বৈদেশিক ঋণে নতুন রেকর্ড, বাংলাদেশ ছাড়াল ১১২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক ঋণ নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১১ হাজার ২১৬ কোটি ডলার)। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা।
মাত্র ছয় মাসে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, অবকাঠামো খাতের ব্যাপক প্রকল্প, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপই এই ঋণ বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ তিন মাসে বেড়েছে প্রায় ৭৩৬ কোটি ডলার। আবার গত ডিসেম্বরে ঋণ ছিল ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার, সেখান থেকে ছয় মাসে ঋণ বেড়েছে ৮৪৩ কোটি ডলার।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সরকারের নেওয়া ঋণের বড় অংশ অবকাঠামো ও উন্নয়ন খাতের জন্য ব্যয় হলেও অনেক ক্ষেত্রে অপচয় হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “ঋণ সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে পরিশোধ সক্ষমতা বাড়বে। তবে ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।”
সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলিয়ে মোট বৈদেশিক ঋণের ৮২ শতাংশ সরকারি খাতে এবং ১৮ শতাংশ বেসরকারি খাতে। ২০২৫ সালের জুন শেষে সরকারি খাতের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৩৭ কোটি ডলার, যা মার্চের তুলনায় প্রায় ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, বেসরকারি খাতের ঋণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।
গত এক দশকে বৈদেশিক ঋণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছিল ৪১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার। আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলার ঋণের মাইলফলক অতিক্রম করে।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ। সেই হিসেবে মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ এখন ৬৩৮ ডলার বা প্রায় ৭৭ হাজার ৪৩৩ টাকা। দশ বছর আগে মাথাপিছু ঋণ ছিল মাত্র ২৫৭ ডলারের কিছু বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির তুলনায় এই ঋণ এখনো সহনীয় হলেও পরিশোধে কঠিন চাপ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা ছাড়া ঋণের বোঝা অর্থনীতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








