নাইজেরিয়ায় সহিংসতা: নামাজের সময় গুলিতে বহু প্রাণহানি

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় কাটসিনা রাজ্যে ফজরের নামাজের সময় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ভোররাত ৪টার দিকে মালুমফাশি এলাকার উঙ্গুয়ান মানতাউ গ্রামের মসজিদে নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর সশস্ত্র ডাকাতরা গুলি চালায়। এতে অন্তত ২৭ জন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয় গ্রামপ্রধান ও হাসপাতালের কর্মকর্তারা হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি।

রাজ্যের নিরাপত্তা কমিশনার নাসির মুয়াজু জানিয়েছেন, ঘটনার পর সেনা ও পুলিশ বাহিনী ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে আর কোনো হামলা না ঘটে।

উল্লেখ্য, নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে পশুপালক ও কৃষকদের মধ্যে জমি ও পানির প্রবেশাধিকার নিয়ে সংঘাত চলছে। এর আগে গত জুনে দেশটির উত্তর-মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারান।




দুনিয়ার যেসব জিনিস জান্নাতে থাকবে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুনিয়ার নেতিবাচক বা অপ্রীতিকর যেসব বিষয় জান্নাতে থাকবে না-

কোনো দুঃখ-কষ্ট বা শোক : জান্নাতে কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক কষ্ট থাকবে না। তাই জান্নাতে কান্না, হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক অশান্তি থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিত হবে না। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৬২)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি অনুভব করবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৮)

মৃত্যু বা অস্তিত্বের সমাপ্তি : জান্নাতে মৃত্যু থাকবে না; জান্নাতিরা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাই দুনিয়ার মতো জান্নাতে মৃত্যুর ভয় বা অস্তিত্ব হারানোর চিন্তা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।(সুরা : বাইয়িনা, আয়াত : ৮)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে একটি ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতিরা, তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনো মরবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি বা শারীরিক দুর্বলতা : জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতে মাথা ব্যথা, জ্বর, বার্ধক্য বা কোনো শারীরিক অক্ষমতা থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধ হবে না, এবং চিরকাল তরুণ থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৫)।

মল-মূত্র বা অপবিত্রতা : জান্নাতে মানুষের শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস (যেমন—মল, মূত্র, ঘাম) বের হবে না।

জান্নাতে কোনো নোংরা বা অপ্রীতিকর গন্ধ থাকবে না; সব কিছু পবিত্র ও সুগন্ধময় হবে। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা খাবে, তা তাদের শরীর থেকে মেশকের মতো সুগন্ধি হিসেবে বের হবে।’

 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৫)

হিংসা, শত্রুতা বা মনোমালিন্য : জান্নাতিরা একে অপরের প্রতি হিংসা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। জান্নাতে কোনো মানুষের মধ্যে বিরোধ, কলহ বা মনোমালিন্য থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তাদের হৃদয় থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা ভাইয়ের মতো মুখোমুখি বসবে।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৭)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার মতো রূপ ধারণ করবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কোনোরূপ মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৬)

ক্লান্তি বা পরিশ্রম : জান্নাতে কোনো ক্লান্তি বা শ্রম থাকবে না। দুনিয়ার মতো কাজের চাপ, শ্রম, বা ক্লান্তি জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো পরিশ্রম অনুভব করবে না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৫)

অপূর্ণতা বা অভাব : জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। দুনিয়ার মতো অভাব, ক্ষুধা, বা অপূর্ণ ইচ্ছা জান্নাতে থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যা চাইবে, তাই পাবে, এবং আমার কাছে আরো বেশি আছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৩৫)।

হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা চাইবে, তা তৎক্ষণাৎ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০১)।

অশ্লীলতা বা অসৌজন্য : জান্নাতে কোনো অশ্লীল কথা বা আচরণ থাকবে না। জান্নাতে গালাগাল, অশ্লীলতা, বা অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শুনবে না, শুধু শান্তির কথা শুনবে।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৬২)।

গোপনীয়তার অভাব : জান্নাতে কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। সবাই নিজ নিজ গোপনীয়তা ও সম্মান উপভোগ করবে। দুনিয়ার মতো গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা হস্তক্ষেপ জান্নাতে থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা তাদের প্রাসাদে থাকবে, একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৯)

শয়তান বা প্রলোভন : জান্নাতে শয়তান বা তার প্ররোচনা থাকবে না। দুনিয়ার মতো শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা পাপের প্রলোভন জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান তাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪২)

গরম বা ঠাণ্ডার অস্বস্তি : জান্নাতে কোনো চরম আবহাওয়ার অস্বস্তি থাকবে না। জান্নাতে গরম, ঠাণ্ডা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে ছায়ার মধ্যে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় থাকবে।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ৪১-৪৩)

নিষিদ্ধ খাদ্য বা পানীয় : জান্নাতে হারাম খাদ্য বা পানীয় (যেমন—মদ, শূকরের মাংস) থাকবে না। তবে জান্নাতে হালাল ও পবিত্র পানীয় থাকবে, যা মদের মতো মনে হলেও হারাম নয়। জান্নাতে সব খাদ্য ও পানীয় পবিত্র, সুস্বাদু এবং হালাল হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে পবিত্র পানীয় পান করবে, যা তাদের মাতাল করবে না।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৪৫-৪৭)

অন্যায় বা জুলুম : জান্নাতে কোনো অন্যায়, জুলুম বা অবিচার থাকবে না। দুনিয়ার মতো শোষণ, অত্যাচার বা অবিচার জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জান্নাতে কোনো অবিচার করা হবে না।’ (সুরা : মারয়াম, আয়াত : ৬০)।

জান্নাত এমন একটি স্থান, যেখানে শুধু সুখ, শান্তি ও পবিত্রতা থাকবে। হাদিসে এসেছে : ‘জান্নাতে এমন জিনিস আছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হূদয় তা কল্পনা করেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৪)।




আবারও হাসপাতালে ভর্তি মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

থাইল্যান্ডে চোখের চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত ১টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন। এই তথ্য বিএনপির মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।




বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝবে তরুণ সমালোচকরা: জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনীকে নিয়ে কটূক্তি ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এসব মন্তব্যে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এমন কথা বলছে, তাদের বয়স কম, তারা সন্তানের বয়সী। বড় হলে তারা নিজেরাই ভুল বুঝতে পারবে এবং লজ্জিত হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সেনাবাহিনী সম্পর্কে ‘ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর বার্তা’ ছড়ানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, এসব দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। বরং সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে বাহিনীর ভাবমূর্তি কোনোভাবে ক্ষুণ্ন না হয়।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর প্রস্তুতির কথা জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দেশ এখন নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে সেনাদের, যা আগে কখনও হয়নি। তাই দায়িত্ব পালনের সময় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে তা কমিয়ে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনের সময় পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না।

সেনাসদস্যদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “দেশের মানুষ এখন তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”




অন্যের প্রাণ বাঁচাতে আত্মাহুতি, তিন শিক্ষকের স্মৃতি জাতির গর্ব: মুহাম্মদ ইউনূস

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিমান দুর্ঘটনায় নিহত তিন শিক্ষক—মাহেরীন চৌধুরী, মাসুকা বেগম ও মাহফুজা খাতুন—মানবতা ও সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে জাতির কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই দুর্ঘটনার স্মৃতি এখনো সবার মনে দগদগে হয়ে আছে। আমরা সমবেদনা জানাতে পারি, কিন্তু এই শোক মোছার ক্ষমতা আমাদের নেই। তবে এটুকু বলতে পারি, এই শোক আপনাদের একার নয়—জাতি হিসেবে আমরা এই শোক ধারণ করি।”

নিহত শিক্ষকদের পরিবারের সদস্যরা তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিকথা তুলে ধরেন এসময়।

শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরীর স্বামী মনসুর হেলাল জানান, শেষ মুহূর্তেও তিনি নিজের সন্তানদের মতো ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে জীবন বাজি রেখেছিলেন। একইভাবে মাহফুজা খাতুনের মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকা মায়ের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। শিক্ষক মাসুকা বেগমের ভগ্নিপতি খলিলুর রহমান বলেন, তিনি ছিলেন সবার কাছে নিবেদিতপ্রাণ এবং পরিবার ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সবসময় সচেষ্ট।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষকদের আত্মত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, “আমাদের দেশে এমন নাগরিক আছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিধা করেননি। তারা মানবতার দৃষ্টান্ত প্রমাণ করে গেছেন। এই শিক্ষকরা আমাদের গর্ব, আমাদের আদর্শ। তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে যা কিছু করা প্রয়োজন, আমরা করব।”

সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, সড়ক ও বিদ্যুৎ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং প্রধান উপদেষ্টার এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।




রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচনের বিকল্প নেই: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জাতীয় সংকট নিরসনের একমাত্র পথ হলো দ্রুত নির্বাচন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নির্বাচন চায়।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চিকিৎসা শেষে ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে এখন তিনি সুস্থ আছেন বলেও জানান।

সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই পদ্ধতিতে জনগণের অধিকার পূর্ণ হবে না। বাংলাদেশের জনগণ এ ধরনের নির্বাচনী পদ্ধতিতে অভ্যস্ত নয়।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, যে সব দল সংস্কার চাইছে না, সেটা তাদের নিজস্ব দলের ব্যাপার। তবে জাতীয় নির্বাচন ছাড়া জনগণের মুক্তি সম্ভব নয়।




নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে: রেজাউল করিম

সংস্কার ছাড়া পূর্বের নিয়মে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দৃশ্যমান হতে হবে।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর পাদদেশে আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। সমাবেশের আয়োজন করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর।

রেজাউল করিম বলেন, “দেশ যখন সংকটে জর্জরিত ছিল তখন ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে অন্যায়, খুনখারাবি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। যদি কোনো অশুভ শক্তি প্রধান উপদেষ্টাকে সংস্কারের আগেই নির্বাচন দিতে বাধ্য করে, তাহলে আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”

তিনি আরও বলেন, বিগত ৫৪ বছরের নির্বাচনী ধারা সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যই হলো আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু করা। এর মাধ্যমে কালোটাকা, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও বিদেশি প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব হবে। বিভিন্ন জরিপেও পিআর পদ্ধতির পক্ষে জনসমর্থন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

সমাবেশে দলের শীর্ষ নেতারা বলেন, পিআর পদ্ধতির নির্বাচনই দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার একমাত্র পথ। এই দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের যুগ্মমহাসচিব ও মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা।




বাংলাদেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিতে ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে ইইউ

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিকমানের অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ৪ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের জন্য ইইউ সবসময় পাশে আছে। আগামী নির্বাচন আন্তর্জাতিকমানের অবাধ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। সেপ্টেম্বরে ইইউর বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষক দল বাংলাদেশে আসবে।”

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইইউর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এজন্য নির্বাচন শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে ইইউ। পাশাপাশি নির্বাচনে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তি ও ডিজিটাল সমস্যাগুলো মোকাবিলায়ও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সাক্ষাৎকালে ইইউ প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও প্রস্তুতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেয়।




নির্বাচন নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সরকার, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এর পরেই বিদায় নেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব সরকারের, কোনো দলের নয়। নির্বাচন নিয়ে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সব কার্যক্রম সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে এবং আমরা ফেব্রুয়ারিতেই বিদায় নেব।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই অংশ। “বাংলাদেশে সবসময়ই নির্বাচন ঘিরে এমন রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হয়। এবারও তা-ই হচ্ছে। এতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।”

সরকারের অঙ্গীকার প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা একজন বিশ্বপর্যায়ের স্বীকৃত নন্দিত মানুষ। তিনি নিজেই নির্বাচন নিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। তার সেই ঘোষণার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

এছাড়া, তিনি জানান দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশন সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী দুই মাসের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়ন করা হবে। এ বিষয়ে কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।




অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী :সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে সরকারকে সহযোগিতা করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি সেনাসদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “দেশ এখন নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচনে মাঠে দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী পেশাদারিত্ব দেখাবে এবং প্রতিশোধমূলক কোনো কাজে জড়াবে না।”

সেনাপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে সেনারা মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে।

নাম না উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, একজন সেনাসদস্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইভাবে, নারী নির্যাতনের অভিযোগেও তদন্ত চলছে। তিনি স্পষ্ট করেন, মিডিয়া ট্রায়ালের ভিত্তিতে কাউকে সাজা দেওয়া হবে না; অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, একজন সেনা কর্মকর্তাকে গড়ে তুলতে রাষ্ট্র ব্যাপক অর্থ ব্যয় করে। তাই অপরাধে জড়ানোর আগে সতর্ক থাকা দরকার, কারণ পরে বাড়ি পাঠালে এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছু নয়।

সেনাপ্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো ভুয়া তথ্য নিয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বিভ্রান্তিকর বার্তায় বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং কেউ যেন বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করতে না পারে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেষ করেন, দেশের মানুষ এখন সেনাসদস্যদের দিকে তাকিয়ে আছে। “তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫