বিটিভিতে রিপোর্টার হিসেবে বদলি করা হলো বেতারের ইঞ্জিনিয়ারদের!

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নির্বাচনী সংবাদ কাভারেজে অস্বাভাবিক একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। টেলিভিশন সাংবাদিকতার কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ বেতারের প্রকৌশলী ও অনুষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রযোজক/রিপোর্টার হিসেবে বিটিভিতে বদলি করা হয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের টেলিভিশন শাখা থেকে গত ৬ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহের কাজে এসব কর্মকর্তাকে বিটিভি, ঢাকা কেন্দ্রে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহসহ বার্তা শাখার দৈনন্দিন কাজ সুচারূপে সম্পন্নের জন্য বিসিএস (তথ্য) ক্যাডারভুক্ত কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের বেতনভাতাদি বিটিভি থেকেই নিতে হবে বলে উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- বাংলাদেশ বেতারের ঢাকা কেন্দ্রের বাণিজ্যিক শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) এস. কে. সিদ্দিক আহমদ, বহির্বিশ্ব শাখার সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) আব্দুর রহমান, সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. বাকের মাহমুদ, মনিটরিং পরিদপ্তরের সহকারী বার্তা সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম এবং সেন্ট্রাল প্রকৌশলী দপ্তরের সহকারী বেতার প্রকৌশলী কে. এম. নাসিম মাহমুদ।

বাংলাদেশ বেতারের কুমিল্লা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল) মো. ইমরান হোসেন। বাংলাদেশ বেতারের রাঙামাটি শাখার উপসহকারী নির্বাহী নাসির উদ্দিন ভূঁইয়া এবং কক্সবাজার কেন্দ্রের সহকারী বেতার প্রকৌশলী মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান।

গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের মতে, টেলিভিশনে নির্বাচনী কাভারেজ একটি বিশেষায়িত ও সংবেদনশীল কাজ, যেখানে ভিজ্যুয়াল রিপোর্টিং, লাইভ কাভারেজ ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বদলি হওয়া এসব কর্মকর্তার কেউই আগে টেলিভিশন রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেননি; তাদের পেশাগত অভিজ্ঞতা সীমাবদ্ধ ছিল বেতারের প্রকৌশল, অনুষ্ঠান বা প্রশাসনিক কাজে।

বিটিভিতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অভিজ্ঞ টেলিভিশন সাংবাদিক ও রিপোর্টার থাকার পরও কেন টিভি সাংবাদিকতায় অনভিজ্ঞ বেতারের কর্মকর্তাদের নির্বাচন কাভারেজের দায়িত্ব দেওয়া হলো- তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ মূল দপ্তর থেকেই বেতন ও ভাতা গ্রহণ করবেন এবং আদেশটি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সিদ্ধান্ত সংবাদ কাভারেজের মান ও পেশাগত নীতিমালার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ- সে প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মিডিয়া অঙ্গনে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশাল-৫: জামায়াত প্রার্থী রাখবে কি না, এখনো অনিশ্চয়তা

বরিশাল সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে রাজনৈতিক তর্ক ও আলোচনা চলছে। ইসলামী দলগুলোর জোটগত সমঝোতা, অতীত নির্বাচনী ফলাফল এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তৎপরতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম উভয়েই বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সম্প্রতি অ্যাডভোকেট হেলালকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই কমিটির অন্য কোনো সদস্য এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না। ফলে বরিশাল-৫ আসনে জামায়াত সরাসরি প্রার্থী দেবে কি না, সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

অ্যাডভোকেট হেলাল জানিয়েছেন,“ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ছাড়া আর কেউ একাধিক আসনে মনোনয়ন দাখিল করেননি। সুতরাং একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই থাকে। বরিশাল-৫ আসনটি জোট বিবেচনায় জামায়াতের দাবির মধ্যেই থাকবে। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”

তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, এই আসনে প্রার্থী থাকবেন কি না—সে সিদ্ধান্ত এককভাবে জামায়াতের নয়, পুরোপুরি জোটের সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।

অপরদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ফয়জুল করিম বরিশাল-৫ আসনকে ‘আমিরের আসন’ হিসেবে দাবি করেছেন। তিনি এই আসনের পাশাপাশি আরও একটি আসনেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। জোটের বৃহত্তর স্বার্থে বরিশাল-৫ আসনে সরাসরি প্রার্থী না দেওয়াই কি বাস্তবসম্মত হবে—এ বিষয়ে জামায়াতের মধ্যে আলোচনা চলছে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলনকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জোটের মেয়র প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের হেলালকে প্রার্থী করা হতে পারে।

নির্বাচনী পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে, ইসলামী আন্দোলনের ফয়জুল করিম ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ১১.৩০% ভোট পেয়ে তৃতীয় হন এবং ২০০৮ সালে ১১.৬০% ভোট পান। ২০১৮ সালে তিনি জামানত হারান। তবে ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৩,৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী ইতিহাস বরিশাল সদর আসনে তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে প্রার্থী প্রায় ৫ হাজার ভোট পান, ১৯৯৬ সালে প্রায় ৪ হাজার ভোট পান। এরপর দীর্ঘ সময় এই আসনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।

সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসন ইসলামী জোট রাজনীতির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী রাখবে নাকি জোটের স্বার্থে আসন ছাড়বে—এ সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক অঙ্গন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সৌদির সড়কে থেমে গেল বরিশালের মিজানুরের স্বপ্ন

বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মিজানুর রহমান। চোখভরা ছিল সচ্ছল জীবনের আশা, বুকভরা ছিল বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানকে ভালো রাখার দৃঢ় প্রত্যয়। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসজীবনের মাত্র এক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল তার জীবন, নিভে গেল একটি পরিবারের আশার আলো।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) সৌদি আরবের ইয়াম্বো শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মারা যান মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি বরিশাল জেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বটতলা এলাকার বাসিন্দা আলমগীর শরীফের বড় ছেলে।

জীবিকার তাগিদে প্রায় এক বছর আগে সৌদি আরবে যান মিজানুর। গ্রামের সাধারণ একটি পরিবার থেকে উঠে আসা এই যুবক বিদেশে গিয়ে কষ্ট করে কাজ করতেন শুধু পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য। স্বজনরা জানান, দুর্ঘটনার পর তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা রয়েছে।

মিজানুরের মৃত্যুর খবর প্রথমে পরিবার বিশ্বাসই করতে পারেনি। বিদেশে থাকা সন্তানের কণ্ঠ শোনার অপেক্ষায় থাকা বাবা-মায়ের ঘরে নেমে আসে গভীর নীরবতা। তার স্ত্রী বারবার প্রশ্ন করছেন—এত তাড়াতাড়ি সব শেষ হয়ে যাবে কেন? সাড়ে তিন বছরের অবুঝ কন্যাশিশুটি এখনও জানে না, আর কোনো দিন বাবার কোলে ওঠা হবে না।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে তার চাচা সালাম শরীফ বলেন, “মিজানুর পরিবারের বড় ছেলে ছিল। সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। সে শুধু নিজের জন্য নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলাতে চেয়েছিল।”

চাঁদপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান সবুজ বলেন, “মিজানুর ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও দায়িত্ববান একজন যুবক। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের সবাইকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”

মিজানুর রেখে গেছেন স্ত্রী, সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা, দুই ভাই ও তিন বোনসহ অসংখ্য স্বজন। তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করেই চলত পরিবারের বড় একটি অংশ। হঠাৎ এই মৃত্যুতে পরিবারটি পড়েছে চরম অনিশ্চয়তায়।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। স্বজনদের একটাই আকুতি—অন্তত শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেশে এনে নিজের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত করতে চান তারা।




গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ছাড়া বিকল্প নেই: আলী রীয়াজ

বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশ গুম, খুন ও দমন-পীড়নের মতো ভয়াবহ অধ্যায়ের ভেতর দিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, সেই অন্ধকার অধ্যায় যেন আর কখনো ফিরে না আসে, সে জন্য আসন্ন গণভোটে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।

রোববার সকালে বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠন ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

আলী রীয়াজ বলেন, মত ও পথের ভিন্নতা থাকাই স্বাভাবিক। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে। ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জুলাই জাতীয় সনদের ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথা তুলে ধরে বলেন, একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ ভয়াবহ দুঃসময় পার করেছে। গুম, খুন ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি মানুষের মৌলিক অধিকারকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে সেই অমানবিক বাস্তবতা ফিরে না আসুক, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া। এজন্য শুধু ভোট দেওয়া নয়, গণভোটের পক্ষে সকলে মিলে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক কৃষিবিদ মো. নুরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আবদুল হাই নিজামীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মনির হায়দার বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী না হলে খুনি-মাফিয়া ও ফ্যাসিস্ট শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিতে পারে। তারা বিদেশে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এসব অপচেষ্টা রুখতে হলে গণভোটে জনগণের শক্ত অবস্থান জরুরি।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি। গণভোটকে সফল করতে ইমাম ও আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। মসজিদ ও ধর্মীয় পরিসর থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে তাদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




এলপি গ্যাসে নিয়ন্ত্রণহীন বাজার, ভোক্তারা দিশেহারা

দেশজুড়ে এলপি গ্যাসের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার একের পর এক উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর পরিবর্তন আসেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংকট যেমন বাড়ছে, তেমনি লাগামহীনভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে এলপি গ্যাসের দাম। ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের বড় একটি অংশ বলছে, সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনতে কার্যত ব্যর্থ।

খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভ্যাট কমানো, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো শুরুতেই থেমে গেছে। ফলে বাজারে এক ধরনের অরাজকতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় নির্ধারিত মূল্যে এলপি গ্যাস মিলছে না, আবার কোথাও অতিরিক্ত দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

এলপি গ্যাসের এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের প্রভাব পড়ছে পরিবহন খাতেও। বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী মো. সিরাজুল মাওলা জানান, সারাদেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এসব স্টেশনের মাসিক চাহিদা প্রায় ১৫ হাজার টন এলপিজি। অথচ ডিসেম্বর মাসে তারা সরবরাহ পেয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ। এতে এলপিজিনির্ভর যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। অনেক চালক বাধ্য হয়ে অকটেন ব্যবহার করছেন, যা ভবিষ্যতে অকটেন সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এলপি গ্যাসের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা দেখা গেছে। সরকারি হিসাবে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারিত থাকলেও বাস্তবে অনেক এলাকায় এই সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। কোথাও কোথাও বেশি দাম দিয়েও রান্নার গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

এই সংকটের পেছনে কে দায়ী, তা নিয়ে চলছে দোষারোপের রাজনীতি। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, মূল সমস্যা সরবরাহে। অন্যদিকে সরকারের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ঘাটতি নেই। আমদানিকারকরাও একই কথা বলছেন। সরকার কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। আমদানিকারকরাও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।

এরই মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। তারা হয়রানির অভিযোগ তুলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয়। ধর্মঘট শুরুর দিনই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বৈঠক করে তাদের দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেয়। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে এলপিজির ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয় এবং ভোক্তা পর্যায়ের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবুও বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি।

এলপি গ্যাসের আগুন দামের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও। একজন সিনিয়র সাংবাদিক ফেসবুকে লেখেন, তিনি ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ১০০ টাকায়, তাও অনেক কষ্ট করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রান্না না হলে মানুষ খাবে কী। বাইরে খাওয়ার সুযোগও কম, কারণ গ্যাসের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের দামও বেড়ে গেছে।

ভোক্তারা যখন চরম দুর্ভোগে, তখন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ একটি বিবৃতিতে দাবি করেছে, দেশে এলপিজির কোনো সংকট নেই। বিভাগটির তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ মাসে এলপিজি আমদানি ছিল ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা ডিসেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টনে। অর্থাৎ আমদানি বাড়লেও বাজারে সংকটের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই এবং দেশে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলেই মনে করছেন ভোক্তা ও বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, আমদানি বাড়লেও সঠিক নজরদারি ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবে এলপি গ্যাস সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণে নতুন রেকর্ড, এক ভরি ছাড়াল ২ লাখ ২৭ হাজার

দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। এতে করে দেশের বাজারে এক ভরি স্বর্ণের মূল্য পৌঁছেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সর্বোচ্চ দর।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে বাজুসের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত দাম আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশের বাজারে কার্যকর হবে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা, ডলার বিনিময় হার এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ পরিস্থিতিও দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। এখন থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

এর আগে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সে সময় ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা চাপে পড়ছেন। বিশেষ করে বিয়ের মৌসুম সামনে থাকায় অনেকেই কেনাকাটা নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সামনে স্বর্ণের দামে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের ছক: বরিশাল-৩ আসনে শঙ্কা প্রকাশ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কখনোই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না—এমন মন্তব্য করেছেন বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা এলাকায় জোটের নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ক এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রত্যাশিত তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তাঁর দাবি, প্রশাসনের একটি অংশ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করছে—এমন তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু কেন্দ্রে অস্ত্রের মহড়ার প্রস্তুতির তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

নির্বাচনের অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালের পর দেশে প্রকৃত অর্থে একটি ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন হবে ঈদের আনন্দের মতো। কিন্তু ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং আগেভাগেই কেন্দ্র দখলের ছক কষে রাখলে সেই নির্বাচন কখনোই ভালো হতে পারে না।

একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানিয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ও ভোটকেন্দ্র দখলের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ ক্ষমতা আইন বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি আটক নিশ্চিত করা গেলে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি জানান, জোটের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে নেতাকর্মীদের নির্বাচন আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। কোন ধরনের প্রচারণা আইনসম্মত এবং কোনটি নয়—সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী কিছু রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজেদের নামে ও বেনামে ব্যানার-পোস্টার ব্যবহার করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। এসব অনিয়মের বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সবশেষে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, এসব অনিয়ম বন্ধ না হলে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে—এমন আস্থা তৈরি হয় না। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাবুগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম, বরিশাল জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, বাবুগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. সৌরভ সরদার, এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার জি এম রাব্বি, যুগ্ম-আহ্বায়ক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সুজন তালুকদার, যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তানভীর আহমেদসহ জোটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোট মানেই কি শুধু ব্যালটে সিল? গণভোট নিয়ে বিভ্রান্ত বরিশালের মানুষ

ভোট বলতে আমরা সাধারণত ব্যালট পেপারে সিল মারাকেই বুঝি। কিন্তু এবারের নির্বাচনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি বিষয়—‘গণভোট’। এই শব্দটি শুনে অনেক সাধারণ ভোটারই এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না, আসলে গণভোট কী এবং কেন তা দিতে হবে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাবুগঞ্জ খেয়াঘাট এলাকার ষাটোর্ধ্ব বাসিন্দা দুলাল গাজী একটি চায়ের দোকানে বসে বলেন,“ভোট বলতে তো কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালটে সিল মারাকে বুঝি। কিন্তু গণভোট কী, সেটা তো জানি না।”

একই এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাষ্য,“আমরা তো ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট পেপারে ভোট দিতেই অভ্যস্ত। গণভোটের বিষয়ে কিছুই জানি না। এলাকায় এ নিয়ে কোনো প্রচার-প্রচারণাও চোখে পড়েনি। মানুষকে এটা বোঝানো দরকার।”

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে একসঙ্গে গণভোটও হবে। সরকারিভাবে গণভোট নিয়ে প্রচারণা চালানোর কথা থাকলেও বরিশাল শহরের কিছু স্থানে সীমিত প্রচার দেখা গেলেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তা তেমন চোখে পড়ছে না।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ আসনের নতুন ভোটার রিমন খান বলেন,“শুনেছি এবার দুইটা ভোট দিতে হবে—একটা সংসদ নির্বাচনের, আরেকটা গণভোট। কিন্তু গণভোটটা কী জন্য, কেন দেব—সেটাই বুঝি না। ক্যাম্পেইন করে না বোঝালে সাধারণ মানুষ বিষয়টা বুঝবে না।”

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ভাষানচর এলাকার আবুল কালাম বলেন,“এ বিষয়ে আমার কোনো পরিষ্কার ধারণা নেই। শুধু শুনেছি সেখানে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দিতে হবে। এর বেশি কিছু জানি না।”

শিক্ষকরাও বলছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে গণভোট নিয়ে স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে। বাবুগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন,“গণভোটে যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর মতামত নেওয়া হবে, সেগুলো সম্পর্কে সাধারণ ভোটারদের স্বচ্ছ ধারণা নেই। বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। এজন্য আরও জোরালো প্রচার-প্রচারণা দরকার।”

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা খাইরুল আলম সুমন বলেন,
“গণভোট সম্পর্কে প্রচারণা চালাতে জেলার সব উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণামূলক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপনের বিষয়েও উপজেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৪৮ জন। এর মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৩,২৩,৮১৭ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৩,৮০,৪৯৬ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৩,২৭,৮৯৫ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,১৭,০৫৪ জন
  • বরিশাল-৫ (সিটি-সদর): ৪,৯৩,৯৫০ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,১০,৪৯৭ জন

গণভোটে ভোটারদের চারটি বিষয়ের ওপর ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো—

  1. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান
  2. দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা
  3. ৩০টি ঐকমত্যভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাব
  4. অন্যান্য সাংবিধানিক সংশোধনী

গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই এখন প্রশ্ন একটাই: ব্যালটে সিল দেওয়ার বাইরে এই নতুন ভোট আসলে কী? সাধারণ মানুষের ভাষায় গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রভাব বোঝাতে না পারলে ভোটের দিন অনেক ভোটারই বিভ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন—এমন আশঙ্কাই করছেন স্থানীয়রা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে ১৮৬ মামলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৪৪ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২১ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের মোট ১৮৬টি মামলা। প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

গড় হিসাবে দেখা যায়, মামলা থাকা প্রার্থীদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রায় নয়টি করে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও আইনজীবীদের বড় অংশের দাবি, এসব মামলার অধিকাংশই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ২৫ মামলার আসামি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, “আমরা আইনের পথ মেনেই নির্বাচনে এসেছি। অতীতে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার যেন জনগণ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছি। মামলা থাকা মানেই কেউ ভোটের অধিকার হারাবে, এমন নয়।”

বরিশাল সদর আসনের বাসদ প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরোধী দলে থাকলেই মামলা দেওয়ার একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। কার নামে কয়টি মামলা আছে, তা দেখে চরিত্র নির্ধারণ করা যায় না। দেখতে হবে মামলার ধরন ও সত্যতা।”

হলফনামার তথ্যে দেখা যায়—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১১টি মামলা
  • বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ৪১টি মামলা
  • বরিশাল-৪: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে সর্বোচ্চ ৮৬টি মামলা
  • বরিশাল-৫ (সদর): ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের নামে ১৮টি মামলা
  • বরিশাল-৬: ৫ প্রার্থীর মধ্যে ২ জনের নামে ১২টি মামলা

সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী রাজিব আহসানের বিরুদ্ধে—মোট ৮২টি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মামলা রয়েছে বরিশাল-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের নামে—২৫টি।

আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মূলত রাজনৈতিক চরিত্র। এসব মামলার বড় অংশই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। প্রায় ৯৮ শতাংশ মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যার অনেকগুলো আদালতে টেকে না।”

আরেক আইনজীবী শাহে আলম বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় মামলা ছিল দমন-পীড়নের বড় হাতিয়ার। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে এসব মামলা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এগুলো রাজনৈতিক, ভবিষ্যতে অনেক মামলা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।”

বরিশালের ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২১ লাখ ২৯ হাজার ৯৪৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৮১০ জন। নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৮ জন। ৮২৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৯৪১টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সরকারের সময় যাদের নামে মামলা হয়েছে, তার অধিকাংশই বানানো বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেওয়া। এগুলো পর্যালোচনায় রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে মামলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে ভোট নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এমপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মামলা নেই—যা আছে, তা রাজনৈতিক।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকবে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রথম দিনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৫১ জন,

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের  ‍শুনানির আজ প্রথম দিন ।

আজ মোট ৭০টি আপিলের শুনানি শেষে ৫১ জন প্রার্থীতা ফেরত পেয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে এ শুনানি বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের অডিটরিয়ামে এ শুনানি হয়। এতে স্থানীয় পর্যায়ে মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করা প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

শুনানি শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, প্রথম দিনের ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৫২টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৫টি আপিল নামঞ্জুর এবং ৩টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। নির্বাচন কমিশনে ৫ জানুয়ারি আপিল গ্রহণ শুরু হয়ে ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) শেষ হয়। আপিল গ্রহণের শেষ দিনে (শুক্রবার) ১৭৬টি আপিল জমা হয়।

আজ শনিবার সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শুরু হয়, যা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথম দিনে ৭০টি আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৮০ জনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।