কলাপাড়ায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী, ব্যাংকার, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার কলাপাড়া আদালতে ভুক্তভোগী মো.জুয়েল মৃধা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার নং ১৫৫৭/২০২৪।

এ মামলায় আসামি হিসেবে সাবেক মন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান মহিব, টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মশিউর রহমান শিমু, ব্যাংকার তরিকুল ইসলাম হিরন, সাবেক এপিএস তরিকুল ইসলাম, ধানখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. রিয়াজ তালুকদার, ধুলাস্বর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. নুরুদ্দিন, মো. মোস্তাক হাং, ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আশিক তালুকদার, লালুয়া ইউপি সদস্য মো. লিটন সাউগার, মো. কামাল তালুকদার, বাদল মিয়া, মো. জাকির মৃধা সহ ২০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লালুয়া ও ধানখালী এলাকার পায়রা বন্দর এবং তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিগ্রহণকৃত জমি ও ঘর মালিকদের জিম্মি করে ২০% হারে চাঁদা দাবি করা হয়। এ টাকা উত্তোলন করার জন্য বাদী ও স্বাক্ষীদের চাপ দেয়া হয় এবং রাজি না হলে খুন-জখমের হুমকি দেয়া হয়। বাদীকে আটক করে অলিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয় এবং তাদের ঘরের বরাদ্দকৃত ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পরে চান্দুপাড়া মৌজার ৪২৭/৪২৮ খতিয়ানে বাদীর ১২ একর ভূমির অধিগ্রহণের ৬ কোটি টাকা এলএ অফিস থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক লীগ নেতা আবু জাফরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী, দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা হাসনে-হেনা নামের এক মহিলা, জানিয়েছেন যে, আবু জাফর তাকে নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত নলকূপ না দেওয়ায় তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রায় ৪ মাস আগে কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর ওই মহিলাকে নলকূপ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৪০ হাজার টাকা নেন, কিন্তু এ পর্যন্ত কিছুই প্রদান করেননি। টাকা ফেরত চাওয়ার পর তিনি বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

ভুক্তভোগী মহিলা হাসনে-হেনা বলেন, “নলকূপ তো দিলেনই না, বরং আমার ৪০ হাজার টাকা ফেরতও দিচ্ছে না। টাকা চাইলে তিনি নানা অজুহাত দেখান।”

অভিযুক্ত কৃষক লীগ নেতা আবু জাফর বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “এটা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আমি কারও কাছে টাকা নিয়ে নলকূপ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

Tags: পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, কৃষক লীগ, আবু জাফর, প্রতারণা, নলকূপ, অভিযোগ, কৃষক লীগ নেতা, প্রতিকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, হাসনে-হেনা

 




ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ আটক, মামলা অজ্ঞাত

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]

ভোলা সদরের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. ইউনুছকে পল্টন থানা পুলিশ আটক করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার পল্টন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, মো. ইউনুছের নামে ভোলায় কোনো মামলা ছিল না। তবে ঢাকায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে চিহ্নিত নয়, অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আটক করে দেখানো হয়েছে।

ইউনুছের ভাইয়ের ছেলে মো. মনির জানান, তার চাচা স্থানীয়ভাবে তিনবার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে স্থানীয় বিএনপি তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল। এছাড়া, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা হলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের উন্নয়ন সভায় ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেন মো. ইউনুছ।

এ বছরের জুন মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেড় মাস ভোলায় ছিলেন। চিকিৎসাজনিত কারণে এক মাস ধরে তিনি ঢাকায় তার মেয়ের ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।

এ বিষয়ে পল্টন থানা পুলিশ এবং ভোলা থানার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আইনজীবী হ*ত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে শেখ হাসিনার বিবৃতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চট্টগ্রামে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।

বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, চট্টগ্রামে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়েছে, এই হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তি দিতে হবে। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চরমভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। একজন আইনজীবী তার পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়েছিল, আর তাকে এভাবে জবাই করে হত্যা করা এক ধরনের জঙ্গিবাদী আচরণ। এই কাজ যারা করেছে তারা সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি। তারা যেই হোক না কেন শাস্তি তাদের পেতেই হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস সরকার যদি এই সন্ত্রাসীদের শাস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাকেও শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। দেশবাসীর প্রতি আমি আহবান জানাচ্ছি,‌ এই ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ান। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বর্তমান ক্ষমতা দখলকারীরা সর্বক্ষেত্রেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব‍্যমূল‍্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা দিতেও ব্যর্থ। সাধারণ মানুষের ওপরে প্রত‍্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এইসব নির্যাতনের তীব্র নিন্দা জানাই।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ নেতাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে। চট্টগ্রামে মন্দির পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ইতোপূর্বে মসজিদ, মাজার, গির্জা, মঠ এবং আহমাদিয়া সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি আক্রমণ করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের অগণিত নেতাকর্মী, ছাত্র-জনতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করার পরে চলছে হামলা-মামলা ও গ্রেপ্তারের মাধ‍্যমে হয়রানি। আমি এসব নৈরাজ‍্যবাদী ক্রিয়াকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।




পটুয়াখালীতে ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. তারিকুল তুহিন (৩২) নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সকালে গলাচিপা-পটুয়াখালী সড়কের তালতলা মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তুহিন মোটরসাইকেলে করে সুহরী ব্রিজ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা রডবোঝাই ট্রাক (খুলনা মেট্রো-ট ১১-২১৪৮) তার মোটরসাইকেলের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তুহিন গোলখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুর রহিম খানের ছেলে। তিনি গলাচিপা উপজেলা ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী এবং সুহরী ব্রিজ বাজারে ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করতেন।

দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাকটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, ট্রাকচালককে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং নিহতের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি স্থানীয় জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইসকন: কঠোর অবস্থানে সরকার, হাই কোর্টে জানাল রাষ্ট্রপক্ষ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর সময় চট্টগ্রামে সহিংসতার ঘটনায় সরকারের পদক্ষেপের কথা হাই কোর্টকে জানিয়েছে সরকার।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ– ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ওই প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছিল।

আসাদ উদ্দিন আদালতকে বলেন, এ ঘটনায় সরকারের অবস্থান ‘কঠোর’। এ পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, একটিতে ১৩ জন, একটিতে ১৪ জন এবং আরেকটিতে ৪৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ভিডিও দেখে আরও ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। পুলিশ তৎপর আছে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে আরও তথ্য পাওয়া যাবে।

এরপর হাই কোর্ট বেঞ্চ বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যাতে জানমালের ক্ষতি না হয়, যাতে জনগণের উদ্বেগ না থাকে।

এরপর আবেদনকারী আইনজীবী মো. মনিরুজ্জামান ইসকানের নিষিদ্ধের পক্ষে বললে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক আবার রাষ্ট্রের পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বলেন এবং তার (আবেদনকারী) দুঃশ্চিন্তা দূর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তবে ইসকনের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আদেশ আদালত এদিন দেয়নি।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “সরকার যেহেতু ব্যবস্থা নিচ্ছে সেখানে কোর্ট তো হস্তক্ষেপ করবে না। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা থাকলে তখন কোর্ট হস্তক্ষেপ করে।”

সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান বুধবার এই বেঞ্চে ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে আবেদনটি করেন। চট্টগ্রাম ও রংপুরে জরুরি অবস্থা জারির আর্জিও তিনি জানান।

আবেদনের শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের মতামত জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে ডেকে পাঠায় আদালত। পরে এক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের ইংরেজি নাম ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনশাসনেস এর সংক্ষিপ্ত রূপ হল ইসকন। হিন্দু ধর্মগুরু অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ ১৯৬৬ সালে নিউ ইয়র্কে এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

ইসকন মূলত গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতবাদের অনুসারী। বর্তমানে বিশ্বে ইসকনের ৫০ হাজারের বেশি মন্দির ও কেন্দ্র রয়েছে। গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও পূর্ব ইউরোপ, মধ্য এশিয়া এবং ভারত উপমহাদেশে এ সংগঠনের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

চট্টগ্রামে ইসকন পরিচালিত মন্দির পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ, সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে মঙ্গলবার তাকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় চট্টগ্রামের হাকিম আদালত।

ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। বেলা সোয়া ১২ টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত বিক্ষোভের পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।

এরপর আদালতের সাধারণ আইনজীবী ও কর্মচারীরা মিলে তাদের ধাওয়া করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে রঙ্গম কনভেনশন হল সড়কে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যা করা হয়।

বুধবার সাইফুল ইসলামের জানাজায় অংশ নিয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলমও ইসকন নিষিদ্ধের দাবি তোলেন।




বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, “হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল শহিদ আলিফের শাহাদাতসহ শহিদানদের রক্তের মূল্য হতে পারে।”

পোস্টে তিনি ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পরাজিত করবে। আমরা আর উপনিবেশযোগ্য (Colonizable) হবো না।”

দেশের ‘প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের’ ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ প্রাপ্য উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দশমিনায় বৃদ্ধ হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দশমিনায় মো. নুর ইসলাম (৬৬) নামে এক বৃদ্ধকে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে র‍্যাবের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নুর ইসলাম হত্যা মামলার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আ. কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর সকালে দশমিনার বহরমপুর ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুর ইসলাম হাওলাদারকে পার্শ্ববর্তী নেহাগঞ্জ এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যান স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগসহ ছয়জন। তাঁদের সঙ্গে ছিল আরও দুই-তিনজন। সেতুর ঢালে নিয়ে গিয়ে তাঁরা নুর ইসলামকে মারধর করে খালের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠে।

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে কহিনুর বেগম বাদী হয়ে দশমিনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আ. কাইয়ূমসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করা হয়।

রোববার সন্ধ্যায় এসআই আবু হানিফ ও এএসআই মো. জসিমের নেতৃত্বে পুলিশ দল গাজীপুর র‍্যাবের সহায়তায় চৌরাস্তা এলাকা থেকে কাইয়ূমকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার দুপুরে তাঁকে দশমিনা থানায় আনা হয় এবং আজ সকালে আদালতে হাজির করা হয়।

মামলার বাদী কহিনুর বেগম বলেন, “আমার বাবার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার চাই। আমি আইনের প্রতি আস্থা রাখি। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

ওসি মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চাঁদাবাজির মামলায় অব্যাহতি পেলেন তারেক রহমান

চাঁদাবাজির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৮ জন অব্যাহতি পেয়েছেন। বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছানাউল্ল্যাহর আদালত এ সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

অব্যাহতি পাওয়া অপর আসামিরা হলেন- তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ওবায়দুল্লা খন্দকার, কামরুজ্জামান, ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল আলম, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম শোয়েব বাশুরী (হাবলু), আজিজুল করিম তারেক এবং মনিজুর রহমান (মানিক)।

পুলিশের তদন্তে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় গত ৫ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ঢাকা কোতোয়ালি জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই প্রতিবেদনের ওপর বুধবার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং বিচারক তাদের অব্যাহতি প্রদান করেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বাদী ২০০৭ সালের ৩০ জুন মামলাটি দাখিল করার সময় চাঁদার পরিমাণ ভুল উল্লেখ করে তা সংশোধনের জন্য আবেদন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ৭ মে বাদী নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য হলফনামা সম্পাদন করেন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশেষ মহলের চাপে তিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন এবং আসামিদের বিরুদ্ধে তার কোনো অভিযোগ নেই।

এছাড়া, তদন্তকালে বাদী তার হলফনামায় বর্ণিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন এবং জানিয়েছেন, তখনকার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে তিনি মামলাটি দায়ের করেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং অন্যান্য আসামিদের চিনতেন না এবং এজাহারে বর্ণিত চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।

তদন্তে আরো জানা যায়, মামলার এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামিরা তাদের নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারেক রহমানের ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে বাদী খায়রুল বাশারের উপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং এ মামলাটি দায়ের করতে বাধ্য করা হয়।

তদন্তের মধ্যে সব তথ্যগত ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং সব আসামি মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, ১৯৯৭ সালে বাদীর কোম্পানি আব্দুল মোনেম লিমিটেড যমুনা সেতু সংযোগ সড়ক প্রকল্পের আওতায় ২৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কাজ পায়। কাজের শর্ত পূরণ না হলে তারেক রহমানের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনসহ অন্যরা পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। বাদী চাঁদার টাকা পরিশোধে বাধ্য হন এবং পরে ১০ কোটি ৩১ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়।

এমন অভিযোগে ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল তারেক রহমানসহ আটজনকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা: খালেদা জিয়াসহ সবাইকে খালাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। সেই সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল মঞ্জুর করে আজ খালাস দিলেন হাইকোর্ট।

এরপর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন, ‘এ মামলার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তিনি বলেন, আদালত আমাদের শুনেছেন। বলেছেন, আপিলটি আমি লাইন বাই লাইন পড়েছি। এভিডেন্সগুলো দেখেছি। আপনারা যা দিয়েছেন তার আইনগত ভিত্তি রয়েছে। আমি আপিলটি মঞ্জুর করলাম। অর্থাৎ, গ্রহণ করলাম।’

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর রায় দেন বিচারিক আদালত। রায়ে খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৮ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া। শুনানি নিয়ে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের দেয়া অর্থদণ্ডের আদেশ স্থগিত করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। গত ৬ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ড মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে করা আপিল শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক তৈরির জন্য অনুমতি চেয়ে খালেদা জিয়া আবেদন করেন।