পিআর পদ্ধতি ও প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ ৯ দফা প্রস্তাব দিল এবি পার্টি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ছাত্রদের ভূমিকা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

বুধবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু এ প্রস্তাবের কথা জানান।

তিনি বলেন, “আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে ছাত্ররা দুর্যোগ ও আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন বা মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির পর বার্ন ইউনিটে কিশোররা স্বেচ্ছাসেবী হয়ে পরিস্থিতি সামলেছিল। নির্বাচনেও যদি স্কুলছাত্রদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত করা যায়, তবে তারা সহিংসতা রোধ ও আচরণবিধি মানায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।”

এ সময় এবি পার্টি ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে—

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা,

না হলে নিম্নকক্ষে ন্যূনতম ১০০ আসনে পিআর পদ্ধতি প্রবর্তন,

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা,

দ্বৈত নাগরিকদের জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া,

মডেল প্রচার নির্দেশিকা প্রণয়ন,

প্রার্থীদের সরাসরি টেলিভিশন বিতর্কের ব্যবস্থা করা,

গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো,

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম গ্রহণ।

দলটি আরও দাবি জানায়, ভোটকেন্দ্রগুলো প্রভাবমুক্ত রাখতে বর্তমান সংখ্যা কমিয়ে বড় মাঠ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্টেডিয়ামের মতো উন্মুক্ত স্থানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “প্রচলিত নির্বাচনী ধারা অনুসরণ করলে নতুন করে সহিংসতা হতে পারে। তাই নতুন ধাঁচের একটি নির্বাচনী পরিকল্পনা দরকার।”

সভায় এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




“জনগণের রায় ছাড়া পিআর পদ্ধতি চাপানো যাবে না”: নজরুল ইসলাম খান

আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি চালুর আগে জনগণের রায় নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “পিআর পদ্ধতিতে ধারণার ভিত্তিতে নির্বাচন হতে পারে না। জনগণের কাছে না জিজ্ঞেস করেই নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

তিনি আরও জানান, সব রাজনৈতিক দল পিআর পদ্ধতি মেনেও নিলেও সংবিধান সংশোধন ছাড়া এটি কার্যকর সম্ভব নয়। সেই সংশোধন করতে পারে কেবল একটি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ।

নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি, অথচ নির্বাচনী কাঠামোতে মৌলিক পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। জনগণের মতামত ছাড়া নতুন পদ্ধতি চাপিয়ে দেওয়া অযৌক্তিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী একই অনুষ্ঠানে বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে নিহত হয়েছেন। খালেদা জিয়া সেই পতাকা ধারণ করে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়েছেন। তবে এখনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি, নির্বাচনকে ঘিরে নানা চক্রান্ত চলছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

এ সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন সারা দেশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের কথা জানান দলের নেতারা।




যুক্তরাজ্য থেকে তিন কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য থেকে তিন কার্গো তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এ জন্য সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৩ লাখ ৯৬ হাজার ৩৮৮ টাকা

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তা গৃহীত হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০০৮ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্পট মার্কেট থেকে তিনটি আলাদা সময়ের জন্য এই এলএনজি কেনা হবে। সবগুলোই যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল এনার্জিজ গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে আমদানি করা হবে।

প্রথম কার্গো (১৯-২০ অক্টোবরের জন্য ৪২তম) আমদানিতে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম পড়বে ১১.৪৪ মার্কিন ডলার। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৪৮০ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৯৬ টাকা

দ্বিতীয় কার্গো (৬-৭ অক্টোবরের জন্য ৪৩তম) কেনা হবে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১.৩৪ মার্কিন ডলার দরে। এর বিপরীতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৭৬ কোটি ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ৩২৪ টাকা

তৃতীয় কার্গো (২৮-২৯ অক্টোবরের জন্য ৪৪তম) আমদানির অনুমোদনও একই প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়েছে। এর দাম নির্ধারিত হয়েছে প্রতি এমএমবিটিইউ ১১.৫৪ মার্কিন ডলার। এতে খরচ হবে প্রায় ৪৮৪ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ২৬৮ টাকা

প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানির খরচকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে তুলেছে। সরকার দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাত সচল রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানি করে আসছে। নতুন এ অনুমোদনের ফলে আগামী অক্টোবর মাসে দেশের জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারতের মাটিতে আ. লীগের কার্যালয় বন্ধে ঢাকার দাবি, দিল্লির পাল্টা জবাব

ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয় অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে দিল্লি জানিয়েছে, দেশটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কোনো কার্যকলাপের বিষয়ে তারা অবগত নয়।

বুধবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ প্রতিক্রিয়া জানান। বিষয়টি দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

ঢাকার বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি ও কলকাতায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকারের নজরে এসেছে। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবমাননা এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করে ঢাকা।

তবে মুখপাত্র জয়সওয়াল জানান, ভারত তার ভূখণ্ডে অন্য দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যকলাপ পরিচালনার অনুমতি দেয় না। সেই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত করতে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন দ্রুত অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের অভিযোগে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ও ফৌজদারি মামলায় পলাতক আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বর্তমানে ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লি প্রেসক্লাবে এমন কার্যক্রমেরও অভিযোগ করে ঢাকা।

এ বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও এ দলের ক্রমবর্ধমান তৎপরতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বলছে, বিষয়টি দুই প্রতিবেশীর সুসম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।




ঢাকায় চারদিনের সফরে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী

চারদিনের সরকারি সফরে ঢাকায় এসেছেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। বুধবার (২০ আগস্ট) এক বার্তায় ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী ঢাকায় পৌঁছালে তাকে অভ্যর্থনা জানান বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

২১ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে এ সফর। সফরকালে জাম কামাল খান বাংলাদেশি প্রতিপক্ষ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।




“গণতন্ত্র এখনো অধরা, সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তা নেই: রিজভী”

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে এখনো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়নি এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়নি।

বুধবার (২০ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ষড়যন্ত্রের অন্ধগলিতে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও আধিপত্যবাদী চক্র বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে খণ্ডিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। “১৬ বছর ধরে দুঃশাসন, গুপ্তহত্যা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ ও বিরোধী মতকে দমনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠাকারী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকেও হত্যা করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির মুখপাত্র আরও বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে সুসংগঠিত করছেন। তবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউসসহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী : সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

সভায় দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সঞ্চালনায় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

কর্মসূচি সমূহ

১. ৩১ আগস্ট বিকাল ২টায় রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা।
২. ১ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন।
৩. একইদিন সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ। জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৪. ২ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‌্যালি।
৫. ৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে আলোচনা সভা ও র‌্যালি।
৬. প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ।
৭. পোস্টার প্রকাশ।
৮. সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক।
৯. সুবিধাজনক সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ, মৎস্য অবমুক্তকরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ক্রীড়ানুষ্ঠান আয়োজন।

বিএনপি জানিয়েছে, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে শুধু স্মরণীয় করে তুলবে না, বরং দেশের জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে।




ভারতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিস বন্ধে ঢাকা’র দাবি

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ভারতে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে—এমন খবরের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বুধবার (২০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নয়াদিল্লি ও কলকাতায় দলটির কার্যালয় স্থাপনের বিষয়টি তারা লক্ষ্য করেছে। সরকার মনে করছে, এসব অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে অবিলম্বে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অফিসগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের বহু জ্যেষ্ঠ নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বা পলাতক অবস্থায় ভারতে আশ্রয় নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। গত ২১ জুলাই দিল্লি প্রেস ক্লাবে একটি এনজিওর আড়ালে দলটির কয়েকজন নেতা সভা করেন এবং সাংবাদিকদের মধ্যে পুস্তিকা বিতরণ করেন। ভারতীয় গণমাধ্যমেও এসব কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর প্রকাশ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ঢাকা মনে করে, ভারতে বসে কোনো বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কিংবা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের অফিস স্থাপন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং চলমান রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক সেখানে বসে বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত হতে না পারে এবং বিদ্যমান রাজনৈতিক কার্যালয়গুলো দ্রুত বন্ধ করা হয়।




“জনগণের শক্তির ওপরই রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর: তারেক রহমান”

জনগণকে রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণ রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্র ও সরকারও শক্তিশালী হতে পারে না।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরাসরি ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের চর্চাই হলো জনগণকে রাজনীতিতে শক্তিশালী করার মূল মাধ্যম। এ প্রক্রিয়ায় জনগণ তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। কিন্তু নানা শর্ত আরোপ করে যদি জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করা হয়, তবে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ সংকটে পড়বে।

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের ভালোবাসায় থাকতে হবে এবং এমন কোনো কাজে জড়ানো যাবে না, যা জনমনে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করে। “জনশক্তি, জনবলই বিএনপির মনোবল”— মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে তা গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক দলগুলো যদি বিভক্ত হয়, তবে রাষ্ট্রে ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনর্বাসনের সুযোগ সহজ হবে।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তারেক রহমান জানান, ক্ষমতায় এলে বিএনপি জনগণের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিশেষ করে নিরাপদ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান।




দুই বছরে গাজায় শিশু নিহত প্রায় ১৯ হাজার: আল জাজিরা

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা এই আগ্রাসী যুদ্ধে এখন পর্যন্ত নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা ৬২ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৮ হাজার ৮৮৫ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের বরাত দিয়ে বুধবার (২০ আগস্ট) এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা

জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজায় শিশুদের জন্য আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। ইসরায়েলের অবরোধের কারণে তীব্র খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলগুলোতে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিলেও সেই কেন্দ্রগুলোও হামলার শিকার হচ্ছে।

ইউনিসেফের তথ্য উদ্ধৃত করে ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, ইসরায়েল একতরফাভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করার পর গত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে ৫৪০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার ভোর থেকে গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে আটজন খাদ্যসাহায্যের লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় প্রাণ হারান। মে মাস থেকে এভাবে খাদ্য সংগ্রহের লাইনে নিহতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারে দাঁড়িয়েছে।

গাজার হাসপাতালগুলোর তথ্যে জানা যায়, খান ইউনিস, দেইর আল-বালাহ ও গাজা সিটির বিভিন্ন স্থানে বিমান ও গোলাবর্ষণে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহলের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েলি সেনারা বাড়িঘর ধ্বংস ও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে।