বরিশালে শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক লুট, আটক এক

সিলেটের সাদা পাথর লুটের ঘটনার রেশ না কাটতেই এবার আলোচনায় এসেছে বরিশালের শহর রক্ষা বাঁধের ব্লক লুট। কীর্তনখোলা নদীতীরের সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মহাবাজ (উলালঘুনী) এলাকায় বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে এ লুটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলারসহ একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় রাতের আঁধারে ট্রলারযোগে ব্লক চুরি হচ্ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মচারী মিলনসহ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে প্রভাবশালীদের ভয়ে এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি কেউ।

ঘটনার রাতে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারিক সংবাদকর্মীদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে লুটের সময় ট্রলারসহ চালক শাহে আলম হাওলাদারকে আটক করেন। পরে তাকে কাউনিয়া থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আটক শাহে আলম জানান, তিনি রাজিব নামের এক ব্যক্তির ট্রলারের চালক। সোহাগ ও কবির গাজী নামের দু’জন ব্যক্তি তাকে ভাড়ায় নিয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন, ঠিকাদারের নির্দেশে ব্লকগুলো নেওয়া হচ্ছে। তবে ব্লকের গন্তব্য নিয়ে চালক ও অপর এক ব্যক্তির বক্তব্যে বিরোধ দেখা দেওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়।

স্থানীয়দের মতে, লুট হওয়া ব্লকগুলো ভেঙে পাথর বানিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টই হচ্ছে না, বরং শহর রক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

কাউনিয়া থানার ওসি মো. নাজমুল নিশাত জানান, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য যারা এ চক্রের সঙ্গে জড়িত তাদেরও শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে।

খেলাফত মজলিস, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন মহলের অভিযোগ—এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায় প্রায়শই অন্য রাজনৈতিক দলের ওপর চাপিয়ে প্রকৃত অপরাধীরা আড়াল হয়ে যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, কীর্তনখোলা নদীর ভয়াবহ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যে বাঁধের বিভিন্ন অংশ ধসে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর মধ্যেই ব্লক লুটের ঘটনা নগরবাসীর সেই উদ্বেগকে চরম আতঙ্কে রূপ দিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




পাকিস্তান ও সৌদির প্রতিরক্ষা চুক্তি, অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার

পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশ সৌদি আরব বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) একটি যুগান্তকারী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি দুই দেশের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

দুই দেশের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানিয়েছে, চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব এবং অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে করা হয়েছে। চুক্তির মধ্য দিয়ে উভয় দেশ নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে বৃদ্ধি করেছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে রিয়াদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা বিষয়ক সহমতের গুরুত্ব এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠকে উভয় দেশ তাদের অভিন্ন স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

একজন জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তি বহু বছরের আলোচনার ফল। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ। পরমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্লেখ করেছেন, চুক্তি বিস্তৃত প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যে সব ধরনের সামরিক প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে।

এই চুক্তি আরব লীগ ও ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর যৌথ বৈঠকের দুই দিন পর স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি কাতারের দোহায় ইসরায়েলের হামলার পর আঞ্চলিক দেশগুলো বৈঠক আহ্বান করেছিল। ওই হামলায় হামাসের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হলেও, বৈঠকে মার্কিন-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিষয়ক আলোচনা হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী প্রতিরক্ষা সমঝোতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এছাড়া, এটি দু’দেশের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতাকে আরও দৃঢ় করবে এবং আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বন কর্মকর্তাকে আটক, অতঃপর

সাময়িক বরখাস্তের পর রাতের আঁধারে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল সরানোর সময় ১৭ বিয়ে কান্ডের সেই বরখাস্তকৃত বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ জনরোষ থেকে তাকে (কবির) বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল কার্যালয়ের সামনে থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পুলিশ রাতেই তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন-১৭ বিয়ে কান্ডের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের পর ১৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত নয়টার দিকে কোয়ার্টার থেকে পিকআপযোগে নিজস্ব ও সরকারি মালামাল নিয়ে কবির হোসেন পালানোর চেষ্টা করছিলেন। পরে এলাকাবাসী তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বরিশাল সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান সাকিব বলেন, দায়িত্বে থাকাবস্থায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী বিভিন্ন সময় ধার বাবদ আমার কাছ থেকে ছয় লাখ ৯৬ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয়দের কাছ থেকেও সে বিভিন্ন সময় টাকা নিয়ে আর পরিশোধ করেনি। হঠাৎ করেই বুধবার দিবাগত রাতে সরকারি বাংলো থেকে মালামাল নিয়ে তিনি চলে যাচ্ছিলেন। খবর পেয়ে আমিসহ অন্য পাওনাদাররা এসে তাকে আটক করেছি। তাছাড়া তিনি পিকআপযোগে যে মালামাল নিচ্ছিলেন তার মধ্যে সরকারি কিছু মালামালও রয়েছে। সেগুলো আমি নামিয়ে রেখেছি।

বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন বাংলো থেকে সরকারি মালামাল নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এছাড়া তিনি ওই কর্মকর্তার কাছে টাকা পাবেন। এলাকার বেশ কিছু মানুষও তার কাছে টাকা পাবে বলে আটকে রেখেছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, উল্লেখিত অভিযোগের ভিত্তিত্বে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই বন কর্মকর্তাকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনেন।

তবে পালিয়ে যাবার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাময়িক বরখাস্তকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী। এ বিষয়ে তিনি বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে উল্টো সাংবাদিকদের অভিশাপ এবং হুমকি দেন।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার ওসি মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন-বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে রাতেই তাকে (কবির) ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে নানা প্রলোভনে ১৭ বিয়ে করে দেশব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করা বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কবির হোসেন পাটোয়ারীকে ১৬ সেপ্টেম্বর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

জানা গেছে, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারণা, যৌতুক দাবি এবং নির্যাতনের অভিযোগ এনে বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন খুলনা জেলার সোনাডাঙা এলাকার বাসিন্দা খাদিজা আকতার।

তার আগে ২০১৯ সালে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন তার (কবির) আরেক স্ত্রী বাগেরহাটের মোংলা এলাকার নাসরিন আকতার দোলন। সেই মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।

সবশেষ গত ৯ এপ্রিল দেয়া স্ত্রীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সাইদুর রহমান বরিশালে সরেজমিন তদন্তে আসেন। নগরীর কাশিপুরে কোস্টাল সার্কেলে বসে অভিযোগকারী দুই স্ত্রী, তাদের স্বজন এবং বন কর্মকর্তাদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন।

ওই দিনই বিয়েপাগল বন কর্মকর্তার বিচার দাবিতে বন বিভাগের কোস্টাল সার্কেল অফিসের সামনে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী স্ত্রী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে প্রাথমিক শাস্তির অংশ হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, চাঁদপুর জেলার তুষপুর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাটোয়ারীর ছেলে কবির হোসেন এর আগে ঢাকা, খুলনা, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত ছিলেন। বন বিভাগের উচ্চ পদ ব্যবহার করে ফাঁদে ফেলেন অনেক নারীকে। এ কারণে একই অভিযোগে পূর্বে আরও দুইবার সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বন কর্মকর্তা কবির হোসেন। তবে পতিত আওয়ামী সরকারের সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী দীপু মনির সুপারিশে তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।

অপরদিকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ছাড়াও ১৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল মহানগর আদালতে কবির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু। আদালতের বিচারক মামলাটি পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবপদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ অনুযায়ী এ রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) কাছে দেড় বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ নেমে গিয়েছিল ৩০ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলারে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবারও ৩১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) বা ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার। মাসিক গড়ে সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেব করলে এই রিজার্ভ দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের রিজার্ভ অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় কভার করতে পারলেই তা নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

রিজার্ভের তিনটি ধরন রয়েছে। প্রথমত, গ্রস রিজার্ভ—যেখানে পুরো সংরক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব থাকে। দ্বিতীয়ত, নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ—যেখানে স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ—যা প্রকাশ করা হয় না আনুষ্ঠানিকভাবে। ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ গণনায় ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা, ক্লিয়ারিং হিসাবে থাকা অর্থ, এসডিআর খাতের ডলার এবং আকুর বিল বাদ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। কিন্তু বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ নানা চাপ, কোভিড-পরবর্তী আমদানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি, বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি এবং ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে রিজার্ভ দ্রুত কমতে থাকে। এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি শুরু করে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ ফের বাড়ায় দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেলেও এখনও চাপ কাটেনি। বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আমদানি ব্যয়, জ্বালানি খাতের চাপ ও বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো—এসব ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যবস্থাপনা না করলে রিজার্ভ আবারও চাপে পড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রিজার্ভের সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফ-এর কাছে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার আবেদন করে। বর্তমানে ধাপে ধাপে সেই ঋণের অর্থ ছাড় করছে সংস্থাটি।

অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিজার্ভের পুনরুদ্ধার আশাব্যঞ্জক হলেও এ ধারা টিকিয়ে রাখতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করতে হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

স্বৈরাচারের পতনের পরও তাদের নানা ষড়যন্ত্র থেমে নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “স্বৈরশাসনের পতন ঘটলেও তাদের কুমতলব শেষ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা তার প্রমাণ দেখেছি। তাই এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে যেকোনো ধরনের উস্কানি, ষড়যন্ত্র বা অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে এবং জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে শুভেচ্ছা জানিয়ে আরও বলেন, “ঐতিহ্যগতভাবেই বাংলাদেশে দুর্গোৎসব আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রকারীরা এ উৎসবকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করেছে, যা দুঃখজনক। তবে দেশের মানুষ সবসময় ঐক্যবদ্ধভাবে সে অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে।”

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখার জন্য আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এই সম্প্রীতি বিনষ্টে যেকোনো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান দৃঢ়।”

তিনি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সবার সঙ্গে সমন্বয় করে দুর্গোৎসবকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের পাশে থেকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

বিবৃতিতে তিনি জনগণকে সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অটুট থাকার আহ্বান জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শেষ বলে নাটকীয় জয়, সুপার ফোরের আশা বাঁচাল বাংলাদেশ

আবুধাবির মাঠে যেন সৃষ্টি হয়েছিল এক রোমাঞ্চকর আবহ। প্রতিটি বলের সঙ্গে দর্শকদের হৃদস্পন্দন বেড়ে যাচ্ছিল, কে জিতবে—বাংলাদেশ নাকি আফগানিস্তান? শেষ বল পর্যন্ত অস্থির উত্তেজনার পর অবশেষে হাসল টাইগাররা। এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৮ রানে হারিয়ে সুপার ফোরে খেলার স্বপ্ন টিকিয়ে রাখল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে সংগ্রহ করে ৫ উইকেটে ১৫৪ রান। ইনিংসের শুরুটা দারুণ ছিল। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৩১ বলে ৫২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল চারটি চার আর তিনটি ছক্কা। তার সঙ্গী সাইফ হাসান ২৮ বলে করেন ৩০ রান। তবে অধিনায়ক লিটন দাস ব্যর্থ হয়ে মাত্র ৯ রানে ফিরেন। হৃদয় করেন ২০ বলে ২৬ রান। শামীম হোসেন, জাকের আলী ও সোহান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ফলে ভালো সূচনা সত্ত্বেও শেষ দশ ওভারে মাত্র ৬৭ রান যোগ হয়।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে আফগানিস্তান। নাসুম আহমেদ প্রথম ওভারেই উইকেট মেডেন করে সাজঘরে ফেরান ওপেনার জাদরানকে। রিশাদ হোসেনও বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন। গুরবাজ করেন ৩৫ রান, নাইব করেন ১৬, আর নবী চেষ্টা করেও দলকে টানতে পারেননি।

শেষদিকে ওমরজাই (১৬ বলে ৩০) ও রশিদ খান (১১ বলে ২০) ম্যাচে ফের উত্তেজনা নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের দরকার ছিল ১৭ রান। মুস্তাফিজুর রহমানের বল সামলাতে হিমশিম খান ব্যাটাররা। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৯ রান, কিন্তু মুস্তাফিজের নিখুঁত ডেলিভারিতে নুর আহমেদ ক্যাচ তুলে দিলে বাংলাদেশ নিশ্চিত করে রোমাঞ্চকর জয়। আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ১৪৬ রানে।

ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজ নেন ৩ উইকেট, নাসুম ২ উইকেট, তাসকিনও ২ উইকেট শিকার করেন। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন নাসুম আহমেদ।

এই জয়ে গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ করল বাংলাদেশ। সমান পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা এগিয়ে আছে নেট রান রেটে। এখন বাংলাদেশকে সুপার ফোরে যেতে হলে শ্রীলঙ্কা-আফগানিস্তান ম্যাচের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (তানজিদ ৫২, সাইফ ৩০, হৃদয় ২৬; নুর ২/২৩, রশিদ ২/২৬)
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৪৬ (গুরবাজ ৩৫, ওমরজাই ৩০, রশিদ ২০; মুস্তাফিজ ৩/২৮, নাসুম ২/১১, তাসকিন ২/৩৪)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৮ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: নাসুম আহমেদ


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শুক্রবার ২৫৬ কেন্দ্রে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ)।

এ পরীক্ষা ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে। এরপর গেট বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই দেরিতে প্রবেশ করা যাবে না। আসন বিন্যাস, সময়সূচি ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) ও টেলিটকের ওয়েবসাইটে (bpsc.teletalk.com.bd)। পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে থাকবে মোট ২০০টি এমসিকিউ। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.৫ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার সময়সীমা দুই ঘণ্টা। চারটি সেটে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে—১, ২, ৩ ও ৪। পরীক্ষার্থী যে সেট নম্বরের উত্তরপত্র পাবেন, সেই সেট নম্বরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে।

পরীক্ষার হলে বই-পুস্তক, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ব্যাগ, গহনা ও যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এসব সামগ্রী নিয়ে হলে প্রবেশ করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখক দেওয়া হবে এবং তারা প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট করে অতিরিক্ত সময় পাবেন। অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময় থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট। প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নতুন করে ডাউনলোড করতে হবে।

যেসব পরীক্ষার্থী ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্য আলাদা আসন বিন্যাস ও প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভার্সন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

বিপিএসসি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়ম, গরমিল বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীর গ্রামীণ এলাকায় ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক

পটুয়াখালীর গ্রামীণ জনগণ একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুটের পাশাপাশি ন্যাক্কারজনক ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।

গত ১৩ জুলাই কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরতলীতে এক ভয়াবহ ডাকাতি সংঘটিত হয়। ডাকাতরা বাড়ির সবাইকে হাত-পা বেঁধে নববধুকে পাশের কক্ষে নিয়ে গণধর্ষণ করে। তারা লুট করে প্রায় ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ।

এরপর ২১ আগস্ট রাতে কলাপাড়ার নীলগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিখিল কর্মকারের বাড়িতে আরেকটি দুঃসাহসিক ডাকাতি ঘটে। ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে, পরিবারের সদস্যদের মারধর ও বেঁধে রাখে এবং ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে।

দুদিন পর ২৩ আগস্ট রাতে লতাচাপলী ইউনিয়নের আলিপুর গ্রামে তিনটি বাড়িতে ডাকাতি হয়। একই রাতে গলাচিপা পৌর শহরের এক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীর বাড়িও ডাকাতদলের লক্ষ্য হয়।

অন্যদিকে, বাউফলের কাশিপুরে ডাকাতির পর পালাতে গিয়ে একজন নিহত হন এবং আরেকজন গুরুতর আহত হন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কলাপাড়ার নীলগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালামের স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, রাতে ঘুমানোও নিরাপদ নয়। পুলিশের টহল থাকলেও ডাকাতি থামছে না।

পুলিশ জানায়, নববধু ধর্ষণসহ একাধিক ডাকাতির ঘটনায় কয়েকটি চক্রের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সমীর সরকার বলেন, “ডাকাতির ঘটনায় আমাদের একাধিক অভিযান চলছে। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ।”

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় ডাকাতির ঘটনায় ২০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জুলাই-আগস্ট মাসে মামলা হয়েছে ৮টি। গ্রেফতার হয়েছেন ৪২ জন। তবে পুলিশের পরিসংখ্যানের বাইরে আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীরা ভয়ে কিংবা বিচারহীনতার আশঙ্কায় মামলা করতে পারছেন না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সকাল ১০টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জামায়াতে ইসলামী সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকটি প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং পুরো সময়জুড়ে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা চলে। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।

সাক্ষাতে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান। অপরদিকে চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক শাখার পরিচালক মি. ঝ্যাং জিংও উপস্থিত ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডেঙ্গুতে থামছেই না প্রাণহানি: একদিনে আরও ৫ মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একদিনে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৬৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ২ জন
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ১ জন
  • বরিশাল বিভাগ: ২ জন

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা

  • ঢাকা ও বরিশাল বিভাগে সর্বোচ্চ ১৩১ জন করে মোট ২৬২ জন ভর্তি।
  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ১০৫ জন
  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৯৭ জন
  • চট্টগ্রাম বিভাগ: ৯২ জন
  • রাজশাহী বিভাগ: ৩৪ জন
  • খুলনা বিভাগ: ২৯ জন
  • রংপুর বিভাগ: ৭ জন
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ৬ জন
  • সিলেট বিভাগ: ৪ জন

মোট মৃত্যুর বর্ণনা (১ জানুয়ারি থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)

  • ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন: ৭৮ জন
  • চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগ: ২১ জন করে মোট ৪২ জন
  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন: ১৭ জন
  • রাজশাহী বিভাগ: ৭ জন
  • খুলনা বিভাগ: ৫ জন
  • ময়মনসিংহ বিভাগ: ৪ জন
  • ঢাকা বিভাগ: ২ জন

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সতর্ক করেছে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জল জমতে দেবেন না এবং মশার প্রজননস্থল নির্মূল করতে হবে। রোগীর ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫