ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলে হত্যা করল মা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর মোল্লা বাড়ি এলাকায় এক নারীকে তার নিজ সন্তান হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম শেফালী বেগম (৬২)। তিনি ওই গ্রামের আহম্মদ খানের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত ছেলে সাগর খান (৩২) পরিবারের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। স্থানীয়দের জানান, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাগর দাও দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শেফালী বেগমকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই সাগরকে আটক করা হয়েছে। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে পক্ষপাত দেখলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে। রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা আইনশৃঙ্খলা, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কেউ যদি তার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতিত্বের কারণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তা প্রমাণিত হলে তার পরিণতি কঠোর হবে। ভোটাধিকার সংরক্ষণে কমিশন সবকিছুকে খোলামেলাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পিছপা হবে না।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, “নির্বাচনে সকলকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে। আমাদের কাছে কোন প্রার্থী বড় বা ছোট, হেভি ওয়েট বা লাইট ওয়েট নয়। দায়িত্ব পালনে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না, তবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেই হবে।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ভোটগ্রহণে কোনো অনিয়ম, জালিয়াতি বা পক্ষপাত ধরা পড়লে তা সহজভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে।

সভায় রিটার্নিং অফিসার সভাপতিত্ব করেন। জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংখ্যা বেড়ে ৩৩০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এটি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন, এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।

ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দল নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে। কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।”

বর্তমানে যারা এখনও প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা কমলো

দেশে জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা হ্রাস করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, এই নতুন দাম ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দামের বিবরণ অনুযায়ী:

  • ডিজেল: ১০২ টাকা থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা
  • কেরোসিন: ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা
  • পেট্রোল: ১১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ১১৬ টাকা
  • অকটেন: ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ভর্তুকি প্রদান থেকে বের হয়ে আসার সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি জারি করা হয়েছে “জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকা”। এর মাধ্যমে মার্চ থেকে জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।

বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বেশি হলেও দেশের ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি ব্যবহৃত পেট্রোল ও অকটেনকে বিলাসী দ্রব্য হিসেবে ধরে রাখা হয়। এজন্য অকটেনের দাম নির্ধারণে ডিজেলের সঙ্গে লিটার প্রতি ন্যূনতম ১০ টাকা পার্থক্য বজায় রাখার জন্য ‘α’ ফ্যাক্টর প্রযোজ্য হয়।

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ইতিহাস উল্লেখযোগ্য। ২০২২ সালের ৫ আগস্ট বিপিসি লিটার প্রতি ডিজেল ও কেরোসিন ৩৪ টাকা এবং পেট্রোল ও অকটেন ৪৬ টাকা বৃদ্ধি করেছিল। তখন ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা, পেট্রোল ও অকটেন ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সেই সময় গণপরিবহনের ভাড়া সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর আগের নটিশ অনুযায়ী ২০২১ সালের নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি ৬৫ টাকা থেকে ৮০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল, তখনও গণপরিবহনের ভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের দাম ও ভর্তুকি নীতি পরিবর্তনের কারণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশীয় ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণের দাম আবার বাড়ল, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দাম ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ পড়বে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা

এর আগে একই দিনে সকালে বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্য ক্যারেটের দামও কমানো হয়েছিল— ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ এখন আবার আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে দাম ওঠানামার ফলে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফাস ফাইন্যান্স শেয়ার সপ্তাহের সর্বোচ্চ পতনের শীর্ষে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ বিদায়ী সপ্তাহে (২৫-২৯ জানুয়ারি, ২০২৬) লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আর্থিক খাতের ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এর শেয়ারের দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিনিয়োগকারীদের কম আগ্রহের কারণে কোম্পানিটির শেয়ার ডিএসইর সাপ্তাহিক দাম কমার তালিকার শীর্ষে উঠেছে।

ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনা সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ফাস ফাইন্যান্সের শেয়ার দর ২৮.৭৪ শতাংশ কমেছে। আগের সপ্তাহের সমাপনী মূল্য ছিল ০.৮৭ টাকা, যা কমে দাঁড়িয়েছে ০.৬২ টাকায়। এই পতনের কারণে কোম্পানিটি সাপ্তাহিক তালিকার শীর্ষে অবস্থান করেছে।

এছাড়া, ডিএসইতে সাপ্তাহিক দাম কমার শীর্ষ তালিকায় অন্যান্য কোম্পানিগুলোর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখযোগ্যভাবে, পিপলস লিজিং শেয়ার দর ২৮.৭৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্স ১৭.২৮ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সট ১১.৫৪ শতাংশ, রানারঅটোর ১০.৯৯ শতাংশ, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন ৯.৯৪ শতাংশ, ভিএফএস থ্রেড ডাইং ৯.৮৪ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ৯.২৩ শতাংশ, প্রিমিয়ার লিজিং ৮.০৬ শতাংশ এবং জিকিউ বলপেন ৬.৬২ শতাংশ পতিত হয়েছে।

সপ্তাহের এই পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা স্বরূপ। বিশেষ করে আর্থিক খাতের শেয়ারে দর কমার ফলে বাজারে সতর্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি, কারণ দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রিমার্কের আধুনিক প্যাকেজিং ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ারে আলোচিত

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ফেয়ার-২০২৬ এ নজর কেড়েছে রিমার্ক এলএলসি ইউএসএ-এর অ্যাফিলিয়েটেড প্রতিষ্ঠান ‘রিমার্ক সুপার প্যাক’। ফেয়ারে তারা বিশ্বমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্যাকেজিং প্রদর্শন করেছে, যা দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রশংসা কুড়িয়েছে।

দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এসব প্যাকেজিং ও মোল্ড প্রদর্শন করে অংশগ্রহণকারীরা মুগ্ধ হয়েছেন। মেলায় বিপুল পরিমাণ অর্ডারের পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির উল্লেখযোগ্য মোল্ড অর্ডার নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অংশগ্রহণকারীরা জানিয়েছেন, এত উন্নত প্রযুক্তির প্যাকেজিং দেশে তৈরি করা সম্ভব বলে তারা অবাক।

রিমার্ক সুপার প্যাকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা বলেন, “সবশেষ প্রযুক্তির প্যাকেজিং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ দেখে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।”

প্যাকেজিং বিভাগের এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর প্রকৌশলী সুমন সরকার জানান, “আমরা বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আধুনিক ডিজাইন ও আকর্ষণীয় প্যাকেজিং উপস্থাপন করেছি। দেশীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাই আমাদের পণ্য দেখে অভিভূত হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক শত অর্ডার কনফার্ম হয়েছে এবং আগ্রহ দেখিয়েছে হাজারের বেশি কোম্পানি।”

মোল্ড অ্যান্ড ডাই বিভাগের এডিশনাল এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আলি রেজা বলেন, “আমাদের প্রদর্শিত প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী পণ্য অংশগ্রহণকারীর প্রত্যাশার বাইরে ছিল। দেশেই নিজের পছন্দমতো মোল্ড তৈরির সুবিধা আমরা সম্ভব করেছি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির অর্ডার কনফার্ম হয়েছে এবং আমরা আশা করি এই খাতে সর্বোচ্চ মানের সেবা প্রদান করতে পারব।”

রিমার্কের স্টলে আসা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এরফানুল কবীর জানান, “আমি রীতিমতো অভিভূত হয়েছি। বিশেষ করে রিমার্কের নিওর, সিওডিল ও অন্যান্য পণ্যের প্যাকেজিং দেখে আমি ভেবেছিলাম এগুলো আমদানি করা হয়েছে। কিন্তু দেশেই এই মানের উৎপাদন সম্ভব, এটি সত্যিই আমাদের উৎসাহিত করেছে। এ ধরনের প্যাকেজিং ব্যবহার করলে আমাদের পণ্য রপ্তানিমুখী হওয়া সহজ হবে।”

বিপিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, “রিমার্কের প্রদর্শিত প্যাকেজিং আন্তর্জাতিক মানের। কসমেটিকসসহ অন্যান্য খাতের প্যাকেজিং এই খাতকে আরও এগিয়ে নেবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সুপার বোর্ড পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল থাইল্যান্ডে সফলভাবে অনুষ্ঠিত

সুপার বোর্ড-এর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো থাইল্যান্ডে আয়োজিত হলো সুপার বোর্ড পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল-২০২৬। ১৫ থেকে ১৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এই বিশেষ পার্টনার্স মিটে প্রায় ২০০ জন ব্যবসায়িক অংশীদার (ডিলার) অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপার বোর্ড-এর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা সদস্যরা। আয়োজনের সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পান অংশগ্রহণকারীরা। এর মধ্যে রয়েছে কোরাল আইল্যান্ড ভ্রমণ, প্যারাসেইলিং, স্কুবা ডাইভিং, পাতায়া বিচ ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক রিভার ব্রিজ ও সাফারি, মেরিন ওয়ার্ল্ড ট্যুর।

ব্যবসায়িক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সমন্বয় সাধনের জন্য ব্যাংককের অ্যাম্বাসেডর হোটেল কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ বিজনেস সেশন। ফেস্টিভ্যালের সমাপনী দিনে গত বছরের সেলস প্রোমোশনাল প্রোগ্রামের রিওয়ার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অংশীদারদের অবদানকে সম্মান জানানো হয়।

সুপার বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পার্টনার্স ফেস্টিভ্যাল ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও গতিশীল করবে। অংশীদারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে কিনলো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

নিলামের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ঢুকেছে আরও ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে। এই নিলামের ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাটঅফ মূল্যও নির্ধারিত হয় একই হিসাবে, যা নিলামের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।

এর আগে চলতি জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দফায় মোট ৭৯৮ মিলিয়ন বা ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনাকাটা করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করে চলেছে। এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট কেনা হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সহজলভ্য হয়।

বৈদেশিক বিনিময় বাজারে নিয়মিত এ ধরনের নিলাম দেশের ব্যবসায়িক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়ক। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মুদ্রানীতি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শ্রীকাইল গ্যাস প্রকল্প বাতিল, বাড়ছে গ্যাস সংকটের শঙ্কা

শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ধরে রাখতে নেওয়া ‘ওয়েলহেড গ্যাস কম্প্রেসর ক্রয় ও স্থাপন’ প্রকল্পের দরপত্র মাঝপথে বাতিল হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শ্রীকাইলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কূপের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চয়তায় পড়বে, তেমনি চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

বাপেক্সের অধীনে শ্রীকাইল ২, ৩, ৪ ও ইস্ট–১ কূপে দীর্ঘদিন গ্যাস উত্তোলনের ফলে কূপমুখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর ফলে ট্রান্সমিশন লাইনে প্রয়োজনীয় ইনলেট চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যা সমাধান ও উৎপাদন ধস ঠেকাতে প্রতিটি ১০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কম্প্রেসর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, যা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতো।

প্রকল্পটির কাজ পায় রোমানিয়ার প্রতিষ্ঠান এসসি ইউরো গ্যাস সিস্টেম এসআরএল। ২০২৪ সালের মার্চে চুক্তি সম্পাদনের পর স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বিদেশি অংশে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে বলে অভিযোগ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি মনিরুল হুদা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিপরীতে আংশিক বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। বিল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার দাবি, প্রকল্পে বিলম্বের জন্য বাপেক্সই মূলত দায়ী। চুক্তির দুই মাসের মধ্যে এলসি খোলার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে পাঁচ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে। এক বছরের এলসির মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পছন্দের কোনো পক্ষকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ কারণে তারা আদালতে রিট দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক ও বাপেক্সের জিএম হাসানুজ্জামান সিকদার দাবি করেছেন, চুক্তি সরাসরি বাতিল করা হয়নি। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা আর চুক্তির সঙ্গে নেই। সে কারণেই নিয়ম মেনেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

প্রকল্প বাতিল হলে গ্যাস উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নে বাপেক্স কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন, কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে, তবে কম্প্রেসর না বসালে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নতুন করে সমীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। আগামী দুই বছরে বড় পরিসরে আমদানি বাড়ানোর সুযোগও সীমিত। এমন অবস্থায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিকে শ্রীকাইল থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হতো। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সেই উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই ধস ঠেকাতেই মূলত কম্প্রেসর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাতিলের আগে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জরুরি ছিল। অন্যথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশকে আরও গভীর জ্বালানি সংকটে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম