আইন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে শহীদ পরিবার ও আহতদের বিক্ষোভ

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা ও আহতরা। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের ২ নম্বর ফটকের সামনে অবস্থান নেন।

শহীদ পরিবার ও আহতদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে সচিবালয়ের সামনের প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় বিক্ষোভকারীরা নানা স্লোগান দেন। তাদের দাবি— জুলাই হত্যা মামলার আসামি এক পুলিশ কর্মকর্তাকে জামিন দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করেছে যে বিচার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হচ্ছে এবং আইন উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা স্লোগানে বলেন, “পদত্যাগ চাই, আসিফ নজরুলের পদত্যাগ চাই”, “খুনিরা বাইরে ঘোরে, বিচার বিভাগ কী করে”, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে” ইত্যাদি।

জুলাই শহীদ আলিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা বুলবুল করিম অভিযোগ করেন, “এক বছর পার হলেও আমাদের সন্তান হত্যার বিচার হয়নি। সরকার বিচারের নামে তামাশা করছে। আসামিরা টাকার বিনিময়ে জামিন পাচ্ছে, অথচ আইন উপদেষ্টা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।”

শহীদ তায়িমের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, “আমরা এই উপদেষ্টার পদত্যাগ চাই।”

অন্যদিকে শহীদ শেখ শাহরিয়ারের বাবা আবদুল মতিন জানান, “এক বছর ধরে আমরা বিচারের দাবিতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয়ও কেবল প্রহসন করছে।”

এ বিষয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মাসুদ আলম বলেন, “শহীদ পরিবার ও আহতদের দাবি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে— এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিক্ষাক্রম কমিটির বৈঠকে বিতর্ক, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ পাঠ্যবইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত

পাঠ্যবই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ সরানোর প্রস্তাব নাকচ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম কমিটি (এনসিসি)। তবে পূর্ণাঙ্গ ভাষণ বাদ দিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে বইয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কার্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরিমার্জিত পাঠ্যবই অনুমোদন সংক্রান্ত সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় অংশ নেওয়া কয়েকজন সদস্য জানান, এনসিটিবির পক্ষ থেকে পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিছু শ্রেণি শিক্ষকও একই মত দেন। তবে শিক্ষা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এর বিরোধিতা করে ভাষণ সংক্ষিপ্ত আকারে রাখার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে কিছুটা বাকবিতণ্ডা হলেও শেষ পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে ভাষণ রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অন্যদিকে, ‘আমাদের নতুন গৌরব গাঁথা’ শীর্ষক প্রবন্ধে জুলাই আন্দোলনের বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেন, প্রবন্ধটিতে গণঅভ্যুত্থানের পূর্ণ চিত্র নেই এবং নৃশংস গণহত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, প্রবন্ধটি সংশোধন করে শেখ হাসিনার নাম যুক্ত করা হবে।

বৈঠকে এনসিটিবির সম্পাদনা পরিষদের প্রধান সম্পাদক পাঠ্যবই থেকে ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ইতিহাসের অংশ হিসেবে ভাষণটি রাখার পক্ষে অবস্থান নেন।

পরে অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, “অষ্টম শ্রেণির বইয়ে আগেও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল। এবার তা সংক্ষিপ্ত আকারে রাখা হবে। একই সিদ্ধান্ত একাদশ শ্রেণির বইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।”




মিডিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করার পরামর্শ সারজিস আলমের

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, মিডিয়াকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করা বোকামি।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সারজিস আলম লিখেছেন, “মিডিয়া কিছু বলছে মানেই সেটা সত্যি—এটা বিশ্বাস করা বোকামি।”

তিনি আরও দাবি করেন, মিডিয়া অনেক সময় সত্যের চেয়ে ব্যক্তি, গোষ্ঠী, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দল, মতাদর্শ বা নির্দিষ্ট এজেন্ডার স্বার্থেই কাজ করে থাকে।

ভবিষ্যতের বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া যেন প্রকৃত অর্থে মিডিয়ার ভূমিকা পালন করে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন সারজিস আলম।




দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এনসিপি থেকে মাহিন সরকার বহিষ্কার

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকারকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতে এনসিপি যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশে মাহিন সরকারকে স্বপদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো। বহিষ্কার আদেশ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এনসিপি জানিয়েছে, গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।




রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তিচুক্তিতে সমঝোতার পথে ভূখণ্ড ছাড়ার শর্ত

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির জন্য উভয় পক্ষকেই ভূখণ্ডগত ছাড় দিতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “এটা সহজ নয়, হয়তো ন্যায্যও নয়, কিন্তু যুদ্ধ শেষ করতে হলে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে কিছু ভূখণ্ড ত্যাগ করতেই হবে।”

তিনি আরও জানান, শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা হবে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা।

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের পাশাপাশি অ-ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গেও কাজ করছে। তার ভাষায়, “শান্তিচুক্তি কার্যকর হওয়ার পরই এই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চালু হবে, যাতে ইউক্রেন ভবিষ্যতে সুরক্ষিত বোধ করে।”

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক দেশই ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে আগ্রহী। তবে ইউক্রেনীয়দের মতে, তাদের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ভরসা হবে একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলা।




মব জাস্টিস প্রতিরোধে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, রাজধানী ঢাকায় মব জাস্টিসের ঘটনা কিছুটা কমলেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনো এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১২তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সভায় জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলা রেকর্ড, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ছিনতাই–চাঁদাবাজ দমন, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন এবং মব জাস্টিস প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, নির্বাচনের আগে পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কারা ও ফায়ার সার্ভিসে প্রায় ২৭ হাজার নতুন সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “ঢাকায় মব জাস্টিস কমলেও আশপাশে এখনো কিছু ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি রংপুরেও একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা চেষ্টা করছি এসব যতটা সম্ভব কমিয়ে আনতে।”

প্রধান উপদেষ্টা বা মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশে ১৫ আগস্টে ফুল দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল কি না—এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে নির্দেশনা ছিল যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

মাইটিভির চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। যদি গ্রেপ্তার অবৈধ হয়, আদালত নিজেই তা বাতিল করবে।

এসময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা চাই নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়। সাধারণত ছোট অপরাধীদের ধরা হয়, কিন্তু বড় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। তবে এবার একটি বড় অপরাধী ধরা পড়েছে। আপনারা সবসময় সত্য ঘটনা প্রকাশ করেন, এজন্য ধন্যবাদ।”




নির্বাচনের প্রস্তুতি জানতে সিইসির সঙ্গে আইআরআই প্রতিনিধিদের বৈঠক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুতির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই)।

সোমবার (১৮ আগস্ট) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রতিনিধিরা সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইআরআই-এর ডিরেক্টর স্টিফেন সীমা, ডেপুটি ডিরেক্টর ম্যাথ্যু কার্টার এবং সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষ।

বৈঠক শেষে স্টিফেন সীমা সাংবাদিকদের বলেন, “৯০ সাল থেকে আইআরআই বাংলাদেশে কাজ করছে। আজকের আলোচনায় মূলত নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি ও কীভাবে আমরা ভূমিকা রাখতে পারি, তা নিয়ে কথা হয়েছে। ইসি তাদের প্রস্তুতির বিষয়ও আমাদের জানিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিইনি এবং সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করি না। তবে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতন্ত্র ও সুশাসন বিষয়ে কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকি।”

স্টিফেন সীমা জানান, আইআরআই ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আন্তঃসংলাপ, নীতি নির্ধারণী সংলাপসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং কীভাবে দলগুলোকে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫





বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য পরিচালকের মৃত্যুতে উপদেষ্টার শোক

মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের পরিচালক আলফাজ উদ্দীন শেখের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। সোমবার (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শোকবার্তায় তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় ফরিদা আখতার বলেন, “আলফাজ উদ্দীন শেখ ছিলেন সৎ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা। দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনায় তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার মৃত্যুতে মৎস্য খাত এক যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে হারাল।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আলফাজ উদ্দীন শেখ সোমবার দুপুরে বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১৭তম বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডারের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি সহকর্মী ও অধস্তনদের কাছে হয়ে ওঠেন অনুকরণীয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে সমুদ্রখাত: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সমুদ্র বাংলাদেশের জন্য অফুরন্ত সম্ভাবনার ভাণ্ডার। এই খাত সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতির জন্য বৈচিত্র্যময় ও নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করা সম্ভব।

সোমবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরের বিশাল সম্পদ পানিভিত্তিক অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এখনো বাংলাদেশ সমুদ্রসম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি। তার ভাষায়, “সমুদ্র আমাদের জন্য উপহার নিয়ে অপেক্ষা করছে, কিন্তু আমরা এখনো সেই উপহারটি নিতে পারিনি।”

ড. ইউনূস বলেন, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার অঞ্চল চিহ্নিত করে আধুনিক শিল্প খাত গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য গবেষণা, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে গভীর সমুদ্র মৎস্যচাষ অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু জমির অংশটাকে বাংলাদেশ মনে করি। অথচ পানির অংশটাই জমির চাইতে বড়। এটিকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”




ফিটনেস থেকে পাওয়ার হিটিং—বিশেষায়িত কোচ দিয়েই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় ব্যাটসম্যানদের পাওয়ার হিটিং দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বিশ্বখ্যাত পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডকে। গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) থেকে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছেন তিনি এবং আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন।

সোমবার (১৮ আগস্ট) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটার জাকের আলি অনিক জানান, উড মূলত ব্যাটসম্যানদের স্কিল ডেভেলপমেন্টে মনোযোগ দিচ্ছেন। তার ভাষায়, “জুলিয়ান পাওয়ার হিটিংয়ে আমাদের কিছু স্কিল নিয়ে কাজ করছে। কোন জায়গায় কার কতখানি উন্নতি করা যায়, সেটা নিয়েই তিনি কাজ করছেন।”

এসময় ফিটনেস কোচ নাথান কেলির অবদান নিয়েও কথা বলেন জাকের। তিনি বলেন, “কেলি আসার পর আমাদের একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছেন। গায়ে ট্র্যাকার ব্যবহার করে আমরা কতটা চেষ্টা করছি সেটা তিনি বিশ্লেষণ করেন। কে প্রথম কে দ্বিতীয় সেটা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কে বেশি চেষ্টা করছে সেটাই আসল বিষয়।”

আসন্ন এশিয়া কাপ ও নেদারল্যান্ডস সিরিজে নিজের দায়িত্ব নিয়ে জাকের বলেন, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করেই পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাই তার মূল কাজ। “আমার রোল প্রতিদিন ভিন্ন হয়। যেদিন যেই পজিশনে নামি, সেভাবেই পারফর্ম করার চেষ্টা করি,” যোগ করেন তিনি।