ধানের দামে ধস, মাঠের ঘামে ভাসছে হতাশা পটুয়াখালীর হাটে কৃষকের কান্না

ভোরের আলো ফোটার আগেই ঘুম ভাঙে কৃষকের। কাঁধে নেমে আসে বছরের পর বছরের ক্লান্তি, হাতে তুলে নেয় ঘামের ফসল—ধানের বস্তা। আশা থাকে, আজ হয়তো পরিশ্রমের ন্যায্য দাম মিলবে। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের সাপ্তাহিক ধান হাটে সেই আশাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। এখানে ধানের বস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আজ কৃষকের চোখে শুধু হতাশা, মুখে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ছায়া।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল থেকেই হাটে জড়ো হন শত শত কৃষক। নৌকা, ভ্যান কিংবা কাঁধে করে বস্তাবন্দি ধান নিয়ে তারা অপেক্ষায় থাকেন ক্রেতার। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে একে একে ফিরছেন বিমর্ষ মুখে। বাজারে এক মণ ধানের দাম ঘুরপাক খাচ্ছে মাত্র ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকার মধ্যে—যেখানে উৎপাদন খরচই উঠে না।

গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া এলাকার ষাট বছর বয়সী কৃষক আবু জাফর বলেন, “চাল, তেল, ডাল—সব কিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু ধানের দাম বাড়ছে না। একজন শ্রমিক খাটাতে দিনে ৭০০-৮০০ টাকা দিতে হয়, সঙ্গে তিন বেলা খাবার। এক মণ ধান বিক্রি করেও সেই খরচ ওঠে না। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর আমরা আর খাইতেই পারব না।”

কালাইয়া হাটের আরেক কৃষক কাওসার আলী (৫৬) ভাঙা কণ্ঠে জানান, “এই বছর যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। ১,১৫০ টাকায় এক মণ ধান বিক্রি করে কী হবে? যদি এমন চলতে থাকে, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই জমি বিক্রি করে খেতে হবে।”

হাটে ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি ধানের বস্তা। কেউ বসে আছেন বস্তার ওপর, কেউ দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছেন সম্ভাব্য ক্রেতার দিকে। কিন্তু মুখে কারও হাসি নেই। কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়েছে। অথচ ধানের বাজারদর সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে প্রতিদিনই তারা পড়ছেন আর্থিক চাপে।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর ডিয়ারা গ্রামের কৃষক আরিফুর রহমান (৩৫) জানান, ১৯০ কড়া জমিতে ধান করেছি। আজ ৪০ মণ ধান বিক্রি করতে এনেছি। কিন্তু বাজারদর আর উৎপাদন খরচের হিসাব মিলালে লাভ তো নেই-ই, বরং লোকসান। প্রতিদিনের পরিশ্রমের মূল্য না পেয়ে ভীষণ হতাশ লাগছে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন,“চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৩৪ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন। কৃষক যেন তার পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য পায়, সে বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণ সহজলভ্য রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। হাটের প্রতিটি ধানের বস্তা যেন কৃষকের জীবনের গল্প বহন করছে—ঘাম, শ্রম আর অনিশ্চয়তার গল্প। ন্যায্য দাম না পেলে সেই গল্প যে আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠবে, তা বুঝতে কারও বাকি নেই।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মঠবাড়িয়ায় অবৈধ ইটভাটায় প্রশাসনের কঠোর অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো কাঁচা ইট

পরিবেশ ধ্বংসের নীরব কারখানা হয়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিল প্রশাসন। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট। একই সঙ্গে ভাটার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী এলাকায় অবস্থিত ‘মেসার্স মক্কা ব্রিকস’-এ এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন মঠবাড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, সরকারি অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটাটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হচ্ছিল। আইন অমান্য করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাটা স্থাপন করায় পরিবেশ ও কৃষিজমির ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হচ্ছিল। এসব অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাইসুল ইসলাম জানান,
“অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ভাটার মালিক মো. ইউসুফ মুন্সিকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ অনুযায়ী এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তুত করা কাঁচা ইট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। কোনোভাবেই আইন লঙ্ঘন করে ইটভাটা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের ফসল নষ্ট হচ্ছিল, বাতাস দূষিত হচ্ছিল এবং নদীর তীর ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং নিয়মিত অভিযান চালানোর দাবি জানান।

পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপ এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পানিতে পড়লেই বাঁচবে জীবন ভোলার তরুণের যুগান্তকারী ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’

এক মুহূর্তের অসাবধানতা, আর তাতেই নিভে যায় একটি ছোট্ট প্রাণ। নদী–খাল আর পুকুরে ঘেরা উপকূলীয় জনপদে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু যেন নিত্যদিনের ভয়াবহ বাস্তবতা। সেই বাস্তবতাকে বদলাতে স্বপ্ন দেখেছেন ভোলার মনপুরার তরুণ উদ্ভাবক মো. তাহসিন। আর সেই স্বপ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’—একটি লকেট আকৃতির প্রযুক্তি, যা শিশু পানিতে পড়লেই বেজে উঠবে সাইরেন, আর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকের মোবাইলে পৌঁছে যাবে সতর্কবার্তা।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলা পৌরসভার পুকুরে এই ডিভাইসের পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা যায়, সাঁতার না জানা এক শিশু পানিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ডিভাইসটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। মুহূর্তেই চারপাশে বেজে ওঠে বিপদ সংকেত। শব্দ শুনে ছুটে আসেন মানুষ, উদ্ধার করা হয় শিশুটিকে। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রক্ষা পায় একটি প্রাণ।

এই ডিভাইসটি শিশুর গলায় লকেটের মতো ঝুলিয়ে রাখা যাবে। অভিভাবকের কাছে থাকবে একটি ছোট পোর্টেবল রিসিভার। শিশু পানির সংস্পর্শে এলেই রিসিভার থেকে সাইরেন বাজবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিভাবকের মোবাইলে কল যাবে। শুধু তাই নয়, এতে যুক্ত আছে জিপিএস প্রযুক্তি—যার মাধ্যমে জানা যাবে শিশুটি ঠিক কোন স্থানে পানিতে পড়েছে।

প্রদর্শনী দেখতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। উপস্থিত ছিলেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান। তারা উদ্ভাবনটির প্রশংসা করেন এবং এর প্রসারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন,“ভোলার মতো পানিবেষ্টিত এলাকায় শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। এই উদ্ভাবন মানুষের জন্য আশার আলো। এর প্রসারে আমরা সব ধরনের সহায়তা করব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন,“এই ডিভাইস যদি একজন শিশুর জীবনও রক্ষা করতে পারে, সেটাই হবে এর সবচেয়ে বড় সাফল্য। তরুণ তাহসিনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”

উদ্ভাবক তাহসিন জানান, পানিতে ডুবে তার দুই খালাতো বোনের মৃত্যুই তাকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়। সেই বেদনা থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করেন—কীভাবে প্রযুক্তির মাধ্যমে এই মৃত্যু রোধ করা যায়। বিজ্ঞানপ্রেমী তাহসিন নিজের ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেন ‘চাইল্ড সেফটি ডিভাইস’-এ।

তিনি বলেন,
“আমি চাই আর কোনো পরিবার যেন পানিতে ডুবে শিশুকে হারিয়ে শোকে ভেঙে না পড়ে। এই ডিভাইস শিশুর সঙ্গে থাকলে দুর্ঘটনার মুহূর্তেই সবাই জানতে পারবে।”

ডিভাইসটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা, যা পরিবারের সহায়তায় জোগাড় করা হয়েছে। শুরুতে লকেটটির আকার ও ওজন বেশি ছিল। কিন্তু এখন সেটি মাত্র ২ গ্রাম ওজনের—শিশুর গলায় ঝোলানো একেবারেই সহজ।

ইউনিসেফের তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৪ হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে উপকূলীয় এলাকার ১ থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুরা। সচেতনতা ও সাঁতার শেখানোর পাশাপাশি প্রযুক্তির এই ব্যবহার নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাহসিনের উদ্ভাবন যেন শুধু একটি যন্ত্র নয়—এ যেন অসংখ্য শিশুর ভবিষ্যৎ বাঁচানোর এক নীরব প্রতিশ্রুতি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মঞ্জু হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল গৌরনদী, অবরোধে অচল ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক

বরিশালের গৌরনদীতে ভ্যানচালক মঞ্জু বেপারী হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে মহাসড়কের প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী ও চালক।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এলাকাবাসী এ কর্মসূচি পালন করেন। হঠাৎ মহাসড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে তারা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে ঢাকাগামী ও বরিশালগামী যানবাহন দীর্ঘ সারিতে আটকে পড়ে।

বিক্ষুব্ধ স্থানীয়দের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো রহস্য উদঘাটন কিংবা প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

অবরোধে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার হোসেন বলেন,
“একজন নিরীহ ভ্যানচালককে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। অথচ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। যদি খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, তাহলে আমাদের নিরাপত্তা কোথায়? দ্রুত মঞ্জুর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”

খবর পেয়ে গৌরনদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন স্থানীয়রা। এরপর ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গৌরনদী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান,
“এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আমিনুল ইসলাম নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আমরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছি। অবরোধকারীদের আশ্বস্ত করার পর তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে যাত্রী নামিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ভ্যানচালক মঞ্জু বেপারী। তিনি গৌরনদী উপজেলার কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। মঞ্জুর মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, এলাকায় বিরাজ করছে ক্ষোভ ও আতঙ্ক।

স্থানীয়দের ভাষায়, মঞ্জু ছিলেন একজন সহজ-সরল পরিশ্রমী মানুষ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে আজ অসহায় তার স্বজনরা। দ্রুত বিচার না হলে এ ক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এলাকাবাসী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: বদিউল আলম মজুমদার

নির্বাচনি প্রস্তুতি দৃশ্যত এগোলেও এখনো শঙ্কা কাটেনি—এমন মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশালে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনি ট্রেন ট্র্যাকে উঠে গেছে ঠিকই, তবে ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। রাজনীতিবিদ এবং তাঁদের মনোনীত প্রার্থীরাই চাইলে এই ট্রেনকে আবার ট্র্যাকচ্যুত করতে পারেন। তারা যদি সদাচরণ করেন, সহিংসতা থেকে বিরত থাকেন এবং অসৎ কৌশল পরিহার করেন, তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতিতে উত্তেজনা কমাতে হবে, সংঘাত ও সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। এমপি হওয়ার জন্য নানা অপকৌশল অবলম্বন বন্ধ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বাস্তবতা হলো—নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এই দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় না।”

সুশাসনের অভাবের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, “যদি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়, তাহলে প্রতিবারই জনগণকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হবে। এতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।”

বিভাগীয় এই সংলাপে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারাও এতে মতামত তুলে ধরেন।

সংলাপে বক্তারা বলেন, নির্বাচন গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এটি একমাত্র শর্ত নয়। নির্বাচনের পর গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে হলে স্বাধীন ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সুশাসন নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা অপরিহার্য।

বক্তারা আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




নির্বাচন ঘিরে বরিশালে যৌথ বাহিনীর কড়া অভিযান, বসানো হলো ১৩ চেকপোস্ট

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীতে শুরু হয়েছে যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা অভিযান। নগরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি, বসানো হয়েছে একাধিক চেকপোস্ট। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, চিহ্নিত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং যেকোনো নাশকতামূলক তৎপরতা রোধ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ ও ব্যস্ত এলাকাগুলোতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

যেসব এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়েছে সেগুলো হলো—নথুল্লাবাদ, গড়িয়ারপাড়, আমতলার মোড়, জিলা স্কুল মোড়, জেলখানার মোড়, তালতলী ব্রিজ, কাশিপুর, দিনারের পুল, মরখোলার পোল, চৌমাথা, দপদপিয়া ব্রিজ, কালিজিরা ও রহমতপুর।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নগরীতে মোট ১৩টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্ট প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। নিয়মিত পুলিশি টহলের পাশাপাশি বাড়তি তল্লাশি ও নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, “সরকারের প্রধান লক্ষ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান তারই অংশ। নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন ঝুঁকিপূর্ণ উপাদানগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হুমকি অবৈধ অস্ত্র ও পেশাদার অপরাধীরা।”

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবং দাগী আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য ও সহিংসতায় জড়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে—এমন ব্যক্তিদেরও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিজয় নিশ্চিত, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুর

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা–গলাচিপা) আসনের বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, “বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা হবে। আমি আপনাদের নিয়েই কাজ করতে চাই, আপনাদের পাশেই থাকতে চাই।”

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামে হযরত গেদু শাহ চিশস্তি (রহ.)-এর ৪৯তম বাৎসরিক ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওরসের মঞ্চে নুর বলেন, ওয়াজ মাহফিল যেমন আমাদের সংস্কৃতির অংশ, তেমনি ওরস মাহফিলও এই দেশের বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। এখানে বাউলসহ নানা সম্প্রদায় ও সংগঠনের মানুষ একত্রিত হয়েছেন। প্রত্যেক মানুষেরই কথা বলার, অনুষ্ঠান করার স্বাধীনতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যই বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কাউকে বাধা দেওয়া, গায়ের জোরে হামলা করা কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ভাঙচুর করার রাজনীতি তারা করেন না। এসব করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য বাড়ে। “আমি এখানে এসেছি আপনাদের প্রতি সংহতি ও সমবেদনা জানাতে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনাদের পাশেই থাকব,”—বলেন নুর।

দশমিনা ও গলাচিপা অঞ্চলের সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা-বাণিজ্য করে আসছেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোথাও কোথাও তাদের ব্যবসা ও ঘরবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নুর বলেন, ৫ আগস্টের পর গলাচিপায় তিনি বেশিরভাগ হিন্দু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন—ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কেউ আক্রান্ত হলে যেন সরাসরি তাকে জানান। “ব্যবসা করতে গেলে কাউকে এক পয়সাও চাঁদা দিতে হবে না। আমাদের দলের কেউ যদি চাঁদাবাজি বা হয়রানির সঙ্গে জড়িত থাকে, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না,”—হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নুর জানান, দশমিনা ও গলাচিপাকে তিনি রাজনৈতিক সম্প্রীতির একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান। সেখানে সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, আওয়ামী লীগ, জামায়াতসহ সব দলের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে অংশ নেবেন, কুশল বিনিময় করবেন। রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কেউ কারও ওপর হামলা করবে না, মামলা দেবে না, জুলুম করবে না—এমন ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়াই তাদের লক্ষ্য।

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের অধিকার রয়েছে। গায়ের জোরে বাধা দেওয়া কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী।

ওরস মাহফিলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাদীর রক্তের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে : জয়নুল আবেদীন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাহসী যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান বিন হাদীর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরিশাল-৩ (মুলাদী–বাবুগঞ্জ) আসনের ধানের শীষের মনোনীত এমপি প্রার্থী সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

সোমবার বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা এলাকায় শহীদ হাদীর শ্বশুর সুলতান আহমেদের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে তিনি পরিবারের খোঁজখবর নেন, তাঁদের কষ্টের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এ সময় জয়নুল আবেদীন বলেন,
“শহীদ ওসমান বিন হাদী ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন এক সাহসী কণ্ঠ। তিনি কেবল একটি পরিবারের সন্তান নন—তিনি গণতন্ত্রকামী মানুষের আশা ও সংগ্রামের প্রতীক। তাঁর হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামবো না।”

তিনি আরও বলেন,
“শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না। তাঁদের রক্ত থেকেই জন্ম নেয় নতুন ইতিহাস। শহীদ হাদীর রক্ত আমাদের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও বেগবান করবে।”

পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন,
“আপনাদের এই শোক আমাদের সবার শোক। এই কঠিন সময়ে আমরা আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। ইনশাআল্লাহ, শহীদ হাদীর রক্তের বিচার এই বাংলার মাটিতেই হবে।”

এ সময় তিনি শহীদ ওসমান বিন হাদীর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন এবং তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্য ধৈর্য, শক্তি ও সাহস কামনা করেন।

এ উপলক্ষে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা শহীদ হাদীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তথ্য অধিকার নিশ্চিত হলে শক্তিশালী হবে সুশাসন

বরিশাল অফিস :: তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন এবং নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে করণীয় বিষয়ে বরিশালে একটি টাউনহল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, যুব সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভায় তথ্য অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) বরিশালের প্যাভিলিয়ন কনভেনশন হলে ‘তথ্য অধিকার নিশ্চিতকরণে করণীয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং যুক্তরাজ্য সরকারের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)-এর অর্থায়নে সভার আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী ও যুব নেতৃত্বাধীন সংগঠন লাল সবুজ সোসাইটি।

সভায় তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, সরকারি তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকদের অধিকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার নিশ্চিত হলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা শক্তিশালী হয় এবং রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বাড়ে।

অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, তথ্য অধিকারকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, যুব সংগঠনের সদস্য, শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। আলোচকরা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তারা বলেন, তথ্য চাওয়া ও পাওয়ার অধিকার প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের অংশ। কিন্তু কাঠামোগত দুর্বলতা, অসচেতনতা, মাধ্যম সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্টদের দুর্বল ভূমিকার কারণে অনেক নাগরিক এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে এসেও কেন মানুষ তথ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—তা নিয়ে এখনই ভাবা এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মহসিনা হোসেন বলেন, “সময় এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা এখনো প্রযুক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। তথ্য মানুষের কাছে সহজলভ্য করতে উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ফেসবুক পেজ—কার্যকরভাবে ব্যবহার করা জরুরি।”

সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মৃদুল চৌধুরী বলেন, “তথ্য অধিকার আইন একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রভাবশালী আইন। সরকার এই আইন প্রণয়ন করলেও জনগণ সরাসরি এটি ব্যবহার করতে পারে। কেউ তথ্য চাইলে প্রশাসন তা দিতে বাধ্য।”

সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সাজ্জাদ পারভেজ তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে দপ্তরগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন।

এর আগে লাল সবুজ সোসাইটির প্রজেক্ট অফিসার মোমেনা সিফা রুমকি সভার লক্ষ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে নাগরিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার সহজে আদায় করতে পারবে এবং দেশজুড়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পর্যটনের নতুন সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে বরিশাল

অপূর্ব অপু,সময় টেলিভিশন, বরিশাল ব্যুরো ::  ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল। ব্রিটিশ যুগে বরিশালকে বলা হতো প্রাচ্যের ভেনিস। প্রকৃতিই যেন এক অনন্য রূপে গড়েছে কীর্তনখোলার পাড়ের বরিশালকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত একসঙ্গে দেখার দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। রয়েছে বরগুনার সবুজ বন, ভোলার চর কুকরিমুকরিসহ নানা সৌন্দর্য। প্রকৃতির এতসব লীলাভূমিকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন শিল্পের অপার দ্বার উন্মোচন হয়েছে বিভাগটিতে। তবে কাঙ্ক্ষিত উদ্যোগের অভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সেই সম্ভাবনা।

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়, হয়ত মানুষ নয় হয়তোবা শঙ্খচিল শালিকের বেশে….। শুধু ধানসিঁড়িই নয়, বরিশালকে রূপবতী করেছে কীর্তনখোলা, পায়রা, সন্ধ্যা, সুগন্ধা, বিশখালি, আগুনমুখার মতো নান্দনিক নামের বেশ কয়েকটি নদী। ঔপনিবেশিক যুগে বরিশাল হয়ে উঠেছিল বাংলার আধুনিকতার প্রাণকেন্দ্র।

বরিশাল শহর থেকে মাত্র ১১ কিলোমিটার দূরে মাধবপাশা দুর্গা সাগরদিঘি। ৫৫ একর জায়গা জুড়ে বিস্তীর্ণ দিঘিটিকে একনজর দেখতে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। সেখানে থেকে একটু এগুলেই চোখজুড়ানো বিভাগের সবচেয়ে নান্দনিক মসজিদ, বায়তুল আমান জামে মসজিদ। আছে আড়াইশ বছরের পুরানো গ্রিক স্থাপত্য শৈলীর অনুকরণে স্থাপনা, শহরের বগুড়া রোডে- অক্সফোর্ড মিশন চার্চ। দেখতে একতলা হলেও উচ্চতায় প্রায় ৫ তলা ভবনের সমান। শহর থেকে দক্ষিণে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরত্বে তালতলি এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে যে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে, তা এখন আরেক দর্শনীয় স্থান।

রাফি নামে এক পর্যটক জানান, বরিশালের অধিকাংশ পর্যটন এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েছে। যেমন রাস্তাঘাট অনুন্নত তেমনি অভাব রয়েছে সড়কবাতির। সরকার এ বিষয়ে নজরদারি বাড়াবে বলে আশা পর্যটকদের।

কুয়াকাটা দেশের একমাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখা যায়। এ সৈকতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভ্রমণের আরেক নতুন স্পট ‘চর বিজয়’। লাল কাঁকড়া ও পরিযায়ী পাখিদের মিলন মেলায় জায়গাটি মুখরিত থাকে প্রতিটি মুহূর্ত। সৈকত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব কোণে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা চরটিতে বাড়ছে পর্যটক।

আরিফ নামের এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় কুয়াকাটার দিকে আরও নজর দেয়া উচিত সরকারের। সরকারি উদ্যোগ বাড়লে আরও পর্যটক বান্ধব হয়ে উঠবে কুয়াকাটা।

দ্বীপ জেলা ভোলা প্রকৃতিপ্রেমীদের মন ভোলাবে তার অরুপ সৌন্দর্যে। জেলার চর কুকরীমুকরীতে প্রতিদিন ভিড় করেন হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী। আকাশের বুকে অতিথি পাখির ছুটে চলার নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে নিজেকেও দুরন্ত করে মন। একইরকম রূপ মনপুরা ও ঢালচরেও।

তবে প্রতিবছরই পর্যটক সংখ্যা বাড়লেও, বাড়েনি কাঙ্ক্ষিত সুযোগ সুবিধা। বেসরকারি উদ্যোগে কিছু রেস্টহাউজ থাকলেও সরকারি কার্যক্রমে ভাটা। আবিদ নামে এক পর্যটক জানান, সম্ভাবনাময় এই জায়গা শুধু সরকারের উদ্যোগের অভাবে ভোগান্তিতে রয়েছে পর্যটকরা। আশা করছি সরকার দৃষ্টি দেবে।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মিতালী নিয়ে বরগুনার হরিণঘাটা ইকোপার্ক এবং ট্যাংরাগিরি ইকো পার্কের মায়ায় পড়তে হবে যে কাউকে। জেলার তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলায় সম্ভাবনাময় পর্যটনের দ্বার উন্মোচন করেছে সবুজ বন। তালতলী উপজেলায় রয়েছে ২০০ বছরের পুরোনো আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় উপাসনালয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট ট্যাংরাগিরি বনাঞ্চল এবং এ বনে অবস্থিত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র। এছাড়াও রয়েছে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। পাথরঘাটা উপজেলায় হরিণঘাটা ইকোপার্ক লালদিয়া চর বিহঙ্গ দ্বীপ রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমৃদ্ধ এই স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় স্থান।

তবে নানা সংকটে বিকশিত হচ্ছে না জেলার পর্যটন শিল্প। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আরিফ খান বলেন, তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্ক, দুইশ’ বছরের পুরোনো রাখাইন আদিবাসীদের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দর্শনীয় উপাসনালয়, শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইকোপার্ক, লালদিয়া চর, বিহঙ্গ দ্বীপ, বরগুনার সুরঞ্জনা ইকো ট্যুরিজম অ্যান্ড রিসোর্ট রয়েছে। এসব জায়গাগুলো ভ্রমণের জন্য উৎকৃষ্ট মানের। কিন্তু সরকারের এদিকে নজর নেই। যে কারণে এসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ স্থানগুলোর ভগ্নদশা।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ সময় পর স্বস্তি, নীল জলরাশিতে মাতোয়ারা পর্যটকরা

এগুলোকে সংস্কার করলে বরগুনা জেলার পর্যটন শিল্প এগিয়ে যাবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে অনেকটা এগিয়ে থেকেও বিকশিত হচ্ছে না বরিশাল বিভাগের পর্যটনশিল্প। এ ক্ষেত্রে সরকারের উদাসীনতাকে দুষছেন সংশ্লিষ্টরা। জেলা পর্যটন উন্নয়ন উদ্যোক্তা কমিটির সভাপতি সোহেল হাফিজ বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা পর্যটনের বিষয়ে সচেতন নয়। তাছাড়া সরকারেরও এ বিষয়ে উদাসীনতা রয়েছে। এখানে উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে না। আবার উদ্যোক্তা তৈরির জন্য কোনো উদ্যোগও নেই। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পর্যটকরা এখানে আসলে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হন। থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা নেই। যাতায়াত ব্যবস্থার করুন অবস্থা। এজন্য সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেরও প্রয়োজন। ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য মৌলিক কিছু চাহিদা পূরণ করলেই জেলাটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে।

ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছাদুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ও পর্যটকবান্ধব স্থানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। সরকারি উদ্যোগের কারণে প্রতিনিয়ত আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে পর্যটন এলাকাগুলো। দ্রুত এ বিষয়ে আরও উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আকাশ ও সড়ক পথের পাশাপাশি রাজধানী থেকে বরিশালের ৬ জেলায় আসতে নদী পথের বিলাসবহুল লঞ্চ এখনও পছন্দের তালিকায় এ অঞ্চলে ঘুরতে আসা পর্যটকদের।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫