“দুই গুম ও এক হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ”

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ বুধবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দুই গুম ও একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনাল গুমের অভিযোগে দায়ের দুটি মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে। এছাড়া, রামপুরায় গত বছরের ১৮ ও ১৯ জুলাই গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার শুনানির জন্য ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।

শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে আনার পর আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কারা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন কোথায় রাখা হবে।” তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের ট্রাইব্যুনালে আনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে এবং সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানান।

সকালে ৭টা ১৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যান থেকে নামিয়ে পুলিশ সদস্যরা তাদের ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় নিয়ে যান।

অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, মেজর জেনারেল মোস্তফা সরোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, কর্নেল মশিউল রহমান জুয়েল, লে. কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবির আহম্মেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, লে. কর্নেল মখচুরুল হক (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার ও কর্নেল কেএম আজাদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




“তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর চূড়ান্ত আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি”

দেশের সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর চূড়ান্ত আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত মুলতবি করেছে।

বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চে দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।  শুনানি করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরলেও আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। তবে চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন হলে তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সর্বোচ্চ আদালত মঞ্জুর করেন এবং আপিলের অনুমতি দেন। এরপর ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আপিল করেন।

২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেন তৎকালীন আপিল বিভাগ। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর জন্য নতুন আইনি লড়াই শুরু হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে শহীদ জসিমের কন্যাকে ধর্ষণের মামলায় তিন কিশোরের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বহুল আলোচিত জুলাই অভ্যুত্থানকালে শহীদ জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া আক্তারকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন কিশোরকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ১০ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই মামলায় পর্নোগ্রাফি আইনে দুই আসামি—সাকিব মুন্সী ও সিফাত মুন্সীকে অতিরিক্ত তিন বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শিরিন জনাকীর্ণ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে এই রায় প্রদান করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় পাংগাশিয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে কিশোরী লামিয়া আক্তার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। পরদিন তিনি নিজেই বাদী হয়ে দুমকি থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ১৯ মার্চ ২০২৫)।

তদন্ত শেষে ওসি (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম আদালতে অভিযুক্ত হিসেবে তিন কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন—
১. সাকিব মুন্সী ওরফে সাকির আল হাসান (১৫), পিতা মৃত মামুন মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি;
২. সিফাত মুন্সী (১৭), পিতা মো. সোহাগ মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি;
৩. ইমরান মুন্সী (১৭), পিতা মো. আব্দুল মালেক মুন্সী, সাং নলদোয়ানী ২নং ওয়ার্ড, দুমকি, পটুয়াখালী।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন, যা ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শহীদ জসিম উদ্দিন ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম শহীদ। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল ঢাকার শেখেরটেক এলাকায় জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে গত বছরের ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ জসিম উদ্দিন মারা যান।


আল-আমিন




বাউফলের সাবেক এমপি আ স ম ফিরোজ পরিবারবর্গের বিরুদ্ধে দুদকের তিন মামলা

বাউফল আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, তার স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানা ও ছেলে রায়হান শাকিবের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পটুয়াখালী দুদকের উপ-পরিচালক তানভীর আহমদ বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের মোট বৈধ আয় ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার কিছু বেশি, আর ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। হিসাব অনুযায়ী বৈধ সঞ্চয় থাকার কথা ছিল ৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকার মতো। কিন্তু তার নামে মোট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া যায় প্রায় ১২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার উৎস অস্পষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী দেলোয়ারা সুলতানার বৈধ আয় ৬৮ লাখ টাকা হলেও, ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের তুলনায় ১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অসামঞ্জস্যপূর্ণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, ছেলে রায়হান শাকিবের বৈধ আয় প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা হলেও তার নামে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে ৪ কোটি ২১ লাখ টাকার উৎসের সঙ্গে আয় সামঞ্জস্য মেলেনি বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনজনই তাদের বৈধ আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তা তানভীর আহমদ।


আল-আমিন




জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: প্রেমিকার পরিকল্পনায় জড়িত প্রথম প্রেমিক মাহির

রাজধানীর পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসাইন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বেরিয়ে এসেছে তার ছাত্রী ও প্রেমিকা বারজিসস সাবনাম বর্ষার নাম। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করেন বর্ষার প্রথম প্রেমিক মাহির।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস. এন. নজরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জোবায়েদ হোসাইন পুরান ঢাকার বংশাল থানার নুরবক্স লেনের একটি বাসায় ছাত্রী বর্ষাকে পড়াতে যেতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু বর্ষা একই সময়ে তার গৃহশিক্ষক জোবায়েদ এবং প্রথম প্রেমিক মাহিরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছিলেন। ত্রিভুজ প্রেমে জড়িয়ে পড়ায় সংকট তৈরি হলে বর্ষা নিজেই জোবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, “বর্ষা তার প্রেমিক মাহির ও তার বন্ধু ফারদিন আইলানকে হত্যার কাজে যুক্ত করেন। ১৯ অক্টোবর বর্ষা জোবায়েদকে ডেকে বাসায় নিয়ে আসেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মাহির ও আইলান সেখানে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে সিঁড়ির কক্ষে তর্কবিতর্কের সময় জোবায়েদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।”

তিনি আরও জানান, হত্যার পর বাসার সিঁড়ি থেকে তিনতলা পর্যন্ত রক্তের দাগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে জোবায়েদ উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

গ্রেফতার হওয়া তিনজন—বর্ষা, মাহির ও আইলান—বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে আছেন।

জোবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে বর্ষার বাসার তিনতলায় ওঠার সিঁড়িতে জোবায়েদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, যা পুরো এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।


আল-আমিন




তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল চেয়ে আপিল শুনানি শুরু

নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে দাখিল করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে আজ। সোমবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা করার অনুমতি দেন আপিল বিভাগ।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক পৃথকভাবে আপিল দাখিল করেন।

১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা যুক্ত হয়। তবে এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ১৯৯৮ সালে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়। ২০০৪ সালে হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।
পরবর্তীতে ২০১১ সালে আপিল বিভাগ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন, যার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল হয়। এরপর একই বছর জাতীয় সংসদে পাস হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী।

তবে নতুন সরকার গঠনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন করেন ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি।
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৬ অক্টোবর এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার গত বছরের ২৩ অক্টোবর একই বিষয়ে পৃথক আবেদন করেন।
এ ছাড়া নওগাঁর রানীনগরের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেনও আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন জানান।

আইনজীবীদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলার শুনানিতে দেশের নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা মিলবে।


আল-আমিন




পটুয়াখালীতে পারিবারিক বিরোধে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যু

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোটবিঘাই ইউনিয়নের হরতকিবাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে শ্বশুরের কোদালের আঘাতে জামাইয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

নিহতের নাম অভিনাশ চন্দ্র দাস (২৮)। তিনি সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের ঢেউখালি গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অভিনাশ কিছু অর্থ ও স্বর্ণালংকার শ্বশুরবাড়িতে জমা রাখেন। সোমবার বিকেলে স্ত্রী মনিকা দাসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে সেই অর্থ ও গহনা ফেরত চান। এ সময় শ্বশুর শান্তি দাস (৫৫), শ্যালক হৃদয় দাস এবং স্ত্রী মনিকা দাসের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে শ্বশুর শান্তি দাস কোদাল দিয়ে অভিনাশের মাথায় আঘাত করেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শান্তি দাস, হৃদয় দাস ও মনিকা দাস বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।”

পুলিশ ধারণা করছে, পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।


 




ভোটে ৮ দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচনের আগে ও পরে মোট আট দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন বাহিনী। সোমবার (২০ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমূলক আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে এ প্রস্তাব আসে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র সচিব, ইসি সচিব এবং বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “আগে ভোটের আগে ও পরে মোট পাঁচ দিন বাহিনী রাখার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বৈঠকে আট দিন রাখার প্রস্তাব এসেছে। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা হবে।”

তিনি আরও জানান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানরা ভোটের পরিবেশ নিয়ে কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। সব বাহিনীই সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নির্ভর করবে বাজেট বরাদ্দের ওপর, যা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

এছাড়া নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং ড্রোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। পুলিশের সদস্যদের জন্য থাকবে বডিওর্ন ক্যামেরা, যাতে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

আখতার আহমেদ বলেন, “আসন্ন নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর ৯০ হাজার থেকে এক লাখ সদস্য মাঠে থাকবে। আনসার বাহিনীর সদস্য থাকবে সর্বাধিক—প্রায় পাঁচ লাখ বা তারও বেশি। অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োজিত হবেন।”

তিনি আরও জানান, সশস্ত্র বাহিনী “ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার” এর অধীনে নাকি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নিয়োজিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশোধিত আরপিও প্রাপ্তির পর সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

ইসি সূত্র জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করা হবে। গত সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জবি শিক্ষার্থী জোবায়েদ হত্যা: প্রধান অভিযুক্ত মাহিরকে থানায় নিয়ে গেলেন তার মা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাহির রহমানকে অবশেষে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ অক্টোবর) ভোরে অভিযুক্ত মাহিরের মা নিজেই তাকে নিয়ে এসে ঢাকার বংশাল থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

পুলিশ জানায়, জোবায়েদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই মাহিরকে শনাক্ত করা হয়। তবে ঘটনাটি ঘটার প্রায় একদিন পার হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক মামলা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।

গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আরমানিটোলায় টিউশনি করতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ছাত্রদল আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

ঘটনার দিন বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির ‘রওশন ভিলা’ নামের একটি ভবনের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় জোবায়েদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দুই তরুণকে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও, তাদের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

নিহতের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বলেন, “আমরা পাঁচজনকে আসামি করতে চেয়েছিলাম—শিক্ষার্থী বর্ষা, তার বাবা-মা, বর্ষার প্রেমিক মাহির রহমান ও মাহিরের বন্ধু নাফিসকে। কিন্তু বংশাল থানার ওসি প্রথমে মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। আমরা কেবল পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই।”

এ বিষয়ে বংশাল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবার যাদের আসামি করতে চায়, তাদের নামেই মামলা নেওয়া হবে। শুধু পরামর্শ দিয়েছিলাম যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।”

ঘটনার পর শিক্ষার্থী বর্ষাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রবিবার রাতেই তাকে থানায় এনে দীর্ঘ সময় ধরে প্রশ্ন করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ সূত্র।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বংশাল থানার সামনে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। তাঁতিবাজার মোড়ে আগুন জ্বালিয়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং সাময়িকভাবে সড়কও অবরোধ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে দুই দিনের শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি আগামী ২২ অক্টোবর নির্ধারিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের’ সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

ক্যাম্পাসজুড়ে এখন শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। সহপাঠীরা জোবায়েদের হত্যার বিচার চেয়ে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দশমিনায় ৪০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ, ১৫ কেজি মা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ

পটুয়াখালীর দশমিনায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদী থেকে ৪০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট ও সুতার জাল জব্দ করেছে মৎস্য দপ্তর, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ টিম। এসময় উদ্ধার করা ১৫ কেজি মা ইলিশ উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এই অভিযান পরিচালিত হয়। জব্দ করা জালগুলো পরে হাজিরহাট এলাকায় নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরঙ্গ নদীর বিভিন্ন স্থানে গোপন খবরের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। তবে কোনো জেলেকে আটক করা হয়নি।

নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফেরদাউস বলেন, “নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কেউ যেন নদীতে মাছ ধরতে না পারে, এজন্য প্রতিদিনই অভিযান চলছে। শনিবারের অভিযানে ৪০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।”

দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন জানান, “মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান প্রতিদিন অব্যাহত থাকবে। কারেন্ট জাল ব্যবহার ও অবৈধভাবে ইলিশ শিকারে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রয়ে সরকারি ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময় মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম