২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা নতুন করে তদন্ত করা উচিত : হাইকোর্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নতুন করে তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে এই মামলার তদন্ত করা উচিত।

এই পর্যবেক্ষণের আলোকে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আদেশের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৯ পৃষ্ঠা করে পৃথক দুটি মামলার (হত্যা ও বিস্ফোরক মামলা) পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।




বিয়ের প্রতিশ্রুতি, পরিণতিতে মা-মেয়ের মর্মান্তিক হ*ত্যা

মোবাইল ফোনে আলাপের মাধ্যমে বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ান বাগেরহাটের মাধুরী বিশ্বাস (৩৬) এবং পটুয়াখালীর যুবক বিধান দাস (২৫)। সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর বিয়ের দাবিতে মাধুরী তার সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে বিধানের কাছে পটুয়াখালী চলে যান। কিন্তু বিধান তাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করে।

গত ২৮ নভেম্বর মাধুরী তার মেয়ে শ্রেষ্ঠাকে নিয়ে খুলনা থেকে বরিশাল পৌঁছান এবং বিধানের সঙ্গে একটি হোটেলে ওঠেন। বিধান তখন পারিবারিক কাজে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে পটুয়াখালী চলে যান। পরে মাধুরীকে পটুয়াখালী আসতে বলেন। সেখান থেকে একসঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে লঞ্চে রওনা হওয়ার সময় তিনি মাধুরী ও তার মেয়েকে বিষ মেশানো পানি খাইয়ে হত্যা করেন।

৪ ডিসেম্বর, দশমিনা বাজার থেকে কীটনাশক সংগ্রহ করেন বিধান। ঢাকার লঞ্চে রওনার সময় পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মা-মেয়েকে খাইয়ে দেন। পরদিন লঞ্চ সদরঘাটে পৌঁছালে তিনি তাদের ফেলে পালিয়ে যান।

এক পথচারী তাদের অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মাধুরীকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মেয়ে শ্রেষ্ঠা গোপালগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ ডিসেম্বর মারা যায়।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থেকে বিধানকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে বিধান হত্যার দায় স্বীকার করেন।

ডিএমপি লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “বিধান একটি বাল্কহেডের শ্রমিক। সম্পর্কের গভীরতার পর মাধুরী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তিনি এই পরিকল্পনা করেন।”

মাধুরীর বড় ভাই নারায়ণ বিশ্বাসের অভিযোগের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি হত্যায় পরিণত হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিলখানায় হত্যা : ট্রাইব্যুনালে হাসিনাসহ ৫৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পিলখানায় ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকীসহ মোট ৫৭ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) দপুর ২টার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে পিলখানা গণহত্যায় শহীদ সেনা অফিসারদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা এই অভিযোগ জমা দেন।




গলাচিপায় ২৬টি কচ্ছপসহ নারী আটক

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বন বিভাগের অভিযানে ২৬টি কচ্ছপসহ এক নারী আটক হয়েছেন। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে সুহরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটক তাপসী রাণী (৪০) রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কচ্ছপগুলো খুলনায় পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।

বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, তাপসী রাণী একটি বস্তায় ২৬টি কচ্ছপ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। কচ্ছপগুলোর মধ্যে ৯টি সন্ধি কচ্ছপ এবং ১৭টি ধুর কচ্ছপ রয়েছে, যেগুলো সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী তাপসী রাণীকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাছিম রেজা।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেন খান জানান, তাপসী রাণী দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত। উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলো নিরাপদে রামনাবাদ নদীতে অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছিম রেজা বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংরক্ষিত প্রজাতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রাজধানী থেকে নিখোঁজ দুই বোন পটুয়াখালীতে উদ্ধার

রাজধানীর কদমতলী থেকে নিখোঁজ দুই বোনকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৮ এর ওয়ার্ড কমান্ডার এসএম হাসান সিদ্দিকী।

গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন দুই বোন। জানা যায়, অপহরণের শিকার হয়েছিলেন তারা। এ ঘটনায় র‍্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়ন যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দশমিনা থেকে তাদের উদ্ধার করে এবং স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ দুই বোন জাপানি বাজার এলাকায় তাদের নানি ও খালাকে এগিয়ে দিতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের বাবা কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ঘটনাটি তদন্তে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দুই বোনকে উদ্ধার করে।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত দুই বোন বর্তমানে নিরাপদে আছেন। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলের কালাইয়া কলেজে হামলায় রিশাদ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রিশাদকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন দ্বাদশ শ্রেণির সাব্বির হোসেন (১৭) ও জহিরুল ইসলাম (১৭)।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজের এক ছাত্রীকে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে। গত রোববার কলেজ প্রাঙ্গণে বহিরাগত কিশোর গ্যাং সদস্য আলভি, তাবজিল, হানিফ ও রিশাদ মিলে ওই ছাত্রীকে হয়রানি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে তার সহপাঠীরা অভিযুক্তদের কলেজ থেকে বের করে দেয়। এর জের ধরে সোমবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে ১০-১৫ জন বহিরাগত কলেজে প্রবেশ করে সাব্বির ও জহিরুলকে ছুরিকাঘাত করে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে রিশাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে তাকে থানায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একটি কিশোর গ্যাং। ‘কমরেড’ নামের এই গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলা করতে সাহস পায় না।

থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, রিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনার সেই পিয়নের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় ৬২৬ কোটি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই আলোচিত ৪০০ কোটি টাকার মালিক ব্যক্তিগত সহকারী (পিয়ন) মো. জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাংক হিসাবে ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

যদিও আলোচিত জাহাঙ্গীর ও তার স্ত্রীর কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দুদক উপপরিচালক রাশেদুল ইসলাম এবং তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক আক্তার হোসেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, আসামি জাহাঙ্গীর আলম স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১৮ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার ৮৮২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করায় এবং তিনি ও তার মালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ ভোগ করার মানসে আটটি ব্যাংকের ২৩টি হিসাবে সর্বমোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা জমা/ক্রেডিট ও জমা করা অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে উত্তোলন বা স্থানান্তর করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন।

অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, মো. জাহাঙ্গীর আলম এসব অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে তার নিজ নামে ও তায় বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব খুলেছেন। তার আটটি ব্যাংকের ২৩টি হিসাবে সর্বমোট ৬২৬ কোটি ৬৫ লাখ ১৮ হাজার ১০৭ টাকা জমা এবং ৬২৪ কোটি ৬০ লাখ ১৫ হাজার ৬৭১ টাকা উত্তোলিত হয়েছে। যা দুদকের অনুসন্ধানে সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে বিভিন্নভাবে তার হিসাবে জমা হওয়ার পর তিনি তা বিভিন্ন পন্থায় স্থানান্তর করেছেন। যার মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলম তার মালিকানাধীন স্কাই রি এরেঞ্জ নামে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের একটি চলতি হিসাবে শুধু ২০২৪ সালের (প্রথম ৫ মাসে) ৮৩ দিনে মোট ১৭৮ কোটি টাকা জমা এবং ১৭৮ কোটি ৯৩ টাকা উত্তোলন/ফান্ড ট্রান্সফার করেন।

অপর একটি মামলায় আসামি করা হয় মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী কামরুন নাহারকে। তিনি নিজ নামে ৬ কোটি ৮০ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদ ভোগ দখলে রাখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

গত ১৪ জুলাই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফর নিয়ে গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাসার পিয়ন ছিল, সেও নাকি ৪০০ কোটি টাকার মালিক। হেলিকপ্টার ছাড়া চলে না।’

এ ঘটনায় আলোচনায় আসেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই পিয়ন জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানী মিরপুরে বাড়িসহ বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট রয়েছে তার নামে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামায় বছরে সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার আয়ের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া স্ত্রীর নামে ব্যাংকে সোয়া ১ কোটি টাকা, তার নিজের নামে আড়াই কোটি টাকা থাকার কথাও উল্লেখ করেন। বিভিন্ন কোম্পানিতে তার অংশীদারিত্ব থাকার তথ্য উঠে আসে।




মেহজাবীনের অভিষেক সিনেমা ‘প্রিয় মালতী’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে

মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে এবার প্রথমবারের মতো তাকে দেখা যাবে প্রেক্ষাগৃহের বড় পর্দায়। আগামী ২০ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে তার অভিষেক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘প্রিয় মালতী’। সংবাদ সম্মেলনে এই অভিনেত্রী তার অভিনয়ের শুরুর দিকের চ্যালেঞ্জ এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন।

মেহজাবীন বলেন, “আমার শৈশব-কৈশোর কেটেছে দেশের বাইরে। বাংলা ভাষায় দুর্বল ছিলাম, উচ্চারণ সমস্যাও ছিল। অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার পর তা কাটিয়ে উঠেছি। এই সিনেমা আমার জীবনের একটি বড় মাইলফলক।”

ছবিটির গল্প একটি নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সংগ্রামী নারী মালতী রানী দাশকে কেন্দ্র করে। মেহজাবীন চরিত্রটিতে নিজের সবটুকু ঢেলে দিয়েছেন বলে জানান। মালতীর জীবনে প্রেম, লড়াই এবং নতুন অধ্যায় শুরু করার গল্পই সিনেমাটির মূল প্রতিপাদ্য।

‘প্রিয় মালতী’ পরিচালনা করেছেন শঙ্খ দাশগুপ্ত, প্রযোজক আদনান আল রাজীব ও রেদওয়ান রনি। সিনেমাটিতে মেহজাবীনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন আজাদ আবুল কালাম, নাদের চৌধুরী, মোমেনা চৌধুরী, শাহজাহান সম্রাট, সমু চৌধুরী, আনিসুল হক বরুন, রিজভী রিজু প্রমুখ।

মুক্তির আগে সিনেমাটি বেশ কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এটি দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে প্রথমবার।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নির্মাতা শঙ্খ দাশগুপ্ত, প্রযোজকরা, এবং অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। তারা সবাই সিনেমার ভবিষ্যৎ সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী অবৈধ : হাইকোর্ট

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছেন আদালত।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপক্ষে এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে তাতে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি। যার ফলশ্রুতিতে হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান। রায়ে হাইকোর্ট বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি–সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এ রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেন, অনুচ্ছেদ দুটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে ধ্বংস করেছে, যেটি হচ্ছে গণতন্ত্র। পঞ্চদশ সংশোধনী মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করেছেন আদালত। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৫৪টি ক্ষেত্রে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা হয়েছিল।

রায়ে আদালত বলেছেন, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল করা হচ্ছে না। বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন আদালত। রায়ে আদালত আরও বলেছেন, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে বিধানগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতির বিষয়, ২৬ মার্চের ভাষণের বিষয়গুলো রয়েছে।

গণভোটের বিষয়ে রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়, যেটি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অংশ ছিল। এটি ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত হয়। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ৪৭ ধারা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় বাতিল ঘোষণা করা হলো। ফলে দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ ক,৭ খ এবং ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। ৭ ক অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ এবং ৭ খ সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য করার কথা বলা ছিল। এদিকে ৪৪ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ বিষয়ে বলা আছে। ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ বলছে, এই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন হাইকোর্ট বিভাগের ক্ষমতার হানি না ঘটিয়ে সংসদ আইনের দ্বারা অন্য কোনো আদালতকে তার এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে ওই সব বা এর যে কোনো ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষমতা দান করতে পারবেন। এই অনুচ্ছেদটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে রায়ে।

এদিন সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে রায় ঘোষণা শুরু হয়। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব পৌনে দুই ঘণ্টাব্যাপী এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদ উদ্দিন, রিটকারী সুজনের বদিউল আলমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরিফ ভূঁইয়া। বিএনপির পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট ফারজানা শারমিন পুতুল। জামায়াতের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকী। ইনসানিয়াত বিপ্লবের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। চার আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জুনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ, ইন্টারভেনর হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার হামিদুল মিসবাহ, সেন্টার ফর ল’ গভর্নেন্স ও পলিসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলসহ বেশকিছু বিষয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

দীর্ঘ ২৩ কার্য দিবস শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ের জন্য এদিন ধার্য করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পক্ষভুক্ত হন। এরপর ইনসানিয়াত বিপ্লব, গণফোরাম, চার আবেদনকারী রুলে ইন্টারভেনর হিসেবে পক্ষভুক্ত হন।

গত ১৯ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কেন অবৈধ হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেছিলেন। সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ অন্যদের রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত এ রুল জারি করেন।

২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদে পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এছাড়া জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। এছাড়া বেশকিছু বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়।




প্রশিক্ষণরত ৫৯ এসআইকে শোকজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত ৪০তম বিসিএসের ২৫ জনকে শোকজ করা হয়েছে।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে প্রশিক্ষণরত এই ২৫ এএসপিকে চিঠি দেওয়া হয়। সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির পুলিশ সুপার (বেসিক ট্রেনিং-২) মো. তানভীর সালেহীন ইমন এই ২৫টি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) ইনামুল হক সাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সারদায় পুলিশের আরও ৫৮ এসআইকে অব্যাহতি
তিনি বলেন, সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত ৪০তম বিসিএস’র ২৫ জন এএসপিকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ব্যাখ্যার চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনি এএসপি (পুলিশ) ব্যাচের একজন প্রশিক্ষণার্থী হিসাবে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত রয়েছেন। গত ২৬ নভেম্বর সাপ্তাহিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুযায়ী বিকেলের সেশনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্যারেড চালু হওয়ার পর কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত সিএএসআই কেন্দ্রীয় কমান্ডের অংশ হিসেবে দৌড়ের নির্দেশ দিলে আপনি আরো কয়েকজনের সঙ্গে যোগসাজশ করে দৌড় না দিয়ে এলোমেলোভাবে হেঁটে হেঁটে চলা শুরু করেন।

আপনাদের কারণে মাঠের অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীর সঠিকভাবে দৌড়াতে পারছিলো না। আপনাকে বারবার দৌড়ানোর কথা বলা হলেও আপনি তার কথায় কোনো কর্ণপাত না করে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তিমূলক কথা বলা শুরু করেন। আপনিসহ আপনার অন্যান্য সহযোগীদের এরূপ কর্মকাণ্ডের ফলে মাঠে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। একজন প্রশিক্ষণরত এএসপি (প্রবেশনার) হিসেবে আপনার এরূপ আচরণ ও কার্যকলাপ মাঠের সার্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে চরমভাবে ব্যাহত করে এবং মাঠের অন্যান্য প্রশিক্ষণার্থীদেরকে শৃঙ্খলাভঙ্গে উৎসাহিত করে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, এমতাবস্থায়, আপনার এহেন কার্যকলাপ ও আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর কেন প্রেরণ করা হবে না, তার কারণ ব্যাখ্যাপূর্বক নোটিশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে আপনার লিখিত বক্তব্য নিম্নস্বাক্ষরকারীর কাছে দাখিল করার জন্য আদিষ্ট হয়ে নির্দেশ প্রদান করা হলো।