পটুয়াখালীতে স্বামীর নির্যাতনে তিন সন্তানের মায়ের অসহায় জীবন

এক যুগের বৈবাহিক সম্পর্কের পর তিন সন্তানসহ স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা বশির খান। এই নির্যাতিত নারীর নাম সুলতানা সুরমা। তার দুই মেয়ে—মরিয়ম জান্নাতি (চতুর্থ শ্রেণি) ও জামিলা আক্তার (প্রথম শ্রেণি), এবং ছোট ছেলে জুবায়ের। বর্তমানে সুরমা বাবার বাড়িতে আশ্রিত হয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। সন্তানদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সুরমার অভিযোগ, স্বামীর পরকীয়ার কারণে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। প্রবাস থেকে ফিরে আসার পর বশির খান তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান। যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি একাধিকবার মারধরের শিকার হন তিনি। কয়েক মাস আগে গুরুতর আহত হয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এই সুযোগে বশির তার প্রেমিকাকে ঘরে তোলে এবং সুরমাকে তালা মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেন।

২০১২ সালে উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের রত্তন খানের ছেলে বশির খানের সঙ্গে বিয়ে হয় সুলতানা সুরমার। শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। ২০১৯ সালে বশির উপার্জনের জন্য বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থাকাকালীন সুরমা জানতে পারেন, বশির পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছেন। দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে বশির তাকে মারধর করতে শুরু করেন। শ্বশুরবাড়ির কাছে বিষয়টি জানালে তারা কোনো সমাধান দেননি।

নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সুরমা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া, বশির খান পাল্টা অভিযোগ এনে সুরমার বিরুদ্ধে চুরির মামলা করেন। তবে পুলিশের তদন্তে এ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শহীদ মাতুব্বর বলেন, “আমরা এ বিষয়ে মীমাংসার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বশির বা তার পরিবার থেকে কোনো সঠিক কারণ জানানো হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের সহায়তা নিতে বলেছি।”

সুরমা তার সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রিত। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি সমাজ ও প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার কামনা করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মিলেছে ‘হারিছ চৌধুরীর’ ডিএনএ, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের নির্দেশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিএনপি নেতা আবুল হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নির্ধারণে কবর থেকে মরদেহ তুলে ডিএনএ টেস্ট করা হয়। টেস্টে তার ডিএনএ পরিবারের সঙ্গে মিলেছে। এখন পরিবারের পছন্দমতো কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে হারিছ চৌধুরীর মরদেহ দাফন করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের পর বুধবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহদীন চৌধুরী।

পরে আইনজীবী মাহদীন চৌধুরী বলেন, ছদ্মবেশে থাকা সেই মাহমুদুর রহমানই হারিছ চৌধুরী। ডিএনএ টেস্টে তা প্রমাণিত হয়েছে। হারিছ চৌধুরীর মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলের মর্গে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে সিলেটের কানাইঘাটে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

এর আগে, ৫ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নির্ধারণে কবর থেকে মরদেহ তুলে ডিএনএ টেস্ট করার নির্দেশ দেন।

২০২১ সালে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব ও বিএনপির সাবেক নেতা হারিছ চৌধুরীকে ‘মাহমুদুর রহমান’ পরিচয়ে ঢাকার সাভারের জালালাবাদ এলাকায় একটি মাদ্রাসার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

হারিছ চৌধুরীর মেয়ে জানান, সদ্য বিদায়ী স্বৈরাচার সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ একটা নাটক রচনা করে বাবার মৃত্যুকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। মিডিয়া একটার পর একটা রিপোর্ট করেছে, হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এটা নিয়ে যেন কখনো প্রশ্ন না উঠে সেটা ডিটারমিন করার জন্য এ রিট করেছি। আমার বাবার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ থাকবে সন্তান হিসেবে এটা খুব মর্মান্তিক, কষ্টদায়ক। এখনো মানুষ জিজ্ঞেস করে সত্যিই কি মারা গেছেন? আমাদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাই এটা শেষ করতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। আদালত নিরাশ করেননি।

সাভারের জামিয়া খাতামুন নাবিয়্যিন মাদ্রাসার কবরস্থানে মাহমুদুর রহমান নামে কবর দেওয়া আবুল হারিছ চৌধুরীর পরিচয় নির্ধারণে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তার নামে কেন ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হবে না, তার নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কেন প্রত্যাহার করা হবে না, একইসঙ্গে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী নিজ জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ সম্মান দিয়ে কেন কবরস্থ করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়।

স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, রেজিস্ট্রার জেনারেল (জন্ম ও মৃত্যু), সিআইডির পরিচালক, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও সাভার মডেল থানার ওসিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর হারিছ চৌধুরী সস্ত্রীক তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগরে যান। রাত ১২টার পর তার ব্যক্তিগত সহকারী আতিক মোবাইল ফোনে জানান, ঢাকায় বিএনপি নেতাদের বাসভবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। কয়েক ঘণ্টা পর যৌথ বাহিনী হারিছের বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু তার আগেই তিনি সটকে পড়েন। কিছুদিন সিলেটে লুকিয়ে থাকার পর ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান। ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে তার নানাবাড়ি। সেখানেই তিনি ওঠেন। সেখান থেকে বিদেশে যাতায়াত করতেন।




এসপি বাবুল আক্তারের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত। এর ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে রোববার (১ ডিসেম্বর) বাবুল আক্তারের জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করেন মিতুর বাবা।

তারও আগে ২৭ নভেম্বর স্ত্রী মাহমুদা খানম (মিতু) হত্যা মামলায় সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারকে জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ঐদিন আদালতে বাবুলের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

সেদিন শিশির মনির বলেন, স্ত্রী হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ায় বাবুল আক্তারের মুক্তিতে বাধা নেই। বাবুল আক্তার তিন বছর সাত মাস ধরে কারাগারে আছেন, এই বিবেচনায় আদালত তাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন। একইসঙ্গে কেন তাকে স্থায়ী জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।




বরিশালে মুজিবিয়ান বাংলাদেশ: গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ৮৭ নেতাকর্মী

বরিশাল জেলার গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি ‘মুজিবিয়ান বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের ৮৭ নেতাকর্মীকে খুঁজছে। জানা গেছে, এই ৮৭ জনকে বিভিন্ন পদে রেখে সংগঠনটির জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, এই ৮৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগ অপরিচিত হলেও কিছু চিহ্নিত নেতাকর্মী হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। তবে, পরিচিতি কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই করছে।

‘মুজিবিয়ান বাংলাদেশ’ এর বরিশাল জেলা কমিটি ৯ সেপ্টেম্বর অনুমোদন পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু হুরায়রা মুহাম্মদ মারুফ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব উদ্দিন ইমরান এই অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদনের প্যাডে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ধাঁচে লেখা রয়েছে ‘ত্যাগ-সেবা-ঐক্য’ এবং ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’। প্যাডে ওয়েব পেজের ঠিকানা এবং বরিশাল জেলা কার্যালয়ের নামও দেওয়া আছে, যা আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

ফেসবুক পেজে বরিশাল মহানগর কমিটির ১১ সদস্যের তালিকা পাওয়া যায়, তবে জেলা কমিটির তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বরিশাল জেলা কমিটিতে ৬৬ জন নেতাকর্মীর নাম পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই অপরিচিত। নতুন জেলা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম। মহানগর কমিটিতে ২১ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোস্তাফিজুর রহমান অনিক এবং মাজাহারুল ইসলাম শোভন মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এটি আসলে আওয়ামী লীগের মাঠে নতুন সাংগঠনিক শক্তি সৃষ্টি করার একটি পরিকল্পনা। এই কমিটিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও তাদের পরিচিতি কম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রাখছে, কারণ এই নেতাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কোনো মামলা হয়নি। তাদের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও শিগগিরই সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৮৭ জন নেতাকর্মীর মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তবে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার আমতলীতে স্ত্রীর পরকীয়ায় আসক্তি নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী হত্যা করলেন

বরগুনা জেলার আমতলীতে বিয়ের আট মাসের মাথায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে বাগবিতণ্ডার পর স্বামী মনিরুল ইসলাম কর্তৃক স্ত্রীর লাঠির আঘাতে মৃত্যু ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনার ঘটে। নিহত স্ত্রীর নাম তিন্নি (২০), তিনি উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম ছিল নিজাম উদ্দিন।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামী মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের হারুন খাঁর ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশা চালক।

জানা গেছে, আট মাস আগে পারিবারিকভাবে মনিরুল ও তিন্নির বিয়ে হয়। তবে কিছুদিন ধরেই স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। এই বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন আগে পারিবারিকভাবে বৈঠকও হয়েছিল। যদিও স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো আপত্তি আসেনি, কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে তিন্নি তার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিল। এই কারণে স্বামী মনিরুলের সঙ্গে তাদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী মনিরুল স্ত্রীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় তিন্নিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে স্বামী মনিরুল পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মনিরুলকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ থানায় নিয়ে যায় সুরতহাল প্রতিবেদন করার জন্য।

নিহতের চাচাত ভাই নূরে আলম জানিয়েছেন, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে আসক্তি নিয়ে বাগবিতণ্ডায় এই ঘটনা ঘটেছে, এবং স্বামী মনিরুল তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মনিরুলকে আটক করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অভিনেতা ওমর সানীর বাসায় চুরির ঘটনা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের ত্রনায়ক ওমর সানীর বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল নগদ ২২ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন অভিনেতা।

জানা গেছে, সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মর্নিং ওয়াকে বের হন ওমর সানী। প্রায় ৪০ মিনিট পর, সকাল ৯টা ২০ মিনিটে বাসায় ফিরে দেখেন তার ব্যবহৃত স্যামসাং এস টুয়েন্টি আল্ট্রা এবং অপ্পো ব্র্যান্ডের একটি ফোন ড্রয়িং রুম থেকে উধাও। একই সঙ্গে ড্রয়ারে রাখা নগদ ২২ হাজার টাকাও খুঁজে পাননি তিনি।

এছাড়া তার ব্যক্তিগত সহকারী আরিফের ইনফিনিক্স ব্র্যান্ডের একটি মোবাইল ফোনও চুরি গেছে। ঘটনাটি বুঝতে পেরে সেদিনই ঢাকার ভাটারা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।

অভিনেতা জানান, “চুরির সময় আমি হাঁটতে বাইরে ছিলাম। ধারণা করছি, এই সুযোগে চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে। মোবাইল ফোনগুলোর আইএমইআই নম্বরসহ সব তথ্য পুলিশের কাছে দিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুত চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।”

পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডাকাতদলের ৬ সদস্য আটক

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গামুরতলা গ্রামে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ৬ সদস্যকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার সকালে কাসেমের বাড়ি থেকে তাদের আটক করা হয় এবং পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটককৃতরা হলেন—ছগির হাওলাদার (৩৩), রাহাত ফকির (২৭), মনির ফকির (২৭), সফিক গাজী (২৮), আবুল হাসেম (৪০) এবং রাকিবুল খান (২৭)। তাদের মধ্যে আবুল হাসেম ও রাকিবুলের বাড়ি নীলগঞ্জ ইউনিয়নে, বাকিদের বাড়ি পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কাসেমের বাড়ি ছিল ডাকাতদলের আড্ডাস্থল। মঙ্গলবার ভোরে রাসেল হাওলাদার নামে এক কাপড় ব্যবসায়ীর বাড়িতে জানালার গ্রিল কেটে ঢুকে ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। তারা ২ লাখ টাকা এবং দুই ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে।

স্থানীয় নুপুর বেগম ডাকাতদের মধ্যে কাসেম ও রাকিবুলকে চিনে ফেলেন। সকালে স্থানীয়রা কাসেমের বাড়িতে গিয়ে বাকি সদস্যদেরও শনাক্ত করে আটক করেন।

কলাপাড়া থানার ওসি জুয়েল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘‘ডাকাতদল দীর্ঘদিন ধরে কাসেমের বাড়ি ব্যবহার করছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ থেকেই তারা ধরা পড়েছে। আটককৃতদের নামে ডাকাতির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’’

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১৫ বছরে ঘুষ লেনদেনের পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় পর্যায়ে মোট ঘুষের ন্যূনতম প্রাক্কলিত পরিমাণ ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৫২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ২০২৩ সালে ঘুষের হার সবচেয়ে বেশি ভূমি, বিচারিক সেবা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, পাসপোর্ট, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও বিআরটিএ-তে। ওই বছর প্রাক্কলিত ঘুষের পরিমাণ ১০ হাজার ৯০২ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সেবা খাতে দুর্নীতি : জাতীয় খানা জরিপ ২০২৩ প্রতিবেদন’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।




শ্রীনগরে নারীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভোলায় যুবক গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে এক নারীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ভোলা থেকে তৌহিদ শেখ তন্ময় নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার ভোরে ভোলার ইলিশা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ইশতিয়াক আশফাক জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার যুবকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই অস্ত্রটি গত ৫ আগস্ট ওয়ারী থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তৌহিদ শেখ তন্ময় নিহত সাহেদা বেগমকে খাওয়ানোর কথা বলে মাওয়া এলাকার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং মরদেহ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

গত শনিবার সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সাহেদা বেগম (২২) নামে এক তরুণীর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা জরিনা বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




পিরোজপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকা থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ ওমর ফারুক খান (২৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা ডিবি পুলিশ। সোমবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে আটককৃত ওমর ফারুক সদর উপজেলার শিকদার মল্লিক ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান খানের ছেলে।

জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, পিরোজপুর জেলাকে মাদকমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযান পরিচালনার সময় ওমর ফারুকের কাছ থেকে উদ্ধার করা গাঁজার ওজন ৪ কেজি এবং বাজার মূল্য প্রায় দুই লাখ চল্লিশ হাজার টাকা।

ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় মাটিভাঙ্গা বাজার এলাকার সড়ক থেকে আটক করা হয় ওমর ফারুককে। তার বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মুকিত হাসান খান বলেন, “জেলাকে মাদকমুক্ত করতে জেলা পুলিশের উদ্যোগ চলমান থাকবে।” পুলিশ সুপার খাঁন মুহাম্মদ আবু নাসেরের দিকনির্দেশনায় জেলা পুলিশের এ অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম