নার্সিং কলেজের হোস্টেলে পলেস্তারা খসে ছাত্রী আহত, বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা

বরিশাল নার্সিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে পলেস্তারা খসে পড়ে রিমি আক্তার নামে এক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার ভোরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম) চত্বরে অবস্থিত নার্সিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত রিমি ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনভর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে শতভাগ নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা, গভীর রাতে হোস্টেলে বহিরাগত প্রবেশ বন্ধসহ নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানান।
সহপাঠীদের বরাতে জানা যায়, ঘটনার সময় রিমি নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে হঠাৎ ছাদের বিশাল অংশ ভেঙে তার ওপর পড়ে গুরুতর আঘাত লাগে। এরপর সহপাঠীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি বলেন, “নার্সিং কলেজের ছাত্রী হোস্টেলসহ পুরুষ হোস্টেলগুলো দীর্ঘদিন সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে। ফাটল ধরে পলেস্তারা খসে পড়ছে নিয়মিত। অথচ কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গভীর রাতে হোস্টেল চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশের ঘটনা ঘটছে। এমনকি গরু চরানো ও রাতের বেলায় গরু নেওয়ার জন্য লোকজন ঢুকছে। বিষয়টি একাধিকবার অধ্যক্ষকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। তারা হুঁশিয়ারি দেন, নিরাপদ আবাসন ও ক্যাম্পাস নিশ্চিত না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
বরিশাল নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ হোসনে আরা আক্তার রুমি শিক্ষার্থীদের দাবিকে যৌক্তিক বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, হোস্টেল সংস্কারের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। আগেও চিঠি দেওয়া হয়েছিল এবং আংশিক সংস্কার হয়েছে। নতুন করে সংস্কারের জন্য আবারও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হোস্টেলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








