নুরের সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুর এর সুচিকিৎসার জন্য প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিদেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নুরের সহধর্মিণী মারিয়া আক্তার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, নুরের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নাকের হাড় ভাঙা এবং চোয়াল ও মেরুদণ্ডে আঘাত হয়েছে। সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দেশ দেন নুরকে বিদেশে পাঠানোর জন্য। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আমরা সকলেই স্তম্ভিত। নুরের সুচিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চলছে।”

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, হামলার ঘটনা তদন্তে বিচারপতি আলী রেজার নেতৃত্বে এক সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকালের মধ্যেই গেজেট প্রকাশিত হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে কমিটি তাদের কাজ সম্পন্ন করবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশ-পাকিস্তান: বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশে ১৩ বছর পর শীর্ষ পর্যায়ের পাকিস্তানি সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এসে বাণিজ্য ও কূটনীতিতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন।

শীর্ষ পর্যায়ের এই সফর মূলত কূটনৈতিক ও সামরিক সংযোগের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলাফল। গত এক বছরে বিশেষ করে বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তনের পর পাকিস্তান-ঢাকার সম্পর্ক দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠেছে। ইসহাক দার বলেন, “দুই দেশের তরুণরা হাত মিলিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে, স্বপ্ন ভাগাভাগি করবে। এটি হবে অংশীদারিত্বের নতুন অধ্যায়।”

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কাজে লাগাতে চায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দিলওয়ার হোসেন বলেন, “পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ ১৯৭৫ সালের পরবর্তী কৌশলগত সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা।”

সফরের সময় দুই দেশের কর্মকর্তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আবদুল বাসিত বলেন, “২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের সমস্যাগুলো দক্ষতার সঙ্গে সামলাতে হবে।”

অর্থনৈতিকভাবে, বাংলাদেশ ৬% প্রবৃদ্ধি রাখলেও পাকিস্তানের প্রবৃদ্ধি ২.৫%। ২০২৪ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশে ৬৬১ মিলিয়ন ডলার পণ্য রপ্তানি করেছে, বিপরীতে আমদানি মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ডলার। দু’দেশের সম্মিলিত জনসংখ্যা ৪৩০ মিলিয়ন, যা পশ্চিম ইউরোপের দ্বিগুণেরও বেশি।

বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে তুলা, টেক্সটাইল, চাল, সিমেন্ট, ফল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আমদানি করতে পারে। পাকিস্তান বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্য, কেমিক্যাল, হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড ও তামাকজাত দ্রব্য আমদানি করতে পারে।

তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এখনো দুই দেশের আস্থায় বাধা। বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাইছে, পাশাপাশি দেশটির দুই লাখেরও বেশি উর্দুভাষী মুসলমানের নাগরিক অধিকার ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভাগাভাগি এখনও সমাধানহীন।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, অতীত ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, তবে কূটনীতি গতিশীল। অর্থনীতি, কূটনীতি ও সংস্কৃতিতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অতীতের ক্ষত নিরাময়ও চলতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাবেক আইজিপি মামুন ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চাইলেন

সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তার মাধ্যমে সত্য উদঘাটিত হলে বাকি জীবনটা অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পাবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এর সাক্ষীর ডায়াসে দাঁড়িয়ে, অশ্রুসজল চোখে গণহত্যার শিকার পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন সাবেক এই পুলিশপ্রধান। তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

আইজিপি মামুন বলেন, “আমি ৩৬ বছর পুলিশের চাকরি করেছি। চাকরি জীবনে কখনও কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে শেষ পর্যায়ে এত বড় গণহত্যা আমার দায়িত্বে সংঘটিত হয়েছে। এর দায় আমি স্বীকার করছি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গণহত্যার স্বীকার প্রত্যেক পরিবার, আহত ব্যক্তি ও দেশবাসীর কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আল্লাহ যদি আমাকে আরও হায়াত দান করেন, সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে বাকি জীবনটা অপরাধবোধ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।”

সাবেক আইজিপি বলেন, “বৈষম্যরোধী আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে সরকারের আদেশে ছাত্র-জনতার ওপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ ও নিহত-আহত করার ঘটনায় আমি লজ্জিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য বিবেকের তাড়নায় আমি রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান সহ অন্যান্যরা।

সাক্ষ্যগ্রহণের ১১তম দিন আজ শেষ হয়েছে। জেরার জন্য আগামীকাল বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বেলা পৌনে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত আইজিপি মামুনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রাজধানীর মৌচাকে মসজিদে আগুন, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে

রাজধানীর মৌচাক এলাকায় একটি মসজিদে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা ১২ মিনিটের দিকে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করছে।

মৌচাক মার্কেট সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরী স্কুলের পাশের মসজিদে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে দুটি ইউনিট কাজ করছে। তবে, আগুন লাগার সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

আঞ্চলিকভাবে এলাকায় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আফগানিস্তানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১৪১১, আহত ৩২৫১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৪১১ জনে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া অন্তত ৩,২৫১ জন আহত এবং ৮,০০০-এর বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্প রবিবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ৮ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষভাবে কুনার প্রদেশের কয়েকটি গ্রাম মাটির নিচে চাপা পড়ে। এতে সড়ক ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

ধ্বংসস্তূপে রাস্তা বন্ধ থাকায় এবং পাহাড়ি ভূখণ্ডের কারণে স্থলপথে উদ্ধার কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে।

এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহ করা প্রয়োজন বলে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলি সতর্ক করেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আ. লীগের হামলার চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেবে বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যে কোনো সময় আওয়ামী লীগের কেউ বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরায় বিএনপির খাল পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি বলেন, “দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমরা আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই চালাব।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালালেও ভারতে গিয়ে শয়তানি করছেন, কিন্তু যদি আওয়ামী লীগের কেউ আমাদের ওপর হামলা করতে আসে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।”

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “এখন শুধু স্লোগানের রাজনীতি নয়, শহীদ জিয়ার আদর্শ ধারণ করে রাজনীতি করতে হবে। ছাত্র সংসদ নির্বাচন বা অন্য কোনো স্থানে অশান্তি করা যাবে না।”

অতীতের ঘটনাগুলো ভুলে পুলিশকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজবের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দেন।

ফখরুল আরও উল্লেখ করেন, “ড. ইউনূস রাজনীতি করতে আগ্রহী নন, তিনি দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনবে বিএনপি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ইউরোপের সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষুব্ধ ইরান, প্রতিক্রিয়া দিতে প্রস্তুত তেহরান

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ট্রায়ো—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) বা স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম সক্রিয় করার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইরান শিগগিরই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করবে।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) পার্লামেন্টে ক্বালিবাফ বলেন, ইউরোপীয় তিন দেশ জেসিপিওএ-এর শর্ত পালন করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা ইরানের মতে অবৈধ। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও চীনের মতো স্থায়ী সদস্যরা ইতিমধ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপকে স্বীকৃতি দেয়নি।

ক্বালিবাফ উল্লেখ করেন, “ইউরোপীয় দেশগুলো স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় করার অধিকার রাখে না। তবুও তারা এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেক্ষেত্রে ইরানকে প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিতে, যাতে অবৈধ এই উদ্যোগের খরচ বৃদ্ধি পায় এবং তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা যায়। ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত শিগগিরই কার্যকর করা হবে।”

এর আগে, ইউরোপীয় তিন দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে স্ন্যাপব্যাক মেকানিজম সক্রিয় করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ থেকে সরে আসার পর এটি ইরানের বিরুদ্ধে ইউরোপের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইরান এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অবৈধ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান সতর্ক করেছে, ইউরোপ নিজেই চুক্তি ভঙ্গ করেছে, তাই স্ন্যাপব্যাক সক্রিয় করার কোনো অধিকার নেই। এ ধরনের পদক্ষেপের পর ইরান পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র সঙ্গে সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডাকসু নির্বাচন স্থগিতাদেশ নিয়ে আপিল বিভাগে শুনানি বুধবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামীকাল বুধবার আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশ ওইদিন পর্যন্ত বহাল রেখেছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদালতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট ডাকসু নির্বাচন আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখার আদেশ দেন। তবে ওই দিনই চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেন।

ডাকসু নির্বাচনে এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে ‘অপরাজেয় ৭১’, ‘অদম্য ২৪’ ও বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বি এম ফাহমিদা আলম গত ২৮ আগস্ট হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ ও বামপন্থি সংগঠনসহ অন্তত ১০টি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৬২ জন। সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সবচেয়ে বেশি ২১৭ জন প্রার্থী। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




হাইকোর্ট রায়: বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে, পদোন্নতি ও বদলি বিষয়ে নতুন নির্দেশনা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব এককভাবে সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে বলে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেছেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। একইসঙ্গে, নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে পঞ্চদশ সংশোধনী ও চতুর্থ সংশোধনীর বিধান বাতিল করা হয়েছে।

হাইকোর্ট আগামী তিন মাসের মধ্যে আলাদা সচিবালয় গঠনের নির্দেশও দিয়েছে। রায়ের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব তারেক রহমান, যিনি বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, “বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।”

এর আগে সকালে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের রায় ঘোষণা শুরু হয়। ১৩ আগস্ট এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন হয়। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

রিটটি গত বছরের ২৫ আগস্ট দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে ১০ জন আইনজীবী মূল সংবিধানের ১৯৭২ সালের ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। তবে ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছিল। হাইকোর্টের এ রায় অনুযায়ী, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃস্থাপিত হবে এবং নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমে আসবে।

 

আল-আমিন



কুয়াকাটায় বন উজাড়ের হুমকি, গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন সংকটে

কুয়াকাটার অন্যতম সংরক্ষিত বনাঞ্চল চর গঙ্গামতি আবারও বন উজাড়ের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ কেটে যাচ্ছে এবং তাদের গুঁড়ি ও ডালপালা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেখা যাচ্ছে। বন উজার কার্যক্রম দিন-রাত নির্বিচারে সংঘবদ্ধভাবে চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বন উজাড় হলে শুধু গাছই নষ্ট হবে না, বরং উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং সমুদ্রের ঢেউয়ের আঘাত ঠেকাতে বনাঞ্চলের গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অবৈধভাবে গাছ কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে ভবিষ্যতে উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনাঞ্চল থেকে কাটা গাছ কখনো দিনের আলোয় আবার কখনো রাতের অন্ধকারে বহন করা হচ্ছে। কেউ সমুদ্রের স্রোতে ভেসে আসা গাছ বিক্রি করছে, আবার কেউ বনাঞ্চলের বড় গাছ কেটে পাচার করছে। এতে সাধারণ মানুষসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পরিবেশ রক্ষা সংস্থার একজন প্রতিনিধির মতে, বনাঞ্চল ধ্বংস হলে উপকূলীয় ভাঙ্গন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তীব্র হবে। দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝড়ে ভেঙে বা শুকিয়ে যাওয়া গাছ কেটে নেওয়া হলে স্থানীয়রা সচেতন থাকলেও, অবৈধভাবে গাছ কাটলে প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে। ইতোমধ্যেই কিছু কাঠ জব্দ করা হয়েছে এবং গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তালিকা তৈরি ও মামলা প্রক্রিয়া চলমান।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”