থবছরে মাসওয়ারি রেমিট্যান্স চিত্রে দেখা যায়—জুলাইয়ে ১৯১ দশমিক ৩৭ কোটি ডলার, আগস্টে ২২২ দশমিক ১৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ দশমিক ৪১ কোটি ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ দশমিক ৫০ কোটি ডলার, নভেম্বরে ২২০ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ২৬৪ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ২১৯ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ২৫৩ কোটি ডলার, মার্চে ৩২৯ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২৭৫ কোটি ডলার, মে মাসে ২৯৭ কোটি ডলার এবং জুনে ২৮২ কোটি ডলার দেশে এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সরকারি প্রণোদনা, প্রবাসী আয়ের প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধির ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমাগত ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইউনূসের ঘোষণা: ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ নির্বাচন

কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণের অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি যেন জনগণের হাতে প্রকৃত ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া যায় এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা যায়।”

বুধবার ইউকেএম অডিটোরিয়ামে এক আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও নেগেরি সেমবিলান দারুল খুসুস রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরের কাছ থেকে ডিগ্রি সনদ গ্রহণ করেন নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ। সামাজিক ব্যবসা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাঁর অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

প্রফেসর ইউনূস তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা। বড় স্বপ্ন দেখো, সাহসীভাবে চিন্তা করো এবং সেই অনুযায়ী কাজ করো। প্রত্যেক ব্যর্থতা কেবল সাফল্যের পথে একটি ধাপ।” তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত পরিবর্তন আমাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ আশা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা নতুন বাংলাদেশ গঠনের পথে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা, সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এজন্য বিস্তৃত সংস্কার, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বৈষম্য কমাতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “মানুষ প্রতিভার অভাবে দরিদ্র হয় না, সুযোগের অভাবে হয়। তাই আমি এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছি যাতে দরিদ্ররাও ক্ষুদ্রঋণ পেয়ে নিজের জীবন পরিবর্তন করতে পারে।”

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, উভয় দেশ বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবনসহ নানা ক্ষেত্রে একে অপরের উন্নয়নে অবদান রেখে আসছে। ভবিষ্যতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ সম্ভাবনাময় খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদির ও ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রফেসর ইউনূস মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই সম্মাননা দুই দেশের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে ; মব কালচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন: রিজভী

ধর্মভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে রিজভী বলেন, “কোনো চাঁদাবাজি হয়নি। ওই চিকিৎসক নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কেউ তার ওপর হামলা করেনি। বরং তিনি নিজের নাকে রং মেখে ভিডিও লাইভে এসে বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে অপপ্রচার করেছেন।”

তিনি বলেন, সামনে নির্বাচন থাকায় পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।

রংপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বী দুজনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে রিজভী বলেন, “আইনের শাসন নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। উসকানিমূলক কথাবার্তার ফলে যেন আর কেউ প্রাণ না হারায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, “দেশে মব কালচার চলছে। সাধারণ মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। অন্তর্বর্তী সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

ফারমার্স ব্যাংক (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রিজভী বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে, যার কোনো হদিস আজও নেই। সরকারকে এই অর্থ উদ্ধারে আন্তরিক হতে হবে।”

পিআর (প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখনো পিআর ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুত নয়। এটি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় টেকসই নয় এবং এতে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। বরং গণতান্ত্রিক চর্চা বাড়ানো জরুরি।”

দলের ভেতরে অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দল বা অঙ্গসংগঠনের কেউ অপরাধে জড়িত প্রমাণিত হলে তদন্তসাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আজীবন বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।”

রিজভীর বক্তব্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সুষ্ঠু সংস্কার নিয়ে বিএনপির অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।




আসন্ন নির্বাচনে কালোটাকা ও ঋণখেলাপি রুখতে কঠোর নির্দেশনা

ঋণখেলাপিরা যেন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত ইপি পেনশন উদ্বোধন উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব তাদের শনাক্ত করা। তবে বাস্তব সমস্যার মধ্যে রয়েছে আদালতের স্টে অর্ডার। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীর পাঁচ বছর ধরে কেবল স্টে অর্ডার নিয়েই সময় কাটিয়েছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে আগামী নির্বাচনে কালোটাকা রোধে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, “কালোটাকার দুটি দিক—উৎস ও প্রক্রিয়া। উৎস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আগে এক ব্যক্তিই ছিল ব্যাংকের মালিক, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক, সংবাদপত্রের মালিক ও ফ্ল্যাটের মালিক। এখন সেই চিত্র অনেকটা বদলেছে। এখন কিছুটা হলেও চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স চালু হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক উন্নয়ন অনেকাংশে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভরশীল। যদি রাজনীতিবিদরা অর্থ দিয়ে মনোনয়ন ও ভোটের সংস্কৃতি চালিয়ে যান, তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কিছু করার সুযোগ থাকে না।”

উপদেষ্টার বক্তব্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শুদ্ধাচারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়, যা আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।




জাতীয়করণের দাবিতে সচিবালয়ে শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল

এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবিতে ঘোষিত পদযাত্রা বাতিল করে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে পাঠিয়েছেন শিক্ষকরা। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার পর প্রতিনিধি দলটি পুলিশের সহায়তায় শিক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।

এর আগে হাজারো শিক্ষক রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন। প্রতিনিধি দল সচিবালয়ে প্রবেশের সময় শিক্ষকদের অপেক্ষায় থাকতে বলা হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নেয় কঠোর প্রস্তুতি।

কুমিল্লা থেকে আসা শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা আশা করি, প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে আমাদের দাবি শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে যথাযথভাবে পৌঁছাবে এবং তারা সুসংবাদ নিয়ে ফিরে আসবেন।”

‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ জানিয়েছে, ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর সরকার কিছু আর্থিক সুবিধা (৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ও ২০% বৈশাখী ভাতা) বাস্তবায়ন করলেও জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়।

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা আলোচনায় শিক্ষকদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। চলতি বছরের বাজেটে উৎসব ভাতা ২৫% বৃদ্ধি ও বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও বিনোদন ভাতা কার্যকরের ঘোষণা থাকলেও সেটির বাস্তবায়ন বিলম্বিত হচ্ছে।

জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, “আমরা বারবার দাবি জানিয়ে আসছি, কিন্তু কোনো বাস্তব অগ্রগতি হয়নি। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি হলেও বছরের পর বছর তারা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন।”

তিনি আরও বলেন, “প্রজ্ঞাপন জারির জন্য ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে আমরা প্রস্তুত। এটা শুধু কর্মসূচি নয়, ন্যায্য অধিকার আদায়ের লড়াই।”

শিক্ষকরা এখন আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষা করছেন সচিবালয়ে আলোচনার ফলাফলের জন্য, যা আগামী দিনের আন্দোলনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




কাশ্মির সীমান্তে ফের উত্তেজনা: উরি সেক্টরে গোলাগুলিতে ভারতীয় সেনা নিহত

ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মিরের উরি সেক্টরে ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গভীর রাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর সময় গোলাগুলিতে এক ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, সন্ত্রাসীরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহায়তায় সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা চালায়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির বরাতে জানা যায়, এ ঘটনাকে সাধারণ অনুপ্রবেশ নয় বরং একটি সমন্বিত হামলা হিসেবে দেখছে সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, অনুপ্রবেশকারীরা পাকিস্তানি সেনাদের গুলিবর্ষণের সহায়তা পেয়েছিল। পাল্টা গুলি চালালে সংঘর্ষে এক ভারতীয় সেনা গুরুতর আহত হন এবং পরে মারা যান।

সংঘর্ষের পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। অনুপ্রবেশের চেষ্টাটি ব্যর্থ করা হলেও ভারতীয় পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের ভূখণ্ডে পাল্টা হামলা চালায়। পরবর্তীতে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও কাশ্মির সীমান্তে এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের প্রথম বড় ধরনের উত্তেজনার ঘটনা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।




মালয়েশিয়ার ইউকেএম থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান

শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে মালয়েশিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া’ (ইউকেএম)।

বুধবার সকালে কুয়ালালামপুরে ইউকেএম অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের হাত থেকে ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন অধ্যাপক ইউনূস।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক ব্যবসা বিস্তারে তাঁর অনন্য অবদান এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অধ্যাপক ইউনূস, যেখানে তিনি সামাজিক উদ্যোগ ও তরুণদের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

প্রফেসর ইউনূস অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বাংলাদেশ থেকে আগত সফরসঙ্গীরাও।

উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত সোমবার (১১ আগস্ট) কুয়ালালামপুরে পৌঁছান।