ভোলায় নতুন শিল্প সম্ভাবনা: অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে লাইসেন্স পেলো ভোলা ইকোনমিক জোন

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ভোলা জেলায় গড়ে উঠতে যাওয়া ‘ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোন’ পেয়েছে প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স।

ভোলা সদর উপজেলার প্রায় ১০২.৪৬ একর জমিতে এ অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী তা পরবর্তীতে ১৫৮ একরে সম্প্রসারিত হবে। এটি একটি পরিবেশবান্ধব, শ্রমঘন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

এখানে মাছ ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন, কৃষি-শিল্পভিত্তিক কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় ৪০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং প্রায় এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বেজার নির্বাহী সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মেজর জেনারেল (অব.) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোন বরিশাল বিভাগের প্রথম অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ডেভেলপার হিসেবে কাজ করছে চীনের লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।”

ভোলা ইকো-ডেভেলপমেন্ট ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. ঝুয়াং লাইফেং বলেন, “আমরা একটি পরিবেশবান্ধব ও সার্কুলার ইকোনমিক জোন গড়ে তুলতে কাজ করছি। ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস ও কৃষি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বৈদেশিক বিনিয়োগ আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

উল্লেখ্য, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে গার্মেন্টস, টেক্সটাইল ও অন্যান্য খাতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছে। এবার ভোলায় বিনিয়োগের মাধ্যমে তারা টেকসই শিল্পায়ন ও রপ্তানিমুখী উৎপাদন কার্যক্রমে নতুন অধ্যায় যুক্ত করতে যাচ্ছে।

বেজার বিশ্বাস, এ অঞ্চল চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্যও ভোলা হয়ে উঠবে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রচারণার প্রথম দিনেই ব্যানার ভাঙচুর-ছবি বিকৃতি, দোষীদের শাস্তি দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই শিবির সমর্থিত এক প্রার্থীর ব্যানার-ফেস্টুন ভাঙচুর ও ছবি বিকৃতির ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রার্থীর মুখাবয়ব বিকৃত করে হিংসাত্মক রূপ দেওয়া হয়, যা পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

ঘটনার পর মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তাদের অভিযোগ, “আমরা নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা মেনে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছি। কিন্তু একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যানার ভাঙচুর ও ছবি বিকৃতির মতো ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে।”

জোট দাবি করে, ছবিগুলো বিকৃত করে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত করা হয়েছে এবং হিজাব ফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অতীতে চারুকলা অনুষদে শেখ হাসিনার ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য পুড়িয়ে ফেলার সঙ্গেও একই গোষ্ঠী জড়িত ছিল। এবারও তারা ক্যাম্পাসে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।

জোট অভিযোগ করেছে, কিছু চিহ্নিত গণমাধ্যম দুষ্কৃতিকারীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে এবং দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপাতে চাইছে। এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেছে তারা।

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে জোট বলেছে, “কোনও কুচক্রী মহল আমাদের ঐক্য ভাঙতে পারবে না।”




‘বাংলাদেশ জেল’ নয়, নতুন নাম হবে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’

বাংলাদেশ জেলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘কারেকশন সার্ভিসেস বাংলাদেশ’। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) রাজধানীর কারা সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।

তিনি জানান, শুধু নাম পরিবর্তনই নয়—কারা অধিদপ্তরের আইন, নীতি ও কাঠামোকে যুগোপযোগী করে তুলতে খসড়া ‘কারেকশন সার্ভিসেস অ্যাক্ট-২০২৫’ প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর লক্ষ্য হবে শাস্তির চেয়ে সংশোধনমূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া।

অবকাঠামো ও জনবল বৃদ্ধি

ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি সামলাতে নতুন দুটি কেন্দ্রীয় কারাগার এবং চারটি জেলা কারাগার চালু হয়েছে। ঢাকা বিভাগকে ভেঙে দুটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হয়েছে। জনবল সংকট মোকাবিলায় সরকার ১,৮৯৯ নতুন পদ অনুমোদন দিয়েছে এবং আরও ১,৫০০ জনবলের আবেদন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি

কারা প্রাঙ্গণকে আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় আনা হয়েছে। ফাইবার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্ট সিস্টেম, টিম ট্রেকার্স, এআই নির্ভর সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, মোবাইল জ্যামিং সিস্টেম, বডি স্ক্যানারসহ নানা আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে অস্ত্র কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বন্দিদের কল্যাণ

  • খাবার: প্রোটিন বাড়ানো, সকালের নাস্তা ও বিশেষ দিবসে বাড়তি বরাদ্দ।
  • স্বাস্থ্যসেবা: কেরাণীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ।
  • মানসিক স্বাস্থ্য: খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা।
  • সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ: টেলিফোন কল ও সাক্ষাৎ এখন ডিজিটালাইজড, হটলাইন (১৬১৯১) চালু।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধা

অবসরপ্রাপ্ত কারারক্ষীদের আজীবন রেশন প্রদানের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উন্নতমানের প্যাকেটজাত রেশন, বিশেষ দিবসে খাবারের বরাদ্দ, ওয়েট চার্ট বাধ্যতামূলক করা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

দুর্নীতি ও মাদকবিরোধী কঠোরতা

গত এক বছরে মাদকসেবী ২৯ জন সদস্যকে শাস্তি দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ৩৪ জনকে চাকরিচ্যুত, ৪৪০ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা এবং ১৭২ জনকে বদলি করা হয়েছে।

আইজি প্রিজন জানান, “শাস্তিমূলক নয়, সংশোধনমূলক কার্যক্রমের উপর জোর দিয়েই কারা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে।”




ফজলুর রহমানের দলীয় পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত

শোকজের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দলীয় সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিএনপির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ফজলুর রহমানকে দেওয়া পদ স্থগিতের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ আগস্ট তার নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছিল। তিনি নোটিশের লিখিত জবাব না দিয়ে সময় বর্ধিত করার আবেদন করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার আরও ২৪ ঘণ্টা সময় বর্ধিত করা হয়। তবে আজ প্রদত্ত জবাব সন্তোষজনক নয় বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান বিবেচনা করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নিয়ে তার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হলো।

এছাড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, টকশো বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা বলার সময় দেশের মর্যাদা ও দলের নীতিমালা ক্ষুণ্ণ না হয় এবং জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে তা সর্বদা বিবেচনা করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মাইলস্টোন দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারগুলোর ৯ দফা দাবি

বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবার রানওয়ে এলাকা থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরসহ ৯ দফা দাবি তুলেছে।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের পক্ষে ফাতেমার মামা লিয়ন মীর, তানভীরের বাবা রুবেল এবং মারিয়ামের মা উম্মে আফিয়া লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তারা অভিযোগ করেন, নিয়ম ভঙ্গ করে কোচিং বাণিজ্যের মাধ্যমে শিশুদের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত ৯ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—

  • রানওয়ে এলাকা থেকে মাইলস্টোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়া
  • সারাদেশে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করা
  • নিহত পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ প্রদান
  • মাইলস্টোনের কোচিং বাণিজ্যের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা
  • অপপ্রচারকারী শিক্ষকদের অপসারণ ও শাস্তির ব্যবস্থা
  • দুর্ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ
  • জনস্বার্থে দায়ের হওয়া রিট বাস্তবায়ন
  • বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জনহীন এলাকায় সরানো

নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এই দুর্ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।




কারাগারে নগদ টাকার রাজত্ব ভাঙতে অভিযান জোরদার : আইজি প্রিজন

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে গত এক বছরে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) কারা সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “কারাগারগুলোকে নগদ টাকা মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগের তুলনায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো অল্প অল্প টাকা ধরা পড়ছে।”

আইজি প্রিজন জানান, মাদক দমনেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই এক হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে বিপুলসংখ্যক ছোট সাইজের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে বন্দিদের পেটের ভেতর লুকানো ইয়াবা ধরা পড়ছে বেশি। “আমরা শতভাগ সফল নই, তবে উন্নতি করেছি। মাদক চক্রে জড়িত কারারক্ষীদের বরখাস্ত ও ফৌজদারি আইনে মামলা করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

বন্দিদের পালিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গে মহাপরিদর্শক জানান, ৫ আগস্ট বিভিন্ন কারাগার থেকে পালানো ২ হাজার ২০০ জনের মধ্যে অনেককে ফের গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ৭০০-এর বেশি বন্দি পলাতক রয়েছে। এদের মধ্যে ৯ জন জঙ্গি এবং ৬০ জন মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়া এখনো ২৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি বলেও জানান তিনি।

নারী বন্দিদের আদালতে আনা-নেওয়ার সমস্যা নিরসনে কেরানীগঞ্জে নতুন কারাগার নির্মাণাধীন রয়েছে বলে জানান আইজি প্রিজন। পাশাপাশি ল্যান্ড ফোন ও কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগে অপব্যবহার ঠেকাতে অটোমেশন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমরা ধাপে ধাপে সব গুরুত্বপূর্ণ কারাগারে কম্প্রিহেন্সিভ জ্যামিং সিস্টেম চালুর চেষ্টা করছি। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার ও বিশেষ কারাগারে শিগগিরই এটি বসানো হবে।”

খাবারের মান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, বন্দিদের প্রাপ্য খাদ্য নিশ্চিত করা হচ্ছে, তবে রাঁধুনি হিসেবে বন্দিরা কাজ করায় স্বাদ নিয়ে অভিযোগ থাকতে পারে। সরকার সম্প্রতি বন্দিদের প্রোটিন বরাদ্দ ৩৬ গ্রাম থেকে বাড়িয়ে ৫৪-৫৫ গ্রামে উন্নীত করেছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, কারা অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত ডাক্তার আছেন ১৪১ জন, কিন্তু বাস্তবে কর্মরত মাত্র ২ জন। সিভিল সার্জন থেকে ১০৩ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তা যথেষ্ট নয় বলে স্বীকার করেন তিনি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানান।




‘কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বিচার চাই’—বিএনপিপন্থি শিল্পীদের হুঁশিয়ারি

দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে আওয়ামীপন্থি শিল্পীদের ‘কালচারাল ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন বিএনপিপন্থি শিল্পীরা। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত মানববন্ধনে এ দাবি তোলা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর ধরে বিনোদন জগতে আওয়ামী ঘরানার শিল্পীরা আধিপত্য বিস্তার করেছে। গত এক বছর তারা নিস্ক্রিয় থাকলেও ১৫ আগস্ট থেকে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এই দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। আপনাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, আপনাদেরও সেদিকে যেতে হবে।”

শিল্পীদের বক্তব্য

সংগীতশিল্পী কুদ্দুস বয়াতি বলেন, “আমাকে ১৯৯২ সালে গান গাওয়ার কারণে আজীবন শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এমনকি আমার ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অন্যায়ের দিন শেষ হবে, সেই দিনের অপেক্ষায় আছি।”

অভিনেত্রী মৌসুমি প্রশ্ন তুলেন, “দেশের মানুষ যখন না খেয়ে কষ্ট করেছে, ভোট দিতে পারেনি, তখন আপনাদের আবেগ কোথায় ছিল?”

চলচ্চিত্র নির্মাতা ডায়মন্ড ভারতের দক্ষিণের অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের উদাহরণ টেনে বলেন, “সেখানে লাখো মানুষ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমাদের দেশে গুলি চালিয়ে শত শত তরুণকে হত্যা করা হলেও কিছু শিল্পী টেলিভিশনে বসে স্বৈরশাসনকে সমর্থন দিয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে আহ্বান

জাসাসের নেতারা প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কালচারাল ফ্যাসিস্টদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

মানববন্ধনে সংগীতশিল্পী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা ছাড়াও জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ইথুন বাবুসহ অনেকে অংশ নেন।




বরিশালের বিউটি কমপ্লেক্স দখলের অভিযোগে উত্তেজনা, ৩৩টি মিথ্যা মামলার অভিযোগ

বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘বিউটি কমপ্লেক্স’ দখলের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী মফিজুল ইসলাম কামালের বিরুদ্ধে। প্রায় ৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে ৪০ কোটি টাকার এই কমপ্লেক্স দখল করে রাখার পাশাপাশি বর্তমান মালিক আশিক চৌধুরী ও তার স্ত্রী আমেনা বেগম সুমীকে হেনস্তা করতে ৩৩টি মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও উঠেছে।

আশিক চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালে কাজী কামাল তার বাবাকে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে একটি পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করিয়ে নেন। পাওয়ার অব অ্যাটর্নি অনুযায়ী ৩৯ শতাংশ অংশে পাঁচতলা মার্কেট কমপ্লেক্স করা হওয়ার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ অংশ কাজী কামালের নামে লেখা হয়। এই ঘটনায় ২০২১ সালে আদালতে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বাতিলের মামলা দায়ের করা হয়।

২০২২ সালে বৈধভাবে সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করলেও কাজী কামালের লোকজন কমপ্লেক্সে জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। স্ত্রী ও পরিবারের ওপর নানা রকম হুমকি ও হয়রানি চালানো হয়। এ পর্যন্ত আশিক-সুমী দম্পতির বিরুদ্ধে ৩৩টি মিথ্যা মামলা দায়ের হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি খালাস পাওয়া গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী কামাল সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বৈধ থাকায় ভবনের মালিকানা তার নিজের নামে। এছাড়া আসল দায়ীদের আদালতে বিচার হবে।

বরিশালের নাগরিক সমাজ ও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে যাতে সম্পত্তি ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শাহবাগে বুয়েট শিক্ষার্থীদের তিন দফা আন্দোলনে অচল প্রধান সড়ক

তিন দফা দাবি আদায়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। ফলে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম সড়কটিতে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন— “চাকরি চাকরি পরে কর, ইঞ্জিনিয়ার বানান কর”, “ব্লকেড ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড”, “কোটা না মেধা, মেধা মেধা”। আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সোমবার (২৫ আগস্ট) নেসকো কার্যালয়ে বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান রোকনকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদেই দেশব্যাপী ‘ব্লকেড অব ইঞ্জিনিয়ার্স’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবিদ বলেন, “আমাদের সিনিয়র ভাইকে জীবননাশের হুমকি ও অপমানের প্রতিবাদে আমরা রাজপথে নেমেছি। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি

১. নবম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য নির্ধারিত ৩৩ শতাংশ কোটা বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা।
২. দশম গ্রেডে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য থাকা ১০০ শতাংশ কোটা বাতিল করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা।
৩. বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ ‘ইঞ্জিনিয়ার’ পদবি ব্যবহার করতে পারবে না; করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর জানান, শাহবাগ মোড় অবরোধ করায় ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




হাইকোর্টে শপথ নিলেন নতুন ২৫ বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নতুন নিয়োগ পাওয়া ২৫ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ তাদের শপথ পাঠ করান।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শপথ অনুষ্ঠানে আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরাও উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সোমবার (২৫ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় ২৫ জনকে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

নতুন নিয়োগ পাওয়া বিচারপতিরা হলেন— সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম (শাহীন), আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল ইসলাম, চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ মো. নুরুল ইসলাম, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব শেখ আবু তাহের, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমদ ভূঞা, আইনজীবী রাজিউদ্দিন আহমেদ ও ফয়সাল হাসান আরিফ, যুগ্ম সচিব এস এম সাইফুল ইসলাম, আইনজীবী মো. আসিফ হাসান ও মো. জিয়াউল হক, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল দিহিদার মাসুম কবীর, জেলা ও দায়রা জজ জেসমিন আরা বেগম, জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের সচিব মুরাদ-এ-মাওলা সোহেল, মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন, সলিসিটর (সিনিয়র জেলা জজ) মো. রাফিজুল ইসলাম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুর আলম, মো. লুৎফর রহমান, রেজাউল করিম, আইনজীবী ফাতেমা আনোয়ার, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ হাসান, আইনজীবী আবদুর রহমান, সৈয়দ হাসান যুবাইর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম সাইফুল করিম, আইনজীবী উর্মি রহমান এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদ।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারই প্রথম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিলের মাধ্যমে আবেদন আহ্বান, মৌখিক পরীক্ষা ও বাছাইয়ের পর বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলো। এ নিয়োগের ফলে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হাইকোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৮ জনে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫