নুরের ওপর হামলা: ইসলামী আন্দোলনের কঠোর প্রতিবাদ

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম অগ্রণী নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের সাহসী নেতার ওপর এ ধরনের বর্বর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখে দেওয়া। অথচ জাতীয় পার্টির অতীত ভূমিকা ছিল গণতন্ত্রবিরোধী এবং ফ্যাসিবাদকে আইনি কাঠামো দেওয়ার। তার মতে, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টি প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নেওয়া হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না। “জাতীয় পার্টি ইস্যুতে নুরকে রাস্তায় মারধর করা মানে জুলাই অভ্যুত্থানের অর্জনকে অস্বীকার করা,” তিনি বলেন।

মাওলানা আতাউর রহমান আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বিশ্বাস করে ঘটনাটি মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত সেনা ও পুলিশের ভুল সিদ্ধান্তের ফল হতে পারে। তবে কে বা কারা এ হামলার পেছনে মদত দিয়েছে, তা খুঁজে বের করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তি নিজেই বুঝে নেবে কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করছে।




“আ.লীগ-জাপা একই পথের পথিক, পরিণতিও হবে একই”— সারজিস আলম

আওয়ামী লীগ যেভাবে অপরাধী, তাদের সহযোগী ও বৈধতা প্রদানকারী দল জাতীয় পার্টিও একইভাবে অপরাধে জড়িত— এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন। সারজিস আলমের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় “প্ল্যান-বি” হিসেবে জাতীয় পার্টিকে কাজে লাগিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে। তাই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, নুরুল হক নুরসহ গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলার পেছনেও এই পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। তার ভাষায়, “জাতীয় পার্টি নিয়ে কঠোর বার্তা দেওয়ার জন্যই এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে।” তিনি এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

সারজিস আলম দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি একই পথের যাত্রী এবং অবশেষে তাদের পরিণতিও হবে অভিন্ন। তাই জাতীয় পার্টিকে বিচারের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।




রাজধানীতে সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত নুরুল হক নুর ঢামেকে

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমারজেন্সি সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত ৯টার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা আল রাজী টাওয়ারের সামনে সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ চালালে নুরুল হক নুরসহ দলের শীর্ষ নেতারা হামলার শিকার হন।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেন, সংবাদ সম্মেলনের প্রস্তুতির সময় পুলিশ আকস্মিকভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে সাংবাদিকসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন।




জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষে গুরুতর আহত নুরুল হক নুর

রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে চারজন গণঅধিকার পরিষদের নেতা-কর্মী এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সবাইকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে আছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ (৩২), উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা কিবরিয়া (৩০), সদস্য হাসান তারেক (২৮), মেহবুবা ইসলাম (৩০), নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব আনিসুর রহমান (৪২) এবং এক পুলিশ পরিদর্শক।

গণঅধিকার পরিষদের নেতা ইমরান জানান, মিছিল নিয়ে বিজয়নগর এলাকায় প্রবেশ করার সময় জাতীয় পার্টির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে তাদের চারজন নেতা-কর্মী আহত হন। বর্তমানে তারা ঢামেকে চিকিৎসাধীন।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজয়নগর থেকে চারজন গণঅধিকার পরিষদের কর্মী ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।




জনগণের ভোটেই নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ সরকার: আমীর খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনই দেশের ভবিষ্যৎ সরকার নির্ধারণ করবে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বরিশাল বিভাগীয় ব্যবসায়ী ফোরাম আয়োজিত ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

আমীর খসরু বলেন, “ভোটের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করবে। তখন জনগণ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌলিক চাহিদার কথা বলতে পারবে, আর সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।”

তিনি আরও জানান, বিএনপি একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে এবং জনগণ যদি সমর্থন দেয়, তবে দলটি আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে যাতে নির্বাচনের পরপরই দেশের মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে।

অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অর্থনীতি আর সীমিত গোষ্ঠীর হাতে থাকবে না। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে গিয়ে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করতে হবে। গ্রামের মানুষের তৈরি একটি পণ্যই হতে পারে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের হাতিয়ার।”

তিনি জানান, বিএনপি দেশের প্রতিটি বিভাগে গিয়ে মানুষের সমস্যা ও দাবি শুনছে। হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পকে পুনরুদ্ধার, ব্র্যান্ডিং ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া হবে।

আমীর খসরু আরও বলেন, “আমরা চাই গ্রামীণ মানুষ ঘরে বসেই পণ্য তৈরি করুক, যা দেশ-বিদেশে বিক্রি হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং অর্থনীতির মূলধারায় সাধারণ মানুষ যুক্ত হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফেরানোর দাবি জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান করে তাদের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে।

শনিবার (৩০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এ দিন গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার পরিবারের অনেকে চরম মানসিক ট্রমা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। প্রিয়জনের খোঁজ না পাওয়ায় অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

জামায়াত নেতার দাবি, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত সরকার আমলে সাতশ’রও বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ তালিকায় রয়েছেন। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ড ছিল বিরোধী কণ্ঠরোধের অংশ, যা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

বিবৃতিতে তিনি কয়েকজন দীর্ঘদিন নিখোঁজ ব্যক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন। এর মধ্যে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ও সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমসহ আরও অনেকের নাম উল্লেখ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, যদিও সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এসেছেন, তবে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা আশা করি অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গুমের শিকারদের ফিরিয়ে দেবেন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।”




“নৈতিকতার বিকল্প নেই”— নির্বাচন কমিশনের বটম লাইন জানালেন সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ‘বটম লাইন’ বা মূল ভিত্তি হলো পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণ কোনোভাবেই নৈতিকতার বিকল্প হতে পারে না।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কোর ট্রেনারস ট্রেনিং কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সঠিক বার্তা পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। “যোগাযোগ ভেঙে পড়া মানেই সব ভেঙে পড়া,” মন্তব্য করে তিনি যোগ করেন— স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে যে অর্থ খরচ হয়, সেটিকে ব্যয় নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে।

যোগাযোগ ভাঙনের ঝুঁকির প্রসঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অংশ নেওয়া এক প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন। সেখানে দেখা যায়, একটি বার্তা একাধিক ধাপ পেরোতে গিয়ে বিকৃত হয়ে যায়। একই ঝুঁকি নির্বাচনকালীনও থাকতে পারে, তাই প্রত্যেককে মনোযোগী হয়ে শুনতে ও সঠিকভাবে নোট নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “অনেক সময় পেছনের সারিতে বসা প্রশিক্ষণার্থীরা মনোযোগ হারায়, এতে বার্তা বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রশিক্ষণের সময় সতর্ক থাকতে হবে।”

নাসির উদ্দিন আরও জানান, নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ শুধু রাজনৈতিক বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত নয়, নতুন করে সোশ্যাল মিডিয়া-সংশ্লিষ্ট সমস্যাও যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ সেল গঠন করবে।

প্রশিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইনকানুন শেখানোর পাশাপাশি ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। এ বার্তা যেন প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের প্রশিক্ষণে ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন। দুই ধাপে মোট ৮০ জন প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।




“প্রাণ যেতে পারে, কিন্তু নির্বাচনে কারসাজি নয়”— ইসি আনোয়ারুল

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে অনুষ্ঠিত সবকটি নির্বাচনের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কোর ট্রেনারস ট্রেনিং কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইসি আনোয়ারুল বলেন, কমিশনের প্রধান দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এ দায়িত্ব পালনের বিকল্প নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “জীবন বিপন্ন হলেও নির্বাচনে ফাঁকিবাজি কিংবা কারসাজি মেনে নেওয়া হবে না। কমিশন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের শপথ নিতে হবে— দায়িত্ব পালনে কোনো আপস নয়।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি বা ইনস্টিটিউশনাল মেমোরি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রেই কমিশন হোঁচট খাচ্ছে। তাই কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।

আসন্ন নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারদের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে কমিশনার বলেন, “পুরো ভোট প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন প্রিজাইডিং অফিসাররা। তারা যদি দক্ষ, সাহসী ও সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে একটি ভোটকেন্দ্র নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা সম্ভব।”

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য সব চ্যালেঞ্জের তালিকা প্রণয়ন করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। তাহলেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।




গণতান্ত্রিক রোডম্যাপের অপেক্ষায় বিএনপি : ফখরুলের সতর্ক বার্তা

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনীতিকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের নতুন ধারায় নিতে হলে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জরুরি। তিনি মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে।

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘রক্তাক্ত জুলাই’ গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

ফখরুল বলেন, হতাশার কথা বললে অনেক সময় সমালোচনা শুনতে হয়, তবে বাস্তবতা হলো— আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় এসেছেন— এমন কোনো ভ্রান্ত ধারণা কারও মধ্যে থাকা উচিত নয়। এখনো চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সক্রিয় রয়েছে। জনগণের আস্থা অর্জনেই হতে হবে মূল রাজনৈতিক শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, রাজনীতিতে মতভেদ স্বাভাবিক হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। জনগণের মনে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় গভীর হচ্ছে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঘোষিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তা না হলে রাষ্ট্র ও জাতি ভয়াবহ সংকটে পড়বে। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রত্যাবর্তনের আশঙ্কাও তীব্রতর হবে।

বিএনপির সংস্কার-অবদান প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “সংস্কারের প্রথম ধাপ শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান— বহুদলীয় গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। অথচ কিছু গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বিএনপি সংস্কারবিরোধী। বাস্তবে যত বড় সংস্কার হয়েছে, তা বিএনপির হাত ধরেই।”

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গোষ্ঠীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বিএনপিকে হেয় করার জন্য মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার মতো কাজ কাউকে করতে দেওয়া হবে না।”




ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ছুটির তারিখ পরিবর্তন

সরকার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সাধারণ ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, চলতি বছর রবিউল আউয়াল মাস ২৬ আগস্ট থেকে শুরু হওয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপিত হবে ৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার)

আগে ঘোষিত ৫ সেপ্টেম্বরের (শুক্রবার) ছুটির পরিবর্তে নতুন তারিখে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, টেলিযোগাযোগ, হাসপাতাল ও ওষুধ পরিবহনসহ জরুরি সেবাগুলো ছুটির আওতায় থাকবে না।

ব্যাংক খোলা থাকবে কি না তা বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে এবং আদালতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫