ইউনিমাসের প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬ শুরু, বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ

দেশের আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইউনিমাস হোল্ডিংস লিমিটেড তাদের বহুল আলোচিত ‘প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজন করেছে। আধুনিক নগরজীবনের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রিমিয়াম আবাসন ও নিরাপদ বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরতেই এই বিশেষ আয়োজন। বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত ইউনিমাস হোল্ডিংসের কর্পোরেট অফিসে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলাটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ইউনিমাসের বিভিন্ন প্রিমিয়াম আবাসিক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন, যেখানে উন্নত নির্মাণমান, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মেলা উপলক্ষে ইউনিমাস হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে ফেয়ার-এক্সক্লুসিভ অফার ও বিশেষ মূল্যছাড় ঘোষণা করা হয়েছে, যা আবাসন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করেছে। পাশাপাশি, প্রপার্টি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে দর্শনার্থীরা নিজেদের প্রয়োজন, বাজেট ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে মিল রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ইউনিমাসের একজন প্রতিনিধি জানান, এই প্রপার্টি ফেয়ারের মূল উদ্দেশ্য দর্শনার্থীদের স্বপ্নের আবাসনের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রিমিয়াম প্রকল্পগুলো এক জায়গায় উপস্থাপন করে ক্রেতাদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, ইউনিমাস হোল্ডিংস শুধু আবাসন হস্তান্তরেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রপার্টি ক্রয়ের প্রতিটি ধাপে ক্রেতাদের পূর্ণাঙ্গ সেবা দিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবন নির্মাণ, ডিজাইন কনসালটেন্সি, ইন্টেরিয়র সল্যুশন, রেনোভেশন ও মডিফিকেশন, লিগ্যাল ও লজিস্টিক সহায়তা, রেন্টাল সার্ভিস, বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট এবং প্রপার্টি রিসেল সুবিধা। হস্তান্তরের পরও দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইউনিমাস।

প্রপার্টি ফেয়ার ২০২৬-এর মাধ্যমে ইউনিমাস হোল্ডিংস আভিজাত্য ও সহজলভ্যতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই আয়োজন দর্শনার্থীদের ইউনিমাসের প্রকল্পগুলোর স্থাপত্যশৈলী, বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং আধুনিক জীবনযাত্রার সুবিধাগুলো বাস্তবভাবে বোঝার সুযোগ করে দেবে।

রিয়েল এস্টেট খাতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত অভিজ্ঞতা দিতে আয়োজিত এই প্রপার্টি ফেয়ার আবাসন খোঁজার পাশাপাশি স্মার্ট বিনিয়োগ এবং উন্নত লাইফস্টাইল পরিকল্পনায় আগ্রহীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইবিএল চেয়ারম্যানের বিদেশি পাসপোর্ট ও অর্থ পাচার ঘিরে সিআইডির বিস্তৃত তদন্ত

ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল)-এর চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীকে ঘিরে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান নতুন মাত্রায় প্রবেশ করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিচয়পত্র, দেশ-বিদেশে সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিদেশে বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তৃত নথি তলব করেছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট থেকে গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর জারি করা এক নোটিশে শওকত আলী চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীল ব্যক্তিদের দেশি ও বিদেশি পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, গত এক দশকের বিদেশ ভ্রমণের তথ্য, দেশে ও বিদেশে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিবরণ, আয়কর নথি, বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানা ও শেয়ারহোল্ডিং তথ্য এবং বিদেশে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারের অনুমোদনের কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে এসব নথি সংগ্রহ করে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই তদন্তের মধ্যেই সামনে এসেছে শওকত আলী চৌধুরীর নামে ইস্যু হওয়া সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের একটি বিদেশি পাসপোর্টের তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই গোপন নাগরিকত্ব ব্যবহার করেই তিনি বিভিন্ন দেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করেছেন।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ইবিএলের চেয়ারম্যানকে ঘিরে অভিযোগগুলো বিচ্ছিন্ন নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা আর্থিক অনিয়মের একটি ধারাবাহিক চিত্র। ব্যাংক রেকর্ড, কাস্টমস নথি ও বিদেশি সরকারি দলিল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, বিদেশে অর্থ স্থানান্তর ও অফশোর বিনিয়োগের পেছনে একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল।

নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ইবিএল তাদের গ্রাহক ও শীর্ষ ঋণখেলাপি নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন এ অ্যান্ড বি আউটওয়্যার লিমিটেডের নামে একটি শিল্প ঋণ অনুমোদন করে। ওই অর্থ ব্যবহার করে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্তভাবে একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ বেঞ্জ এএমজি জি-৬৩ গাড়ি আমদানি করা হয়। যদিও নথিতে আমদানিকারক হিসেবে একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দেখানো হয়েছিল, অনুসন্ধানে জানা যায় গাড়িটি কখনোই শিল্পকারখানার কাজে ব্যবহৃত হয়নি।

সিইপিজেড সংশ্লিষ্ট সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ ব্যাংকারদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি শুরু থেকেই ইবিএল চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তাঁর ছেলে নিয়মিত গাড়িটি চালাতেন। আরও জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে গাড়িটি চলাচল করেছে, যাতে শুল্ক ও নিবন্ধন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

এই ঘটনার সময়কাল মিলে যায় ইবিএলের একটি বড় ঋণ শ্রেণিকরণ সিদ্ধান্তের সঙ্গে। নাজমুল আবেদীনের মালিকানাধীন আরেক প্রতিষ্ঠান মাল্টি সাফ ব্যাগস লিমিটেডের কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৯৯ কোটি টাকা থাকা সত্ত্বেও সেটিকে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিকা উপেক্ষা করে ঋণটিকে কৃত্রিমভাবে নিয়মিত দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

তদন্তে আরও দেখা গেছে, এই ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবিএল চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল। করপোরেট নথিতে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহযোগীদের শেয়ারহোল্ডার হিসেবে উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।

বিদেশি নথি বিশ্লেষণে তদন্তকারীরা লক্ষ্য করেছেন, শওকত আলী চৌধুরী ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে একাধিক অফশোর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠান শেল কোম্পানি কাঠামোয় গঠিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সিঙ্গাপুর ল্যান্ড অথরিটির নথিতে দেখা যায়, শওকত আলী চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী যে ঠিকানায় সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন, একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন মানিলন্ডারিং মামলায় দণ্ডিত এক ব্যাংক ঋণখেলাপি, যা তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি পাসপোর্ট, অফশোর কোম্পানি, বিতর্কিত ঋণ সুবিধা এবং বিদেশে সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্যগুলো একসূত্রে গাঁথা। এসব কারণেই সিআইডি এই অনুসন্ধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তের পরিসর আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশ ভালো রাখতে হলে খালেদা জিয়াকে ধারণ করতে হবে

বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালো রাখতে হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও নেতৃত্বকে ধারণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, একটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সহনশীল রাজনীতি এবং মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশের সঙ্গে খালেদা জিয়ার অবদান গভীরভাবে জড়িত।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে তার জন্য আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বারবার একটি কথাই বলেছেন—খালেদা জিয়া ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া ব্যক্তি হিসেবে ভালো ছিলেন বলেই দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য তার অবদান এত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মধ্যে সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের এক বিরল সমন্বয় ছিল। মতের ভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও তিনি পরমতসহিষ্ণু ছিলেন, যা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুবই প্রয়োজনীয় একটি গুণ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে এই মূল্যবোধগুলোকে ধারণ করতেই হবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। বলেন, আজ মানুষ স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছে, ভালোবাসা ও সমালোচনা দুটোই প্রকাশ করতে পারছে। এই স্বাধীনতার পেছনে অনেক আত্মত্যাগ রয়েছে, অনেক সংগ্রাম রয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তাদের ত্যাগের কারণেই আজ প্রকাশ্যে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, ইতিহাসই বলে দেয় কার জায়গা মানুষের হৃদয়ে হয় আর কার জায়গা হয় নির্বাসনে।

শোকসভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিন। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানজুড়ে বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের প্রতি তার অবদান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার আদর্শ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা তুলে ধরেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জোট নয়, একাই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে এককভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে তারা আর থাকছে না এবং নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়েই মাঠে থাকবে।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শুরু থেকেই নীতি ও আদর্শের রাজনীতি করে আসছে। ইসলামপন্থি জনতার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা প্রতারণার প্রশ্নই ওঠে না।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইসলামি আদর্শভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। সেই পথ থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে পথচলায় দেখা গেছে, আদর্শিক লক্ষ্য পূরণে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই দলটি নিজেদের অবস্থান নতুন করে পর্যালোচনা করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর সারা দেশে ইসলামপন্থি শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার যে চেষ্টা করা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। বিশেষ করে আসন বণ্টন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাতে ইসলামী আন্দোলনের মূল আদর্শ ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। তাই ইসলামের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তিকে সুরক্ষিত রাখতেই এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। আপিল পর্যায়ে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হলেও বর্তমানে ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন না এবং সবাই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন, সামনে পথচলা সহজ নাও হতে পারে। কারণ ইসলামী আন্দোলন ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে আদর্শ ও নৈতিকতার রাজনীতি করে। নীতি, ইনসাফ ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রশ্নে তারা অতীতেও নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়েছে।

জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি এবং তাদের সাংগঠনিক সামর্থ্য রয়েছে। তবে আদর্শিক ও নৈতিক অবস্থানে ইসলামী আন্দোলন কাউকে ছাড় দিতে রাজি নয়। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান থেকে বোঝা যাচ্ছে, ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা ও শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তারা আগের অবস্থানে নেই। এই বিষয়টি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে।

গাজী আতাউর রহমান বলেন, যখন রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, তখন যদি প্রধান ইসলামপন্থি শক্তিগুলো ইসলামী আইন ও আদর্শ থেকে সরে আসে, তাহলে সারা দেশে যারা ইসলামের পক্ষে কাজ করছেন, তাদের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যাবে। এই বাস্তবতা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ আদর্শিক রাজনীতির মূল্যায়ন করবে এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, নতুনভাবে দেশ গড়ে তুলতে হলে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বিকেলে রংপুরের আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে তিনি বলেন, “আগামী দিনে তরুণদের হাতে কেমন বাংলাদেশ তুলে দেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে এই হ্যাঁ বা না ভোটের উপর। ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে তরুণরা পাবেন একটি নতুন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জুলাই সনদ যদিও কালো কালিতে লেখা হলেও এটি মূলত জুলাই আন্দোলনে শহীদদের রক্ত দিয়ে লেখা হয়েছে। গণভোটে হ্যাঁ বলার মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়ন সম্ভব।”

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “গণভোটে কোনো ব্যক্তিকে ভোট দেওয়া হচ্ছে না। জনগণ যদি হ্যাঁ বলেন, তবে কোনো রাজনৈতিক দলেরই ক্ষমতা থাকবে না সংস্কার আটকে রাখার। দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে জনগণের টাকা লুটপাট হয়েছে। হ্যাঁ ভোট দিলে অনেক ক্ষেত্রে এই লুটপাট ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।”

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, “বাংলাদেশে যাতে আবার কোনো ফ্যাসিবাদ তৈরি না হয়, তার জন্য আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণভোট সেই সজাগ থাকার অন্যতম হাতিয়ার।”

সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২




বরগুনায় সরিষার বেশি ফলনে কৃষক খুশি, লাভে মুখরোচক দৃশ্য

বরগুনা জেলায় সরিষার অধিক ফলনে কৃষকেরা খুশি। কুয়াশাছন্ন শীতের সকালে বরগুনার শিশিরে ভেজা হলুদ সরিষা ক্ষেত এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে। বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, তালতলী ও বেতাগীর বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এখন সোনালি সরিষার মধ্যে সোনালি স্বপ্ন বুনছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আমন ধান কেটে পতিত ও একফসলি জমিতে সরিষা চাষ বেড়েছে। কম খরচে স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়েছে। এ বছর জেলায় বারি-১৪, ১৭, ১৮, ১৯ এবং টরি-৭সহ উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা চাষ হচ্ছে।

সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো ধান চাষ করা সম্ভব, যা কৃষককে এক জমিতে দুই ফসলের সুফল দেয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরগুনা সদর উপজেলায় ১৪৫ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। বিশেষ করে নলটোনা ও বুড়িরচর ইউনিয়নে সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। উল্লেখযোগ্য জাতগুলো হলো বারি সরিষা-১৭, বিনা সরিষা-৯ এবং বিনা সরিষা-১১।

সরেজমিনে দেখা যায়, বুড়িরচর ইউনিয়নের কৃষক হামেদ মৃধা (৬০) খরচ কম হওয়ায় ৪০ কড়া জমিতে সরিষার আবাদ করে মাত্র ১৪,০০০ টাকা খরচে ৪২,০০০ টাকা আয় করেছেন। ঢলুয়া নলটোনা ইউনিয়নের কৃষক রবিউল (৫৫) ২০ কড়া জমিতে ৭,০০০ টাকা খরচ করে তিন গুণ লাভ করেছেন। বেতাগীর গেন্দু মিয়া (৬২) জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সরিষার ফলন আরও বাড়বে।

বরগুনা শহরের ভ্রাম্যমাণ সরিষা তেল ব্যবসায়ী কাইয়ুম হোসেন (৫২) বলেন, গত তিন বছর ধরে তিনি সরিষার তেলের ব্যবসা করছেন। বরগুনায় সরিষার পর্যাপ্ত চাষ না হওয়ায় উত্তরাঞ্চলের পাবনা জেলা থেকে সরিষা কিনে এখানে মেশিনে ভেঙে বিক্রি করেন। প্রতি লিটার সরিষার তেল বিক্রি করেন ২৪০ টাকায়, প্রতিমণ সরিষা ক্রয় করে ৫,০০০ টাকায় বিক্রি করেন। প্রতিদিন ৭–৮ হাজার টাকার তেল বিক্রি হয়।

সদর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এ বছর কৃষকদের প্রণোদনা ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নলটোনা ইউনিয়নে গাজীমাহমুদ গ্রামের সরিষার ফলন ভালো হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। প্রদর্শনী ও উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহী করা হয়েছে। বিনা চাষেও সরিষার আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ বছর জেলায় সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। হলুদ ফুলে ভরা সরিষা ক্ষেত শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং কৃষকের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রতীক। সচেতন মহল মনে করছেন, বরগুনার কৃষি বিভাগ উদ্যোগ নিলে জেলায় ১২ মাস সরিষার আবাদ সম্ভব, যা মানুষের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী সড়ক: ৭০ কিলোমিটারে ১৫ বিপজ্জনক বাঁক, বাড়ছে দুর্ঘটনা

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-কলাপাড়া-পটুয়াখালী ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কে অন্তত ১৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁক পেরিয়ে বাস ও ট্রাক চলাচলে ক্রমশ দুর্ঘটনা বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় আসা পর্যটকবাহী বাসের চালকরা।

বাসচালকরা জানাচ্ছেন, কুয়াকাটা থেকে কলাপাড়ায় যাত্রাপথে বিপজ্জনক বাঁকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কচ্ছপখালী লেক, হলদিবাড়িয়া খালের কালভার্ট, পাখিমারা স্কুল, মাস্টার বাড়ি ইত্যাদি। কলাপাড়া থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত রয়েছে সেকান্দর খালী, বান্দ্রা, কলঙ্ক, খুড়িয়ার খেয়াঘাটের আগে, আমতলী বন্দরের আগে, আমতলী ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন, ঘটখালী, আমরাগাছিয়া, মহিষকাটা, ইটভাটা, শাখারিয়া স্কুলসহ আরও কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট।

দ্রুতগতির বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন বাঁকগুলো ঘুরতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। যদিও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সতর্কতা সংবলিত নির্দেশনা স্থাপন করা রয়েছে, তারপরও দ্রুতগতিতে আসা যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না।

বাসচালক আল আমিন জানান, “পটুয়াখালী-কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কটির চওড়া কম। ঝুঁকিপূর্ণ মোড় ২০টির মতো। নিয়মিত চলাচল করলেও দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিচিত চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।”

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এই বাঁকগুলো চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। দ্রুতগতিতে যানবাহন চালকরা অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। সড়কটি প্রশস্তকরণের সময় বাঁকগুলো ঠিক করা যেতে পারে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের পটুয়াখালী নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা আশা করছেন, দ্রুত এই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করে সড়কটি নিরাপদ করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা কমানো যায়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




পিরোজপুরে শীতার্তদের মাঝে জেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরণ অব্যাহত

পিরোজপুরে শীতার্তদের পাশে দাঁড়াতে জেলা প্রশাসনের শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কদমতলা বাজার ও নূরানী গেট এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের শিক্ষা ও আইসিটি শাখার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) মাহমুদুর রহমান মামুন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিস তানজিলা কবির ত্রপা, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশীদ এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড আল আমিন

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা সমাজের অবহেলিত ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তীব্র শীতে কোনো মানুষ যেন কষ্ট না পায়, সেজন্য প্রশাসনের এই তদারকি ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, আজকের কম্বল বিতরণে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। এর আগে শীত শুরু হওয়ার সময় থেকে ইয়াতিমখানা, ছিন্নমূল, আবাসন, হাসপাতালসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় দেড় হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ শীতার্তদের মাঝে উষ্ণতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ববোধক উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ঝালকাঠির ভাসমান পেয়ারা হাটে জমেছে প্রাণ, পর্যটক ও বেচাকেনা উভয়েই রঙিন

ঝালকাঠির ভিমরুলী ভাসমান পেয়ারা হাট বর্ষার শুরুতেই হয়ে ওঠে দক্ষিণাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র। দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক আকৃষ্ট হচ্ছেন এখানকার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ভাসমান বাজারের প্রাণবন্ত দৃশ্য দেখতে।

ঝালকাঠিতে ৫৬২ হেক্টর জমিতে চাষ করা পেয়ারা বিক্রি হবে ন্যূনতম ১০-১২ কোটি টাকায়, যা স্থানীয় ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। জেলার সদর উপজেলার কীর্ত্তিপাশা, ভিমরুলী, শতদাসকাঠি, খাজুরা, মিরাকাঠি, ডুমুরিয়া, জগদিশপুর, হিমানন্দকাঠি, কাপড়কাঠিসহ ২০টি গ্রামে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এই ফল চাষ হয়ে আসছে। চাষিরা প্রথাগত সর্জন পদ্ধতিতে কান্দি কেটে পেয়ারা চাষ করে আসছেন, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রধান উৎস।

এ বছর সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কিছুটা ফলন কম এবং আকার ছোট হলেও, পেয়ারা দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ১,০০০–১,১০০ টাকায়, আর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০–৫০ টাকায়।

ভাসমান হাটে প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জমে ওঠে চমৎকার বেচাকেনার দৃশ্য। পাইকাররা ছোট-বড় নৌকায় এসে সরাসরি টাটকা পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। খালজুড়ে শত শত ডিঙ্গি নৌকা যেন ভ্রাম্যমাণ দোকান, যা এই হাটকে করে তুলেছে দক্ষিণাঞ্চলের এক জীবন্ত পর্যটন কেন্দ্র।

এই হাট কেবল ফল বিক্রির স্থান নয়, বরং এটি এক ধরনের জীবনের উৎসব। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে চাষিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং পেয়ারা থেকে জেলি, জ্যাম উৎপাদনে সহায়তা করা হচ্ছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবদুল্লা আল মামুন বলেন, উন্নত জাতের পেয়ারা চাষে চাষিদের সহযোগিতা করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে চোরকে শাস্তি, শীতের রাতে পুকুরে ২০ বার ডুব

বরিশালে নগরীর সদর রোডের বিবির পুকুরে চোরকে শাস্তি হিসেবে টানা ২০ বার ডুব দেওয়া হয়েছে। ঘটনা একটি অভিনব ও নজিরবিহীন পদ্ধতিতে ঘটেছে, যেখানে কোন মারধর ছাড়াই অপরাধীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নগরীর সদর রোড এলাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পার্কিং করা মোটরসাইকেলের হেলমেট চুরির ঘটনা এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। ক্ষুব্ধ মোটরসাইকেল চালকরা অবশেষে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে ওই চোরকে হাতেনাতে ধরেন।

আটক ব্যক্তি ইউসুফ হোসেন, নিজেকে উজিরপুর উপজেলার মশাং গ্রামের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন। তিনি বর্তমানে নগরীর সাগরদী এলাকায় বসবাস করেন। শাস্তি দেওয়ার আগে তিনি সবার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুরোধ জানান যেন তাকে মারধর না করা হয়।

এরপর স্থানীয়রা একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নেন। ইউসুফ নিজে পুকুরে নেমে কান ধরে একের পর এক ২০ বার ডুব দিতে রাজি হন। প্রতিটি ডুবের সময় তিনি নিজের অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে থাকেন।

শেষে স্থানীয় কয়েকজন তাকে কাছের দোকান থেকে নতুন প্যান্ট ও টি-শার্ট কিনে দিয়ে ছেড়ে দেন। এভাবে নগরবাসীর উদ্যোগে চোরকে শাস্তি দেওয়ার এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।