৫ বিলিয়ন ডলার লোপাট : হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি অনুসন্ধানে রুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকের মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাটের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মুবিনা আসাফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সাহেদুল আজম তমাল।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর এ অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

রিটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতি অনুসন্ধানে দুদকের নিষ্ক্রিয়তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের রিটের বিবাদী করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে শেখ হাসিনা পরিবারের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

বেশ কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক মালয়েশিয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (আরএনপিপি) থেকে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা) লোপাট করেছেন। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে দুর্নীতির অনুসন্ধানকারী গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পোরেশনের তথ্যের বরাত দিয়ে এ প্রতিবেদন করা হয়।




ঝালকাঠিতে শেখ হাসিনা ও আমির হোসেন আমুর বিরুদ্ধে মামলা

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জিবা আমিনা আল গাজী ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমুসহ ৩৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এই মামলাগুলি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে বিএনপির প্রার্থী জিবা আমিনা আল গাজীর নির্বাচনী প্রচারণার সময় ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালিয়ে তার গাড়িবহর ভাঙচুর ও তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। হামলায় জিবা আমিনা আল গাজীসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে দুটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, এজাহার দুটি এখন মামলার রেকর্ডিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জিবা আমিনা আল গাজীর আইনজীবী, অ্যাডভোকেট ফয়সাল খান বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা বিএনপির প্রার্থীকে প্রচারণা চালাতে দেয়নি এবং তাদের ওপর হামলা করেছিল। এই হামলা শেখ হাসিনা ও আমির হোসেন আমুর নির্দেশে ঘটেছিল, এবং এখন সময় এসেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার।”

মহিলা দলের নেতা জিবা আমিনা আল গাজী বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে আমরা অনেকদিন ন্যায়বিচারের জন্য অপেক্ষা করেছি, কিন্তু এখন সময় এসেছে। এজন্যই আমি এজাহার দায়ের করেছি।”

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, “এজাহারটি পর্যালোচনা করা হবে এবং মামলা রেকর্ড করা হবে।” ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানও বলেন, “এজাহার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা রেকর্ড করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে কমিশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী অভিযুক্ত করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। একইসঙ্গে জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছে কমিশন।‌

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গুম সংক্রান্ত কমিশন তাদের প্রথম অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিশন ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে ‘আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ’ শীর্ষক প্রতিবেদন হস্তান্তর করে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে– গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এছাড়াও হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে; যাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান এবং পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

প্রতিবেদনে গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে কমিশন।

কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গুমের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা কাজটি এমনভাবে করেছেন যাতে এগুলো শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়। বিভিন্ন ফোর্স নিজেদের মধ্যে ভিকটিম বিনিময় করেছে এবং পরিকল্পনা ভিন্ন ভিন্নভাবে বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি আরও জানান, গুমের শিকার অনেকে এখনো শঙ্কামুক্ত হতে পারছেন না। তাদের ওপর এতটাই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছিল যে তারা এখনো ট্রমায় ভুগছেন।

প্রধান উপদেষ্টা তার সর্বশেষ বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সঠিক বিচারের আশ্বাস দেওয়ার পর রিপোর্টের সংখ্যা অনেক বেড়েছে উল্লেখ করে কমিশনের সদস্যরা অধ্যাপক ইউনূসকে আয়নাঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানান।

তারা বলেন, ‘আপনি আয়নাঘর পরিদর্শন করলে ভিকটিমরা অভয় পেতে পারেন।’

প্রধান উপদেষ্টা তাদের এ অনুরোধে সম্মতি দিয়ে জানান, স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল, যা আয়নাঘর নামে পরিচিতি পেয়েছে সেগুলো দেখতে যাবেন।

তিনি কমিশন সদস্যদের তাদের অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং কাজটি এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কমিশন প্রধান মইনুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তারা তিন মাস পর মার্চে আরও একটি ইন্টেরিম রিপোর্ট দেবেন। কাজটি শেষ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কমপক্ষে আরও এক বছর সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

কমিশনের সদস্য হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, মানবাধিকারকর্মী নূর খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাবিলা ইদ্রিস ও মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ।




বাউফলে ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনএম জাহাঙ্গির হোসেনকে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দাশপাড়া ইউনিয়নের ল্যাড়া মুন্সীর ব্রিজের কাছে চেয়ারম্যানের অফিসে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪০-৫০ জন লোক অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার সময় চেয়ারম্যান এনএম জাহাঙ্গির হোসেন তার বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। তিনি পুলিশকে সহায়তা চাইলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

চেয়ারম্যানের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, হামলাকারীরা প্রথমে অফিসের সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ৪৫ বস্তা চাল এবং জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যায়। এরপর অফিসের আসবাবপত্র বাইরে এনে পুড়িয়ে ফেলে। এ সময় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলে যায়। পরবর্তীতে হামলাকারীরা ফের এসে তাণ্ডব চালায়।

বাউফল থানার এসআই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমানের দায়ের করা মামলায় চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির হোসেনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বুধবার দিবাগত রাত দেড়টায় বাউফল উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোয়েল মোল্লাকেও (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকেও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মহিপুরে মাদকের গডফাদার আল-আমিন গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর মহিপুরে ৯০০ পিস ইয়াবাসহ আল-আমিন খলিফা (৪১) নামে এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

আল-আমিন খলিফা স্থানীয়ভাবে মাদকের গডফাদার নামে পরিচিত। তিনি একই এলাকার আব্দুল খালেক খলিফার ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে এর আগে ৭টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মহিপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নয়াপাড়ায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশি অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তবে তারা মাদক ব্যবসা নির্মূলে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে, আশা টবি ক্যাডম্যানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, তারা বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি সম্মান জানিয়ে জুলাই গণহত্যার প্রধান আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।

টবি ক্যাডম্যান বলেন, ট্রাইব্যুনালের যেসব আইন সংশোধিত হয়েছে, তা সঠিক হয়েছে। আইনের আরও সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সে ব্যাপারে আমরা সম্মিলিতভাবে আরও কিছু বিষয়ে প্রস্তাবনা দেব।

শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফেরত আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আশা করি তারা বাংলাদেশের রুল অব ল’র প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবে। বাংলাদেশ থেকে যদি শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত চাওয়া হয় সেটার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাবে।

আন্তর্জাতিক এ আইন বিশেষজ্ঞ বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে বাংলাদেশে যে আইন আছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন শেষে রিকোয়েস্টের পর যদি ফেরত না পাঠানো হয় তাহলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বিবেচনা করবে। যদি প্রয়োজন হয় সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহযোগিতা নেওয়া যায় কি না তা বাংলাদেশ সরকার ঠিক করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মৃত্যুদণ্ড থাকলে আসামিকে ফেরত দিতে চায় না– এ বিষয়ে টবি ক্যাডম্যান বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতাটা আলাদা, এ বিষয়টা ওই সব দেশকে বুঝতে হবে। আদালত ঠিক করবেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে কি হবে না।

এদিন সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন টবি ক্যাডম্যান।

এর আগে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা ৩৭ ল’ ফার্মের যুগ্ম প্রধান টবি ক্যাডম্যানকে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে টবি ক্যাডম্যান লেখেন, ‘এ ঘোষণা দিতে পেরে আমি আনন্দিত ও খুবই সম্মানিত বোধ করছি যে আমাকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একজন স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত সব বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরকে পরামর্শ দেওয়া বি ক্যাডম্যানের ভূমিকা হবে বলে পৃথক আরেকটি পোস্টে জানিয়েছে টবি ক্যাডম্যানের ল’ ফার্ম গার্নিকা ৩৭।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে এসেছিলেন টবি ক্যাডম্যান। গত ২ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় ওই সাক্ষাৎ হয়েছিল।




দুদকের নতুন চেয়ারম্যান মোমেন, নিয়োগ পেয়েছেন দুই কমিশনারও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সদ্য পদত্যাগ করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব ড.মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে। কমিশনার হিসেবে তার সঙ্গী হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ সই করা প্রজ্ঞাপন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রধানমন্ত্রীর (খালেদা জিয়ার) সহকারী একান্ত সচিব ও পরিচালক, বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক, কক্সবাজার জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক, ঢাকার জেলা প্রশাসক, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক, বিআরটিএর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিমানের এমডি ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুগ্মসচিব থাকার সময় ২০০৯ সালে আবদুল মোমেনকে ওএসডি করে আওয়ামী লীগ সরকার। পরে ২০১৩ সালের ৬ জুন তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।

গত ২৯ অক্টোবর বিগত আওয়ামী সরকারের আজ্ঞাবহ মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন কমিশনের পতন হয়। ওইদিন দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যানসহ কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক ও কমিশনার আছিয়া খাতুন (অনুসন্ধান) দুপুরে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীকালে ৩১ অক্টোবর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়।




জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগানের রায় স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।




শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তলব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হ‌য়ে‌ছে। এ ছাড়া ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ এবং চৌধুরী জাফরুল্লাহ সরাফাতের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টের তথ্য তলব করা হয়েছে। বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

লেনদেন তলব করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তলব করা ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হিসাব তলব করা ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে দুই অপহরণকারী গ্রেফতার

পটুয়াখালী জেলা শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকা থেকে পুলিশ দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বিরুদ্ধে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ রয়েছে। সোমবার দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন শহরের বড় চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা মাহামুদুল হাসান (২৭) এবং টাউন জৈনকাঠীর বাসিন্দা মো. আলী আজিম (৩০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ২:৩০ টায় পটুয়াখালী জজ কোর্ট এলাকা থেকে মো. আমিরুল ইসলাম (৪৩) ও মো. কুদ্দুস ঢালীকে অপহরণ করে দুই দুর্বৃত্ত। অপহরণকারীরা পরে তাদের আত্মীয়-স্বজনের কাছে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহৃতদের পরিবার বিষয়টি পুলিশকে জানালে পটুয়াখালী ডিবি পুলিশ দ্রুত অভিযান শুরু করে।

পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ জানান, “পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় শহরের বিসিক শিল্প নগরী এলাকা থেকে অপহরণকারীদের আটক করে এবং অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। অপহরণকারীদের কাছ থেকে ২টি মোটরসাইকেল ও একটি অটো রিক্সা জব্দ করা হয়েছে, যেগুলো অপহরণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।”

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি ও তাদের আত্মীয়দের হত্যার পরিকল্পনার কথাও স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় তাদের আত্মীয় কাজী মো. সুমন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা করেছেন, যার মামলা নং ১৬।

অপরদিকে, পুলিশ সুপার আরও জানান যে, আসামীদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে, তবে পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপে অপহরণকারীরা আইনের হাতে সোপর্দ হয়েছে। এই ঘটনা পটুয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অটুট পদক্ষেপের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম