দুমকিতে ভোক্তা অধিকার অভিযানে ৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুমকিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিককে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পীরতলা বাজারের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ সোয়াইব মিয়ার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

মুদি, সবজি ও ঔষধের দোকান সহ বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রেতাদের মনিটরিং করা হয়। এ সময় দেখা যায়, সবজি বিক্রেতারা অতিরিক্ত মুনাফায় সবজি বিক্রি করছিলেন এবং মূল্য তালিকা থেকে অধিক মূল্যে সবজি বিক্রয় করা হচ্ছে। এছাড়া মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগেও ৫ টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ অভিযান চলাকালীন স্থানীয় নাগরিক ও ব্যবসায়ীদেরকে ভোক্তা অধিকারের বিভিন্ন আইনসহ অন্যান্য বিষয়ে সচেতন করা হয় এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবসায়ীদেরকে সীমিত লাভে পণ্য বিক্রয় করার জন্য অনুরোধ করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ শাহ সোয়াইব মিয়া বলেন, “বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”




উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্যের কারিগর ওবায়দুল কাদের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে সড়ক ও সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণসহ সব ধরনের কাজে কমিশন বাণিজ্যের বিশাল সিন্ডিকেট তৈরি করে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

জানা গেছে, স্ত্রী ইশরাতুন্নেছা কাদের, ভাই আবদুল কাদের মির্জা, ফেনীর সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, নোয়াখালীর সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও সাবেক সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহকে নিয়ে ওবায়দুল কাদের গড়ে তোলেন দুর্নীতির বিশাল সিন্ডিকেট। তার মন্ত্রীত্বকে অবৈধ ক্ষমতা চর্চার হাতিয়ার করে ২০১১ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সড়ক পরিবহন খাতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে হাজার কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়েছে কাদের পরিবার ও সিন্ডিকেটের অন্য সদস্যরা।

এদিকে, ১৬ বছরে ওবায়দুল কাদেরের নিজের নির্বাচনী হলফনামায় দেওয়া তথ্যে সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ পাওয়া গেছে ছয়গুণের বেশি। যদিও হলফামায় দেওয়া টাকার অঙ্কের সঙ্গে বাস্তবের অনেক ফারাক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।




ছাত্র আন্দোলনে রিকশাচালক হত্যায় দুই আ.লীগ নেতার গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাঈম মো. বশির উদ্দিন এবং গলাচিপা উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাওসার আলম সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকার সদরঘাট এলাকায় রিকশাচালক রিপন হত্যা মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে তাঁদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

রোববার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। এর আগে শনিবার ঢাকার সিএমএম আদালত এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।

অ্যাডভোকেট নাঈম মো. বশির দশমিনা উপজেলার আলীপুরা ইউনিয়নের পশ্চিম আলীপুরা গ্রামের ইউনুস মৃধার ছেলে এবং অ্যাডভোকেট কাওসার আলম সোহেল গলাচিপা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. খলিলুর রহমানের ছেলে।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে রিকশাচালক রিপন মিয়া গলায় গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত রিপন মিয়ার স্ত্রী ঢাকার কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।




১৫ জুলাই ঢাবিতে হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ২২০ জনের বিরুদ্ধে নতুন মামলা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় ছাত্রলীগের ২২০ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আরমান হোসেন রোববার (২৬ অক্টোবর) মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান, ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, সাধারণ সম্পাদক তানভির হাসান সৈকত, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি ও সাধারণ সম্পাদক সজল কুণ্ডু এবং ঢাকা উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার পর শাহবাগ থানায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের বলেন, “গত ২১ তারিখে আমরা একটি মামলা করেছিলাম। সেই মামলায় বাদ পড়া আসামিদের বিরুদ্ধে এবং আন্দোলনের মূল উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে নতুন এই মামলা দায়ের করেছি।”

আমান হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “১৫ জুলাই আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নির্মম হামলার শিকার হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আমরা যারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধা পেয়েছি, তাদের নাম মামলার এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সমন্বয়ক রিফাত রশীদ, হামজা মাহবুব, মোহাম্মদ মহিউদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মুনসুর বলেন, “একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি যাচাই বাছাই চলছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




কেজিতে ২১ টাকা লাভ করতে গিয়ে জরিমানা ৫০ হাজার টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: মিরপুরের শাহআলী থানাধীন শাহ স্মৃতি মার্কেট এলাকায় পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১২৯ টাকায় কিনে ১৫০ টাকায় বিক্রি করায় এক দোকানে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।

রোববার (২৭ অক্টোবর) ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ অভিযানে সবজি, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, আলু, ডাল, পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

অভিযানকালে দেখা গেছে, এক খুচরা ব্যবসায়ী ১২৯ টাকা দামে পেঁয়াজ ক্রয় করে খুচরা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন, অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ২১ টাকা বেশি নিচ্ছেন। এর ফলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একটি আড়তকে পেঁয়াজ ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত পাকা রসিদ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

সর্বমোট ৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অধিদফতরের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।




সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তার গ্রেফতারের কারণ হিসেবে কোন মামলার উল্লেখ করা হয়নি।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে কক্সবাজারে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে হামলা এবং বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য ইশরাক হোসেনের গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় চট্টগ্রামে একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে।




সাবেক ডিবি প্রধান হারুনসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক প্রধান হারুন অর রশীদসহ ১৭ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (২৭ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ নির্দেশনা জারি করেন। চিফ প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম তাদের আদালতে হাজিরের জন্য আবেদন করেন।

এদিন, গণহত্যার মামলায় সাবেক ১০ মন্ত্রীসহ ১৪ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ১৮ নভেম্বর তাদেরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।

অন্যান্য অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন: শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, আনিসুল হক, দীপু মনি, আ ক ম মোজাম্মেল হক, সজীব ওয়াজেদ জয়, জুনায়েদ আহমেদ পলক, শেখ সেলিম, ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, বিপ্লব কুমার সরকার, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ মামুনসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তদন্তের স্বার্থে বাকিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।




বরিশাল বিভাগে ৮ মাসে ৯৫ খুনের মামলা

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। বরিশাল বিভাগে বেড়েছে বীভৎস, বিকৃত, রোমহর্ষক খুনের ঘটনা।

আপনজনরাও ঘটাচ্ছে অবিশ্বাস্য খুনখারাবি। স্ত্রী খুন করছে স্বামীকে, স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে, ভাই খুন করছে ভাইকে। খুনের পর লাশ রাখা হচ্ছে রাস্তায়, বালুর ভেতর, বস্তার ভেতর, কাদার ভেতর, ড্রেনে কিংবা ডাস্টবিনে। প্রায়ই এ ধরনের খুনের ঘটনা ঘটছে।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্বই অধিকাংশ খুনের ঘটনার কারণ। অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করেন যত দ্রুত সম্ভব এদিকে নজর না দিলে এর প্রভাব দিন দিন আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

অন্যদিকে দ্রুত বিচার ব্যবস্থা না থাকায় বারবার আইনের ফাঁক দিয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এতে অপরাধীদের সাহস বেড়ে যাচ্ছে।

বরিশাল ডিআইজি অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, (চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট) বরিশাল বিভাগে সর্বমোট খুনের মামলা হয়েছে ৯৫টি। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়েছে বরিশাল জেলায় ২৫টি। আর সব চেয়ে কম সংখ্যক খুনের মামলা হয়েছে পিরোজপুর জেলায় ১১টি।

এছাড়া পটুয়াখালীতে ২৫টি, দীপ জেলা ভোলায় ১২টি, বরগুনায় ১৪টি, ও ঝালকাঠিতে ১৩টি খুনের মামলা হয়েছে।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, খুনের মতো এতো বড় অপরাধী একদিনে তৈরি হয় না। দীর্ঘদিনের অপরাধের লাগাম টেনে না ধরা ও বার বার ছোট ছোট অপরাধ করে পার পেয়ে যাওয়ার কারণে এক সময় খুনের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। এ জন্য ছোট বেলা থেকে প্রশাসনের পাশাপাশি বাবা-মায়েরও খেয়াল রাখতে হবে। তার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে? এদিকে বাবা মায়ের নজর দিতে হবে। তাহলে হয়তো আস্তে আস্তে খুনের মতো অপরাধের সংখ্যা কমে আসতে পারে।

এদিকে, বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির (এপিপি) সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মাদ মোর্শেদ বলেন, পূর্বে আমরা দেখতাম ডাকাতি বা ছিনতাইয়ের মতো অপরাধের কারণে খুন হতো। তবে এখন আর তা হচ্ছে না। এখন বেশিরভাগ খুনের ঘটনার পিছনে পারিবারিক বিরোধ ও জমি নিয়ে বিরোধ থাকে। আসলে পারিবারিক বিরোধ কখনোই প্রশাসন বা আইন দিয়ে নিরোধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার পারিবারিক ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা ও সকলে সকলের প্রতি সহমর্মিতা বজায় রাখা।

বরিশাল ল’কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট মো. মোস্তফা জামাল খোকন বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি‍‍`ই খুনের প্রধান কারণ। সমাজের ছোট অপরাধ থেকেই এক সময় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়। অপরাধের শুরুর দিকে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলে খুনের মতো ঘটনা কম ঘটে। কিছু কিছুক্ষেত্রে খুনের ঘটনায় জন্য প্রতিহিংসা, সামাজিক রাজনৈতিক শত্রুতা, ও অবৈধ উপায়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টায়ও খুন হয়ে থাকে।




মোহাম্মদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক ৪৫

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে বসিলা ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেজর নাজিম এই তথ্য জানান।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তিনজন সরাসরি ছিনতাইয়ের, দুইজন দোকানে ডাকাতির এবং ৪০ জন সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী হিসেবে আটক হয়েছেন। মেজর নাজিম বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে আগামীকাল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং এলাকায় অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হবে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ছিনতাই, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি কমাতে সহায়ক হবে।”

এই অভিযানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনী ১৯৭ জনকে গ্রেফতার করেছে, এবং উদ্ধার করা হয়েছে ১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৬১ রাউন্ড গুলি, ১৯ রকমের মাদকদ্রব্য, একটি গ্রেনেড এবং ৭৫-৮০ রকমের দেশীয় অস্ত্র। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেজর নাজিম জানান, সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ২-৩ জন মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাঙের সদস্যদের হাতে আলাদা আলাদা ট্যাটু বা উল্কি আঁকা ছিল, যা তাদের আলাদা পরিচয় নির্দেশ করে। সাধারণত তারা সকালে রাস্তা ফাঁকা থাকলে বা বিকেলে মানুষ অফিস থেকে ফিরার সময় ছিনতাই কার্যক্রম চালাতো।”




সেই পুলিশ কর্মকর্তা সানজিদাকে রংপুরে বদলি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) সানজিদা আফরিনসহ পুলিশের ৩৫ কর্মকর্তাকেকে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনসূত্রে জানা যায়, এডিসি সানজিদা আফরিনকে রংপুর পিটিসিতে (পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার) বদলি করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রলীগের ২ নেতাকে শাহবাগ থানায় মারধর করেন এডিসি হারুন। ওই ঘটনার জেরে রাতে শাহবাগ থানার সামনে ভিড় করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে মধ্যরাতে থানায় গিয়ে ঘটনার মীমাংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের কর্মকর্তারা। এ ঘটনায় আলোচনায় উঠে আসে পুলিশ কর্মকর্তা সানজিদার নাম।

পরদিন রমনা বিভাগ থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয় এডিসি হারুন অর রশিদকে। এরপর একইদিন তাকে ২ বার বদলির আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে হারুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্ত করার পর তাকে পুলিশ অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে তাকে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাতের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির এপিএস আজিজুল হকের স্ত্রী ডিএমপির এডিসি (অতিরিক্ত উপকমিশনার) সানজিদা আফরিন এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি চিকিৎসা নিতে ওই দিন সন্ধ্যায় বারডেম হাসপাতালে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকের সাক্ষাৎ পেতে তিনি সহকর্মী হিসেবে এডিসি হারুন অর রশিদের সহায়তা নেন। এ সময় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে এসে এডিসি হারুনকে মারধর করেন তার স্বামী আজিজুল।