দেশে প্রতিষ্ঠীত হতে যাচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবলায়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিচার বিভাগের জন্য ভিন্ন সচিবলায় প্রতিষ্ঠার  দাবি দীর্ঘ দিনের । এবার সেই কাজ শেষের পথে ।  সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫-এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। এই সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হলে বিচারকাজে যুক্ত অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন ও শৃঙ্খলাবিষয়ক সব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে। তবে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত বিচারকদের বিষয়গুলো আইন মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলন করে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আইন উপদেষ্টা বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করতে সুপ্রিম কোর্টের একটি পৃথক সচিবালয়ের আকাঙ্ক্ষা দেশের নাগরিক সমাজের মনে ২০-৩০ বছর ধরে আছে। এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, অনেক রাজনৈতিক দল অনেক আশ্বাস দিয়েছে। অবশেষে এখন একটা ভালো জায়গায় আসা গেছে। সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ছিল। এই প্রস্তাবে ঐকমত্য কমিশনের অংশগ্রহণকারী সব দল সম্মত হয়েছে। এ–সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদনের পর আজ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাদেশের বিষয়বস্তু তুলে ধরতে গিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, অধস্তন বা নিম্ন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত। রাষ্ট্রপতির হাতে ন্যস্ত মানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে তিনি এটি করেন। আর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয় কাজটি করে। বিচারকদের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজটি করে আইন মন্ত্রণালয়।

এই অধ্যাদেশ পরিপূর্ণভাবে কার্যকর হওয়ার পর নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর আইন মন্ত্রণালয় তথা সরকারের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। সম্পূর্ণভাবে এটা উচ্চ আদালত তাঁর সচিবালয়ের মাধ্যমে দেখাশোনা করবেন।




বরগুনায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানানারী নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপা আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় তিনি ১ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার দরখাস্তের বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন জসিম উদ্দিন। পরে পারিবারিক চাপ তৈরির মাধ্যমে নিপাকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। পরে ২০২২ সালের ২৫ জুন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় জসিম নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম জানতে পারলে দুই পরিবারের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পুনরায় ৯১ লাখ টাকা দেনমোহরে নিপাকে বিয়ে করেন জসিম এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী বিয়েটি মেনে না নেওয়ায় পারিবারিক চাপে জসিম উদ্দিন নিপাকে তালাক দেন। এমনকি ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিপার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যার ফলে মানসিক চাপে নিপা অসুস্থ হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দেনমোহর ও খোরপোশের দাবিতে নিপা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বাদী লাভলী আক্তার নিপা বলেন, ‘মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে মামলা করেছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নারী নির্যাতন দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় বরগুনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক লায়লাতুল ফেরদৌস এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৫ অক্টোবর জসিম উদ্দিনের দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপা আদালতে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

মামলায় তিনি ১ কোটি ২২ লাখ ৬ হাজার ৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলার দরখাস্তের বিবরণীতে বাদী উল্লেখ করেন, বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের একটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালে প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী আক্তার নিপার সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে তোলেন জসিম উদ্দিন। পরে পারিবারিক চাপ তৈরির মাধ্যমে নিপাকে তার স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন।

পরে ২০২২ সালের ২৫ জুন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় জসিম নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি জসিম উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম জানতে পারলে দুই পরিবারের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার অংশ হিসেবে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পুনরায় ৯১ লাখ টাকা দেনমোহরে নিপাকে বিয়ে করেন জসিম এবং একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রথম স্ত্রী বিয়েটি মেনে না নেওয়ায় পারিবারিক চাপে জসিম উদ্দিন নিপাকে তালাক দেন।

এমনকি ২ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে নিপার বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, যার ফলে মানসিক চাপে নিপা অসুস্থ হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দেনমোহর ও খোরপোশের দাবিতে নিপা আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে চট্টগ্রামের পাহারতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী লাভলী আক্তার নিপা বলেন, ‘মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক আমার ন্যায্য অধিকার ফেরত পেতে মামলা করেছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।




কারাগারে অসুস্থ হয়ে পটুয়াখালীর সাবেক চেয়ারম্যান জাফরের মৃত্যু

পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়ন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাফর হাওলাদার (৫৫) কারাগারে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। হঠাৎ অসুস্থতার ঘটনা এবং চিকিৎসার অল্প ব্যবধান তার মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান—জাফর হাওলাদার দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন এমন তথ্য তারা জানতেন না। মৃত্যুর খবরে গভীর শোক প্রকাশ করে তার ভাগ্নি রুমা বলেন, “আমার মামা সুস্থ মানুষ ছিলেন। কারাগারে অসুস্থ হওয়ার বিষয়টা আমরা জানতাম না। মৃত্যুর পরই সব জানতে পারছি।” পরিবারের দাবি, খবর পেয়ে তারা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছান, কিন্তু তখন আর তাকে পাওয়া যায়নি।

কারা সূত্র জানায়—১১ নভেম্বর ‘গ ডেভিল হান্ট’ নামে চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে নিজ বাড়ি থেকে জাফর হাওলাদারকে আটক করা হয়। আটকের পর থেকে তিনি পটুয়াখালী জেলা কারাগারেই ছিলেন। সোমবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়। মাত্র ১০ মিনিট পর, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তাকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক পরীক্ষা ও ইসিজি করা হলে তিনি তখনও জীবিত ছিলেন বলে চিকিৎসকেরা জানান। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২টা ১৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় কারা প্রশাসন জরুরি প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করেছে। পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার আতিকুর রহমান বলেন, “কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে দ্রুত সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মরদেহ বর্তমানে সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এসে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে জাফর হাওলাদারের জনপ্রিয়তা ও আলোচিত ভূমিকা থাকায় তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই বিষয়টি তদন্তের দাবি করেছেন। কারাগার, হাসপাতাল এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়ভাবে জানা যায় জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি ইউনিয়নের সামাজিক উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রমের কারণে এলাকায় পরিচিতি পান। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন।

পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জুলাই গণঅভ্যুত্থান মামলা: শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে গুরুতর দণ্ড ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়—মামলার অভিযোগগুলোতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য, নথি ও প্রমাণাদি বিবেচনায় এনে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক মামলার রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালত জানায়—শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে; যার মধ্যে দুটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলার একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

রায় ঘোষণার সময় আদালত অঙ্গন ছিল জনাকীর্ণ। নিহতদের পরিবার, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ উপস্থিত ছিলেন জুলাই–অগাস্টের সহিংস ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বহু মানুষ। আদালত বলেন—গণঅভ্যুত্থানের সময় যে হত্যাকাণ্ড, হামলা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তা প্রমাণ করতে প্রসিকিউশনের ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের মধ্যে ছিলেন চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী, তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের সহযোদ্ধা, শহীদ আনাসের বাবা পলাস এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্যও মামলার ভিত্তি মজবুত করে।

গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগসমূহ

প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে পাঁচটি অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেছিল। সেগুলো হলো—
১) ১৪ জুলাই গণভবনে শেখ হাসিনার দেওয়া উসকানিমূলক বক্তব্য;
২) আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ;
৩) রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;
৪) চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা;
৫) আশুলিয়ায় আগুন দিয়ে ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা।

অভিযোগ গঠনের পর সাবেক আইজিপি মামুন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী হয়ে দাঁড়ানোর আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করে। পরে প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে কোনো সাজা দাবি না করে, শুধুমাত্র শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানায়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে ১২–২৩ অক্টোবর শুনানি শেষ হয় এবং আজ রায় ঘোষণা করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের পুনর্গঠন ও মামলার প্রক্রিয়া

৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠিত হয়। পুনর্গঠনের পর প্রথম মামলার শুনানি হিসেবে গত ১৭ অক্টোবর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয় এবং সেদিনই আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পরে মামলায় সাবেক আইজিপি মামুন ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে আসামি করা হয়। এ বছরের ১ জুন তিনজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল হয়।

পক্ষ–বিপক্ষের সব যুক্তি, সাক্ষ্য এবং নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত জানায়—উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। আদালতের রায়ে বলা হয়, “মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তিই ন্যায়বিচারের স্বার্থ নিশ্চিত করে।”


মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বোর্ড অফিস বাজারে দোকান দখল: অসুস্থ যুব ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন পথে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার বোর্ড অফিস বাজার সড়কে দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে খাসজমির ভিটি দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা কাওসার মিরার বিরুদ্ধে। দখল করা দোকানঘরটি বর্তমানে পোল্ট্রি ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে চরম দুর্দশায় পড়েছেন পিতৃহারা যুব ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন হাওলাদার। সম্প্রতি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, মহিউদ্দিন এবং তাঁর বাবা খালেক হাওলাদার বহু বছর ধরে মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার সড়কে রেকর্ডিও ও খাসজমির ওপর দোকানঘর নির্মাণ করে বৈধভাবেই ব্যবসা করে আসছিলেন। বাবার মৃত্যু পর একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনিই দোকান পরিচালনা করতেন এবং এটিই ছিল তাঁর পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ওই ভিটির প্রতি নজর পড়ে কাওসার মিরার। পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে লোকজন নিয়ে দোকানঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে মহিউদ্দিনকে উচ্ছেদ করা হয়। রাতারাতি দোকানের ভিটিতে নতুন করে পোল্ট্রি ব্যবসা শুরু করা হয়। বাজার কমিটি ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের কাছে অভিযোগ জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি মহিউদ্দিন।

অভিযোগকারী মহিউদ্দিন বর্তমানে গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী; প্রতি মাসে তাঁর শরীরে রক্ত নিতে হয়। তাছাড়া একটি পায়ে গ্রিল ব্যান্ডেজ থাকায় চলাফেরা করতেও কষ্ট হয়। কাজ করার সক্ষমতাই যখন সীমিত, তখন একমাত্র জীবিকা হারিয়ে পরিবারসহ চরম সংকটে পড়েছেন তিনি। বাধ্য হয়ে তিনি গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুমকি উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দোকানঘরের সামনে জোর করে মাটি ফেলা ও নানা বাধা সৃষ্টি করে তাঁর ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানালেও তখন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. তারিকুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “প্রায় প্রতিবন্ধী ছেলে মহিউদ্দিনের জন্য ভিটির কিছু অংশে ছোট করে দোকান করে দেওয়ার কথা কাওসার মিরাকে বলেছিলাম। কিন্তু সে আমাদের অনুরোধ রাখেনি।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা কাওসার মিরা মাতবর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি তাঁর নিজের জমিতেই ব্যবসা করছেন।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো: এজাজুল হক অভিযোগের প্রাপ্তি নিশ্চিত করে বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য সার্ভেয়ারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে গ্রামীণ ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ডিবুয়াপুর শাখার গ্রামীণ ব্যাংকে অগ্নিসংযোগের অপচেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (১৬ নভেম্বর) রাত প্রায় বারোটার দিকে কালিকাপুর ইউনিয়নের মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শাখাটির পরিত্যক্ত গেটে হঠাৎ আগুন লাগতে দেখা যায়। এতে এলাকায় মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে শাখার ভেতরে উপস্থিত কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মধ্যরাতের একটু আগে কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শাখার গেটের পাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর তারা পেট্রোল ঢেলে গেটে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। আগুনের আলো দেখে শাখার ভেতরে থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত নিচে নামেন এবং পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ফলে আগুন শাখার মূল ভবন বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো কক্ষে ছড়িয়ে পড়েনি।

ঘটনার সময় শাখায় দায়িত্বে থাকা পিউন কাম গার্ড শেখ বাহাউদ্দিন বলেন, “রাতে চারজন কর্মকর্তা শাখায়ই ছিলেন। তাঁদের উপস্থিতি না থাকলে আগুন সহজেই ভেতরে ঢুকে পড়তে পারত। আমি এসে ঘটনার বিস্তারিত শুনেছি, ভাগ্য ভালো বড় বিপদ হয়নি।”

ডিবুয়াপুর শাখার ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান জানান, “রাতে অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ সিকিউরিটি গার্ড বাঁশি বাজিয়ে আমাকে ডাকেন। গেটের দিকে দৌড়ে গিয়ে দেখি আগুন লেগেছে। আমি বাথরুম থেকে পানি এনে আগুন নিভিয়ে ফেলি। এরপর বিষয়টি জানিয়ে সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে ফোন করি। কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমি বর্তমানে থানায় রয়েছি, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করছি।”

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট তাপস জানান, “অল্প কিছুক্ষণ আগেও আমরা এখানে টহলে ছিলাম। অন্য এক শাখার দিকে যাওয়ার সময় ফিরে এসে দেখি আগুন লাগানোর চেষ্টা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। কে বা কারা এমন কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

এদিকে পুরো ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি—ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা একটি পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হতে পারে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনা নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইমতিয়াজ আহমেদ বারবার কল রিসিভ করেননি। ফলে প্রাথমিক তদন্ত বা নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে থানার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নাশকতার এমন ঘটনা প্রতিরোধে এলাকাজুড়ে আরও কড়াকড়ি নিরাপত্তা ও নিয়মিত টহল অত্যাবশ্যক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনার রায়ের তারিখ ঘিরে আদালতপাড়ায় কড়া নিরাপত্তা

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বহুল আলোচিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় কবে সেই তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করবেন।

এদিন সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাইকোর্ট মাজারসংলগ্ন ট্রাইব্যুনালের ফটকে দেখা যায়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিজিবি ও ডিএমপির সাঁজোয়া যানও রয়েছে সেখানে।

এদিকে এই রায়কে ঘিরে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। রায়ের তারিখ ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য নাশকতা রোধে আজ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডিএমপির ১৭ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটও নিরাপত্তা তৎপরতায় যুক্ত রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, গত ১১ দিনে ১৫টি জায়গায় ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, আর গত দুই দিনে ৯টি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে ভয়ের সঙ্গে দেখা দিয়েছে কৌতূহল। তাদের প্রশ্ন, দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আবার কী ঘটতে যাচ্ছে?

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার সড়ক পরিস্থিতি ছিল মোটামুটি স্বাভাবিক। সকাল ৭টার পর মিরপুর থেকে হাইকোর্টমুখী পথে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও অন্যান্য দিনের তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কিছুটা কম ছিল। বাংলামোটর মোড়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের টহল দিতেও দেখা যায়।




দুমকির চেয়ারম্যান আজাহার আলী মৃধা গ্রেফতার

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার কৃষকলীগ আহ্বায়ক ও শ্রীরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী মৃধাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে লেবুখালী পায়রা সেতুর টোলপ্লাজা সংলগ্ন পাগলা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

দুমকি থানা পুলিশ আজাহার আলী মৃধাকে আটক করে পরে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করেছে বলে জানিয়েছেন মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আজাহার আলী মৃধাকে দুমকি থানা পুলিশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।’’

তবে কোন মামলার ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন ওসি। তিনি আরও জানান, আটক আজাহার আলী মৃধাকে বুধবার (১২ নভেম্বর) পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

গ্রেফতারের খবর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আজাহার আলী মৃধা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তিনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তা জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, ফেব্রুয়ারিতেই ভোট

আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের শঙ্কা নেই, ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের ব্যাপারে সরকার পদ্ধপরিকর।

রোববার সকালে রাজশাহীর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকদের সাথে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নজরুল বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব কিছুই করবে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ওপর চাপ সৃষ্টি, আবার কখনও উপদেষ্টাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন কথা বলে। এর মধ্যে কিছু বিষয় সত্য থাকলেও; তাদের কথায় মনে হয় নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা নেই।

তিনি আরও বলেন, যারা জামিন পেয়ে একই ধরনের অপরাধ করতে পারে বা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পরিবেশ বিনষ্ট করতে পারে তাদেরকে নজরে রাখা হচ্ছে। এছাড়া আদালতে মামলার চাপ কমাতে একজন বিচারকের জায়গায় তিনজন বিচারক দেয়া হচ্ছে।




কলাপাড়ায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ১৩শ’ মন ঝাটকা ইলিশ জব্দ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১৩শ’ মন ঝাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। রোববার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার সোনাতলা নদী সেতুর পাশে ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কে এই অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের আওতাধীন বিসিজি স্টেশন নিজামপুর, মহিপুর ইউনিটের সদস্যরা।

অভিযানের সময় দুটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ ঝাটকা ইলিশ পরিবহন করা হচ্ছিল। এসময় ‘চাকলাদার পরিবহন’ ও ‘মোরল এক্সপ্রেস’ নামের ট্রাক দুটি আটক করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিটি ট্রাক মালিককে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

জব্দকৃত ইলিশগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসির সাদেক, উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী মো. মহসিন রেজা এবং কোস্ট গার্ডের কন্টিনজেন্ট কমান্ডারের উপস্থিতিতে স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসায় বিতরণ করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ বলেন, “ঝাটকা ইলিশ ধরা, পরিবহন বা মজুদ রাখা আগামী আট মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের এক কর্মকর্তা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে কোস্ট গার্ডের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট