পটুয়াখালীতে এটিএম বুথসহ ৩ দোকানে ডাকাতি

পটুয়াখালী শহরের সদর রোডে শুক্রবার দিবাগত রাতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্টট্র্যাক এটিএম বুথসহ তিনটি স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় এটিএম বুথের নিরাপত্তাকর্মীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেছে ডাকাতদল। ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ৩টার দিকে আদালতপাড়ার পাশে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ফাস্টট্র্যাক বুথে প্রবেশ করে একদল ডাকাত। তারা প্রথমেই নিরাপত্তাকর্মী মুজিবুরকে নির্দয়ভাবে মারধর করে এবং পরে তাকে কম্বল দিয়ে পেঁচিয়ে বুথের ভেতরের অন্ধকার কক্ষে ফেলে রাখে। এরপর বুথের টাকার মেশিন ভাঙচুর করে এবং একটি ল্যাপটপ নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিরাপত্তাকর্মীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই রাত সাড়ে ৩টার কিছুক্ষণ পর সদর রোডের ফ্যাশন অপটিক্যাল নামের দোকানের তালা ভেঙে প্রায় দুই লাখ টাকা ও মালামাল নিয়ে যায় ডাকাতদল। দোকান মালিক জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার নতুন আনা সব মালামাল নিয়ে গেছে। আমি পথে বসে গেলাম।”

পরে রাত সাড়ে ৪টার দিকে শিকদার স্টোরেও একইভাবে তালা ভেঙে নগদ টাকা, সিসি ক্যামেরার মনিটর, রিচার্জ কার্ডসহ নানা মালামাল লুটে নেয় তারা। দোকানের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, “ফজরের নামাজের সময় খবর পাই দোকান ভেঙে সব নিয়ে গেছে। ফাঁড়ির একেবারে পাশেই ঘটনা ঘটেছে, তাহলে নিরাপত্তা কোথায়?”

এটিএম বুথের চ্যানেল অফিসার রিংকু জানান, “আমাদের নিরাপত্তাকর্মীর মাথায় আঘাত করে বেঁধে রাখা হয়েছে। বুথের মেশিন ভাঙচুর করে এবং ল্যাপটপ নিয়ে গেছে ডাকাতরা।”

ঘটনার পর পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। খুব দ্রুতই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

এই ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তারা নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।


আল-আমিন



সাদাপাথর লুটপাটে পুলিশের জালে ৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকে পাথর লুটপাটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) গভীর রাতে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান।

তবে গ্রেফতারকৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ। জানা যায়, এর আগে একইদিন ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর এলাকা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর (বিএমডি) মহা-পরিচালক ও যুগ্ম সচিব আনোয়ারুল হাবিব বাদী হয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ধলাই নদীর তীরবর্তী সাদাপাথর এলাকায় একের পর এক পাথর চুরির ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে গত দুই সপ্তাহে কোটি কোটি টাকার পাথর লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পাথর উদ্ধারে বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিশেষ অভিযান শুরু হয়।

এ অভিযানে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে পুনরায় ধলাই নদীতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলমান রয়েছে এবং অবৈধ লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক মানেন না এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির জনক নন। তিনি এ মন্তব্য করেন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে।

‘বাংলাদেশের মালিক এ দেশের জনগণ’ শিরোনামের ওই পোস্টে নাহিদ লেখেন, “জাতির পিতা” উপাধি কোনো ঐতিহাসিক সত্য নয়, বরং আওয়ামী লীগের তৈরি একটি ফ্যাসিবাদী হাতিয়ার। স্বাধীনতা অর্জনে শেখ মুজিবের ভূমিকা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি থাকলেও তার শাসনামলে সংঘটিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা এবং ১৯৭২ সালের গণবিরোধী সংবিধান চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো ‘মুজিব পূজা’ ও ‘মুক্তিযুদ্ধ পূজা’, যা জনগণকে বিভক্ত করে শাসন ও লুটপাটের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সব নাগরিকের সমান অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র, কোনো ব্যক্তি বা পরিবার এর মালিক নয়।”

তার বক্তব্যে তিনি ‘মুজিববাদ’কে একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে গুম, খুন, ধর্ষণ, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সম্পদ পাচার, ইসলামভীতি ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। তার মতে, গত ১৬ বছর মুজিবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে রাষ্ট্রে দমনমূলক শাসন চালানো হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের সংগ্রাম কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং একটি ফ্যাসিবাদী মতবাদের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের প্রজাতন্ত্র।”




“সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষকে রুখতে পারবে না কেউ” — জয়নুল আবদিন ফারুক

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আল্লাহ ছাড়া কেউ ধানের শীষকে রুখতে পারবে না।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ কর্মজীবী দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফারুক বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচনের ট্রেন চলছে, তাতে জনগণের সমর্থন তখনই পাবেন যখন বয়োজ্যেষ্ঠদের সম্মান করবেন, গ্রামে যারা অত্যাচার করে তাদের রুখবেন এবং পদলোভ না করে দলকে ভালোবাসবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতার জন্য যারা রক্ত দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হলে দেশের মানুষ তা প্রতিহত করবে। এই দেশ এখন জনগণের, আর হাসিনার বাংলাদেশ নয়। এখন ভোট আমরাই দেব, যে ভোটের জন্য আমরা আত্মাহুতি দিয়েছি।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ফারুক বলেন, “এই দেশে পিআর, ইভিএম কোনো কিছুই টেকেনি। ক্ষমতায় থাকাকালে লুটপাট হয়েছে, প্রতিবেশী দেশকে সব দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ভালোবেসে সেখানেই থাকা হয়, কিন্তু উসকানি দেওয়া চলবে না। ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের মানুষ প্রস্তুত।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হারুনুর রশিদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহসহ দলের অন্যান্য নেতারা।




“খালেদা জিয়াকে ইঁদুর-পোকামাকড়ের কক্ষে রাখা হয়েছিল” — মির্জা আব্বাসের অভিযোগ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে চরম নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায়ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশনেত্রীকে পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারের এমন এক কক্ষে রাখা হয়েছিল যেখানে ইঁদুর ও পোকামাকড় দৌড়াত। কয়েকজন জেলার ও ডেপুটি জেলার তাকে ছাদের ওপরের একটি কক্ষে রেখেছিল। এই নির্যাতনের জন্য যারা দায়ী, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্ব এবং নেতা-কর্মীদের প্রতি তার ভালোবাসা তুলনাহীন।

২০০৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে রাখা হয় খালেদা জিয়াকে। ওই সময়ে নানা রোগে আক্রান্ত হলেও বিশেষায়িত চিকিৎসার অনুমতি দেননি তৎকালীন সরকার। করোনা মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় তাকে, গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় থেকে কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায়।

দিনাজপুরে ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়া ১৯৮১ সালে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর রাজনীতিতে আসেন এবং তিন দফা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নয়াপল্টনের মিলাদ মাহফিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




খালেদা জিয়ার জন্মদিনে প্রধান উপদেষ্টার ফুলেল শুভেচ্ছা

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৪টায় রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’য় প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে ফুলের তোড়া পৌঁছে দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার শুভেচ্ছা বার্তা বহন করে নিয়ে আসেন তার একান্ত সচিব সজীব এম খায়রুল ইসলাম ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের পরিচালক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম। বিএনপি চেয়ারপারসনের পক্ষে ফুলের তোড়া গ্রহণ করেন তার একান্ত সচিব ও সাবেক সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেলায়েত হোসেন, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এবং চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাসুদ রহমান। শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পঞ্চাশ বছর আগে আজ, ধানমন্ডি ৩২-এ নিহত হন শেখ মুজিবুর রহমান

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫০তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল বিপথগামী কর্মকর্তা ও সৈনিক ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নিহত হন তার স্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, ছোট ভাই শেখ নাসেরসহ পরিবারের একাধিক সদস্য ও আত্মীয়স্বজন।

সেই রাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধুর বোনের স্বামী আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ছেলে আরিফ, মেয়ে বেবী ও শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু; বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, নিকটাত্মীয় শহীদ সেরনিয়াবাত ও রিন্টু। ভবনের বাইরে পুলিশের বিশেষ শাখার সাব-ইন্সপেক্টর সিদ্দিকুর রহমান ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিলও হামলাকারীদের গুলিতে প্রাণ হারান।

সে সময় দেশের বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। বঙ্গবন্ধুকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় দাফন করা হয়, আর পরিবারের অন্যান্য নিহত সদস্যদের সমাধিস্থ করা হয় ঢাকার বনানি কবরস্থানে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেওয়া শেখ মুজিব ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে আসেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ছয় দফা প্রণয়ন ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আওয়ামী লীগের শাসনামলে এ দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এবার তা পালনে দলের তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।




শুধু ভারত নয়, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত থেকেও সতর্ক থাকতে হবে : ইশতিয়াক উলফাত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেছেন, ভারত, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী দেশের মূল শত্রু। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই তিন পক্ষ যে কোনো সুযোগে দেশের ক্ষতি করতে পারে, তাই জনগণকে তাদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইশতিয়াক উলফাত বলেন, “জামায়াতে ইসলামী স্বাধীন দেশ চায়নি। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় মা-বোনদের পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে। এদের কর্মকাণ্ড আমরা ভুলব না।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের প্রায় অর্ধশত জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমিটি টাকার বিনিময়ে গঠিত হয়েছে। এসব কমিটিতে স্থান পেয়েছে আওয়ামী লীগের সদস্য ও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের মতামত নেওয়া হয়নি, যা দেশজুড়ে অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করছে।

উলফাতের মতে, এই ধরনের কমিটি দেশব্যাপী অর্থের বিনিময়ে পরিচালিত হচ্ছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি ও দেশের স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে।




খালেদা জিয়ার জন্মদিনে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় শ্রদ্ধা, কেক কাটার আয়োজন নেই

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮১তম জন্মদিন আজ (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা জিয়ার জন্মদিনে দলীয়ভাবে এবারও কেক কাটার কোনো আয়োজন নেই।

দলীয় সূত্র জানায়, ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপির কার্যালয় ও বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনে এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ে সকাল ১১টায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরদিন স্থায়ী মুক্তি পাওয়ার পর এটি খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় জন্মদিন, যা তিনি মুক্ত পরিবেশে পালন করছেন। তবে বিএনপি জানিয়েছে, জুলাই-আগস্টের শহীদ ও আহতদের স্মরণে কেক কাটাসহ কোনো আড়ম্বরপূর্ণ কর্মসূচি থাকবে না। দলটি ২০১৬ সাল থেকে জন্মদিনে কেক কাটার পরিবর্তে দোয়া মাহফিল আয়োজন করছে।

লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া। তিনি গুলশানের ফিরোজা বাসায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য চার মাস লন্ডনে থেকে চলতি বছরের ৬ মে দেশে ফেরেন। সর্বশেষ ২১ নভেম্বর সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।

১৯৮১ সালে স্বামী ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালে দলের চেয়ারপারসন হন এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী, দু’বার বিরোধীদলীয় নেতা এবং সার্কের প্রথম নারী চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

দমন-পীড়ন ও কারাজীবনের দীর্ঘ সময় পার করা খালেদা জিয়া ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এবং ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হন। ২০২০ সালের মার্চে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান, তবে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাননি।

ব্যক্তিজীবনে ১৯৬০ সালে সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া। তাদের দুই সন্তান—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো; কোকো ২০১৫ সালে মারা যান।

নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন গণতন্ত্রের জন্য তাঁর ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, “স্বৈরাচার মুক্ত পরিবেশে এ বছর ম্যাডামের জন্মদিন পালিত হচ্ছে, আমরা প্রার্থনা করি তিনি আবার দেশের নেতৃত্ব দিতে পারেন।”




স্বাধীনতা দিবসে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন মোদী

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, দেশ কোনোভাবেই পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল সহ্য করবে না।

শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মোদী বলেন, “ভারতের পানি শত্রুর জমি সেচে ব্যবহার হয়েছে, অথচ আমাদের ভূমি শুকনা থেকেছে। ভারত ও ভারতীয় কৃষকরা এখন নিজেদের প্রাপ্য পানির অধিকার পাবে। কৃষক ও দেশের কল্যাণে আমরা আর সিন্ধু পানি চুক্তিতে সম্মত নই।”

এদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন সেনাবাহিনীর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ‘রকেট ফোর্স কমান্ড’ গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি দাবি করেন, এই বাহিনী শত্রুকে “সব দিক থেকে” আঘাত হানতে সক্ষম।

শাহবাজ শরিফ বলেন, “ঐক্য, ঈমান ও শৃঙ্খলার দর্শনই পাকিস্তানকে একত্রিত করেছে, আর সেটিই আজও দেশের ভিত্তি। রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আমরা ‘চার্টার অব স্ট্যাবিলিটিতে’ যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি, যা কেবল অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য নয়, বরং জাতীয় স্বার্থের মূল ভিত্তি।”

পাকিস্তানের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবসে জাতিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও দেশের প্রতিষ্ঠাতাদের ত্যাগকে স্মরণ করেন এবং পাকিস্তানের জন্মকে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিজয়ের প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আল্লামা ইকবালসহ পাকিস্তান আন্দোলনের সকল নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।