বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে দুই দেশ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। রোববার (২৪ আগস্ট) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “৫৪ বছরের অমীমাংসিত সমস্যা এক দিনে মিটে যাবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। তবে উভয়পক্ষ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং একমত হয়েছে যে আলোচনার মাধ্যমেই এসব ইস্যুর সমাধান করতে হবে।”

তৌহিদ হোসেন জানান, আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনটি বিষয় জোর দিয়ে তোলা হয়েছে—একাত্তরের গণহত্যার দায় স্বীকার ও দুঃখ প্রকাশ, যুদ্ধ-পরবর্তী আর্থিক হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তি এবং বাংলাদেশে আটকে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া।

পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এ সময় দাবি করেন, একাত্তরের ইস্যু ইতিমধ্যেই ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ও ২০০২ সালে পারভেজ মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে এ দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এদিকে বৈঠক শেষে দুই দেশ একটি চুক্তি ও পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই করে। সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ চুক্তি ছাড়াও সংস্কৃতি বিনিময়, বাণিজ্য, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা হয়।

তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই, তবে অতীতের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধান না হলে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।”




ভিসা বিলোপ চুক্তি ও পাঁচ সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অগ্রগতি হয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।

রবিবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নেতৃত্বে বৈঠক হয়। শুরুতে একান্ত বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনা শেষে এসব চুক্তি ও এমওইউ সই হয়।

সই হওয়া একমাত্র চুক্তিটি হলো সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ। এছাড়া পাঁচটি সমঝোতা স্মারকের মধ্যে রয়েছে—

  • দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
  • সংস্কৃতি বিনিময় কর্মসূচি
  • ফরেন সার্ভিস একাডেমিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা
  • বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও পাকিস্তানের এপিপিসি’র মধ্যে সহযোগিতা
  • বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের আইএসএসআই’র মধ্যে যৌথ কাজ

এর আগে শনিবার ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। এক যুগ পর এটি পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর। সফরের প্রথম দিন তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

এদিকে আজ বিকেলে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।




আসন পুনর্বিন্যাস শুনানিতে রুমিন ফারহানার ক্ষোভ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অব্যবস্থাপনা ও হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চাইলে গুণ্ডা নিয়ে আসতে পারতেন, কিন্তু ভদ্র মানুষ নিয়ে এসেছিলেন।

রোববার (২৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত শুনানি শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি কোনো গুন্ডা-বদমাশের মেলা করি নাই। করতে চাইলে করতে পারতাম। গুন্ডা আনতে চাইলে আনতে অসুবিধা নেই। কিন্তু আমি ভদ্রলোক নিয়ে এসেছি। যা গত ১৫ বছরে কখনো ঘটেনি, আজকে হলো। প্রায় আমার গায়ে ধাক্কা দিয়ে আমাকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যাদের জন্য এত বছর লড়াই করলাম, তারাই আজ আমাকে ধাক্কা দেয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “একজন পাঞ্জাবি পড়া ব্যক্তি আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। আমি একজন মহিলা—এটা তো বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। পরে যখন আমার লোকজনকে মারধর করা হয়, তখন তারা আত্মরক্ষার্থে জবাব দিয়েছে। এটুকুই স্বাভাবিক।”

শুনানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সামনে কিছু ছবি তুলে ধরছি। এগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এলাকাবাসীকে কিভাবে পিটিয়ে জোর করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। আসন পুনর্বিন্যাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি, অথচ সীমানা নির্ধারণ নিয়ে এমন সহিংসতা চলছে।”

বিএনপির এই নেত্রী দাবি করেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে স্থানীয় মানুষকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “এটা যদি এখনই হয়, তাহলে নির্বাচন সামনে আসলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে দেখা।”

এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া যেন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ হয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে, চলছে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়েছে। রোববার (২৪ আগস্ট) সকাল পৌনে ১০টার দিকে রাজধানীর একটি হোটেলে বৈঠকটি শুরু হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার পাশাপাশি নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

সূত্র বলছে, বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি খাত, সংস্কৃতি বিনিময় এবং দুই দেশের নাগরিকদের যাতায়াত সহজীকরণসহ নানাবিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনার পরপরই পাঁচ থেকে ছয়টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের কথা রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ও কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বিলোপ, বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন, সংস্কৃতি বিনিময়, ফরেন সার্ভিস একাডেমিগুলোর মধ্যে সহযোগিতা এবং দুই রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার মধ্যে সমঝোতা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আইপিআরআই)-এর মধ্যে সহযোগিতার চুক্তিও হতে পারে।

বৈঠক শেষে রোববার বিকেলে ইসহাক দার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

উল্লেখ্য, এক যুগ পর পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর এটি। দুই দিনের সফরে শনিবার ঢাকায় আসেন ইসহাক দার। সফরের প্রথম দিনেই তিনি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল তাঁর ঢাকা সফরের কথা থাকলেও সীমান্ত উত্তেজনার কারণে ইসলামাবাদ তা স্থগিত করে।




দুই মাসের সাংগঠনিক বিরতির পর এনসিপিতে সারোয়ার তুষার পুনর্বহাল

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বিরুদ্ধে আনা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

গত ১৭ জুন এক নারী নেত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁসের পর নৈতিক স্থলনজনিত অভিযোগে সারোয়ার তুষারকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ওই নোটিশের জবাব দপ্তরের মাধ্যমে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, রাজনৈতিক পর্ষদ ও শৃঙ্খলা কমিটির কাছে দাখিল করেন। জবাব বিশ্লেষণের পর এনসিপি জানায়, এটি একান্ত ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঘটনা হলেও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের প্রেক্ষিতে সারোয়ার তুষারকে দুই মাসের জন্য সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। এ সময় তিনি জুলাই মাসের পদযাত্রা, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে প্রতিনিধিত্ব, গণমাধ্যমে দলের অবস্থান তুলে ধরা এবং নরসিংদীর পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেননি।

দুই মাসের সাংগঠনিক বিরতি শেষে, লিখিত জবাব ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সারোয়ার তুষারকে পুনর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিপি। এর মধ্য দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা কারণ দর্শানোর নোটিশও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো।




জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে আসছে বড় পরিবর্তন : আইন উপদেষ্টা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯ সংশোধনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শনিবার (২৩ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এক অংশীজন কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ তথ্য জানান বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

ড. আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করে বলেন, আইনের যথাযথ সংশোধন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও আস্থাভাজন মানবাধিকার কমিশনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের যৌথ আয়োজনে এ কর্মশালায় সহযোগিতা করে সুইস দূতাবাস ও ইউএনডিপি। কর্মশালায় আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব এস এম শাফায়েত হোসেন কমিশনের ম্যান্ডেট, সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের উপ-আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক তার বক্তব্যে আইনটির বিভিন্ন ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন আইন ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী।

এতে বক্তৃতা দেন সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমসহ সরকারি কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিরা। অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেন।




খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজে গুলশানে যাবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার

বাংলাদেশ সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিতে তার গুলশানের বাসভবনে যাবেন। রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে একইদিন সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসহাক দার। বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপি নেতারা পাকিস্তান হাইকমিশনে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।

দুই দিনের সফরে শনিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।




মিরাজ নেই এশিয়া কাপের স্কোয়াডে, কারণ জানালেন নির্বাচক লিপু

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আসছে এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে মহাদেশীয় এই আসরের। ঘোষিত বাংলাদেশের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের।

ব্যক্তিগত কারণে আগেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন মিরাজ। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকার সেই ছুটি অলিখিতভাবে দীর্ঘায়িত হয়ে এশিয়া কাপেও তার অংশগ্রহণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তাকে স্ট্যান্ডবাই ক্রিকেটার হিসেবে রাখা হয়েছে, ফলে প্রয়োজনে ডাক পেলে দলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে তার সামনে।

বাংলাদেশ দলের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু জানান, মিরাজ টেস্ট ও ওয়ানডে ফরম্যাটে দলের অমূল্য সম্পদ হলেও টি-টোয়েন্টিতে তার জায়গা সীমিত হয়ে আসছে। তিনি বলেন, “এশিয়া কাপে ১৭ জনের স্কোয়াড হলে মিরাজ অবশ্যই থাকত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে বাইরে রাখতে হয়েছে।”

প্রায় দুই বছর পর স্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে এশিয়া কাপে দলে ফিরেছেন সাইফ হাসান। এছাড়া শেখ মেহেদী হাসানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সও মিরাজের জায়গা সংকুচিত করেছে। গত এক বছরে সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলেছেন এবং বাইরে থেকেছেন মিরাজ, যা নির্বাচকদের ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।

তবে লিপু জোর দিয়ে বলেন, দলের সংকট দেখা দিলে মিরাজ অবশ্যই ফিরবেন। তার ভাষায়, “প্রথম একাদশে যদি আমরা সিরিয়াস সংকটে পড়ি, অবশ্যই মিরাজকে নেব এবং সেও আসবে। টেস্ট ও ওয়ানডে সংস্করণে তার ভূমিকা আমাদের জন্য অপরিসীম।”




টানা তিনবার টেকসই ব্যাংকের শীর্ষ তালিকায় যমুনা ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ২০২৪ সালের টেকসই ব্যাংক রেটিংয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেড। দেশের আর্থিক খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় সক্রিয় অংশগ্রহণের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা অর্জন করেছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক আয়োজিত সাসটেইনেবিলিটি রেটিং রিকগনিশন অনুষ্ঠান-এ যমুনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ-এর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন্নাহার, সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্টের পরিচালক চৌধুরী লিয়াকত আলী, যমুনা ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ প্রসান্ত সামিরসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টেকসই ও সবুজ অর্থায়ন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ও বহুমুখী সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি যমুনা ব্যাংককে এই স্বীকৃতি এনে দিয়েছে। ব্যাংকটি মনে করে, টেকসই উন্নয়নই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে।

সম্মাননা গ্রহণের পর ব্যাংকের এমডি ও সিইও মির্জা ইলিয়াস উদ্দীন আহম্মদ বলেন,
“যমুনা ব্যাংকের টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগগুলো কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক নয়; বরং এগুলো আমাদের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার একটি কৌশলগত অংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎমুখী ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রতিফলন।”

টানা তিনবার শীর্ষ তালিকায় থাকা ব্যাংকের জন্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্থিক খাতে টেকসই ব্যাংকিং প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগকে মাইলফলক হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সম্পর্ক উন্নয়নে ১৯৭১ এর ইস্যু মীমাংসার তাগিদ

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে বলে মত দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি মনে করে, ঐতিহাসিক এই ইস্যুটি নিষ্পত্তি করা ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা গড়ে ওঠা সম্ভব নয়।

শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠক করে এনসিপির সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাংলাদেশের জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রত্যাশার কথা পাকিস্তানের কাছে তুলে ধরে তারা।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে। যদিও নতুন করে সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে, তবে সেক্ষেত্রে ১৯৭১ সালের ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানকে কীভাবে দেখে, সেটিই পাকিস্তানের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রতিনিধিদলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বৈঠকে শিক্ষা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই “বড় ভাই সুলভ” মনোভাব যেন প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়েও জোর দেওয়া হয়।

তিনি আরও জানান, বৈঠকে পানি, নদী ব্যবস্থাপনা, ওষুধশিল্পে সহযোগিতা, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের কাঁচামাল খুবই মানসম্মত, যা বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের ব্যয় কমাতে এবং রপ্তানি বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

এছাড়া সার্ককে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। প্রতিনিধিদল মনে করে, দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা জরুরি।

একাত্তরের ইস্যু প্রসঙ্গে নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “আমরা তাদের স্পষ্ট জানিয়েছি, মুক্তিযুদ্ধকালীন অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করা উচিত। পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, তারা এ বিষয়ে প্রস্তুত।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম