ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্নের আহ্বান শামসুজ্জামান দুদুর

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ফেব্রুয়ারি মাস কোনোভাবেই অতিক্রম করা যাবে না।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অপরাজেয় বাংলাদেশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক প্রতীকী যুব সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। সমাবেশটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়।

দুদু বলেন, “যথাসময়ে, সঠিক সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়া জরুরি। ফ্যাসিবাদ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে এর দোসররা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ বার্তা দিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, স্বৈরতন্ত্রের পতনের অর্থ এই নয় যে সবকিছু অর্জিত হয়েছে। প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন জরুরি। সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে ঐতিহাসিক নির্বাচন করার কথা বলেছেন, তাই বিএনপি সেই সময়সূচি মেনে নিয়েছে। তবুও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন ফেব্রুয়ারি মাস অতিক্রম না করে।

সাবেক এই সংসদ সদস্য জানান, নির্বাচন সংস্কার চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই হতে হবে এবং যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, সে সরকার শেখ হাসিনার বিচার ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার ব্যবস্থা করবে।

তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা গত তিনটি নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করেছিলেন এবং স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কেউ যদি গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করে, তবে তারা ফ্যাসিবাদ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন দুদু।

সমাবেশে বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল, নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম, আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ, রহিমা শিকদার, কর্মজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সহ-সভাপতি এম এ আজাদ চয়নসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




ঢাকায় শুরু হলো অনলাইন জিডি সেবা, ঘরে বসেই করা যাবে অভিযোগ

পুলিশি সেবা আরও সহজলভ্য করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ১০ আগস্ট থেকে সব থানায় অনলাইন সাধারণ ডায়েরি (জিডি) কার্যক্রম চালু করেছে।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখন থেকে নাগরিকরা ঘরে বসেই অনলাইনে জিডি করতে পারবেন। এজন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে “অনলাইন জিডি” অ্যাপ ডাউনলোড করে স্মার্টফোনের মাধ্যমে নির্দেশনা অনুযায়ী সহজে জিডি করা যাবে।

থানায় সরাসরি জিডির মতোই অনলাইন জিডিতেও আবেদনকারী একটি জিডি নম্বর এবং এর অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাবেন। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যাচাই করে তথ্য সংরক্ষণ করায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকবে।

ডিএমপি জানিয়েছে, অনলাইন জিডি ব্যবস্থা পুলিশের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর পাশাপাশি নাগরিকদের মূল্যবান সময় বাঁচাবে। শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, জিডির ভিত্তিতে পুলিশের নেওয়া ব্যবস্থা সম্পর্কেও আবেদনকারীরা অবগত হতে পারবেন।

তবে প্রচলিত পদ্ধতিতে থানায় গিয়ে জিডি করার সুযোগও আগের মতোই বহাল থাকবে।




ড. ইউনূস নিশ্চিত: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি তিনি ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন, পাশাপাশি পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চান।

বুধবার (১৩ আগস্ট) সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিএনএ টিভির এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস নির্বাচনের প্রস্তুতি, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সাংবাদিক লোকি সু।

ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি মূল লক্ষ্য ছিল—সংস্কার, বিচার, নির্বাচন এবং দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন। তিনি বলেন, এ সব লক্ষ্য সম্পূর্ণরূপে অর্জন করা এখনো সমাপ্ত হয়নি, তবে এগুলোর দিকে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। তিনি যুক্তি দেখান, আগে নির্বাচন হলে সমস্যাগুলো সমাধান না করে শুধুমাত্র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় পাঠানো হত, যা দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটাত।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে পারলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভোটাররা গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার ব্যবহার করতে পারেননি। সেই কারণেই সুষ্ঠু ও বৈধ নির্বাচন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড. ইউনূস দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সমন্বয় নিশ্চিত করতে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সমন্বিত সম্পর্ক বজায় রাখার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোকে এক অর্থনৈতিক অঞ্চলে আনা সম্ভব এবং ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোও এতে যুক্ত হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা এও উল্লেখ করেন, তিনি নির্বাচিত সরকার আসার পর আর দায়িত্বে থাকবেন না। তাঁর কাজ হলো একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও শালীন নির্বাচন নিশ্চিত করা, যাতে ভোটাররা স্বাধীনভাবে ভোট প্রদান করতে পারেন।

তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, যে কোনো বৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগে সক্ষম হবেন এবং সরকার দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে হস্তান্তর করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বয়কট করলে রাজনীতি থেকে মাইনাস হবে: সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে। যারা নির্বাচনের বয়কটের চেষ্টা করবে, তারা রাজনীতি থেকে সরাসরি মাইনাস হয়ে যাবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কিছু পক্ষ দাবি করছে যে, নির্দিষ্ট সংস্কার, বিচার বা দাবি পূরণ না হলে নির্বাচন হবে না। তবে প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়েছে, সেগুলো পরবর্তী নির্বাচিত সংসদে বাস্তবায়নের জন্য সকল পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিএনপিও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করবে।

সালাহউদ্দিন বলেন, এখন যে প্রশ্ন উঠে, সেটা হলো—কারা নির্বাচন বিলম্ব করতে চায় বা অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তাদের মুখোশ জাতির সামনে উন্মোচিত হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকল রাজনৈতিক দল বুঝবে যে, গণতান্ত্রিকভাবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

তিনি আরও জানান, বিএনপি তাদের নির্বাচনী কৌশল ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের সঙ্গে জোট থাকবে যারা পূর্বে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল এবং যারা যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিয়েছে। তবে তিনি পরিষ্কার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোটের সম্ভাবনা নেই।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, যারা নির্বাচনকে বয়কট করার চেষ্টা করবে—ডাইরেক্টলি বা ইনডাইরেক্টলি—তারা জাতীয় রাজনীতি থেকে মাইনাস হয়ে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে ভোটাধিকার ফিরে পেতে। সেই অধিকার নিশ্চিত হওয়ার পর যারা জনগণকে ভোটের অধিকার প্রয়োগে নিরুৎসাহিত করবে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ই-রিটার্নে করদাতার রেকর্ড, ১০ দিনে প্রায় এক লাখ জমা

২০২৫-২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরুর পর প্রথম ১০ দিনেই (১৩ আগস্ট পর্যন্ত) ৯৬ হাজার ৯৪৫ জন করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিটার্ন সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের একই সময়ে (প্রথম ১০ দিনে) অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করেছিলেন মাত্র ২০ হাজার ৫২৩ জন। অর্থাৎ এ বছর দৈনিক গড় রিটার্ন দাখিলের হার বেড়েছে প্রায় ৫ গুণ।

এনবিআরের বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ৩ আগস্ট থেকে সারা দেশের সব ব্যক্তি শ্রেণির করদাতার জন্য অনলাইনে (www.etaxnbr.gov.bd) আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি—এরা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। ১১ আগস্ট সংশোধিত আদেশে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদেরও এ বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

যারা ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন না, তারা ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে যৌক্তিক কারণসহ আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদন মিললে তারা পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।

করদাতারা এখন ঘরে বসেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদসহ যেকোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারছেন। অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে acknowledgement slip ও আয়কর সনদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রিন্ট নেওয়ার সুবিধাও থাকছে।

ই-রিটার্ন প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য এনবিআর একটি কল সেন্টার চালু করেছে, যেখানে ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে ফোন করে তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া www.etaxnbr.gov.bd পোর্টালের eTax Service অপশন ব্যবহার করেও করদাতারা লিখিতভাবে সমস্যার সমাধান পেতে পারেন।

এনবিআর দেশের দায়িত্বশীল নাগরিকদের যথাসময়ে প্রকৃত আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায় উল্লেখ করে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চট্টগ্রাম বন্দরে বিস্ফোরণ আতঙ্ক, তেজস্ক্রিয়সহ শত শত কনটেইনার ঝুঁকিতে

বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম এখন ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের ভেতরে বিপজ্জনক রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয় পদার্থসমৃদ্ধ শত শত কনটেইনার বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে। এর মধ্যে একটি কনটেইনারে তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হলেও আরও ১২টি কনটেইনারে একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, যেগুলো এখনো ইয়ার্ড থেকে অপসারণ করা হয়নি।

বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে বর্তমানে ৩৫৭টিরও বেশি কনটেইনার রয়েছে, যেখানে সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড, পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইডসহ উচ্চমাত্রার বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুদ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, অবহেলা অব্যাহত থাকলে ২০২২ সালের সীতাকুণ্ড কনটেইনার ডিপো বিস্ফোরণের মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যেখানে কমপক্ষে ৪১ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছিল।

কনটেইনারগুলোর বেশিরভাগই ১০ থেকে ২০ বছরের পুরনো। কিছু কনটেইনার ভেঙে গিয়ে রাসায়নিক পদার্থ বাইরে গড়িয়ে পড়ছে। একাধিক কনটেইনারে পাউডার জাতীয় বিপজ্জনক পদার্থ রয়েছে, আবার অনেকগুলোতে তরল রাসায়নিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের রাসায়নিক দীর্ঘদিন জমে থাকলে তা বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে।

অফিসিয়াল তথ্যে জানা গেছে, বন্দরের সিসিটি, এনসিটি এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ডে সালফিউরিক এসিড, জিংক অক্সাইড, মিথানল, সোডিয়াম সালফেট, ফসফরিক এসিড, ইথাইল অ্যাসিটেট, কস্টিক সোডাসহ অতি বিপজ্জনক ১৩৪টি কনটেইনার বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে আছে। এর মধ্যে আবুল খায়ের গ্রুপ, কেএসআরএম, সিটাডেল গ্লোবাল করপোরেশন, মেসার্স সাজ্জাদ হোসেন, আনোয়ার ইস্পাত লিমিটেড এবং এসএস স্টিল লিমিটেডের নামে থাকা কনটেইনারও রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০১৭ সালে শনাক্ত হওয়া কিছু তেজস্ক্রিয় কনটেইনার এখনও সরানো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও পদার্থবিজ্ঞানী মাসুদ কামাল সতর্ক করে বলেছেন, “রাসায়নিক পদার্থও দীর্ঘদিন পড়ে থাকলে দাহ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। তেজস্ক্রিয় উৎস বাইরে গেলে বা বিকিরণ ঘটলে মানবদেহ ও পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব ওমর ফারুক জানিয়েছেন, “তেজস্ক্রিয় ও রাসায়নিক থাকা কনটেইনারগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কিছু ২০ বছরেরও পুরনো। এগুলো দ্রুত অপসারণ জরুরি।” চট্টগ্রাম কাস্টমসকে এক ডজনের বেশি চিঠি পাঠানোর পরও বিপজ্জনক কনটেইনারগুলোর বড় অংশ রয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার মো. সাকিব হোসেন জানিয়েছেন, “আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিপজ্জনক কনটেইনার খালি করছি। গত ৩০ জুলাই ৪২টি কনটেইনার খালি হয়েছে, আগস্টের মধ্যে আরও ৫০টি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

কিন্তু এখনো ৩০০-র বেশি বিপজ্জনক কনটেইনার বন্দরে পড়ে থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর রয়ে গেছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা জোর সুপারিশ করেছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে অনিয়মিত অভিবাসনে শীর্ষে বাংলাদেশিরা

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত সমুদ্রপথে দেশটিতে পৌঁছেছেন ৩৮ হাজার ২৬৩ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী—যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি নাগরিক, সংখ্যা ১২ হাজার ৮৬ জন।

২০২৩ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ (৯৯ হাজার ৫২২ জন)। যদিও ২০২৪ সালে তা নেমে এসেছিল ৩৭ হাজার ৬৪৪ জনে, কিন্তু এ বছর সামান্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশিদের পরেই রয়েছে ইরিত্রিয়ার নাগরিকরা (৫ হাজার ২১৫ জন), এরপর মিসর, পাকিস্তান, ইথিওপিয়া, সুদান ও সোমালিয়ার অবস্থান।

সার্ডিনিয়ায় নৌকাডুবি

ইতালির দক্ষিণ সার্ডিনিয়ার উপকূলে আটজন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে গেছে। একজনের মরদেহ উদ্ধার এবং একজনকে জীবিত পাওয়া গেলেও বাকিদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চলছে। এতে অংশ নিচ্ছে ফিন্যান্স গার্ড ও কোস্টগার্ডের টহল নৌকা এবং একটি হেলিকপ্টার।

গত কয়েকদিনে ৩৪ জন অভিবাসী সার্ডিনিয়ায় পৌঁছেছেন, যাদের সবাইকে কাগলিয়ারি প্রদেশের মোনাস্তির আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে।

লাম্পেদুসায় আগমন

রোববার ৫৮ জন অভিবাসী ইতালির দক্ষিণের দ্বীপ লাম্পেদুসায় পৌঁছেছেন, যাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এরা মিসর, ইরিত্রিয়া, সিরিয়া এবং ইরানের নাগরিক। তারা লিবিয়ার জুওয়ারা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন।

লাইফসাপোর্টের উদ্ধার অভিযান

বেসরকারি সংস্থা ইমার্জেন্সির অভিবাসী উদ্ধারকারী জাহাজ ‘লাইফসাপোর্ট’ ৬ ও ৭ আগস্ট তিনটি অভিযানে মোট ১৪৬ জন অভিবাসীকে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করে ইতালির সাভোনায় পৌঁছে দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুদানের নাগরিক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, এরপর আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, বুরকিনা ফাসো, ক্যামেরুন, আইভরি কোস্ট, ইরিত্রিয়া, গাম্বিয়া, ঘানা, গিনি, মালি, নাইজেরিয়া, সেনেগাল ও সোমালিয়ার নাগরিক রয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝড়ো শুরুর পরও বড় ব্যবধানে হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে পাকিস্তান শাহীন্সের বিপক্ষে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামে নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ‘এ’ দল। ২২৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পাওয়ার প্লেতে দারুণ সূচনা করলেও মাঝপথে ধস নেমে শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানের বড় ব্যবধানে হার মেনে নিতে হয় সোহানদের।

পাকিস্তান শাহীন্সের ব্যাটিং শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। ওপেনার খাওয়াজা নাফে ও ইয়াসির খান মিলে পাওয়ার প্লেতে দলকে এনে দেন ৬৯ রান বিনা উইকেটে। নাফে মাত্র ২৭ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ৩১ বলে করেন ৬১ রান, যেখানে ছিল ৮টি চার ও ২টি ছক্কা। ইয়াসির খানও পিছিয়ে ছিলেন না—৪০ বলে করেন ৬২ রান। উদ্বোধনী জুটি রান আউটে ভাঙলেও শেষ দিকে আব্দুল সামাদের ঝড়ো ইনিংসে আরও গতি পায় দল। তিনি মাত্র ২৩ বলে ফিফটি তুলে অপরাজিত থাকেন ৫৬ রানে। ইরফান খান নিয়াজীর ১২ বলে ২৫ রানের ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাকিস্তান শাহীন্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২৭/৪।

লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই নাইম শেখ ৫ রানে আউট হলেও, সাইফ হাসান ও জিসান আলমের জুটিতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দুজনের ব্যাটে আসে ৮৬ রান। জিসান ১৭ বলে ৩৩ রান করে ফিরলেও সাইফ তুলে নেন ২৬ বলে ফিফটি, শেষ পর্যন্ত করেন ৩২ বলে ৫৭ রান। তবে সেখান থেকেই শুরু হয় উইকেট পতনের ধস। আফিফ হোসেন (৬), নুরুল হাসান সোহান (২২) এবং বাকি ব্যাটাররা ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হন। শেষ ৮ উইকেটে যোগ হয় মাত্র ৪৮ রান, দল গুটিয়ে যায় ১৬.৫ ওভারে ১৪৮ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে কার্যকর ছিলেন আকরাম (৩/১৯) ও সাদ মাসুদ (৩/৩০)। সহায়তা করেন ওয়াসিম জুনিয়র (২/২৪)। ম্যাচসেরা হয়েছেন ইয়াসির খান তার ৬২ রানের ইনিংসের জন্য।

বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পরবর্তী ম্যাচ শনিবার, প্রতিপক্ষ নেপাল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



হজযাত্রায় শারীরিক সক্ষমতা বাধ্যতামূলক: সরকারের নতুন নির্দেশনা

শারীরিকভাবে অক্ষম ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হজে পাঠানো যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র সুস্থ ও সক্ষম ব্যক্তিদের হজের জন্য নিবন্ধন করাতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় হজ ও ওমরাহ ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আয়োজিত এ মেলায় হজ এজেন্সি ও হজ গমনেচ্ছুদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, “অসুস্থ ও অক্ষম ব্যক্তিদের হজে নেওয়া হলে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিভিন্ন ধরনের জটিলতা দেখা দেয়।” এজন্য তিনি সিভিল সার্জনদের হজযাত্রীদের ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ প্রদানে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, “২০২৫ সালের হজ সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ২০২৬ সালের হজের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। আশা করছি, আগামী বছর আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল হজ আয়োজন করতে পারবো।”

হজ এজেন্সিগুলোর প্রতি সতর্ক বার্তা

ধর্ম উপদেষ্টা হজ এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “কিছু এজেন্সি হজযাত্রীদের ব্যাগে মাদকদ্রব্য বা সৌদি আরবে নিষিদ্ধ সামগ্রী বহন করায়। অনেকে দেশে ফেরার সময় হজযাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে সোনা নিয়ে আসে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করে।”

তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে এবং হজযাত্রীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন ও যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হাবের সঙ্গে সম্পর্ক

হাবের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সম্পর্ক ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা একসঙ্গে হজযাত্রীদের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও করবো।”

তিন দিনব্যাপী হজ ও ওমরাহ ফেয়ারে মোট ১৫৪টি স্টল রয়েছে। হজ এজেন্সি, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ হজসংক্রান্ত তথ্য ও সেবা দিচ্ছে। মেলা শেষ হবে ১৬ আগস্ট বিকেলে।

অনুষ্ঠানে হাব সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্মসচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামাণিক, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান ইব্রাহিম আবদুল্লাহ আল-আহমারী ও হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার।




সরকারের সংস্কার অভিযানে দৃশ্যমান অগ্রগতি: ৩৭ সুপারিশ বাস্তবায়িত

রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গঠিত ১০টি সংস্কার কমিশনের মোট ৩৭টি সুপারিশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাকি ১১টি কমিশনের মধ্যে একমাত্র সংবিধান সংস্কার কমিশনকে ব্যতীত রেখে, অন্যান্য কমিশনগুলোর ৩৬৭টি সুপারিশ ‘আশু বাস্তবায়নযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গত সপ্তাহে জানানো হয়েছিল ১২১টি সুপারিশ বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সুপারিশ ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে, আরও ১৪টির আংশিক বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো:

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যম নীতিমালা জারি, হলফনামার খসড়া তৈরি।

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন: পাসপোর্ট পেতে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল, সরকারি দপ্তরে গণশুনানি বাধ্যতামূলক করা।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): তদন্তপূর্ব অনুসন্ধান ব্যবস্থা বাতিল, আইনের ধারা সংশোধন, টাস্কফোর্স গঠন।

বিচার বিভাগ সংস্কার: সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়া উন্নয়ন, আদালতে নারী ও শিশুদের জন্য স্বতন্ত্র স্থান, অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ ব্যবস্থা, ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন।

নারী বিষয়ক সংস্কার: সাক্ষী সুরক্ষা আইন, নারী সেবা প্রদানকারীদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ।

শ্রমখাত: যুবকদের সংজ্ঞা নির্ধারণ, নারী ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন সংশোধন।

অভিবাসন ও শ্রমিক সংশ্লিষ্ট সুপারিশ:

প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য বাধ্যতামূলক জীবনবীমা,

নারী অভিবাসীদের ব্যাংক হিসাব খোলার অধিকার,

ভাষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক,

শ্রমিকদের দুর্ঘটনায় চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ,

ত্রিপক্ষীয় ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন,

শ্রম আদালতের সংখ্যা বৃদ্ধি ও সার্কিট কোর্ট,

নারী শ্রমিকদের রাতের শিফটে নিরাপত্তা ও পরিবহন নিশ্চিতকরণ,

ট্যানারি শিল্পে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় বিশেষ পরিদর্শক নিয়োগ।

নতুন ২৪৬টি সুপারিশ আশু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত:

আজ অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৩৮তম বৈঠকে আরও ২৪৬টি আশু করণীয় সংস্কার সুপারিশ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছে:

শ্রম সংস্কার কমিশনের ৮২টি,

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের ৭১টি,

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন কমিশনের ৩৭টি,

স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের ৩৩টি,

তথ্য সংস্কার কমিশনের ২৩টি সুপারিশ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ এবং সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি।