নারী বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা

আসন্ন নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আট দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্ট ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। এবারের দলে এসেছে বেশ কিছু চমক, যেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তিন নতুন মুখকে।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলা দিলারা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং ইসমা তানজিম এবার জায়গা পাননি। তাদের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার রুবাইয়া হায়দার, তরুণ স্পিনার নিশিতা আক্তার এবং অলরাউন্ডার সুমাইয়া আক্তার।

রুবাইয়া হায়দার জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে খেললেও ওয়ানডে ফরম্যাটে এটি হবে তার প্রথম অভিজ্ঞতা। নিয়মিত উইকেটকিপার এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানার ব্যাকআপ হিসেবে তিনি দলে জায়গা পেয়েছেন।

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই আবার জাতীয় দলে ফিরলেন অফ স্পিনার নিশিতা আক্তার। ২০২৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হলেও পরে তিনি বাদ পড়েন। তবে এবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তার প্রত্যাবর্তন নতুন সম্ভাবনা জাগিয়েছে।

ব্যাটিং ও ফিল্ডিং দক্ষতার কারণে নির্বাচকদের নজর কাড়েন সুমাইয়া আক্তার। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক করা এই টপ অর্ডার ব্যাটার এবার ফিরেছেন মূলত অলরাউন্ড ভূমিকায়।

বাংলাদেশ তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে ২ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে কলম্বোতে। টুর্নামেন্ট চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। দলকে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা।

নারী বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল
নিগার সুলতানা (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার, ফারজানা হক, রুবাইয়া হায়দার, শারমিন আক্তার, সোবহানা মোস্তারি, রিতু মনি, স্বর্ণা আক্তার, ফাহিমা খাতুন, রাবেয়া খান, মারুফা আক্তার, ফারিহা ইসলাম, সানজিদা আক্তার, নিশিতা আক্তার ও সুমাইয়া আক্তার।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এবারের বিশ্বকাপে ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগে অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে লড়াই করবে বলে প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চাপ এলে পদত্যাগ করব: সিইসি নাসির উদ্দিন

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে তাকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি। তবে যদি চাপ সৃষ্টি করা হয়, তিনি দায়িত্বে থাকবেন না, সরাসরি পদত্যাগ করবেন।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যারা ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা সহিংসতার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের সেই আশা পূরণ হবে না। কোনো প্রার্থী বা তাদের কর্মী যদি অস্ত্রবাজি বা ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করেন, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের পুরো ভোটই বাতিল করা হবে।

সিইসি নাসির উদ্দিন আরও বলেন, নির্বাচন হবে কি হবে না—এই বিতর্কে কমিশন যেতে চায় না। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ীই প্রস্তুতি চলছে। রমজানের আগে, অর্থাৎ আগামী ফেব্রুয়ারি মাসেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আনুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানে এই ধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই কমিশন সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখন বিষয়টি বিবেচনা করা যাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিপিএলে আবারো ব্যর্থ সাকিব, গায়ানার কাছে ভরাডুবি অ্যান্টিগার

ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) আবারও ব্যাটে-বলে ব্যর্থ হলেন সাকিব আল হাসান। ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইমরান তাহিরের ঘূর্ণি জাদুতে বড় ব্যবধানে হেরে গেছে তার দল অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স। ৮৩ রানের জয় পেয়েছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে গায়ানা গড়ে ২১১ রানের বিশাল সংগ্রহ। ইনিংসের শুরুতে দ্রুত দুই উইকেট হারালেও শাই হোপ ও শিমরন হেটমায়ারের বিধ্বংসী জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা। ৪৪ বলে ১০৬ রানের জুটি গড়ে দুজনেই খেলেন ঝলমলে ইনিংস—হোপ করেন ৫৪ বলে ৮২ এবং হেটমায়ার ২৬ বলে ৬৫ রান। শেষ দিকে রোমারিও শেফার্ডের ৮ বলে ২৫ রানের ক্যামিওতে বড় স্কোরে পৌঁছে যায় গায়ানা।

অ্যান্টিগার হয়ে সাকিব আল হাসান ২ ওভার বল করে ১৬ রান খরচ করলেও কোনো সাফল্য পাননি। তার সতীর্থ শামার স্প্রিংগার ৪ ওভারে দেন ৬১ রান—যা দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ড।

বড় লক্ষ্য তাড়ায় অ্যান্টিগার ব্যাটাররা শুরুটা ঝড়ো করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। করিমা গোর ১৪ বলে ৩১ রান করে দলকে কিছুটা আশা জাগালেও এরপর ব্যাটিং ধসে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। সাকিব ব্যাট হাতে ৭ বলে ৮ রান করেন। দলের সর্বোচ্চ রান আসে বেভন জ্যাকবসের (২৬) ব্যাট থেকে।

তাহিরের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৫.২ ওভারে অলআউট হয়ে যায় অ্যান্টিগা। প্রোটিয়া লেগস্পিনার ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে নেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া রোমারিও শেফার্ড ও ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস পান দুটি করে উইকেট।




মালয়েশিয়া সফরে নাহিদ ইসলাম, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে কর্মসূচি

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম মালয়েশিয়া সফরে পৌঁছেছেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

বিমানবন্দরে নাহিদ ইসলামকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানায় এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স, মালয়েশিয়া। এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সফরে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম পুত্রাজায়া বড় মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে রয়েছেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ।

আগামী ২২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত চলবে নাহিদ ইসলামের এ সফর। এর মধ্যে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা ও অধিকার আদায়ের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স প্রবাসী সহযোদ্ধাদের এসব কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।




জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া: সমর্থন ২৩, নীরবতা ৭ দলের

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে প্রণীত জুলাই সনদের খসড়া নিয়ে মতামত দিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ ২৩টি রাজনৈতিক দল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মতামত দেয়নি সাতটি দল। শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে কমিশন।

১৬ আগস্ট রাতে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে সনদের খসড়া পাঠায় এবং ২০ আগস্টের মধ্যে মতামত দিতে অনুরোধ জানায়। পরে রাজনৈতিক দলের অনুরোধে সময় বাড়িয়ে ২২ আগস্ট বিকেল ৩টা পর্যন্ত করা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে কমিশনের কাছে ২৩টি দলের মতামত পৌঁছায়।

যেসব দল মতামত দিয়েছে: বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি, খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ পার্টি, এনডিএম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, ১২ দলীয় জোট, আমজনতার দল, গণফোরাম, বাসদ, জাতীয় গণফ্রন্ট, বাসদ (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাসদ, লেবার পার্টি, জাকের পার্টি, ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

যেসব দল মতামত দেয়নি: নাগরিক ঐক্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, সিপিবি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও ইসলামী ঐক্যজোট।

খসড়া অনুযায়ী, জুলাই সনদের বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এ বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। এছাড়া যেসব প্রস্তাব অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেসব বিষয়ে এখনও মতভেদ রয়েছে, সেগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়ার ওপর মতামত প্রদানের সময় আর বাড়ানো হবে না।




এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দল ঘোষণা, চমক নুরুল হাসান সোহান ও সাইফ হাসান

আগামী সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসছে এশিয়া কাপের আসর। শুক্রবার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘোষণা করেছে ১৬ সদস্যের দল। দলে বড় চমক হিসেবে ফিরেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান ও টপ-অর্ডার ব্যাটার সাইফ হাসান। তবে বাদ পড়েছেন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান মিরাজ।

তিন বছর পর টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পেলেন সোহান। অন্যদিকে প্রায় দুই বছর পর জাতীয় দলে ডাক পেলেন সাইফ হাসান। এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডস সফরে মিরাজ পিতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকবেন; তাকে রাখা হয়েছে স্ট্যান্ডবাই তালিকায়। ওপেনার নাঈম শেখ ও সাবেক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকেও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

ওপেনার হিসেবে থাকছেন তানজিদ হাসান তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন, সঙ্গে বিকল্প হিসেবে অধিনায়ক লিটন দাস। মিডল অর্ডারে আছেন তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলি অনিক ও শামীম হোসেন পাটোয়ারি। ফিনিশার হিসেবে বাড়তি ভরসা হতে পারেন সোহান ও সাইফ।

স্পিন বিভাগে আছেন শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন ও নাসুম আহমেদ। আর পেস আক্রমণ সামলাবেন মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিব। পেস অলরাউন্ডার হিসেবে দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

এশিয়া কাপে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও হংকং। ১১ সেপ্টেম্বর হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে লিটন-মুস্তাফিজদের লড়াই।


🏏 এশিয়া কাপে বাংলাদেশের স্কোয়াড

মূল দল (১৬ জন):
লিটন দাস (অধিনায়ক), তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, জাকের আলী অনিক, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, নুরুল হাসান সোহান, শেখ মেহেদী, রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, তানজিম হাসান সাকিব, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

স্ট্যান্ডবাই: সৌম্য সরকার, মেহেদি হাসান মিরাজ, তানভীর ইসলাম, হাসান মাহমুদ।




বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা। তারা মনে করছেন, সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ চালু হলে শুধু মানুষের যাতায়াতই নয়, বরং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও সহজ হবে। এ বিষয়ে দুই দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যদি যৌথভাবে একটি সঠিক ব্যবসায়িক রোডম্যাপ তৈরি করতে পারে, তাহলে নিঃসন্দেহে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি আসবে। আমাদের জনগণ একে অপরের সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত এবং দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এখন প্রয়োজন কেবল নতুন সম্ভাবনা বাস্তবায়ন।”

জাম কামাল খান আরও জানান, পাকিস্তানি ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে অত্যন্ত আগ্রহী। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে একাধিক বাণিজ্য প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে এবং আগামী ২৪ আগস্ট ঢাকায় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতার রোডম্যাপ তৈরি করবে।

সভায় বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “বৈচিত্র্য আনতে এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ সর্বদা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে আগ্রহী। পাকিস্তানের সঙ্গে একাধিক সম্ভাব্য ব্যবসায়িক খাত নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা চাই উদ্যোক্তারা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করুন।”

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা জানান, বর্তমানে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করছে, কিন্তু রপ্তানি মাত্র ৫৮ মিলিয়ন ডলারের মতো। সাফটা (SAFTA) ও ডি-৮ পিটিএ (D-8 PTA) কার্যকর করার পাশাপাশি নন-ট্যারিফ বাধা হ্রাস করা গেলে বাণিজ্য ঘাটতি কমবে। একই সঙ্গে বিটুবি (B2B) সংযোগ উৎসাহিত করলে বিনিয়োগ বাড়বে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার মো. জিয়াউদ্দিন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজনীন কাওসার চৌধুরী, বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী, চেম্বারের সাবেক পরিচালক আমজাদ হোসেন চৌধুরী, পাকিস্তান হাইকমিশনের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচে জাইন আজিজ, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এমএ সালাম, এরশাদ উল্লাহ এবং পান রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মো. একরামুল করিম চৌধুরী।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চালু হলে শুধু পণ্য বাণিজ্যই বাড়বে না, পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তারা আশা করছেন, নতুন উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষের ঘোষণা জাতিসংঘের

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষণকারী সংস্থা আইপিসি নিশ্চিত করেছে যে, গাজা সিটি ও এর আশপাশের এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজার মানুষ বর্তমানে খাদ্যের জন্য চরম হাহাকার ও অমানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

শুক্রবার প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গাজা গভর্নরেটের মানুষ এখন কার্যত অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্য সংকট পরিমাপের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গাজা সিটি ও আশপাশের অঞ্চলকে “পঞ্চম ধাপে” উন্নীত করা হয়েছে। এই ধাপটি হলো সর্বোচ্চ সতর্কতা, যার অর্থ হলো মানুষ খাবার পাচ্ছে না, অনাহারে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং সর্বনাশা দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।

আইপিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাজার দেইর এল-বালাহ এবং খান ইউনুসেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই দুই শহরেও দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে গাজা উপত্যকার অন্তত পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি দুর্ভিক্ষে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি সাত হাজার মানুষ বর্তমানে চরম খাদ্য সংকটে রয়েছেন। তারা আইপিসির “চতুর্থ ধাপের” আওতায় আছেন, যেখানে মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। এ ছাড়া আরও প্রায় চার লাখ মানুষ “তৃতীয় ধাপে” রয়েছে, যাদের পরিস্থিতিও ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের দফায় দফায় বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও অবরোধের ফলে এ দুর্ভিক্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অবরোধের কারণে খাদ্য, ওষুধ এবং মানবিক সহায়তা কার্যত গাজায় প্রবেশ করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বিষয়টিকে “মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

একই সময়ে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা সিটির ওপর আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়েছে, গাজা সিটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হবে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

এটি প্রথমবারের মতো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় দুর্ভিক্ষ শুরু হওয়ার ঘোষণা দিল। ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে, আর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য চাপ বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জরুরি বিবৃতি

মিডিয়ার ব্যাপারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিবৃতিটি  হুবহু তুলে ধরা হলো:

বাংলাদেশের টেলিভিশন, সংবাদ এবং অনলাইন আউটলেটগুলিতে ফৌজদারী অপরাধে দণ্ডিত অপরাধী এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আসামী আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার অডিও সম্প্রচার এবং প্রচার ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। তাছাড়া, গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাক্তন স্বৈরশাসকের ঘৃণা ছড়ায় এমন বক্তব্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।

আমরা দুঃখের সাথে লক্ষ্য করেছি যে কিছু গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার আইন ও আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসকের একটি ভাষণ প্রচার করেছে যেখানে তিনি মিথ্যা ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা এধরনের অপরাধমূলক প্রচারকর্মে জড়িত গনমাধ্যমের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিচ্ছি এবং দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছি যে, শেখ হাসিনার বক্তব্য কেউ ভবিষ্যতে প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমাদের জাতির ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে আমরা অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি তৈরির ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে শেখ হাসিনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শত শত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীর গণহত্যার নির্দেশ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের পরে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং বর্তমানে তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছে। তদুপরি, বাংলাদেশের আইন অনুসারে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং একই সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ অনুসারে, যে কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন যারা তাদের নেতাদের কার্যকলাপ বা বক্তৃতা প্রচার, প্রকাশ বা সম্প্রচার করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং গণতান্ত্রিক অখণ্ডতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের দিকে পরিচালিত করার জন্য কাজ করছে। বাংলাদেশের জনগণ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রথমবারের মতো সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আমরা, এমন একটি সময়ে, সংবাদ মাধ্যমগুলিকে শেখ হাসিনার অডিও এবং তার বক্তৃতাগুলি, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি, প্রচার করার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাই। তার মন্তব্য, বক্তৃতা এবং তার যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার, পুনঃপ্রচার বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করে। এটি কেবল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য কাজ করে। এ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অমান্যকারী যেকোনো সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আইনের অধীনে আইনি জবাবদিহিতার আওতায় পড়বে।




আর্থিক খাতে বড় ঝাঁকুনি: ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধুঁকতে থাকা ৯টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির মতো তিনটি প্রধান সূচককে ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘অব্যবহারযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হবে। এই অবসায়ন প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র আমানতকারীরা যেন তাদের অর্থ ফেরত পান এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যেন চাকরিবিধি অনুযায়ী সব সুবিধা পান, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানা গেছে।

যে ৯টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে:

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস
ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস
আভিভা ফাইন্যান্স
এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট
বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)
প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স
জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি
প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের প্রায় পুরোটাই খেলাপি। এফএএস ফাইন্যান্সের মোট ঋণের ৯৯.৯৩ শতাংশই খেলাপি, যার ফলে পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। একইভাবে, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ শতাংশ ঋণ খেলাপি এবং লোকসান ১ হাজার ১৭ কোটি টাকা। ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৯৬ শতাংশ।

২০২৩ সালের ‘ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন’-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী, আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম, দায় পরিশোধে সম্পদের অপর্যাপ্ততা এবং মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থতার কারণে লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ রয়েছে। গত ২২ মে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক এখন অবসায়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের ৩৫টি ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০টিই বর্তমানে সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৩.১৬ শতাংশ। এর বিপরীতে তাদের বন্ধকি সম্পদের মূল্য মাত্র ৬ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকা বাকি ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার মাত্র ৭.৩১ শতাংশ।