বিএনপির বিরুদ্ধে চলছে ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তবে অতীতে যেমন ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি, আগামীতেও পারবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছি। বিএনপিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছে বহুবার। কিন্তু বিএনপি উড়ে এসে জুড়ে বসা দল নয়, এই দল জনগণের হৃদয়ে বেঁচে আছে।”

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জনগণের ভোটে জনগণের পার্লামেন্ট গঠন করেছিলেন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাই বিএনপি সব সময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্রের পক্ষে।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, “একাত্তরে ভিন্ন অবস্থানে থাকা দল, এমনকি যাদের কাল জন্ম হয়েছে তারাও বিএনপিকে নিয়ে সমালোচনা করে। অথচ এই দল ফিনিক্স পাখির মতো—ভেঙে ফেলার ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু সফল হয়নি। বরং ষড়যন্ত্রকারীরাই পালিয়ে গেছে।”

তিনি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান নয়, স্লোগান হবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নামে।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ছাত্র-জনতার আন্দোলন জাতিকে পথ দেখিয়েছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ছিল সত্য ও ন্যায়ের সংগ্রাম। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন গণমানুষের প্রত্যাশাকে একত্রিত করে জাতিকে নতুন দিশা দেখিয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে জুলাই শহীদদের স্মরণে অঙ্কিত বিশেষ গ্রাফিতি ‘জুলাই বীরত্ব’‘জুলাই আত্মত্যাগ’ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রজন্ম এবং আগামী প্রজন্মকে জানতে হবে—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন ছিল না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল। ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সেই আন্দোলন জাতিকে নতুন দিশা দিয়েছে। এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করবে সত্য, ন্যায়, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের চেতনায় উজ্জীবিত হতে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হবে শহীদদের ত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা এবং তাদের আদর্শ ধারণ করা। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়, সমতা ও মানবিকতার বাংলাদেশ। আমাদের সেই পথেই এগিয়ে যেতে হবে।”

গ্রাফিতি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্বে), মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও স্থানীয় কর্মকর্তারা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




রোহিঙ্গা সংকট সমাধান সরকারের অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্র সচিব

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধান শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি দেশের পররাষ্ট্রনীতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিষয়ে কেবল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা সঠিক হবে না।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীতে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এবং অক্সফামের যৌথ আয়োজনে ‘শিরোনামের বাইরে নতুন চোখে রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, রোহিঙ্গা সংকট অব্যাহত থাকায় কক্সবাজার ও মহেশখালী এলাকায় বিদেশি বিনিয়োগ ব্যাহত হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা সব সময় চাই শান্তিপূর্ণ ও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান হোক। জাতিসংঘের আসন্ন হাই-লেভেল বৈঠককে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

ড. নজরুল ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই সংঘাত এড়িয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলে এ বিষয়ে সহযোগিতা এবং ইতিবাচক ভূমিকাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সিম্পোজিয়ামে অন্যান্য বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে ভূ-রাজনৈতিক সদিচ্ছাই মূল চাবিকাঠি। কেবল বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য রাষ্ট্রেরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহতা: ২৪ ঘণ্টায় ৪ জনের মৃত্যু

ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বরগুনায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে তিনজন পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজন স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. আবু ফাত্তাহ। মৃতদের পরিচয় হলো—পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের ঘুটাবাছা এলাকার শুক্লা ঢালী (১৩), আমড়াতলার হাসান (২৫), কাকচিড়া ইউনিয়নের সিদ্দিক মোল্লা (৪৫) এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের নুরজাহান বেগম (৭৫)।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ৯২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা সরকারি হিসাবের প্রায় তিনগুণ।

আইইডিসিআরের এক জরিপে দেখা গেছে, বরগুনার গ্রামীণ এলাকায় এডিস মশার বিস্তার মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, গ্রামাঞ্চলের ৭৬ শতাংশ এবং পৌরসভার ৩১ শতাংশ বাড়িতেই এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে।

গত এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বৃষ্টির পর রোদ উঠতেই ডেঙ্গুর প্রকোপ হঠাৎ বেড়ে গেছে। পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রাখাল বিশ্বাস অপূর্ব।

তিনি বলেন, “বৃষ্টি কমার পর থেকেই ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। প্রতিদিনই অসংখ্য রোগী ভর্তি হচ্ছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি চিকিৎসা দিতে, কিন্তু পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এডিস মশার বিস্তার রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হলেও জনসচেতনতার অভাব এবং জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




মানুষ জামায়াতকে বিশ্বাস করে: অধ্যাপক মুজিবুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, সৎ নেতৃত্বের কারণেই দেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বিশ্বাস করে। আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকেই ভোট দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশ্ব নবীর জীবন ও কর্মনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামীর গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগ।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (জাকসু) নির্বাচনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের নিরঙ্কুশ বিজয় প্রমাণ করেছে, জনগণ জামায়াতকে আস্থার জায়গায় রেখেছে। আধুনিক ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সেই রাষ্ট্রের রূপকার। তাঁর নীতি-আদর্শই আমাদের পথপ্রদর্শক।”

সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মহানগরের মাজলিসুল মুফাসসিরীনের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী পৌর ওলামা বিভাগের সভাপতি শায়খ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল খালেক, রাজশাহী আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি ড. ওবায়দুল্লাহ, গোদাগাড়ী পৌর আমির আনারুল ইসলাম, জেলার সহকারী সেক্রেটারি মো. কামরুজ্জামান ও উপজেলা জামায়াতের আমির নোমায়ন মাস্টারসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

দিনব্যাপী আলোচনা সভায় বক্তারা বিশ্বনবীর জীবন ও কর্মনীতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং সমাজে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অভ্যুত্থানকে ঘিরে উগ্রপন্থার আশঙ্কা: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের সুযোগ নিয়ে একটি রাজনৈতিক দল উগ্রপন্থার দিকে ঝুঁকতে চাইছে। তারা আন্দোলনের সুযোগকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পরিকল্পনা করছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার টাউন হলে গণসংহতি আন্দোলনের দ্বিতীয় জেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের বরিশাল জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু।

জোনায়েদ সাকি বলেন, “যে কেউ যদি আবার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়, জনগণ তা মেনে নেবে না। অধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় আমাদের সবাইকে সংগঠিত হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের পর থেকেই গণসংহতি আন্দোলন জোর দিয়ে বলছে, এ দেশের গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে বিচার সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। যারা হত্যা ও ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “আমরা ঐকমত্য চাই। আগামী জনপ্রতিনিধিরা যেন এই ঐকমত্য বাস্তবায়নে বাধ্য থাকে তার নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। সংসদে বসে সংস্কার কার্যকর করার জন্য টেকসই গ্যারান্টি প্রয়োজন।”

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি, দেশি-বিদেশি দোসর ও ভারতীয় আধিপত্যবাদীরা এ অভ্যুত্থান ভিন্ন পথে নিতে চক্রান্ত করছে। তাই রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, জেলা সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান মিরাজ, কৃষক মজুর সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলিম, যুব ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুজন এবং ছাত্র ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা রহমান বিথী।

দিনব্যাপী সম্মেলন শেষে গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু। পরে জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে নগরীর সদর রোডে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়, যা শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে থাকবে ১৬ বছরের দুঃশাসনের দলিল

পিলখানা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে গুম-খুন, আয়নাঘর, শাপলা চত্বরের রক্তাক্ত অভিযান এবং একের পর এক বিতর্কিত নির্বাচনী প্রহসন—সবকিছুই দলিল আকারে সংরক্ষণ করা হচ্ছে আসন্ন জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে। দেশের ইতিহাসের এই অন্ধকার অধ্যায়গুলো প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই জাদুঘরটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাদুঘর নির্মাণ কর্তৃপক্ষ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে এ অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই জাদুঘরটি উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বৈঠকে জানান, “ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যে অমানবিক রূপ, তা কিউরেট করে উপস্থাপন করা হবে এই জাদুঘরে। গুম, খুন, নির্যাতন, প্রহসনের নির্বাচন—সব কিছুরই প্রমাণ এখানে সন্নিবেশিত হবে, যেন ইতিহাস বিকৃত না হয়।”

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস জাদুঘরের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটি শুধু অতীতের দলিল নয়, বরং মানুষের মধ্যে প্রতিরোধের চেতনা জাগ্রত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম হবে। যারা এখানে আসবেন, তারা ৫ আগস্ট গণভবনের সামনে জনতার ঢল অনুভব করতে পারবেন।”

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজীম ওয়াহাব জানান, নির্মাণকাজে আইসিটি প্রসিকিউশন টিম ও গুম বিষয়ক তদন্ত কমিশনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি হবে একেবারেই অনন্য একটি জাদুঘর। ষোলো বছরের দুঃশাসনের ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজানো থাকবে। দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল।”

ফারুকী আরও জানান, “গুম-খুনের নির্দেশ সম্পর্কিত বহু অডিও ইতোমধ্যেই জাদুঘর কর্তৃপক্ষের হাতে এসেছে। এসব অডিও প্রদর্শিত হবে। এমনকি কীভাবে পরিবারগুলোকে মিথ্যা সান্ত্বনা দেওয়া হতো, সেই ভয়াবহ বাস্তবতাও এখানে তুলে ধরা হবে।”

জাদুঘরে একটি আধুনিক স্ক্রিনিং সেন্টারও তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে জুলাই এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনকে কেন্দ্র করে নির্মিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের গভর্নিং বডির চেয়ারপারসন মেরিনা তাবাসসুম।

এছাড়া গবেষক ড্যানিয়েল আফজালুর রহমান, কবি হাসান রোবায়েত, গবেষক মালিহা নামলাহা, শিল্পী তেজশ হালদার জশ, স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ, সমন্বয়কারী হাসান এনামসহ জাদুঘরের বিভিন্ন গবেষক ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু ইতিহাসের দলিলই নয়, বরং এটি হবে জনগণের জন্য শেখার জায়গা, যেখানে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অনুপ্রেরণা মিলবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে বাংলাদেশ: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানির দিকে এগোতে হবে। তিনি মনে করেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিকল্প জ্বালানি গ্রহণ এখন আর বিলম্ব করার মতো নয়।

শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন তিনি। শনিবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তাই দীর্ঘদিন জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকার সামর্থ্য আমাদের নেই। বিকল্প জ্বালানির পথ খুঁজে বের করতে হবে, যার মধ্যে বৃহৎ আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য।”

সম্মেলনে অংশ নিয়ে গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং হাইব্রিড সিস্টেম নির্ভরযোগ্য ও শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। বিশেষ করে বার্জ-ভিত্তিক পারমাণবিক চুল্লি সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প খাতকে দীর্ঘ মেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারমাণবিক শক্তি এখন আর উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ বিষয় নয়। ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ ইতোমধ্যেই এ প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে। উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা বাড়বে।

কার্ল পেজ বলেন, “বাংলাদেশ ভবিষ্যতে উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে এবং পারমাণবিক উদ্ভাবনে শান্তিপূর্ণ নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করতে পারবে।”

অধ্যাপক ইউনূস জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি প্রণয়ন করেছে, যেখানে সৌর জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পারমাণবিক বিকল্প নিয়ে যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই জরুরি। প্রতিশ্রুতিশীল এসব প্রযুক্তি নিয়ে গভীর গবেষণা না করলে ঝুঁকি থেকে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা অবশ্যই এই সুযোগগুলো অনুসন্ধান করব। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—বাংলাদেশকে দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের মন্তব্য: গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া সংকট কাটবে না

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সংবিধান মেনে চললে পার্লামেন্টের বাইরে গিয়ে পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, শুধু নির্বাচন আয়োজন করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ইতিহাসে মুসোলিনি ও হিটলারও নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিলেন, কিন্তু তাদের শাসনব্যবস্থা ছিল একেবারেই ফ্যাসিবাদী। তাই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ করতে না পারলে দেশের জন্য তা কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামায়াতকে বাদ দিয়ে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানে জনগণের উপস্থিতি ছিল নগণ্য। ফলে সেই নির্বাচন জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সামনের নির্বাচনও একপেশে হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন ইতোমধ্যে রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এখন যদি কোনো কর্মকর্তার নাম বলা হয়, তখন মানুষ আগে খোঁজেন তিনি আওয়ামীপন্থী, বিএনপিপন্থী নাকি জামায়াতপন্থী। এ ধরনের বিভক্ত প্রশাসন দিয়ে কোনোভাবেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, জনগণের আস্থা ফেরাতে হলে একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়বে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




গুমের পূর্বাভাস পেয়েছিলেন ব্যারিস্টার আরমান: বইয়ে বর্ণনা

ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান তার নতুন বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’-এ দাবি করেছেন, গুম হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই তাকে বিভিন্ন সূত্র থেকে বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। বইয়ে তিনি লেখেন, শেখ পরিবার, একটি শীর্ষ বিএনপি নেতার সন্তান ও এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল—এই তিন সূত্র থেকে আলাদা আলাদা সতর্কবার্তা পেতেন তিনি। তবুও বাবা মীর কাশেম আলীর প্রতি শিষ্টাচার এবং পরিবারের পাশে থাকার সংকল্পে দেশেই থাকায় ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট তাকে তুলে নেওয়া হয় বলে বইতে বর্ণিত আছে। পরে দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘরে’ বন্দী থাকতে হয় তাকে; ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট মুক্তি পান তিনি।

পাঠকের জন্য বইটির বর্ণনা থেকে সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

প্রাথমিক সতর্কবার্তা
বইতে ব্যারিস্টার আরমান জানান, তিনি ইংল্যান্ডে বার অ্যাট লের পড়াশোনা চলাকালীন সময়ে শেখ পরিবারের এক সদস্যের সঙ্গে বান্ধবসম্মত সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সদস্য একদিন গোপনে ডেকে বলে যে—“তোমার নাম ওই কিছু লোকের মুখে শুনছি, দ্রুত দেশের বাইরে চলে যাও”। এটিই ছিল প্রথম সতর্কতা।

এর কয়েক দিনের মধ্যে বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ছেলেও আরমানকে নিরাপদ জায়গায় ডেকে একই রকম সতর্ক করে বলেন—“তোমাকে নিয়ে সরকারখবর করছে, দ্রুত চলে যাও।” এরপরই তৃতীয় বার্তা হিসেবে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল যোগাযোগ করে, এনএসআই প্রধানের এ কথার উল্লেখ করে—“তোমাকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না”—এমন কথা শোনান এবং যত দ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাবার প্রতি আনুগত্যেই দেশের থাকাই চয়েস
তিন পক্ষের বার্তা পেয়ে নিজ আত্মপর্যালোচনার পর আরমান লিখেন, তিনি প্রথমে ভেবে দেখেন—নিজেকে বাঁচালে কি তিনি বাবাকে বিপদের মুখে ছেড়ে দেবেন? আদালতের রায় ও পিতা-ক্ষমার পরিস্থিতি সব কিছু মাথায় রেখে অবশেষে বাবাকে সবটা জানিয়ে দেশেরই পক্ষে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সাক্ষাতে বাবার কাছ থেকে তিনি সাহস পান; বাবা বলেন, “আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করো, তুমি এখানে থাকো—পরিবারের জন্য তোমার থাকা দরকার।” সেই সিদ্ধান্ত থেকেই পরবর্তী ঘটনাগুলো ঘটে।

আয়নাঘরের দিনগুলি ও মুক্তি
বইটিতে আরমান গুম-পর্যায়, আটক থাকার সময়কার শারীরিক-মানসিক কষ্ট ও আইনি-মানবিক প্রেক্ষাপট বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন—নির্বাচিত সময়ে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিন কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলায় এবং তিনি আয়নাঘর থেকে মুক্তি পান—এই অভিজ্ঞতার বর্ণনাই মূলধারায় বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

লেখকের প্রতিপাদ্য ও প্রভাব
আরমানের লেখায় স্থান পেয়েছে ব্যক্তিগত বাস্তবতা, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার-প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের কথাও। তিনি বইয়ে জানান, বিদেশি ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে সাড়া দিয়েছেন এবং এই ধরনের ঘটনার আন্তর্জাতিক দিকগুলোর প্রতিফলনও আছে। বইটি প্রকাশের পর থেকে প্রাসঙ্গিক আলোচনার খোরাক তৈরিতে ভূমিকা রাখছে—আইনি মহল, তথ্যমাধ্যম ও নাগরিক অংশগ্রহণকারীরা এর প্রতি নজর দিয়েছেন।

প্রকাশনা ও প্রাসঙ্গিকতা
‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’ গ্রন্থটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে আরমানের ব্যক্তিগত বিবরণ ও অভিজ্ঞতা-ভিত্তিক তথ্য রয়েছে। বইটি দেশের রাজনৈতিক, আইনগত ও মানবাধিকার পরিবেশ সম্পর্কে তীব্র প্রশ্ন ও প্রতিফলন তোলে। প্রকাশনার সঙ্গে সঙ্গে এই বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসায় পাঠক-চর্চা ও সমালোচনামূলক আলোচনা দেখা যাচ্ছে।

সংক্ষেপে, বইটিতে ব্যারিস্টার আরমানের যে দাবি ও বর্ণনা এসেছে—সেগুলো তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এসব বিবরণ সমালোচনারও কেন্দ্রবিন্দু বটে; তবু বইটি দেশের বিচার ও মানবাধিকার সংক্রান্ত বিতর্কে একটি নতুন কণ্ঠ যুক্ত করেছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “