বরিশাল নগরীতে আতঙ্কের নাম ‘চাদর পার্টি’!

বরিশাল নগরীতে চাদর পার্টির আতঙ্ক বেড়ে গেছে। নগরীজুড়ে ব্যবসায়ীরা এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এই চক্রটি দিনের পর দিন তাদের কার্যক্রম বাড়িয়ে চলেছে, আর পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। চাদর পার্টি নামের এই চক্রের সদস্যরা বিশেষ করে ফজরের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লক্ষ্য করে তাদের কৌশল অবলম্বন করে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই চক্রের সদস্যরা পুলিশি পদক্ষেপের অভাবে তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, আর তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশের কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

৩ নভেম্বর বরিশালের গীর্জা মহল্লা এলাকায় অবস্থিত ‘টাইম জোন’ নামক বিদেশী ঘড়ির শো-রুমের দোকানে চাদর পার্টির সদস্যরা তালা কাটার চেষ্টা করছিলো। ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা দোকানের সামনে দুই সদস্যকে দেখতে পেয়ে তাদেরকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। দোকানের মালিক হালিম ভূঁইয়া জানান, চক্রটির সদস্য সংখ্যা ছিল ৭-৮ জন। এর মধ্যে দুইজন দোকানের সামনে চাদর মেলে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল এবং বাকিরা চাদরের আড়ালে থেকে দোকানের তালা কাটছিলো। মুসল্লিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।

দোকানের মালিক হালিম ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, তার স্টাফদের থানায় পাঠানো হয়েছিল মামলা দায়ের করার জন্য, কিন্তু পুলিশ তাদের বাদী হতে দেয়নি। পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং তদন্তও তারা পরিচালনা করবে। তিনি মনে করেন, তার দোকানে ডাকাতির চেষ্টা হয়েছে, ফলে তার বা তার কর্মচারীর পক্ষ থেকে মামলা করা উচিত ছিল, কিন্তু পুলিশ সেটি করতে দেয়নি। এর ফলে, তিনি পুলিশের ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন যে, তদন্তের ভবিষ্যত কী হবে।

কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ডাকাতি চেষ্টার ঘটনায় পুলিশ বাদী হবে, এটা আইনগত নিয়ম। অভিযোগকারীদের বাদী করা হয়নি, এর পিছনে কোন উদ্দেশ্য নেই।” তবে পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ওসি যে আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা পুরোপুরি সঠিক নয়। এসব ঘটনায় পুলিশ সাধারণত বাদী হয়, কারণ ডাকাতি বা চুরি হয়নি, কিন্তু চেষ্টার সময় হাতে-নাতে আটক করা হয়েছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সাধারণত ঝামেলা এড়াতে বাদী হতে চায় না, তাই পুলিশ বাদী হয়। তবে কর্তৃপক্ষ চাইলে পুলিশ বাধা দিতে পারে না।” তিনি আরও জানান, চাদর পার্টির সদস্যদের ধরতে পুলিশ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

চাদর পার্টির সদস্যরা বরিশাল নগরীতে একাধিকবার একই ধরনের ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে। কয়েক মাস আগে, নগরীর বগুরা রোডে অবস্থিত মোবাইলের দোকান ‘ফোন ফর ইউ’-তে ফজরের সময় একই স্টাইলের ডাকাতি চেষ্টা হয়েছিল। সেই ঘটনায়ও জনতা দুই সদস্যকে আটক করে পুলিশে দেয়, তবে পুলিশ ওই ঘটনায় আর কোন সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশের দাবি, আটক হওয়া দুইজন আগের মামলারও আসামি।

নানী বুড়ি ফাড়ির ইনচার্জ সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, আটকৃতরা চাঁদপুরের বাসিন্দা এবং তাদের ধরতে পুলিশ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখনও পুরো চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার অভিযোগ

বরিশালে যুবদল নেতাকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ কমিশনারসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে নালিশি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলাটি ১০ নভেম্বর, রোববার বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দায়ের করেন বরিশাল জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মশিউল আলম খান। আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে রুজু করে মহানগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার নামধারী আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, সাবেক পুলিশ কমিশনার রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোয়াজ্জেম হোসেন ভুঁইয়া, বন্দর থানার সাবেক ওসি মো. মোস্তফা কামাল হায়দার, পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ মো. ফয়সাল আহম্মেদ, এসআই আব্দুল মালেক, কনস্টেবল ফয়জুল, এএসআই এরফান হোসেন মিদুলসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এমএ মালেক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে তারা বেআইনিভাবে পথরোধ করে যুবদল নেতা মো. মশিউল আলম খানকে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা করেছে। মামলার বাদী জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার জন্য আসামিরা এই অপহরণ এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটিয়েছে।

মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী মো. আরমান হোসেন জানান, এসব উচ্চপদস্থ পুলিশ ও প্রশাসন কর্মকর্তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালিয়েছিল। মামলার প্রধান সাক্ষী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, যিনি ছিলেন বিএনপির প্রার্থী, এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের ঘটনাটি ঘটানো হয়।

ঘটনা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর চন্দ্রমোহন বাজারে লিফলেট বিতরণ শেষে বিএনপির প্রার্থী এবং তার কর্মীরা যখন সমাবেশে যোগ দিতে রওনা দেন, তখন প্রধান আসামি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম ও তার সহযোগীরা পুলিশ পোশাক পরে এসে তাদের ঘিরে ধরে। বিএনপির প্রার্থীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। বাদী বাধা দিলে তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে একটি বদ্ধ ঘরে নিয়ে গিয়ে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়।

এ সময় বাদীকে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তবে ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আসামিরা ভুক্তভোগীকে বন্দর থানায় সোপর্দ করে। পরে বাদীকে দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রধান উপদেষ্টা ও তার পরিষদসহ সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।

ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ জন অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।




ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ইরানি নাগরিক অভিযুক্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ইরানের অভিজাত বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে নির্বাচিত-মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করায় যুক্তরাষ্ট্রে এক ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফরহাদ শাকেরি নামের ওই ইরানি নাগরিক আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে।

তবে আইআরজিসির নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাননি বলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানিয়েছেন শাকেরি।




ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। খবর মানবজমিনের
শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে এই অভিযোগ করা হয়।
লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুজ্জাম চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় আমিই প্রথম (অভিযোগ) শুরু করলাম। প্রায় ১৫ হাজার ভিক্টিম আছেন যারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সরকার পতনের পর লাপাত্তা হন সিলেটের তৎকালীন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। পরে জানা যায় তিনি লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।

 

 




বাউফলে জমি নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, ৬ জন আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে বাউফলের কালাইয়া বন্দরের টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন রনজিত দাস (৬০), রাধা রাণী (৪০), রাজীব দাস (২৬), সজীব দাস (২০), মধু মেম্বর (৬৫), আশিশ (৩০), এবং আশিক (২৮)। এদের মধ্যে আশিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাকিদের বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই ভাই রনজিত দাস ও মধু মেম্বারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটি হলে, একপর্যায়ে বড় ভাই মধু মেম্বার ছোট ভাই রনজিত দাসের উপর হামলা করেন। এরপর উভয় পরিবারের সদস্যরা দেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

মধু মেম্বার বলেন, তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি করেন, যা তার ছোট ভাই রনজিত দাসের কাছে অস্বীকার্য ছিল। তিনি দাবি করেন, “বিএনপি করার কারণে রনজিত আমার এবং আমার দুই ছেলে আশিষ ও আশিককে কুপিয়ে আহত করেছে।”

অন্যদিকে, রনজিত দাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার পরিবারের কেউ বড় ভাই মধু মেম্বারের উপর হামলা করেনি। উনি প্রথম হামলা করেছেন এবং জমি নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। এটি রাজনীতি সম্পর্কিত কোনো ঘটনা নয়।”

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, “এ পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এই ঘটনা বাউফল উপজেলার স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, এবং এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলার এক যুগ পর পটুয়াখালীতে মামলা

পটুয়াখালীতে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় এক যুগ পর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী সদর থানায় মেহেদী হাসান জীবন নামে একজন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে বদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তা মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৫৭ জনকে নামধারী আসামি করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর বদরপুর বাজারে দলীয় কর্মসূচি শেষে শহরে ফেরার পথে শিয়ালী বাজার এলাকায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিমান বাহিনী প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িবহরে হামলা চালান তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে গুরুতর আহত হন ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের তিনবারের চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষকদলের সভাপতি এস এম আব্দুর রব হাওলাদার, ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মোহন সিকদার, যুবদলের সদস্য দেলোয়ার হোসেন ও শফিক টেইলার।

মামলার বাদী মেহেদী হাসান জীবন ঢাকা পোস্টকে বলেন, “২০১৩ সালে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর গাড়িবহরে মুক্তা মিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা করেন। হামলায় আমার বাবা গুরুতর আহত হন এবং তার চিকিৎসা করতে পারিনি। তখন দেশের পরিস্থিতি বিচারপ্রার্থীদের জন্য অনুকূল ছিল না। তবে ২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার বিতাড়িত হওয়ার পর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই আমি মামলা করেছি।”

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ ঢাকা পোস্টকে জানান, “২০১৩ সালে হামলার ঘটনায় মেহেদী হাসান জীবন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য থানা পুলিশ কাজ করছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে নিখোঁজের দুইদিন পর নদী থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শহরের লাউকাঠি সরকারি গোডাউন ঘাট সংলগ্ন নদীর পাড় থেকে নিখোঁজের দুইদিন পর আল আমিন খন্দকার নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা নদীর উত্তরপাড়ে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে, তারা এসে মরদেহটি উদ্ধার করে।

নিহত আল আমিন খন্দকার সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ১নং ব্রিজ এলাকার মৃত খালেক খন্দকারের ছেলে। জানা গেছে, আল আমিন পেশায় একজন দিনমজুর ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সকাল ১০টার দিকে কাজে যোগদানের কথা বলে বাসা থেকে বের হন আল আমিন। এরপর থেকে তিনি আর বাসায় ফেরেননি। নিখোঁজের একদিন পর বৃহস্পতিবার বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। তার নিখোঁজ হওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সবাই তাকে খুঁজতে শুরু করে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইমতিয়াজ মাহমুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “শুক্রবার সকালে লাউকাঠি নদীর পাড় থেকে আল আমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”




কেন মামলা হয়েছে জানেন না অপু বিশ্বাস

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ২৪ অক্টোবর চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, হিরো আলম ও জাহিদুল ইসলাম বিরুদ্ধে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন প্রযোজক সিমি ইসলাম কলি। মামলায় অভিযোগ, অপু বিশ্বাস এবং তার সহযোগী জাহিদুল ইসলাম প্রযোজকের ইউটিউব চ্যানেলটি হ্যাক করে তার ভিডিও মুছে ফেলেছেন এবং চ্যানেল ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করেছেন। সিমি ইসলাম কলি আরও দাবি করেছেন, তিনি ৫ লাখ টাকা দিলে চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়, তবে আগের ভিডিওগুলো ফিরে পাননি।

অপু বিশ্বাস এই মামলার বিষয়ে অবগত নন জানিয়ে বলেন, “এটা তো অনেক আগের ঘটনা, আমি এখন এসব বিষয়ে কিছু জানি না। সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবরটা শুনেছি, আমি এসব দেখি না। আমার অ্যাডমিন বিষয়গুলো দেখে থাকে।”

সিমি ইসলাম কলি জানাচ্ছেন, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রথমে সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন এবং পরে প্রযোজক সমিতির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন। তবে তার ইউটিউব চ্যানেলটি ফিরিয়ে দেওয়ার পর আগের ভিডিওগুলো অনুপস্থিত পাওয়া যায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

অপু বিশ্বাস আরও বলেন, “বর্তমানে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খুবই শোচনীয়, এ কারণে এসব বিষয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা উচিত নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে সিমির সঙ্গে কথা বলব, কেন এমন অভিযোগ উঠেছে।”

এখন পর্যন্ত মামলার শুনানি চলছে এবং অপু বিশ্বাস, হিরো আলম ও জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দুমকিতে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরে ৪ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় দুবছর আগের বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীরামপুর ও লেবুখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুমকি থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. হুমায়ুন কবির মৃধা (৪৫), লেবুখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ছিদ্দিকুর রহমান আকন (৬৫), একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সদস্য মো. শহিদুল আকন (৪৫) এবং মো. সাইদুল ইসলাম টিটু আকন (৩৫)।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ৫ মার্চ বিএনপি আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হামলা চালিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যুবদল নেতা মো. মোর্তুজা বিল্লাহ বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি (মামলা নম্বর -০১/২৪, তাং ৭/১১/২৪) ভিত্তিতে বুধবার রাতে চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফিরোজ আহম্মদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”