নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়: ফয়জুল করীম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত না হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বরিশাল সদর উপজেলায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভয়ভীতি, হয়রানি ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ চলমান থাকলে জনগণের প্রত্যাশিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিকৃত করে গ্রেপ্তারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে অস্বাভাবিক করে তুলছে।

ফয়জুল করীম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে সেই আগ্রহ ধরে রাখতে হলে সরকার ও প্রশাসনকে সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও কর্মীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ছাড়া কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠে সেনাবাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকার পরও যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। ভোটাররা দল-মত নির্বিশেষে সবার আগে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়—এই বাস্তবতা প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলুম, সন্ত্রাস, মাস্তানি ও গুন্ডামিমুক্ত রাজনীতির কারণে সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন এই দলের প্রতি বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শেরপুরে প্রাণহানির ঘটনা, ভোলায় নারী কর্মীদের ওপর হামলা এবং বরিশালে ভয়ভীতির পরিবেশকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি এসব ঘটনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা কামনা করেন।

নারী ভোটারদের বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামে নারীদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণেই নারী ভোটারদের একটি বড় অংশ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি আস্থাশীল হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে নারী ভোটারদের এই সমর্থন আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তিনি বলেন, অনুকূল পরিবেশ না থাকায় মাঠে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তবে শান্তি, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা গেলে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে হাতপাখা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের নতুন যুগ শুরু: বিএসইসি-ইউএনডিপির সমঝোতা

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পরিবেশবান্ধব এবং সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগকে আরও উৎসাহিত করতে নতুন ধাপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। পুঁজিবাজারে থিম্যাটিক বন্ড বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বন্ডের বাজারকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বুধবার দুই সংস্থার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি ভবনে অনুষ্ঠিত ‘সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স কোলাবোরেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে স্বাক্ষর করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশে টেকসই অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা, থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুকারীদের ইস্যুর আগে ও পরে কারিগরি সহায়তা, এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করার সুযোগও থাকবে।

এছাড়া ইউএনডিপি প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বন্ড রিপোর্টিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী প্রভাব পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো প্রবর্তন এবং তৃতীয় পক্ষীয় সত্যায়ন ব্যবস্থার বিকাশে সহায়তা করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রিন, সোশ্যাল, ক্লাইমেট, এসডিজি ও অন্যান্য থিম্যাটিক বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব হবে।

থিম্যাটিক বন্ড হলো একটি বিশেষ ধরনের বন্ড, যার মাধ্যমে সংগ্রহ করা অর্থকে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যয় করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ:

  • গ্রিন বন্ড: পরিবেশবান্ধব প্রকল্প যেমন সৌরবিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা।
  • সোশ্যাল বন্ড: স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, শিক্ষা ও অন্যান্য সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম।
  • সাসটেইনেবিলিটি বন্ড: গ্রিন ও সোশ্যাল প্রকল্প উভয়ের জন্য।
  • ক্লাইমেট বন্ড: জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন।
  • এসডিজি বন্ড: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য।

বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে আমাদের লক্ষ্য বাজার ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন, সুশাসন জোরদার করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করা। থিম্যাটিক বন্ডের বিকাশ পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, “বাংলাদেশে থিম্যাটিক বন্ডের মাধ্যমে পরিবেশ ও সামাজিক খাতে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আহরণের সম্ভাবনা অনেক বেশি। এটি দেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণে সাহায্য করতে পারে, মধ্যম আয়ের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে।”

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির বাংলাদেশের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট ড. মালিহা মুজাম্মিল, কান্ট্রি ইকোনমিক অ্যাডভাইজার ওয়াইস প্যারে এবং বিএসইসির কমিশনার মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজম জে চৌধুরীর দাবি: বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের মতামত নিচ্ছে না

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সেমিনার ও ইআরএফ শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘এনজিওদের সরকার’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই সরকার কোনো বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণ করেনি। যেহেতু সরকারে থাকা কর্মকর্তারা এনজিও থেকে এসেছেন, তারা সারাদেশ পরিচালনার জন্য এনজিওগুলোর মাধ্যমেই কাজ করছেন।

আজম জে চৌধুরী আরও বলেন, দেশে আদৌ কোনো সংস্কার হয়েছে কি না তা প্রশ্নবিদ্ধ। জমির মিউটেশন করার প্রক্রিয়ায় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট অফিসের মাধ্যমে যে হয়রানি ও চাঁদাবাজি চলছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। পূর্বে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ দিতে হতো, এখন তা বেড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা, যা সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

সেমিনারে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত দেশের অর্থনীতি এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতি জানা। তিনি যুক্ত করেন, আইএমএ’র বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কিন্তু মাইক্রো ও ম্যাক্রো লেভেলে অর্থনৈতিক সংস্কার দেখা যায়নি। বন্দরে মালামাল খালাস প্রক্রিয়া এখনও সময়সাপেক্ষ; অনেক ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যে খালাস হওয়ার কথা থাকলেও দেড় মাস পর্যন্ত মালামাল আটক থাকে।

আজম জে চৌধুরী বলেন, মাইক্রো লেভেলে যে ভোগান্তি ব্যবসায়ীদের হয়, তা ম্যাক্রো লেভেলের অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ নয়। তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কার্যকর নীতি প্রয়োজন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার প্রাইভেট খাতের সঙ্গে সমন্বয় না করায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না, কোনো নীতি-নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হচ্ছে না।

সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার মালা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবদুল মোমেন, ইসলামী ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম কামালউদ্দিন জসিম, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামসুল ইসলাম, ইআরএফের সাবেক প্রেসিডেন্ট শামসুল হক জাহিদ, ন্যাশনাল লাইফ ইন্সুরেন্সের সিইও মো. কাজিম উদ্দিন, এবং ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বন্ধ তালিকায় থাকা ৫ এনবিএফআই শেয়ারে বড় দরপতন

দেশের নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) মধ্যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ৯টি এনবিএফআইকে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়ায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। মঙ্গলবার এর মধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ দেওয়া হয় এবং বাকি ছয়টি প্রতিষ্ঠান অবসায়নের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন করে বন্ধের তালিকায় থাকা ছয়টির মধ্যে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারগুলোতে বুধবার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী বড় দরপতন হয়েছে। অন্যদিকে, তিনটি প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়ায় সেগুলোর শেয়ার আজ উল্লিখিত সীমায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

চূড়ান্ত বন্ধের তালিকায় থাকা পাঁচটি কোম্পানি হলো—ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস। আর বন্ধ তালিকা থেকে আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পেয়েছে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) লিমিটেড।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বন্ধ তালিকায় থাকা ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ারদর আজ ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় নেমেছে। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৩ পয়সায়, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের দর ৮ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৭৪ পয়সায়, পিপলস লিজিংয়ের দর ৮ পয়সা বা ১০ শতাংশ কমে ৬৯ পয়সায় এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের দর ৭ পয়সা বা প্রায় ১০ শতাংশ কমে ৬৬ পয়সায় নেমেছে।

এই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে আজ খুব সামান্য পরিমাণ হাতবদল হয়েছে। বড় দরপতনের পরও বন্ধ তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার কেনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ নেই।

অন্যদিকে, আর্থিক সূচকে উন্নতির সুযোগ পাওয়া তিনটি কোম্পানির শেয়ারও আজ বৃদ্ধি পেয়েছে। জিএসপি ফাইন্যান্সের শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৯০ পয়সা, প্রাইম ফাইন্যান্সে ১০ পয়সা বা প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ টাকা ৪০ পয়সা, এবং বিআইএফসির শেয়ারদর ১০ পয়সা বা প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ১ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে। সার্কিট ব্রোকারের নিয়ম অনুযায়ী একদিনে শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি বা পতন হতে পারে।

গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল যে আগের তালিকায় থাকা ৯টি এনবিএফআই-এর সবগুলোই অবসায়নের পথে যাবে না। তবে কোন প্রতিষ্ঠান অবসায়নের মধ্যে যাবে এবং কোনটি যাবে না, সেই তথ্য সম্পূর্ণ অজানা ছিল। এতে তালিকাভুক্ত ৮টি এনবিএফআই-তে অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি মনিটর করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চূড়ান্ত তালিকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও কোম্পানি পরিচালনার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আরইবিতে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিশেষ সুবিধা নিয়ে প্রশ্ন

পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠান ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ লিমিটেডকে নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও কোম্পানিটি বহাল তবিয়তে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ ও পল্লী বিদ্যুৎ প্রকল্পে মালামাল বিলম্ব এবং দরপত্র শর্ত লঙ্ঘনের কারণে এই কোম্পানির কর্মকাণ্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল উদ্বিগ্ন।

এক দরপত্র (প্যাকেজ নং পিবিএসএফ/২৪-২৫/জি-৫৫) অনুযায়ী ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৩০ হাজার কাটআউট এবং ৩০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওরিয়েন্ট কেবল ১৬ হাজার কাটআউট এবং ২১ হাজার ব্যারেল সরবরাহ করেছে। এ কারণে পরিদর্শন টিম কিছু লট বাতিল ঘোষণা করেছে। জানা গেছে, বাতিল হওয়া ব্যারেলগুলো এখনও আরইবিতে নেওয়ার তৎপরতা চলছে, যা মাঠ পর্যায়ের কাজকে জটিল করে তুলতে পারে।

সংবাদ সূত্রে জানানো হয়, ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিক দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের দায় তাদের লোকাল পার্টনারদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে এসেছে। আগের একাধিক দফায় স্থানীয় কোম্পানি এমএম করপোরেশনকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে সরবরাহের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হলেও মূল কোম্পানিটি ধরা পড়েনি। এমন আচরণ আরইবিতে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৩ সালে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের লোকাল পার্টনার মাহবুব ট্রেডারের মাধ্যমে লাইটিং এরেস্টার সরবরাহের ক্ষেত্রে ৪ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ওই সময়ও মূল কোম্পানি ওরিয়েন্টের কারণে বিলম্বিত সরবরাহের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়েছিল। আরইবির পরিচালক বলেন, বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

সংবাদ ও তথ্য অনুসারে, আরইবিতে উপরের স্তরের চাপের কারণে ওরিয়েন্ট ইলেকট্রিকের বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় এবং বিদেশি কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য ও অনিয়মের বিষয়গুলোও বর্তমানে আলোচনার বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফার্নেস অয়েলের দামের গণশুনানি হবে প্রথমবার

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) প্রথমবারের মতো ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের গণশুনানি নিতে যাচ্ছে। আজ (২৯ জানুয়ারি) আইইবি ভবনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হবে এই শুনানি, যেখানে প্রযোজ্য পক্ষগুলো তাদের মতামত এবং প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।

আগের সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নিজস্বভাবে ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করত, বিইআরসিকে পাশ কাটিয়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ২০২৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল এবং জেট এ-১ এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসির উপর ন্যস্ত করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি বিপিসি জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণের প্রস্তাব জমা দেয়। বিইআরসি শুধু জেট ফুয়েলের গণশুনানি করে মে মাসে সেই দাম ঘোষণা করেছে এবং প্রতিমাসে সমন্বয় করা হচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রে এখনো নির্ধারণ হয়নি।

বিপিসি ২০১২ সালের পর বিইআরসির লাইসেন্স নবায়ন না করায় ফার্নেস অয়েলের দাম ঝুলে ছিল। এখন বিইআরসি গণশুনানি করে লাইসেন্স নবায়ন ও দাম নির্ধারণে এগোচ্ছে। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেশের ডিজেলের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম। প্রধান ক্রেতা হলো বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশব্যাপী ৯ লাখ ৫৫ হাজার ৯১২ মে. টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৩৪.৮৭ শতাংশ স্থানীয় পরিশোধন থেকে এবং ৬৫.১৪ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে।

২০০৩ সালে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইনের মাধ্যমে বিইআরসি গঠন করা হয়। আইন অনুযায়ী সব ধরণের জ্বালানির দাম নির্ধারণের ক্ষমতা থাকলেও কার্যত গ্যাস ও বিদ্যুতের দর নির্ধারণে সীমাবদ্ধ ছিল। ২০২৩ সালে আগের সরকার আইন সংশোধন করে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে দাম সমন্বয়ের সুযোগ যোগ করলে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত কার্যহীন হয়ে পড়ে। অন্তবর্তীকালীন সরকার সেই সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দর নির্ধারণের একক ক্ষমতা ফিরিয়ে দিয়েছে।

এখনও ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা” প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয় করা হয়। তবে ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির জন্য এখনও প্রবিধানমালা ঝুলে রয়েছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম. শামসুল আলম বলেন, “বিপিসি একই সঙ্গে বিক্রেতা ও দাম নির্ধারক, এতে জবাবদিহিতা নেই। গণশুনানিতে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে কোম্পানির অনিয়ম ও দুর্নীতি উঠে আসে, যা ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে সহায়ক।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “প্রবিধানমালা না থাকায় অন্যান্য জ্বালানির দাম এখনো সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না, যা নীতিগত সমস্যার সৃষ্টি করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসীদের রেমিটেন্সে রেকর্ড বৃদ্ধি, বিকাশে পাঠানো টাকার আস্থা বেড়েছে

২০২৫ সালে প্রবাসীরা দেশে থাকা তাদের প্রিয়জনদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। ৪১ লাখ বিকাশ ব্যবহারকারী এই অর্থ গ্রহণ করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বৈধ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে, সঙ্গে সঙ্গে রেমিটেন্স পাঠানোর সুবিধা প্রদান করায় বিকাশ প্ল্যাটফর্মটি প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের মধ্যে বিশ্বাসের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গড়ে উঠেছে।

একই বছরে প্রবাসীরা দেশে প্রায় ৩৩ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি। এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রেমিটেন্সের পরিমাণও আগের বছরের তুলনায় ৯০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিকাশের মতো এমএফএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রেরিত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে দেশে পৌঁছে যাওয়ায়, এটি আরও বেশি প্রিয় হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে প্রায় ১৭০টি দেশ থেকে প্রবাসীরা ১৩৫টি আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটর (এমটিও) ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রেমিটেন্স পাঠাতে পারছেন। দেশে এসে এই অর্থ ২৭টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে সেটেলমেন্ট হয় এবং প্রতি হাজারে ২৫ টাকার সরকারি প্রণোদনা সমেত তা প্রাপকের বিকাশ অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে।

রেমিটেন্সের হিসাব রাখা আরও সহজ করতে বিকাশ অ্যাপে যুক্ত হয়েছে ‘রেমিটেন্স স্টেটমেন্ট’ সেবা। এর মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা তাদের অ্যাকাউন্টে আসা রেমিটেন্সের বিবরণ দেখতে পারেন এবং প্রয়োজনে স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে পারেন, যা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক।

বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ শুধুমাত্র মোবাইল বা অনলাইন ব্যাংকিং নয়, এটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ২৫০০-এরও বেশি এটিএম বুথ ও স্থানীয় এজেন্ট পয়েন্ট থেকেও সহজে ক্যাশ আউট করা যায়। এটিএম বুথ থেকে প্রায় হাজারে মাত্র ৭ টাকায় গ্রাহকরা এই সুবিধা গ্রহণ করছেন।

এছাড়া, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীর স্বজনরা চারটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস খোলার সুযোগ পাচ্ছেন। প্রাপ্ত রেমিটেন্স দিয়ে তারা ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, শিক্ষা ফি প্রদান এবং দৈনন্দিন কেনাকাটার অর্থনৈতিক লেনদেনও করতে পারছেন, যা প্রবাসী অর্থ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর এবং সহজতর করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নলকূপের গর্তে পড়ে নিভে গেল মিসবাহর প্রাণ

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় নলকূপের গর্তে পড়ে যাওয়া পাঁচ বছর বয়সী শিশু মিসবাহকে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর উদ্ধার করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, উদ্ধার শেষে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই শিশুটির অবস্থা গুরুতর ছিল।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিকেল আনুমানিক সময় শিশু মিসবাহ খেলতে খেলতে হঠাৎ একটি পরিত্যক্ত নলকূপের গর্তে পড়ে যায়। গর্তটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ ফুট। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করে। খবর পেয়ে রাউজান ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

রাউজান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ সামশুল আলম জানান, গর্তটি অত্যন্ত সংকীর্ণ হওয়ায় সরাসরি ভেতরে প্রবেশ করে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। পরে বিশেষ যন্ত্রপাতির সাহায্যে পাশ থেকে মাটি কেটে ধীরে ধীরে গর্তে পৌঁছানো হয়। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

ঘটনার শুরু থেকেই এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করে গর্তের ভেতরে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ কেউ গর্তের ভেতরে গাছের ডাল বা কাঠ ঢুকিয়ে শিশুটিকে ধরে রাখার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

তবে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পরিকল্পিতভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দীর্ঘ অপেক্ষা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা নলকূপের খোলা গর্তসহ এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত চিহ্নিত করে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক ভূমিকার আহ্বানও জানান তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেরপুরে নির্বাচনী সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত, আহত শতাধিক

শেরপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় রেজাউল করিমকে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল এবং পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান।

শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম বলেন, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় ওই জামায়াত নেতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়েছিল। আমরা তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, দুইজন সাংবাদিকসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও রয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের উপস্থিতিতে ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের সমর্থকেরা মঞ্চের সামনে বসেন। কিছু সময় পর বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলের সমর্থকেরা সেখানে পৌঁছালে বসার স্থান নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রথম দফার সংঘর্ষের পর সন্ধ্যার দিকে জামায়াত প্রার্থী ও তার সমর্থকেরা স্টেডিয়াম এলাকা ছেড়ে বাজারের দিকে যেতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতদের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পর রাতে জেলা জামায়াতে ইসলামী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই সংঘর্ষের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। পরে সংগঠনটির উদ্যোগে মাইসাহেবা মসজিদ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল বলেন, চেয়ার নিয়ে বসাকে কেন্দ্র করেই মূলত সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মিজানুর রহমান ভূঞা বলেন, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে চার যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি এলাকায় ওই নারী নিজ বাড়ির উঠানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে জোরপূর্বক পাশের একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যায়। সেখানে সংঘবদ্ধভাবে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরিবার জানায়, ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় ঘটনার সময় নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর স্বামী বুধবার বিকেলে রাজাপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সন্দেহভাজন চার যুবককে চিহ্নিত করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মঠবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাউথপুর এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেল সিকদার (২৩), মো. রাহাত হোসেন খান (১৯), মো. জহির রায়হান ব্যাপারী (২০) এবং মো. সাগর হোসেন হাওলাদার (২০)। বুধবার রাতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তার জবানবন্দি গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে। তিনি বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের পর ঘটনার প্রকৃত সত্যতা আরও স্পষ্ট হবে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত চার যুবককে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একজন অন্তঃসত্ত্বা ও প্রতিবন্ধী নারীর ওপর এমন নৃশংসতা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বার্তা বহন করে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম