নির্বাচন কখনোই শতভাগ নিখুঁত হয় না: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

নির্বাচন কখনো পুরোপুরি পারফেক্ট হওয়া খুবই বিরল বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবনে যেমন কোনো কিছুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হয় না, তেমনি নির্বাচনেও কিছু না কিছু সীমাবদ্ধতা থাকেই। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সেই নির্বাচন জনগণের মতামতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছে কি না।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নির্বাচনকে ঘিরে নানা আলোচনা ও সংশয় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকার আশা করছে খুব শিগগিরই নির্বাচন সম্পন্ন হবে। তার ভাষায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনো কিছু মানুষ নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছেন, তবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই বলেই তিনি মনে করেন।

জনমত প্রসঙ্গে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, জনমত যাচাইয়ের জন্য কেবল সংখ্যার দিকে তাকিয়ে থাকলেই হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ও মানুষের মনোভাব পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি বোঝা যায়। তিনি অতীতের নির্বাচনগুলোর কথা উল্লেখ করে বলেন, এর আগে যেসব নির্বাচন হয়েছে, যেগুলোকে আমরা নির্বাচন হিসেবে বিবেচনা করি, সেগুলোর প্রতিটিতেই কোনো না কোনোভাবে জনমতের প্রতিফলন ঘটেছিল।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি ভারতের উদাহরণ তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ভারতে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারত নিজেকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাবি করে এবং এ নিয়ে তারা গর্বও করে। কিন্তু সেখানেও নির্বাচন পুরোপুরি নিখুঁত হয় না। নানা ধরনের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সেখানেও দেখা যায়, যা প্রমাণ করে যে পারফেক্ট নির্বাচন বাস্তবে খুবই বিরল।

আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের কোনো চাপ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, যারা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে সবাই নয় এবং কেউই এ বিষয়ে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করেননি।

তিনি আরও বলেন, কোনো বিদেশি প্রতিনিধি তাকে বলেননি যে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ করা উচিত বা উচিত নয়, কিংবা এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও দেননি। কেউ কেউ কেবল জানতে চেয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে কি না। জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার মতে, নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল থাকলেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ নেই। সরকার চায়, নির্বাচন একটি গ্রহণযোগ্য ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হোক, যেখানে জনগণের মতামতই হবে মূল বিবেচ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিরপুরে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে দুই শিশু সন্তানসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই শিশু সন্তানকে হত্যার পর স্বামী-স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বর এলাকার বিহারীদের ওয়াপদা ৩ নম্বর ভবন থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মাসুম, তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সুমি এবং তাদের দুই শিশু সন্তান সাড়ে তিন বছর বয়সী মিনহাজ ও দেড় বছর বয়সী আসাদ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের পল্লবী থানাধীন বি-ব্লকের ওয়াপদা ভবনের একটি টিনশেড বাসায় পরিবারটি ভাড়া থাকত। বৃহস্পতিবার সকালে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজনের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর চারজনের নিথর দেহ দেখতে পায়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কোনো এক সময় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মোহাম্মদ মাসুম পেশায় রিকশাচালক ছিলেন এবং তার স্ত্রী বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারটি একাধিক সমিতি ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ঋণ নিয়েছিল। নিয়মিত ঋণের কিস্তি আদায়ের জন্য লোকজন বাসায় আসত, যা পরিবারটির ওপর মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে।

স্থানীয়দের ধারণা, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপ থেকে মুক্তি না পেয়ে স্বামী-স্ত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন। তারা প্রথমে শিশু সন্তানদের হত্যা করে পরে নিজেরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ফারজিনা নাসরিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক আলামত ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি, যেখানে ঋণ ও দারিদ্র্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

পল্লবী থানার ডিউটি অফিসার এএসআই শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহগুলো ময়নাতদন্তে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলছেন, অভাব ও ঋণের চাপ অনেক পরিবারকে নীরবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অনেকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে শিল্পাঞ্চলে ছুটি, একদিন কাজ করে পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ

নির্বাচনকে সামনে রেখে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১০ তারিখ থেকে এই ছুটি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। যেসব শিল্প-কারখানা এ ছুটি মেনে নেবে, তারা পরবর্তীতে শ্রমিকদের দিয়ে অতিরিক্ত একদিন কাজ করিয়ে এই ছুটি সমন্বয় করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন সময়ে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর একটি আবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, একদিকে নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি প্রয়োজন হলেও, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার এই সমন্বিত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিল্প-কারখানাগুলো চাইলে নির্ধারিত ছুটির সুবিধা দেবে এবং পরবর্তীতে মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে একদিন অতিরিক্ত কাজের মাধ্যমে তা সমন্বয় করা যাবে। এতে করে শ্রমিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা থাকবে না, আবার শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রমও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত শিল্পখাত ও শ্রমিক উভয় পক্ষের জন্যই একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান। নির্বাচনকালীন সময়ের চাপ সামলে শিল্প উৎপাদন সচল রাখা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে জামায়াত আমিরের জনসভা, প্রস্তুতিতে চরম ব্যস্ততা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান আগামী শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঝালকাঠি সফরে আসছেন। তার এই আগমনকে ঘিরে জামায়াতসহ জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের উদ্যোগে ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় এই নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি জোটভুক্ত অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেবেন বলে জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমিরের ঝালকাঠি সফরকে সামনে রেখে সোমবার জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করীমসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা।

সমাবেশকে সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিশাল আয়োজন সম্পন্ন করতে মঞ্চ নির্মাণ, প্রচারণা, জনসংযোগ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চলছে ব্যস্ত প্রস্তুতি।

জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জামায়াত আমিরের আগমন উপলক্ষে ঝালকাঠিতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এই জনসভা ঝালকাঠির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, কয়েক লাখ নেতাকর্মী ছাড়াও জোটের শরীক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে অংশ নেবেন।

তিনি আরও বলেন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই জনসভায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বেইমানদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন: জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বেইমান ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানোর সুযোগ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, এই নির্বাচন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা শক্তিগুলোর রাজনীতির সমাপ্তি টানার নির্বাচন।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে জামায়াত আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা রাজনীতিকে ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও লুটপাটের হাতিয়ারে পরিণত করেছে, এই নির্বাচন তাদের বিদায়ের সময়। রাজনীতি কখনোই দুর্নীতি, লুন্ঠন কিংবা মানুষের সম্মানহানির মাধ্যম হতে পারে না। যারা রাজনীতির নামে এসব করেছে, তাদের আর রাজনীতিতে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতিবাজরা দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আল্লাহ সুযোগ দিলে জনগণের ভালোবাসার শক্তি নিয়ে সেই পাচার করা অর্থ দেশের মানুষের কাছে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

তরুণদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, জামায়াত একটি তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায়। তরুণদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান নয়, বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে চায় দলটি। ইঞ্জিনিয়ার, স্থপতি, দক্ষ কারিগর ও পাইলট তৈরি করে তরুণদের হাতেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।

তিস্তা নদী প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু আজ তা দুঃখের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে এবং উত্তরাঞ্চলকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। দেশের স্বার্থে কোনো ধরনের চাপ বা লাল চোখ সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় উন্নয়ন দাবির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন জরুরি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উত্তরাঞ্চল কি অবহেলার জন্য সৃষ্টি হয়েছে? উন্নয়নের সূচনা এই অঞ্চল দিয়েই হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ অনেক দলকে সুযোগ দিয়েছে, এবার জামায়াতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, জামায়াত সংকটে-সম্ভাবে সবসময় দেশের মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, উত্তরবঙ্গকে কৃষিশিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে, দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ খুলবে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুবিচারভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চায় জামায়াত। বিচারব্যবস্থায় কেউ বিশেষ সুবিধা পাবে না, আইনের চোখে সবাই সমান থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে দুর্নীতির পথ তৈরি হয়। আগে সম্মান ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে, তারপর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দেশের নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতের অঙ্গীকার। কর্মস্থলে নারীদের নিরাপদ পরিবেশ ও সম্মানজনক অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চান তিনি।

লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের ১২ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে গুপ্তদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

গুপ্ত শক্তির বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান বলেছেন, যারা জালেমি করে ক্ষমতায় যেতে চায় তারা কখনো সৎ শাসন দিতে পারে না। ভোটের আগেই ব্যালট পেপার ছাপানোর মতো কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে দেয়, তাদের উদ্দেশ্য কী এবং তারা কেমন শাসন কায়েম করতে চায়।

বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরের বান্দ রোড এলাকার বেলস পার্কে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভোটের আগেই যারা ব্যালট পেপার নিয়ে নানা পরিকল্পনা করছে, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে জনগণের রায়কে গুরুত্ব দিতে চায় না। এ ধরনের অপকর্মের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চায়।

সমাবেশে তারেক রহমান আরও বলেন, গুপ্তদের একজন নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, আর নির্বাচনের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এমন বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট হয় তারা জনগণকে কতটা অবজ্ঞা করে এবং তাদের মানসিকতা কতটা ভয়ংকর। যারা মানুষকে তুচ্ছ করে কথা বলে, তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে জনগণের জীবন কতটা দুর্বিষহ হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সম্মান না করা, ভোটের পর জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর মানসিকতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ৭১ কিংবা ৮৬ সালে যারা সংকটের সময় পালিয়ে গেছে, তাদের সঙ্গে এই গুপ্তদের চরিত্রের মিল রয়েছে। এমন লোকদের কাছ থেকে দেশের জন্য ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তারেক রহমান অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুপ্তদের নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের উদ্দেশে অশালীন ও কলঙ্কিত ভাষা ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা মা-বোনদের সম্মান করতে জানে না, তাদের কাছে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও সম্মান রক্ষার আশা করা যায় না। মানুষের মর্যাদা সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। আগামী ১২ তারিখ জনগণই নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার গঠন করবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, অতীতের স্বৈরাচারী ভাষা ও আচরণ এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নতুন পরিচয়ে একটি গুপ্ত দল আবারও সেই জালেমি মানসিকতা নিয়ে সামনে এসেছে।

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষকে ছোট করে দেখার এই রাজনীতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। জনগণই শেষ কথা বলবে, আর ভোটের মাধ্যমেই গুপ্তদের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। গণতন্ত্র, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় রদবদল

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং বিএনপির বহিষ্কৃত ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হাসান মামুনের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরেই এই রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। গত ১৮ দিনের ব্যবধানে একের পর এক কমিটি বিলুপ্ত, দলীয় নেতাদের বহিষ্কার এবং নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ঘটনায় নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুইয়ার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াসিন আলী খান এবং গলাচিপা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম ও সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গলাচিপা উপজেলা ও পৌর যুবদল এবং দশমিনা উপজেলা যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি বহিষ্কৃত নেতা এনামুল হক জোট প্রার্থী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের দাবি, শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেননি বহিষ্কৃত কয়েকজন নেতা, তারা প্রকাশ্যে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাংগঠনিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। গত সোমবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৭ জানুয়ারি গলাচিপা–দশমিনা উপজেলা বিএনপির বিদ্যমান কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল। নতুন কমিটিতে যারা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাদের একটি অংশ জেলা যুবদলের সাবেক নেতা মো. শিপলু খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। শিপলু খান শুরু থেকেই নুরুল হক নুরের পক্ষে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নবগঠিত কমিটির আওতায় গলাচিপা উপজেলা বিএনপির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গোলাম মোস্তফাকে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির ১৬ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হয়েছেন সিদ্দিক আহমেদ মোল্লা। একই সঙ্গে গলাচিপা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রাকিবুল ইসলাম খান। এসব কমিটির নেতাকর্মীরা বর্তমানে নুরুল হক নুরের ‘ট্রাক’ প্রতীকের পক্ষে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এই রদবদলের পেছনে বিদ্রোহী প্রার্থীকে ঘিরে বিভক্ত অবস্থানই মূল কারণ। গত ১৫ জানুয়ারি দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে হাসান মামুনের পক্ষে শপথ নেন। পরে ১৭ জানুয়ারি কমিটি বিলুপ্ত হলে তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর ২৫ জানুয়ারি দশমিনার আলিপুরা বাজারে নুরুল হক নুরের নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে তার প্রতি সমর্থন জানান। সবশেষ ২ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিতে শাহ আলমকে সদস্যসচিব করা হয়।

এদিকে ছাত্রদলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে হাসান মামুনের পক্ষে প্রচারণার অভিযোগে দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কাজী তানজির আহমেদকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি আবুল বশারকে নতুন আহ্বায়ক করা হয়। বর্তমানে তিনিও নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নুরুল হকের সমর্থক জেলা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান দাবি করেন, বিলুপ্ত কমিটির অন্তত অর্ধেক নেতাকর্মী এখন নুরুল হক নুরের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। অনেকেই প্রকাশ্যে এবং কেউ কেউ নীরবে সমর্থন দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর বলেন, আগের বেশিরভাগ কমিটিই হাসান মামুনকেন্দ্রিক ছিল। সে কারণে তারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন। তবে এখন অনেক নেতাকর্মী তাদের ভুল বুঝতে পেরে তার পাশে দাঁড়াচ্ছেন। তার দাবি, বর্তমানে বিএনপির অন্তত ৫০ শতাংশ নেতাকর্মী তাকে সমর্থন করছেন এবং ভোটের আগে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

অন্যদিকে হাসান মামুনের মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম বলেন, নুরুল হক নুর ও হাসান মামুনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে ঘিরে গলাচিপা–দশমিনায় বিএনপির রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে তার দাবি, অনেকেই কেবল বহিষ্কার এড়ানোর জন্য নুরুল হক নুরের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির বড় অংশ এখনো হাসান মামুনের সঙ্গেই রয়েছে।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক হিসেবে বিএনপি পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয়। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন একই আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। পরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগের দিন, ২৮ ডিসেম্বর তিনি স্বেচ্ছায় দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবেই, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী: সেনাপ্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন শেষে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান জানান, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কিছু অপরাধী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ভোটের দিন যারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সরাসরি অ্যাকশনে যাবে।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিন ও রাতে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধীরা যেন সবসময় আতঙ্কে থাকে, সে পরিবেশ বজায় রাখাই লক্ষ্য। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা জরুরি। এজন্য মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিন বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রেমিট্যান্সে চাঙ্গা রিজার্ভ, ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ডলার কেনা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক গতি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এসব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রিজার্ভে স্পষ্ট উল্লম্ফন দেখা গেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম ধরা হয়, যা বর্তমানে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় হিসাবেই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটিকেই প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সূচকে রিজার্ভের অবস্থান উন্নতির দিকে থাকায় বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং রপ্তানি আয়ের গতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আস্থা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গ্রাফিতিতে নতুন ১০ টাকার নোট, বাজারে আসছে আজ

বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে জুলাই গ্রাফিতি সংবলিত ১০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আজ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলনে আসছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নোট সিরিজের আওতায় বিভিন্ন মূল্যমানের কাগুজে নোট ছাপানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সিরিজে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে এসেছে। ধারাবাহিকভাবে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নকশার ১০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথম ধাপে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হবে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিসের মাধ্যমেও নতুন নোটটি সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, নতুন ১০ টাকার নোট চালু হলেও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না। পাশাপাশি মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে ১০ টাকার স্পেসিমেন নোটও ছাপানো হয়েছে। এসব নমুনা নোট বিনিময়যোগ্য নয় এবং আগ্রহীরা নির্ধারিত মূল্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরে অবস্থিত টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার। নোটের সামনের অংশের বাম পাশে রয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নান্দনিক নকশা। নোটের পেছনের অংশে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি–২০২৪’-এর চিত্র, যা সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রকাশভঙ্গিকে তুলে ধরে। পুরো নোট জুড়ে গোলাপি রঙের আধিক্য চোখে পড়বে।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও নতুন নোটে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। নোটের জলছাপে দেখা যাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ সংখ্যা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। সম্মুখভাগে রয়েছে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা, যেখানে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে। আলোতে ধরলে সুতাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় এবং নোট নড়াচড়া করলে এর রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া গভর্নরের স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি বিশেষ প্যাটার্ন সংযোজন করা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোট জালিয়াতি রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নতুন এই নোট বাজারে আসার মাধ্যমে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় নান্দনিকতা ও নিরাপত্তার সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম