চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি, একজনের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামে আলোচিত একটি হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এতে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) চট্টগ্রামের তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নিশাদুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন তানভীর মো. সজিব ও মোহা. হৃদয়। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মো. আহসান।

আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এম এ এম আজাদ জানান, ইপিজেড থানায় ২০২০ সালে দায়ের করা হত্যা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ন্যায়বিচারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার আংশিক হলেও স্বস্তি পেলো। রায় কার্যকর হলে এটি হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে দৃষ্টান্ত হিসেবে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শাহজালাল বিমানবন্দরে ১৩০ কোটি টাকার কোকেইনসহ বিদেশি নারী আটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অভিযানে ধরা পড়েছে বিপুল পরিমাণ কোকেইন। সোমবার (২৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে দোহা থেকে ঢাকাগামী কাতার এয়ারওয়েজের কিউআর-৬৩৮ ফ্লাইটে আগত এক বিদেশি নারী যাত্রীর লাগেজ থেকে উদ্ধার করা হয় ৮.৬৬ কেজি কোকেইন। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে অবতরণের পর গোয়েন্দারা ফ্লাইটের ৩০এ সিটে বসা যাত্রী এম এস কারেন পেতুলা স্টাফলকে শনাক্ত করে। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পর ব্যাগেজসহ গ্রিন চ্যানেলে আনা হলে স্ক্যানিং ও তল্লাশির সময় সন্দেহজনক তিনটি প্লাস্টিকের জার উদ্ধার করা হয়। জারগুলো খুলে দেখা যায়, ভেতরে ডিম্বাকৃতির ২২টি ফয়েল মোড়ানো কোকেইন লুকানো রয়েছে।

প্রাথমিক পরীক্ষায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এয়ারপোর্ট ইউনিট কোকেইনের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকৃত মাদকের ওজন দাঁড়িয়েছে ৮.৬৬ কেজি। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোনিয়া আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক নারী যাত্রীকে মাদকদ্রব্য ও কাস্টমস আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে তাকে জব্দকৃত পণ্যসহ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কয়লা সংকটে পূর্ণ উৎপাদনে অনিশ্চয়তা রাবনাবাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রে

পটুয়াখালীর রাবনাবাদ নদীর তীরে গড়ে ওঠা দেশের বৃহত্তম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রাবনাবাদ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড (আরএনপিএল) জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছে। তবে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এ কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ায় এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হতে পারেনি। বর্তমানে কেন্দ্রটির কেবল একটি ইউনিট আংশিক চালু রয়েছে।

চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। পরে ৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ইউনিটও চালু হয়। কিন্তু কয়লার স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় উৎপাদন কমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াটে।

জানা গেছে, কয়লা আমদানি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে চার দফা আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়। সর্বশেষ সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব ব্যয়বহুল হওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন করে আবারও দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আরএনপিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, বর্তমানে দেড় লাখ মেট্রিক টন কয়লা মজুত রয়েছে। এছাড়া নতুন জাহাজে আরও কয়লা আসছে। এতে স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর নিশ্চয়তা নেই।

চীনের আর্থিক সহায়তায় নির্মিত প্রায় ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়বহুল এই প্রকল্পে দেশটি ঋণ দিয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ পরিশোধ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু না হওয়ায় এ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরএনপিএল পূর্ণ উৎপাদনে গেলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক উৎপাদনের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপও হ্রাস পাবে। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার ১০০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন হয় প্রায় ৭ হাজার মেগাওয়াট। নতুন এ কেন্দ্র পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের সহায়তা করবে বলে মনে করছেন তারা।

২০১৯ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ৯৫০ একর জমির ওপর নির্মিত। এটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। জাতীয় বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করলেও কয়লার দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি না হওয়ায় পূর্ণ উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সিলেটে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস সিরিজ: দর্শকদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ

এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজকে সামনে রেখে টিকিটের মূল্য ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সর্বনিম্ন ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে টিকিট কিনে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজটি অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩০ আগস্ট প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তিন ম্যাচের লড়াই, পরবর্তী দুই ম্যাচ যথাক্রমে ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

বিসিবির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (gobcbticket.com.bd) ও বিসিবি টিকিট অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

টিকিটের বিস্তারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী—

  • শহীদ তুরাব স্ট্যান্ড (পশ্চিম গ্যালারি) ও গ্রিন গ্যালারি/গ্রিন হিল থেকে খেলা দেখা যাবে ১৫০ টাকায়
  • শহীদ আবু সাইদ স্ট্যান্ডের (উত্তর-পূর্ব গ্যালারি) টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ টাকা
  • ক্লাব হাউস (ব্লক এ১ – ই১)-এর টিকিট পাওয়া যাবে ৫০০ টাকায়
  • গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড আপার ইস্ট/ওয়েস্ট, গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড লোয়ার ইস্ট/ওয়েস্ট এবং ডিরেক্টর এনক্লোজারে বসে খেলা দেখতে দর্শকদের গুনতে হবে প্রতি টিকিটে ২,০০০ টাকা



ট্রাম্পের হুমকি: চীনা পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ২০০ শতাংশ করার সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধ ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এবার চীনা পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি দুর্লভ খনিজ ও ম্যাগনেট সরবরাহ করতে হবে চীনকে। নইলে তাদের রপ্তানিপণ্যে ২০০ শতাংশ কিংবা তারও বেশি শুল্ক বসানো হবে।

এ বিষয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক ম্যাগনেট বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। এসব খনিজ উপাদান সেমিকন্ডাক্টর চিপ, স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তিপণ্যে অপরিহার্য। গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক বাড়ানোর পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীন এসব খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল।

ট্রাম্পের নতুন এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেল করপোরেশনে ১০ শতাংশ শেয়ার নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি বিরল খনিজ উপাদানের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

এদিকে চীনের রপ্তানি খাতে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দেশটির কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে বিরল খনিজের রপ্তানি জুনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক টানাপোড়েনকে আরও জটিল করছে।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা আরও ৯০ দিন বাড়ান, যাতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়। অন্যথায় বিদ্যমান শুল্কহার ১৪৫ শতাংশে পৌঁছাত। এর আগে মে মাসে দুই দেশ শুল্কহার কমিয়ে আনার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালেও সর্বশেষ হুঁশিয়ারি আবারও দ্বন্দ্বকে ঘনীভূত করেছে।




“ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো বঞ্চিত, ইসিতে স্মারকলিপি পাহাড়ি প্রতিনিধিদের

পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলার জন্য ৩টি সংসদীয় আসন থেকে বাড়িয়ে ৮টি করার দাবি জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর এ দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাৎ ফরাজী সাকিব এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি পাইশিখই মারমা।

আসন পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব

স্মারকলিপিতে তারা প্রস্তাব করেন—

খাগড়াছড়ি-১: রামগড়, মানিকছড়ি, লক্ষীছড়ি ও গুঁইমারা

খাগড়াছড়ি-২: মাটিরাঙা, মহালছড়ি, পানছড়ি

খাগড়াছড়ি-৩: খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা

রাঙামাটি-১: বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল

রাঙামাটি-২: সদর, কাউখালি, ননিয়ারচর

রাঙামাটি-৩: জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, রাজস্থলী

বান্দরবান-১: সদর, রুমা, থানছি, বোয়াংছড়ি

বান্দরবান-২: লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি

দাবির পক্ষে যুক্তি

পাইশিখই মারমা বলেন, পার্বত্য এলাকায় সশস্ত্র সংগঠনের সক্রিয়তা এখনো শান্তি ফিরতে দিচ্ছে না। বিশাল ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় সংসদীয় আসন সংখ্যা খুবই কম হওয়ায় উন্নয়নকাজ ও প্রতিনিধিত্ব সীমাবদ্ধ হয়ে আছে।

রাঙামাটির বাসিন্দা সৈয়দ ইবনে রহমত অভিযোগ করেন, সাজেক ইউনিয়নের আয়তন ঢাকার চেয়েও বড় হলেও সেখানে মাত্র একজন এমপি আছেন। “ঢাকায় ২০ আসন, অথচ রাঙামাটির ৫০টি ইউনিয়নে মাত্র ১ আসন—এভাবে পাহাড়ের মানুষ বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে,” বলেন তিনি।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বঞ্চনা

প্রতিনিধিরা আরও জানান, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রধানত মারমা, ত্রিপুরা বা চাকমা সম্প্রদায় থেকে এমপি নির্বাচন করে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো নেতৃত্বে আসতে পারে না। আসন বৃদ্ধি হলে তারাও সংসদে কণ্ঠস্বর তুলতে পারবে এবং বঞ্চনা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।




ফজলুর রহমানের বক্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলল বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে “দায়িত্বজ্ঞানহীন” আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। দলটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে দেড় থেকে দুই হাজার তরুণ-শ্রমিক শহীদ হয়েছেন। এমন আত্মদানকে খাটো করা বা হেয় করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ নয়, এতে ফ্রন্টলাইনে থাকা কর্মী-সমর্থকদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পার্টির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুল হক আরও বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত মত থাকতে পারে, তবে মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় ইতিহাসের সংবেদনশীল প্রশ্নে আঘাতমূলক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

ফজলুর রহমানের বাসার সামনে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে আইন-আদালতের ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ আহত হলে মামলা করার সুযোগ রয়েছে, তাই সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া উচিত নয়। তার ভাষায়, “মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন হয়েছে, তাই মতের বিপরীতে পাল্টা মত হতে পারে, কিন্তু সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে “মব সন্ত্রাস” ঘটছে। এ প্রবণতা চলতে থাকলে সামাজিক নৈরাজ্য রাজনৈতিক নৈরাজ্যে রূপ নেবে, যা দেশের বিভাজন, বৈরিতা ও সহিংসতা বাড়াবে। এর ফলে ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে সাইফুল হক বলেন, “যারা সহিংসতার পেছনে কাজ করছেন তারা অবিলম্বে থামুন, আইনের আশ্রয় নিন। বাংলাদেশকে অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন নয়।”




জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ নিয়ে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির অবস্থান

পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত জুলাই সনদ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি। সোমবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দলের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের প্রস্তাব

সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল হক বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। এজন্য সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা থেকে সরে আসা ও বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অপসারণ প্রয়োজন। প্রয়োজনে নিরপেক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

নির্বাচনী ব্যবস্থায় আস্থা ফেরানো নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরপিও বা নির্বাচন বিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিতে হবে। অঢেল অর্থব্যয়, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাকে উগ্র বৈরিতা ও সহিংসতায় নিয়ে যাওয়া আত্মঘাতী হবে এবং এতে গণঅভ্যুত্থানের অর্জন ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

জুলাই সনদ নিয়ে দলের অবস্থান

প্রস্তাবিত জুলাই সনদ প্রসঙ্গে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি বলেছে, এতে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরই যথেষ্ট, আলাদা অঙ্গীকারনামার প্রয়োজন নেই। দলটি অভিযোগ করে, সনদে অন্তর্ভুক্ত কিছু প্রস্তাব সংবিধানের দর্শন ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

সাইফুল হক বলেন, জনগণের অভিপ্রায় নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র পথ হলো নির্বাচন। কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমঝোতা দলিলকে জনগণের চূড়ান্ত মত হিসেবে গণ্য করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, সনদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে দলটির অবস্থান ইতিবাচক। প্রয়োজনে সরকার প্রধান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারেন।

গণভোট প্রসঙ্গে

দলটি জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাবকে অবাস্তব আখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সংবিধানশূন্য নয়, বরং বিদ্যমান সংবিধানের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তাই সংবিধান সভার নির্বাচন কিংবা গণভোট— দুটিই অপ্রাসঙ্গিক।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্ব্যক্ত করে, তারা বিদ্যমান সংবিধানকে গণতান্ত্রিক, দায়বদ্ধ, ভারসাম্যপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য কাজ করছে, নতুন কোনো সংবিধান প্রণয়নের জন্য নয়।




রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনে হাইকোর্টে ২৫ অতিরিক্ত বিচারক নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একসঙ্গে ২৫ জন অতিরিক্ত বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। সোমবার (২৫ আগস্ট) আইন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারপতিরা শপথ নেওয়ার তারিখ থেকে অনধিক দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিনই দেশের বিভিন্ন জেলায় বড় ধরনের বদলি করা হয়েছে। ঢাকাসহ ১৯ জেলায় মোট ২৩০ জন বিচারককে একযোগে বদলি করা হয়। এর মধ্যে রয়েছেন ৪১ জন জেলা জজ, ৫৩ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৪০ জন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং ৯৬ জন সিনিয়র সহকারী জজ ও সহকারী জজ পর্যায়ের কর্মকর্তা।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে চারটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়।




উপদেষ্টার নাম ভাঙিয়ে দুর্নীতি হলে প্রকাশ করুন : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ক্ষমতায় আসার পর তার ‘বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজন’ বেড়ে গেছে। তবে এসব পরিচয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি বা অনিয়মে জড়িত হয়, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, “উপদেষ্টার পরিচয়ে যদি কেউ দুর্নীতি বা চাঁদাবাজি করে, তা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করবেন। তবে ভুল বা গুজবনির্ভর খবর প্রচার না করার অনুরোধ রইলো।”

লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের কাছ থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে সরকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে।

  • পিস্তল ও শটগানের জন্য পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা
  • চায়না রাইফেলের জন্য ১ লাখ টাকা
  • এসএমজির জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
  • এলএমজির জন্য ৫ লাখ টাকা
  • আর প্রতি রাউন্ড গুলির জন্য ৫০০ টাকা

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে সতর্কতা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে বর্তমানে ব্যাপক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে এতে কোনো ধরনের ‘নিয়োগ বাণিজ্য’ হলে তাৎক্ষণিক জানানোর আহ্বান জানান তিনি। তার দাবি, গত এক বছরে এ ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।