আনসার বাহিনীর নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু সারাদেশে

আগামী জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের লক্ষ্যে সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি) নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে। চলমান ২৮ দিনব্যাপী ভিডিপি অ্যাডভান্সড কোর্সের সঙ্গে সমন্বয় করে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বাহিনীর সদস্যদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে— ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ভোটারদের সুষ্ঠুভাবে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা, ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সের নিরাপত্তা রক্ষা এবং কেন্দ্রের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিয়মাবলি।

এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিভিন্ন মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে আনসার বাহিনীর সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মায়ের দুধের বিকল্প নেই। কিন্তু উদ্বেগজনকভাবে দেশে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার কমছে। বর্তমানে মাত্র ৫৫ শতাংশ শিশু মায়ের দুধ পাচ্ছে, যা আগে আরও বেশি ছিল। এ পরিস্থিতি বদলাতে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

তিনি বলেন, “শিশু জন্মের পরপরই অনেকসময় পর্যাপ্ত দুধ তৈরি হয় না। এ সময়ে চিকিৎসকেরা ফরমুলা দুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু ফরমুলার পরিবর্তে মায়ের দুধ খাওয়ানোর প্রতি সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। কারণ কোলস্ট্রাম বা শাল দুধ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

আজ রাজধানীর বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন এনজিও ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতায় এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

নূরজাহান বেগম বলেন, গর্ভাবস্থার ছয় মাস পর থেকে মায়ের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। মা যথেষ্ট খাবার পেলে শিশুর জন্য পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন সম্ভব হয়। কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মায়েরা সচেতনতার অভাব ও দারিদ্র্যের কারণে সন্তানকে পর্যাপ্ত দুধ খাওয়াতে পারছেন না। তাই দারিদ্র্য হ্রাস ও নারীর পুষ্টি নিশ্চিতকরণে সরকারসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “গৃহকর্মী মায়েদের ক্ষেত্রেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের অনেক পরিবার সন্তান জন্মের পর গৃহকর্মীদের তাদের শিশুকে কোলে নেওয়ার সুযোগ দেন না। বিষয়টি মানবিক দিক থেকে ভেবে দেখা উচিত।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. সায়েদুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব ডা. সারোয়ার বারী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউনুছ আলীসহ মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




যেসব কারণে ইলিশের সংকট, জানালেন মৎস্য উপদেষ্টা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার জানিয়েছেন, অবৈধ জাল ব্যবহার, জাটকা নিধন বন্ধ না হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশে ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনে উপকূলীয় এলাকায় মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হওয়া ও এর সমাধান বিষয়ক কর্মশালায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “কারেন্ট জাল ও অন্যান্য অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। এগুলো বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। আশা করি সামনে উৎপাদন বাড়বে এবং দামও নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, নদীর নাব্যতা হ্রাস, তথাকথিত উন্নয়ন কার্যক্রম এবং জলবায়ু পরিবর্তনও ইলিশ উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এজন্য টেকসই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

এছাড়া বাজারে ইলিশের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে উৎপাদন থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর পথে একাধিক হাত বদল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চারণভূমি সংকট প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, “পরিকল্পনাহীনভাবে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় মহিষের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে সঠিক নীতি নির্ধারণ করা গেলে এসব চারণভূমি রক্ষা সম্ভব।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, চারণভূমি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া গেলে মহিষের মাংস উৎপাদন বাড়বে এবং দেশে মাংসের সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কর্মশালায় গবেষক, পশুচিকিৎসক, জেলা-উপজেলা পর্যায়ের খামারি ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভালো মানুষের অভাবেই বাড়ছে দুর্নীতি: ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার

ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান বলেছেন, ভালো মানুষের অভাবই বাংলাদেশে দুর্নীতি বাড়ার অন্যতম কারণ। দেশের দুর্নীতি কমাতে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন ভালো মানুষ গড়ে তোলা, এবং সেই কাজের শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষা থেকে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ বানানোর প্রথম স্তর। আশা করি, সুশাসিত বাংলাদেশ গড়ার কাজ এখান থেকেই শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তা আরো জোরালো হবে। তখনই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ সম্ভব।”

বাংলাদেশে উন্নয়ন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কূটনীতিক জেলা শিক্ষা অফিসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এর আগে তিনি টিআইবির বরিশাল কার্যালয় পরিদর্শন করেন।

বেলা এগারোটার দিকে তিনি বরিশাল সদর জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও সংকট সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস, কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান, বরিশাল সনাক সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহ সাজেদা, শুভংকর চক্রবর্তী, এবং টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর আশফাকুর রহমান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘ভুয়া মামলায় তৌহিদ আফ্রিদি গ্রেপ্তার’ — রাশেদ খান

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার আসাদুল হক বাবু হত্যা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার ও আদালতে রিমান্ডে নেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে দেওয়া এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, তৌহিদ আফ্রিদিকে ভুয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা।

রাশেদ খান লিখেছেন, “যাত্রাবাড়ীর হত্যা মামলায় আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ এটি নিছক ভুয়া মামলা। কেউ তেলবাজি করলে বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সে মামলায় গ্রেপ্তার হতো, কিন্তু ভুয়া মামলায় নয়। তরুণদের আইডল হওয়ার মতো মানুষ আফ্রিদি নন, তবে ভুয়া মামলায় তার গ্রেপ্তারও সমর্থনযোগ্য নয়।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের পদে থাকা ডামি এমপি ও মন্ত্রীরা আরও বড় অপরাধে জড়িত থেকেও গ্রেপ্তার হচ্ছেন না। বরং তারা জামিন ও নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, “আমরা আইনের শাসনের কথা বলছি। যার বিরুদ্ধে যতটুকু অভিযোগ, তাকে কেবল ততটুকুই শাস্তি দিতে হবে।”

এ সময় তিনি স্বীকার করেন যে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে তিনি অতীতে সমালোচনা করলেও বর্তমানে তা বন্ধ রেখেছেন। তার দাবি, নির্বাচনের রোডম্যাপ ও বিভিন্ন স্বার্থ জটিলতায় সমালোচকরা এখন সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রোববার (২৪ আগস্ট) রাতে সিআইডির একটি দল বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশান থেকে তার বাবা নাসিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।




স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন: বদলি হলো পুলিশের ১২ ডিআইজি

সাত জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগের পর পুলিশ প্রশাসনে বড় রদবদল করা হয়েছে। এবার দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ১২ জন উপ-মহাপরিদর্শককে (ডিআইজি) বদলি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার (২৫ আগস্ট) মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সই করেন উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া কর্মকর্তারা তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—

  • র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) মো. জিল্লুর রহমান → ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি)।
  • ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদ → র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি)।
  • হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম → ডিএমপিতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি)।
  • সারদা পুলিশ একাডেমির ডিআইজি ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান → রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি।
  • রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া → খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ডিআইজি মো. আবুল খায়ের → ঢাকা টিডিএসের কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার → রংপুর পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি)।
  • খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী → সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার।
  • এসবির ডিআইজি মীর আশরাফ আলী → সারদা পুলিশ একাডেমি, রাজশাহীতে বদলির আদেশ বাতিল।
  • এসবির ডিআইজি শামীমা বেগম → সারদা পুলিশ একাডেমির ডিআইজি।
  • পিবিআইয়ের ডিআইজি মো. সায়েদুর রহমান → কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি)।
  • হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মো. আবুল কালাম আজাদ → পিবিআই ঢাকা মেট্রোতে ডিআইজি।

পুলিশের অভ্যন্তরে চলমান এ ধরনের রদবদলকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন দায়িত্বশীলরা। তবে একসঙ্গে এত সংখ্যক ডিআইজিকে বদলি করা প্রশাসনিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




জাতিসংঘ সম্মেলনের আগে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বড় প্রস্তাব দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সকালে কক্সবাজারের ইনানীতে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক অংশীজন সংলাপ’-এর দ্বিতীয় দিনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “২০১৭ সালের এই দিনে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আজও নতুন করে রোহিঙ্গাদের আগমন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক দায়িত্ব এখনই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ মহাসচিবের সাম্প্রতিক সফরে রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আন্তর্জাতিক মহলকে আরও সচল করেছে। “রোহিঙ্গাদের চোখে এখনও ভীতি এবং বেদনার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য বৈশ্বিক অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দিতে হবে,” বলেন ইউনূস।

কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে এখন প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত জনসংখ্যা বাড়ছে, প্রতিবছর ২২ হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও সমাজব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। টেকসই সমাধান এখন বৈশ্বিক এজেন্ডা হওয়া জরুরি।”

প্রধান উপদেষ্টা যে সাত দফা কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করেন তা হলো—

  1. নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন: রোহিঙ্গাদের দ্রুত নিজ দেশে ফেরাতে একটি বাস্তব রোডম্যাপ তৈরি।
  2. অর্থায়ন অব্যাহত রাখা: দাতা সংস্থা ও অংশীজনদের প্রতিশ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
  3. নিপীড়ন বন্ধ: মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান।
  4. সংলাপের প্ল্যাটফর্ম: জাতিগত নিপীড়ন বন্ধে রাখাইন কর্তৃপক্ষ ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে গঠনমূলক সংলাপ চালু করা।
  5. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা: বিশেষ করে আসিয়ানকে রাখাইনে নিরাপদ পরিবেশ তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
  6. জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া: আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখা।
  7. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা: গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ।

ইউনূস আশা প্রকাশ করেন, এই সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অধিবেশনে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজমসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১০টায় কক্সবাজারে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা ইনানীর হোটেল বে-ওয়াচে সংলাপে যোগ দেন। সম্মেলনটি শেষ হবে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট), পরদিন বিদেশি অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।




ভারত থেকে ৫২৫ টন চাল আমদানি, বাজারে দাম কমার আশা

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে আবারও ভারত থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর হয়ে দুই চালানে মোট ৫২৫ মেট্রিক টন চাল দেশে প্রবেশ করেছে।

মোট ১৫টি ট্রাকে এ চাল আনা হয়, যার মধ্যে একটি চালানে ছিল ৩১৫ টন এবং অন্যটিতে ২১০ টন। চাল আমদানি করেছে মেসার্স হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স। ভারতীয় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে লক্ষ্মী ট্রেডিং কম্পানি ও শর্মা অ্যাগ্রো লিমিটেড।

আমদানিকারক আব্দুস সামাদ জানান, “চালের বাজার অনেকদিন ধরেই অস্থির। সরকারের অনুমতি পাওয়ার পর দ্রুত চাল এনেছি। আশা করি, এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি আসবে।”

বেনাপোল আমদানি ও রপ্তানি কারক সমিতির সভাপতি হাজী মহাসিন মিলন বলেন, “ভোক্তাদের কাছে স্বস্তিতে চাল পৌঁছে দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য। আমদানির প্রক্রিয়া সহজ হলে আরও বেশি চাল আনা সম্ভব হবে। সরবরাহ বাড়লেই বাজারে স্থিতিশীলতা আসবে।”

যশোরের খুচরা ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হাসান জানান, “গত কয়েক সপ্তাহে মোটা চালের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বেড়েছিল। নতুন চাল এলে দাম কিছুটা হলেও কমবে।” পাইকারি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “যত বেশি আমদানি হবে, বাজার তত দ্রুত স্থিতিশীল হবে। নতুন চাল এলে পাইকারি দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।”

বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেন, “দুই চালানের সব ট্রাক বন্দরে পৌঁছে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষে খুব দ্রুতই চাল বাজারে পৌঁছাবে। এতে শুধু বাজারে স্বস্তি আসবে না, সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।”

গত বছর (২০২৪ সালে) বেনাপোল দিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে নীতিগত কারণে কয়েক মাস চাল আমদানি বন্ধ থাকায় বাজারে চাহিদা-সরবরাহে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।

বর্তমানে বাজারে সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫-৭২ টাকা কেজি দরে এবং মোটা চাল ৫২-৫৭ টাকা দরে। পাইকারদের ধারণা, আমদানিকৃত চাল বাজারে এলে দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুদক চেয়ারম্যানের আহ্বান: দুর্নীতিগ্রস্ত এমপি প্রার্থী চাই না

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কালোটাকা ব্যবহারকারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মোমেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে নির্বাচনে ভোটার কেনার প্রবণতা রয়েছে। বিভিন্ন কারণে টাকা-পয়সা খরচের প্রবণতা বেড়ে যায়। এর দুটো দিক রয়েছে—ডিমান্ড সাইড ও সাপ্লাই সাইড। সাপ্লাই সাইড বন্ধ করতে হলে ব্যাংক ও দুদক উভয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চেষ্টা করব যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখতে।”

চেয়ারম্যান আরও বলেন, নির্বাচনের প্রার্থীদের ভুয়া সম্পদ বিবরণী দাখিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য শেয়ার করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত এমপি প্রার্থী চাই না, সবাইকে এই আওয়াজ তুলতে হবে।”

ড. আব্দুল মোমেন উল্লেখ করেন, সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভালো নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং আশা করছেন, নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কারাগারে কোরআন তেলাওয়াত করে দিন কাটাচ্ছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক

 সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক কারাগারে কাটাচ্ছেন দিনগুলো কোরআন তেলাওয়াত, নামাজ, তজবিহ পাঠ ও লেখালেখির মাধ্যমে। তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী জানান, পলক বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো নিয়ে কোনোভাবে বিচলিত নন এবং ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত যাত্রাবাড়ি থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় পলককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭টিতে। এছাড়া দুদক ও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, পলক সবসময় দাবি করেন যে তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগে তিনি জড়িত নন এবং দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, জুলাই আন্দোলনের সময় ১৯ জুলাই কাফরুলে আরমান মেইনারের গেটের সামনে আব্দুল আলিম নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর গত ১ এপ্রিল তিনি মামলাটি দায়ের করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫