আরও ৫৮ এসআইকে অব্যাহতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণরত আরও ৫৯ জন উপ-পরিদর্শককে (এসআই) অব্যাহতি দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

চন্দ্রদ্বীপকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ফয়সাল হাসান।

এর আগে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত ২৫২ জন উপপরিদর্শককে (এসআই) শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।




তাপসের কুকীর্তির অজানা অধ্যায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যে গা-ঢাকা দেওয়া গান বাংলা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কৌশিক হোসেন তাপস গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবলাবাদক থেকে টিভি চ্যানেলের কর্ণধার হওয়া তাপস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। তার উত্থান নিয়েও নানা মুখরোচক গল্পের ছড়াছড়ি মিডিয়া পাড়ায়।

কৌশিক হোসেন তাপস ছিলেন একটি বেসরকারি টেলিভশন চ্যানেলের তবলা বাদক। বিগত প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আশরাফুল আলম খোকনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নজরে আসেন তাপস। তার স্ত্রী ফারজানা মুন্নি ছিলেন শেখ হাসিনার বিউটিশিয়ান।

এরপর তাপস-মুন্নি দম্পতিকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তাপস দিনে দিনে হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বড় বড় অনুষ্ঠানের দায়িত্ব ছিল তার। এভাবে কামিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। মালিক বনে যান গান বাংলার।

অভিযোগ রয়েছে, গান বাংলা চ্যানেলের আড়ালে নারী সাপ্লাইসহ নানা অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এমনকি স্ত্রী ফারজানা মুন্নী এই অপকর্মে স্বামী তাপসের সহযোগী ছিলেন। এই দম্পতির সঙ্গে বিশেষ খাতির ছিল সালমান এফ রহমানের।

তাপস দম্পতি দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন পর্ণ অভিনেত্রী সানি লিওনকে তাদের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে এনে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিষেধ উপেক্ষা করে সানি লিওনকে ঢাকায় এনে তাপস নিজের শক্তি দেখান। এতে পরোক্ষ সহযোগিতা করেন সালমান এফ রহমান। মেয়ের বিয়ের অতিথি হিসেবে আনা হলেও রাঘব-বোয়ালদের মনোরঞ্জন করতেই তাকে আনা হয়।

এছাড়া ভারতীয় অনেক নায়িকাকে অনুষ্ঠানের নামে নিয়মিত ঢাকায় আনতেন। এদের মধ্যে নুসরাত জাহান, মিমি চক্রবর্তী, নার্গিস ফাখরিসহ অনেকেই আছেন। তারাও তাপসের মাধ্যমে মনোরঞ্জন সার্ভিস দিতে আসতেন বলে কানাঘুষা আছে।

এছাড়া কর ফাঁকি দিয়ে গানবাংলার নাম করে ইউক্রেন থেকে নারী এনে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, আন্তর্জাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা করার অভিযোগও রয়েছে তাপসের বিরুদ্ধে। এমন দুটি ঘটনায় শাহজালালে দেশটির কয়েকজন নারীকে আটকে দিয়েছিল ইমিগ্রেশন পুলিশ। তখন প্রভাব খাটিয়ে তাদের ইমিগ্রেশন করিয়ে নেন তাপস।

নারীকেন্দ্রিক কুকীর্তিই শুধু নয়, তাপসের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিগত সরকারের অনেক মন্ত্রী-আমলার প্রভাব খাটিয়ে সংগীতাঙ্গনকে কুক্ষিগত করে রাখেন। গানবাংলাকে ঘিরে তিনি রীতিমতো যেনতেন কর্মকাণ্ড শুরু করে আসছিলেন।

তাপসের স্ত্রী ফারজানা মুন্নি শেখ হাসিনার বিউটিশিয়ান হবার সুবাদে আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতার সঙ্গে তার ওঠাবসা ছিল তাদের। সেটাকেই কাজে লাগান তাপস। স্ত্রীর কারণে হয়ে ওঠেন ক্ষমতাবান। প্রভাব বিস্তার করেন সংস্কৃতি অঙ্গনে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সব থেকে বড় প্রজেক্ট ছিল জয় বাংলা কনসার্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে এই কনসার্ট আয়োজন করা হতো। পুরো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন তাপস। এ থেকে কোটি কোটি টাকা ঘরে তোলেন তিনি। শিল্পীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের বড় অংশ তিনি নিজের পকেটে ভরতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের আস্থাভাজন ছিলেন তাপস। ফলে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কাজ সহজেই পেয়ে যেতেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে কনসার্ট আয়োজনের কাজও বাগিয়ে নিতেন তিনি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন আয়োজিত লাল-সবুজের মহোৎসব, মুজিববর্ষের অনুষ্ঠান থেকেও হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। ২০২২ সালে বরিশালে ‘জয়বাংলা উৎসব’ নামে অনুষ্ঠানে ভারত থেকে মিমি চক্রবর্তীসহ অনেক তারকাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেখানে সালমান এফ রহমান ছিলেন প্রধান অতিথি। এছাড়া বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহও ছিলেন।

আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া তাপসের কাছে এক প্রকার জিম্মি ছিল দেশের অনেক মেধাবী শিল্পী। কাজ পেতে তাদের কেউ কেউ তাপসের পেছন পেছন ঘুরতেন। তাপসের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরলে তাদের কেউ কেউ বড় আয়োজনে গান গাওয়ার সুযোগও পেতেন।

গ্রেপ্তার কৌশিক হোসেন তাপসকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রাজধানীর উত্তরায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় করা এক মামলায় এজাহারনামীয় আসামি তিনি। রাজধানীর প্রগতি সরণিতে গান বাংলা টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এর আগে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন গান বাংলার কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়। তবে জনরোষ এড়াতে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ তকমা পাওয়া কৌশিক হোসেন তাপস।




গলাচিপায় ১৭টি কাছিম উদ্ধার, পাচারকারীকে এক বছরের কারাদণ্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার বন্যাতলী খেয়াঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযানে ১৭টি কাছিম উদ্ধার করা হয়েছে এবং এক পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে বন বিভাগের উদ্যোগে এবং স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের সহযোগিতায় কাছিমগুলো উদ্ধার করা হয়।

এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গলাচিপা বন বিভাগের কর্মকর্তা বিএম মো. নাইম হোসেন খাঁন এবং পরিবেশ সংগঠন Animal Lovers of Patuakhali (ALP)-এর গলাচিপা টিম লিডার সোহেল হোসেন রাসেল। গলাচিপা রেঞ্জ অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং বন্যপ্রাণী পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আস সাদিকের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযানটি পরিচালিত হয়।

উদ্ধারের পর স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নাছিম রেজার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত আটক পাচারকারীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করে।

উদ্ধারকৃত কাছিমগুলো পরবর্তীতে বন বিভাগের সদস্য, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীও উপস্থিত ছিলেন।

পটুয়াখালী বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং পাচার প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




গান বাংলার চেয়ারম্যান তাপস গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল গান বাংলার চেয়ারম্যান কৌশিক হোসেন তাপসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রোববার (৩ নভেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

গত ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সংগীতভিত্তিক টিভি চ্যানেল গানবাংলায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাজধানীর প্রগতি সরণীতে অবস্থিত ভবনের স্টুডিও, শুটিং ফ্লোর, সাউন্ড সিস্টেম, এডিটিং প্যানেলসহ কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট করা হয়। ভবনের বাইরের গ্লাস ভেঙে ভেতরের যন্ত্রাংশ বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং সামনে আগুন জ্বালানো হয়।

গানবাংলায় দেশের প্রায় সব জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীকে গাইতে দেখা গেছে। এছাড়াও সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন তাপস। অনেকেই ধারণা করছেন, সরকারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই বিক্ষুব্ধ জনতা চ্যানেলটিতে হামলা চালায়।

 




ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জমির মালিকদের ‘ভূমি মালিকানা সনদ (সার্টিফিকেট অব ল্যান্ড ওনারশিপ-সিএলও)’ দেবে সরকার। কিউআরকোড বা ইউনিক নম্বরসংবলিত এই ‘ভূমি স্মার্ট কার্ড’ বা সনদই ভূমির মালিকানা নির্ধারণে চূড়ান্ত দলিল বলে গণ্য হবে। ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) দিতেও ব্যবহার হবে এই কার্ড। কোনো কারণে টানা তিন বছর কেউ খাজনা না দিলে তার জমি বাজেয়াপ্ত ও খাস করা হবে।

এ ছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কারও জমি অবৈধভাবে দখল করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এসব বিধান রেখে ‘ভূমি মালিকানা ও ব্যবহার আইন, ২০২৩’-এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।




গলাচিপায় খাবারে চেতনানাশক প্রয়োগ করে চুরির ঘটনায় ২ চোর গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় খাবারে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে মা ও ছেলেকে অচেতন করে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা রবিবার (৩ নভেম্বর) রাতে উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে। অসুস্থ অবস্থায় থাকা মাহিনুর বেগম (৪০) ও তার ছেলে আজিজুল (১০), শানু ডাক্তারের স্ত্রী ও ছেলে, বর্তমানে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (৪ নভেম্বর) রাতে গলাচিপা থানা পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের গেরাবুনিয়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন মৃধার ছেলে মাহাতাব হোসেন (৩৬) এবং গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের হাবিব মৃধার ছেলে রাশেদুল মৃধা (৩৭)।

মামলার বিবরণে জানা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় ভিকটিমের ঘরে চোর চক্রের সদস্যরা সুকৌশলে প্রবেশ করে। তারা রাতের খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দেয়। পরবর্তীতে খাবার খেয়ে মা ও ছেলে অচেতন হয়ে পড়ে এবং চোরেরা স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।

সোমবার সকালে স্থানীয়রা পিছনের খোলা দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে মা ও ছেলেকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে পুলিশ, আমখোলা বাজারে চেকপোস্ট চলাকালে মাহাতাবকে আটক করে এবং তার কাছ থেকে সোলার ব্যাটারি, পিতলের খুন্তি ও ৪ হাজার ৫৫০ টাকা জব্দ করে। মাহাতাবের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ রাশেদুল মৃধাকেও গ্রেপ্তার করে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, চুরির ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।




নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আর নতুন সংবিধান কার্যকর করবে অন্তর্বর্তী সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকার নতুন সংবিধান কার্যকর করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য মাহফুজ আলম।

রোববার (৩ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সংবিধান সংস্কার কমিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

কমিশনের প্রস্তাব পাওয়ার পর সেই প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শ করবে সরকার। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সুপারিশ কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হবে। আর সেটা বর্তমান সরকারই কার্যকর করবে।

মাহফুজ আলম বলেন, আমরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই। আর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মানেই নতুন সংবিধান। সেটা কিন্তু এক দফার ঘোষণাতেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। এমনকি এক দফার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পুরোনো পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট সম্পূর্ণ বাতিল হয়েছে।

এ সময় সংবিধান সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান প্রণয়নের সুযোগ নেই। জনআকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে চাইলে নিঃসন্দেহে সংবিধানে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের বিষয়টি রাখতে হবে। গণঅভ্যুত্থান না হলে এই কমিশন হতো না।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানে থাকুক বা না থাকুক, নিঃসন্দেহে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পেছনে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন আছে। সেটা তো নিঃসন্দেহে ডকুমেন্টেড হতে হবে। এর বাইরে গিয়ে আমরা কিছুই করতে পারব না। আমি মনে করি, চব্বিশের গণমানুষের বিপ্লবকে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করা শুধু জরুরিই নয়, অনিবার্যও বটে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবিধানিক সংস্কারের ৭টি উদ্দেশ্যের কথা জানানো হয়। বলা হয়, দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিশ্রুত উদ্দেশ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আলোকে বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা; ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো; রাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা ছাড়াও ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার উত্থান রোধ; রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ-নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য; রাষ্ট্র ক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন; রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া।




সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারই বাস্তবায়ন করবে: মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::সংবিধান সংস্কারে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারই বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেছেন কমিটির সদস্য ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।

সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কারা বাস্তবায়ন করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তবে আমাকে যদি ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে ধরেন, তাহলে আমি বলতে পারি অবশ্যই অবশ্যই এ সরকারই বাস্তবায়ন করবে। কেন করবে না?’

আজ রোববার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন কমিটির সদস্য ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিশন প্রধান আলী রীয়াজ। পরে তিনি ও মাহফুজ আলম সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মাহফুজ আলম বলেন, ‘সংবিধানের বিষয়ে যে প্রশ্নটা এসেছে সেটা যেদিন এক দফা ঘোষণা হয়েছিল, ওই দিনই বাতিল হয়েছে। কারণ, সেখানে বলা হয়েছিল পুরোনো রাজনৈতিক সেটেলমেন্ট আমরা খারিজ করছি, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চাই। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মানেই হচ্ছে নতুন সংবিধান। ওই দিনই বলা হয়ে গেছে। ওইটা শুনেই বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনে নেমেছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অনির্বাচিত হতে পারি, কিন্তু আমরা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি। পুরো দুনিয়ার কোথায় শিক্ষার্থীরা সরাসরি সরকারে যায়নি, আন্দোলন করেছে সরকারে গেছে—এমন হয়নি। কিন্তু এটা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) একটা এক্সট্রা অর্ডিনারি পরিস্থিতি। এখানে সংসদ, নির্বাচন, নির্বাচিত শব্দগুলো খুবই দুর্বল কথাবার্তা। আমি জানি না এ সরকারের ক্ষেত্রে এগুলোর কী তাৎপর্য আছে।’

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব সরকার কীভাবে বাস্তবায়ন করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে—মাহফুজ আলম বলেন, ‘কমিশন গঠনের সময় আমরা অধিকাংশ রাজনৈতিক দলকে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। কমিশন থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পরেও তাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর করা হবে। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকবে।’

সংস্কার কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের কার্যক্রম চলার সময় যেন কোনো রাজনৈতিক চাপ না আসে, সে জন্য আলোচনায় না বসে তাদের কাছ থেকে লিখিত সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা নেবে।সংবাদ সম্মেলনে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ডাবল হত্যাকাণ্ডের আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর সদর উপজেলার বহালগাছিয়া গ্রামে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর বৃদ্ধ দম্পতি হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ আলি হেসেন (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাত থেকে ২১ জুলাই সকাল পর্যন্ত সময়ে অজ্ঞাতনামা আসামিরা বৃদ্ধ দম্পতি আশরাফ আলী হাওলাদার (৭৭) এবং তার স্ত্রী হোসনে আরা বেগমকে (৭০) তাদের নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে হত্যা করে। গ্রেফতারকৃত আলি হেসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি তার ইজিবাইক নিয়ে সঙ্গীসহ চুরির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। গৃহকর্ত্রী টের পেলে তাকে কাঠ দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়, এরপর তার স্বামী প্রবেশ করলে তাকেও হত্যা করা হয়।

পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের দিকনির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে এবং গোয়েন্দা টিমের অফিসার ইনচার্জ মো. মিজানুর রহমানের সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে ১ নভেম্বর টাউন বহালগাছিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে আলি হেসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর আলি হেসেন ২ নভেম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ষড়যন্ত্র বা মদদদাতা আছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 




১৭ ব্যক্তির অর্থ পাচার অনুসন্ধানে সিআইডি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে। পাচারকারীর তালিকায় রয়েছেন হেভিওয়েট রাজনীতিক ও আওয়ামীঘেঁষা ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে গড়ে প্রতিবছর ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার অর্থ পাচার হচ্ছে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকার অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সরকারের পতনের পর বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়। বর্তমানে সিআইডি ১৭ ব্যক্তি ও তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পাচারের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ) চিঠি পাঠিয়েছে ব্যাংক হিসাবের তথ্যের জন্য। সিআইডি প্রধান মো. মতিউর রহমান শেখ জানিয়েছেন, অনুসন্ধান মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডির অনুসন্ধানের মধ্যে রয়েছেন বেক্সিমকো গ্রুপের মালিক সালমান এফ রহমান, এস আলম গ্রুপের মো. সাইফুল আলম, ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, এবং অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডলার সংকট, অর্থনৈতিক সংকট এবং মূল্যস্ফীতি সহ নানা কারণে দেশে অর্থ পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। সিআইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।