সচিবালয়ে আগুনের প্রাথমিক প্রতিবেদন: তদন্তে যা উঠে এলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বাংলাদেশ সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুনের ঘটনায় গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার গেটে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি জানান, লুজ কানেকশনে বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে সচিবালয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ভয়াবহ এ আগুনে নাশকতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি।

তবে প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে বলে কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম অংশে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর দিনগত মধ্য রাতে সচিবালয়ের সাত নম্বর ভবনে আগুন লাগে।

আগুনে ছয় থেকে নয় তলার প্রায় সবকিছুই পুড়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পাঁচ মন্ত্রণালয়।
এ ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। তদন্ত কমিটি বুয়েট, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করে।
বুয়েট বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

আগুনের উৎপত্তিস্থল ৭ নম্বর ভবনের ৬ তলার লিফট লবি সংলগ্ন করিডোর থেকে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণে যার সত্যতা পাওয়া যায়। আগুনের সূত্রপাত ২৬ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের মধ্যে। প্রথম যখন আগুন শনাক্ত করা হয়, ফায়ার ফাইটারদের সাক্ষ্য ও উত্তর দিক থেকে নেওয়া ভিডিও অ্যানালাইসিস করে দেখা যায়, আনুমানিক রাত ২টার সময় আগুন ডেভেলপ স্টেজে (বিকশিত স্তর) চলে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দৃশ্যমান বৈদ্যুতিক স্পার্ক থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সাধারণত সকেট-প্লাগে লুজ কানেকশন, ক্যাবলে ফল্টি জয়েন্ট, কনট্যাস্ট সারফেসে অক্সিডেশন ইত্যাদি কারণে বৈদ্যুতিক স্পার্ক হয়ে থাকে। উক্ত স্পার্ক সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়া ও আগুনের উৎপত্তি হয়, যা ক্রমশ ফ্ল্যাশওভারে পরিণত হয়। এটি একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, এ ধরনের অগ্নিনির্বাপণে ব্যবহৃত পানির প্রবাহে ভস্মীভূত ধ্বংসাবশেষের অধিকাংশ আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ভবনে কোনো ধরনের ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম না থাকায় প্রাথমিক ও বিকশিত অবস্থায় আগুন শনাক্ত করা যায়নি।

টানেল সদৃশ্য করিডোরের ফলস সিলিং দাহ্য ও অতি দাহ্য পদার্থ দিয়ে আচ্ছাদিত থাকায় আগুন অতিদ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের লিফট ও সিঁড়ির অপরিকল্পিত নকশার কারণে চিমনি ইফেক্ট সৃষ্টি হয়, যাতে অগ্নি শিখা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী প্রপাগেশন করে ৬ তলা থেকে ৭, ৮ ও ৯ তলায় ছড়িয়ে যায়, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।

করিডোরে আগুন প্রবাহকালে পাশের রুমগুলোর দরজা পুড়ে যায়। রুমের ভেতরে দাহ্যবস্তু (কাগজ, কাপড়, ফোম, কার্পেট, ফার্নিচার ইত্যাদি) রক্ষিত থাকার কারণে রুমে আগুন প্রবেশ করে। বিভিন্ন রুমে ফুয়েলের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হবার কারণে বিভিন্ন রুম বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ৬ তলার ৫২৪ নম্বর এবং ৮ তলার ৭০৪ নম্বর কক্ষ দুটির এয়ারকন্ডিশন থেকে রেফ্রিজারেন্ট নির্গত হয়ে প্রজ্বলনের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতীয়মান হয়।

সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দলের পর্যবেক্ষণ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ দল কর্তৃক কোনো ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতামূলকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও বিস্তার করা হয়েছে কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ও মাত্রা বিবেচনায় বিশেষজ্ঞ দল প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের তিনটি সম্ভাব্য উৎপত্তিস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে প্রাথমিকভাবে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়।

শনাক্তকরণের কাজে তিনটি আধুনিক বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইস- প্রোর্টেবল এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেক্টর (ইউকে), আইটেমাইজার এক্সপ্লোসিভট্রেস ডিটেক্টর (জার্মানি) ও ম্যাস স্পেকট্রোমিটার (ইউএসএ) ব্যবহার করা হয়েছে।

মাল্টি-চ্যানেল ফ্লোরিস্কেন টেকনোলজি, আয়ন মবিলিটি স্পেকট্রোমিটার (আইএমএস), আয়ন ট্রাপ ম্যাস স্পেকট্রোমিটারি পদ্ধতি ব্যবহার করে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। চারটি নমুনা পরীক্ষা করে কোনো বিস্ফোরকের উপস্থিতি শনাক্ত করা যায়নি।

সংগ্রহকৃত একটি নমুনা বুয়েটের ল্যাবে পরীক্ষা করে কোনো রকম ক্ষতিকারক উপাদান পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করে কোনো ধরনের বিস্ফোরকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অগ্নিকাণ্ডের উৎপত্তিস্থল নিশ্চিতকরণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য ৩০ ডিসেম্বর পুনরায় নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণ

ফায়ার সার্ভিসের প্রথমে তিনটি দল ৭ নম্বর ভবনের পশ্চিম অংশের ষষ্ঠ তলার সিঁড়িতে ১টা ৫২ মিনিটে, মধ্যে খানের সিঁড়িতে ১টা ৫৮ মিনিটে এবং পূর্বাংশের সিঁড়িতে ২টা ৭ মিনিটে ফায়ার ফাইটিং শুরু করে। ফায়ার ফাইটারদের ভাষ্যমতে উক্ত সময়ে আগুন ষষ্ঠ তলার করিডোরের মধ্যে সম্পূর্ণ বিকশিত পর্যায়ে ছিল।

অগ্নিনির্বাপণ ও রেসকিউ অপারেশন পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার অভাব ও স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত ফায়ার গাড়ি) প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা থাকায় গতানুগতিক ফায়ার ফাইটিং করা হয়েছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র দুটি স্পেশাল গাড়ি (উঁচু মই সংযুক্ত গাড়ি) ৭ নম্বর ভবনের দক্ষিণ দিকে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

প্রতিটি ফ্লোরের করিডোরে চারটি কলাপসিবল গেট তালা দিয়ে আটকানো ছিল এবং সেখানে প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ সৃষ্টির ফলে তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হয়েছে।

প্রতিটি ফ্লোরে ইন্টেরিয়র ডিজাইন অতীব মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়, যা উচ্চ মাত্রার দাহ্যবস্তু এবং আগুন বিস্তারে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রতি তলায় অধিকাংশ রুমে উচ্চ ও সহজ দাহ্যবস্তু দ্বারা কক্ষগুলো বিভাজন করা ছিল। প্রত্যেকটা ফলস সিলিং-এর ওপরে বিভিন্ন ধরনের বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক তারসহ অন্যান্য তার বিদ্যমান ছিল। কোনো কোনো রুমের পরিমাপ অনুপাতে অপেক্ষাকৃত বেশি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র বিদ্যমান ছিল।

৭ নম্বর ভবনটিতে অ্যালার্ম অ্যান্ড ডিটেক্টর সিস্টেম, কন্ট্রোল প্যানেল, অটো স্প্রিংকলার ইত্যাদি অগ্নি নিরাপত্তার সিস্টেম ছিল না এবং কোনো কোনো ফ্লোরে হোজপাইপ সিস্টেম থাকলেও তা ছিল অকার্যকর এবং নজেলবিহীন। ফলে ম্যানুয়ালি লাইন খুলে প্রতিটি ফ্লোরে ফায়ার সার্ভিসের হোজপাইপ লে-আউট করে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছিল সময়সাপেক্ষ।

সচিবালয়ের অভ্যন্তরে তিনটি আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভারের মজুদ পানি পর্যাপ্ত না হওয়ায় দূরবর্তী স্থান- ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন ও গেটের বাইরে বিশেষ পানিবাহী গাড়ি থেকে অনেক হোজপাইপ লে-আউটের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হয়েছে। এছাড়া ওয়াসা থেকেও পানি সরবরাহ করা হয়েছে।

৭ নম্বর ভবনের ৬, ৭, ৮ ও ৯ তলায় দ্রুত গতিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রথমে ষষ্ঠ তলায় আগুন নির্বাপণ করতে হয়েছে, পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সপ্তম, অষ্টম ও নবম তলায় আগুন নির্বাপণে সময়ের প্রয়োজন হয়েছে।

২৬ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ১১টা ৪৫ মিনিটে নির্বাপণ সম্পন্ন হয়।

তদন্ত কমিটির পরবর্তী কার্যক্রম

আগুনের উৎপত্তিস্থল থেকে ৩০ ডিসেম্বর যে সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা সেনাবাহিনীর কাউন্টার আইইডি ফিউশন সেন্টারের পরীক্ষাগারে বিভিন্ন বিস্ফোরক ডিটেকশন ডিভাইসের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

ঘটনা পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ৭ নম্বর ভবন এবং আশপাশের ভবনের সব সিসিটিভির ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম চালাচ্ছে পুলিশ।

আগুনটি বৈদ্যুতিক উৎস থেকে শুরু হয়েছিল কিনা তা অধিকতর রূপে নিশ্চিত হওয়ার জন্য দগ্ধ বৈদ্যুতিক ক্যাবল সেগমেন্ট, জয়েন্ট বক্স এবং ব্রেকারগুলোর নমুনার ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: এক্স-রে রেডিওগ্রাফ, মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা এবং পোড়া ইনসুলেটরের রাসায়নিক গঠনের জন্য ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি করেও আগুনের কারণ সম্পর্কে সূত্র পাওয়া যেতে পারে। এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে বুয়েট পরামর্শক দল।

প্রাথমিক তদন্তে উদঘাটিত বৈদ্যুতিক গোলযোগের (স্পার্ক) বিষয়টির সঙ্গে অন্যকোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে।




মির্জাগঞ্জ সড়কে কলেজ ছাত্র নিহত এর ঘটনায় আটক ৩

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজ ছাত্র, আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। শনিবার সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সিকদার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্র নেয়ামুল হক নাফিস পটুয়াখালী জেলার মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আইনজীবী নাজমুল হকের ছেলে এবং ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নাফিস তার দুই বন্ধু সাফিন ও ফারাবি হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় নাফিস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত সাফিন ও ফারাবিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সহায়তায় প্রাইভেটকার চালক মো. শহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার চামটা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম (৪২), পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. মোহন সিকদার (৪১) এবং সিদ্দিক সিকদার।

পটুয়াখালী সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫৪/২৪।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাফিসের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় চেতনানাশক মিশিয়ে এক পরিবারের সর্বস্ব লুট

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে দুর্বৃত্তদের চেতনানাশক মিশিয়ে এক পরিবারের সর্বস্ব লুটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন পরিবারের ৬ সদস্য।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ১টার দিকে আব্বাস হাওলাদারের বাড়িতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে পরিবারের সবাই রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও পরিবারের কারো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীরা তাদের ঘুম ভাঙান। জ্ঞান ফেরার পর তারা দেখতে পান, দুর্বৃত্তরা ঘরের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে।

লুট হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ টাকা, ৩ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৫টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিস। পরিবারের সদস্যদের দাবি, খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক মিশিয়ে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

চেতনানাশকের প্রভাবে অসুস্থ হওয়া ৬ সদস্যকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এই লুটের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

 




পদ্মা সেতু দুর্নীতির মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১০ বছর আগে নিষ্পত্তি হওয়া আলোচিত পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ঘুষ লেনদেনের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্মাণকাজে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্মাণ তদারকি পরামর্শক নিয়োগ সংক্রান্ত দরপত্রের অন্যতম দরদাতা এসএনসি-লাভালিন ইন্টারন্যাশনাল ইনক-কে কার্যাদেশ পাইয়ে দেওয়ার অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করায় বনানী থানার মামলা মামলা করা হয়। পরে তদন্ত শেষে ২০১৪ সালে আদালতে এফআরটি দাখিল করা হয়। ওই মামলা পুনঃপর্যালোচনা করে কমিশন মামলাটি অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।




১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করলো বিএফআইইউ

বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সন্দেহে ১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈধ আয়ের সাথে সঙ্গতিহীন সন্দেহে ১২ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একইসঙ্গে তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ‌্যও দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হিসাব তলব করা সাংবা‌দিকরা হ‌লেন— সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ্র বাদল, ঢাকা টাইমসের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, বাংলাদেশ পোস্টের বিশেষ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম হাসিব, নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক দ্বীপ আজাদ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপ-প্রদান বার্তা সম্পাদক মো. ওমর ফারুক, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের সাবেক মহাপরিচালক জাফর ওয়াজিদ, চ্যানেল আইয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হোসনে আরা মমতা ইসলাম সোমা, দৈনিক জনকণ্ঠের ডেপুটি এডিটর ওবাইদুল কবীর মোল্লা, দৈনিক জাগরণের সম্পাদক আবেদ খান, ফ্রিল্যান্সার সাংবাদিক অজয় দাস গুপ্ত এবং গ্লোবাল টিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশ‌তিয়াক রেজা।




কলাপাড়ায় ২০ মন নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি পিকআপভর্তি ২০ মন বিপন্ন প্রজাতির শাপলাপাতা মাছ জব্দ করেছে থানা পুলিশ। একই সঙ্গে পিকআপের চালক, হেলপার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দুই বিএনপি নেতাসহ ৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার ভোরে কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের বিশকানি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

কলাপাড়া থানার ওসি জুয়েল ইসলাম জানান, মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে শাপলাপাতা মাছের একটি চালান পাচারের চেষ্টা করছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। পিকআপটি বিশকানি এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ পরিচয়ে টিয়াখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জুয়েল রানা এবং ছাত্রদল সভাপতি মো. ইমরানের নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা মাছ লুট করে এবং চালক ও হেলপারের কাছে চাঁদা দাবি করে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় একটি চাকু, একটি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাসহ ৯ জনকে আটক করে। পিকআপে থাকা ২০ মন নিষিদ্ধ শাপলাপাতা মাছ জব্দ করা হয়।

ওসি আরও জানান, জব্দ করা মাছগুলো বন বিভাগের উপস্থিতিতে মাটি চাপা দেওয়া হবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



দুদকের নতুন মহাপরিচালক আবু হেনা মোস্তফা জামান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে আবু হেনা মোস্তফা জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বর্তমানে জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জননিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু হেনা মোস্তাফা জামানকে দুদকের মহাপরিচালক হিসেবে পদায়নের জন্য তার চাকরি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।




বাউফলে চর দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় চর দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চর ফেডারেশন এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে কালইয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তুহিন এবং একই ইউনিয়নের আরেক বিএনপি নেতা গিয়াসের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। তুহিনের দখলে থাকা জমি গিয়াসের সমর্থকরা দখল করতে গেলে তুহিনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হয়। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে গিয়াসের ৮-১০ জন সমর্থক আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পরবর্তীতে দুপুর ২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তুহিনের ওপর হামলা চালায় গিয়াসের সমর্থকরা। তুহিন গুরুতর আহত হলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত তুহিনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গণহত্যার বিচার বিজয়ের আগেই সম্পন্ন হবে: আসিফ নজরুল

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিচার সম্পন্ন করে বিজয় দিবসে তা উদযাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংস্কার নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপে শেখ হাসিনার আমলের গুম, খুন, এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. আসিফ নজরুল জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, হেফাজতের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে ঘটে যাওয়া গুম-খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা হবে। তিনি বলেন, “আইন বিভাগ এই বিচার করবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা রাজনৈতিক প্রভাব এতে থাকবে না।”

প্রশ্ন তুললেন পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে
তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা পালানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে দেশ ছেড়েছেন। এমনকি ৫১ জেলা থেকে গায়েবি মামলার তথ্য সংগ্রহ করে পিপিরাও পালিয়েছে। এসব বিষয়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

আলোচনার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা গত ১৬ বছরে দেশে ঘটা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের গুমের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনা সরকারের গুমের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অপরাধ কমাতে পুলিশের কাছে ম্যাজিক নেই: আইজিপি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে কোনো ম্যাজিক নেই। তবে সারা দেশের পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি (বিআরপিওয়া)’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, “ঢাকাসহ সারা দেশে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। এসব অপরাধ কমাতে আমরা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। সারা দেশের পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের কাছে সেই ধরনের কোনো ম্যাজিক নেই। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব অপরাধ দমন কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে। এজন্য জনগণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাইছি। অপরাধ দমনে পুলিশ এককভাবে কাজ করতে পারে না। তবে আমরা প্রতিটি ঘটনার সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি তদন্ত কমিটি দেখছে। বিষয়টি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না।”

ছাত্র সমন্বয়কদের হত্যার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘটনা আমরা অ্যানালাইস করেছি এবং সমাধান করেছি। নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনা মোবাইল ছিনতাই, আর কালিয়াকৈরের ঘটনা ছিনতাইয়ের। এগুলো টার্গেট কিলিং নয়।”

আইজিপি বলেন, “পুলিশের মধ্যে আস্থা ও মনোবল ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। কিছু কর্মকর্তার চাকরি মাত্র ১০-১২ দিন বাকি থাকলেও তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিদায়ের সময় যেন সম্মানের সঙ্গে যেতে পারি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম