রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চিন্ময় দাসকে জামিন দিতে হাইকোর্টের রুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় প্রাক্তন ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন প্রশ্নে দুই সপ্তাহের রুল জারি করেন।

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য ও প্রবীর রঞ্জন হালদার। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ।

গত ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সনাতনী সম্প্রদায়ের একটি বড় সমাবেশ হয়। এর কয়েক দিন পর গত ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়। এ মামলায় আরও ১৮ জনকে আসামি করা হয়।

গত ২২ নভেম্বর চিন্ময়ের নেতৃত্বে রংপুরে আরও একটি বড় সমাবেশ হয়। এরপর রাষ্ট্রদ্রোহের সেই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন জামিন আবেদন করা হলে তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। আদালত চিন্ময়কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে সেদিন চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে চিন্ময়ের অনুসারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবীর সাইফুল ইসলাম আলিফকে আদালত চত্বরের বাইরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এরপর থেকেই কারাগারে আছেন চিন্ময়। গত ২ জানুয়ারি চিন্ময় দাসের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন চট্টগ্রামের মহানগর দায়রা জজ আদালত। এরপর হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন চিন্ময় দাস।




দুমকিতে চাঁদা না দেয়ায় ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

পটুয়াখালীর দুমকিতে ড্রেজার ব্যবসায়ীর প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য এক টাকা চাঁদা না দেয়ায় দুই ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছাত্রদলের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের কার্ত্তিকপাশা বুদ্ধিজীবীর মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

চাঁদাবাজির অভিযোগ

স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা নেছার মাহমুদ এর নেতৃত্বে একটি চক্র ৫ আগস্টের পর থেকে লেবুখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল এবং চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠে। সোমবার সকালে, লেবুখালী ইউনিয়নের কার্ত্তিকপাশা বুদ্ধিজীবী মোড় এলাকায় ইদ্রিস শিকদারের জমিতে ড্রেজার দিয়ে বালু ফেলতে গেলে ছাত্রদল নেতা নেছার উদ্দিন, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা নেছার উদ্দিন ও যুবদল নেতা মহসিনসহ সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রতি ঘনফুটে ১ টাকা করে চাঁদা দাবি করে।

পিটিয়ে আহত ও পাইপলাইন ভাঙচুর

দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় মো: কবির হোসেন (৩৫) ও মো: আবুল হোসেন (৩০) নামের দুই ড্রেজার শ্রমিককে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে চক্রটি। এসময় ড্রেজারের পাইপলাইনও ভেঙে ও উপড়ে ফেলা হয়। আহতদের ডাকচিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার

চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা নেছার উদ্দিন বলেন, “চাঁদা চাওয়ার অভিযোগ সত্য নয়, আমরা রাস্তার ওপর দিয়ে পাইপলাইন বসাতে বাধা দিয়েছি। বালু ব্যবসায়ীরা রাস্তার ওপর উঁচু করে পাইপলাইন দেয়ায় মোটরসাইকেলসহ যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটে।”

পুলিশের অবস্থান

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি শুনেছি এবং সঙ্গে সঙ্গে একজন এসআইকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যুদ্ধ-সতর্কতার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এ বছরটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা বা অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নিরাপত্তা প্রধানদের সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা এ নির্দেশনা দেন। সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি এবং পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ডিএমপি, কোস্ট গার্ড ও বিশেষ শাখার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। আমাদের অবশ্যই একটি কমান্ড সেন্টার বা কমান্ড সদরদপ্তর স্থাপন করতে হবে, যা পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে।”

তিনি আরও বলেন, নতুন কমান্ড কাঠামো দক্ষতা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দেশের সব বাহিনী ও থানা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করবে।

প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মতো আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে। এই বছরটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাউকে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে এবং মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

দেশবাসীকে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সবাইকে এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”

প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধানদের মানবাধিকার সুরক্ষার নির্দেশ দেন এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “যদি আমরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে না পারি, তাহলে বিশ্ব পরিমণ্ডলে আমাদের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বিষয়ে আমাদের সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হতে হবে।”

পুলিশকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এমনভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে যাতে পবিত্র রমজান মাসে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা যায়।

পুলিশ প্রধান বাহারুল আলম জানান, শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলা পর্যবেক্ষণের জন্য ১০টি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা পুলিশকে এই মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেন।

পুলিশ মহাপরিদর্শক জানান, বাংলাদেশ ইন্টারপোলের কাছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ পাঠিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা অনুরোধ করেছি। আশা করি শিগগিরই সাড়া পাব।”

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানান, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে রাজধানীতে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা কমেছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুমের ঘটনায় শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা, এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছে, গুমের ঘটনাগুলো তদারকির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন।

এইচআরডব্লিউ-এর প্রতিবেদন ও অভিযোগ

সংস্থাটির ‘আফটার দ্য মনসুন রেভ্যুলিউশন: এ রোডম্যাপ টু লাস্টিং সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক ৫০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, এবং পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা গুমের ঘটনা তদারকির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় কমিশনের প্রথম প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ৩,৫০০-এর বেশি জোরপূর্বক গুমের ঘটনা ঘটেছে।

গোপন আটক কেন্দ্র ও নির্যাতনের বিবরণ

প্রতিবেদনে বলা হয়, গুম হওয়া ব্যক্তিদের গোপন আটক কেন্দ্রে আটক রাখা হতো, যা বন্দীদের জন্য “মৃত্যুর চেয়েও ভয়ংকর” অভিজ্ঞতা তৈরি করত। আইনজীবী মীর আহমাদ বিন কাসেম বলেছেন, যেখানে তাকে রাখা হয়েছিল সেটি পরিকল্পিতভাবে নির্মিত নির্যাতন কেন্দ্র ছিল।

এইচআরডব্লিউ দাবি করেছে, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর গোপন আটক কেন্দ্র থেকে তিনজনকে মুক্তি দেওয়া হয়, যাদের বিষয়ে সরকার বছরের পর বছর ধরে আটক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল।

র‍্যাব ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও গুমের জন্য দায়ী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ভেঙে দেওয়া উচিত। জাতীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারকে এই বাহিনী বিলুপ্ত করার পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, র‍্যাব প্রধান এ কে এম শহীদুর রহমান স্বীকার করেছেন যে, বাহিনীর গোপন আটক কেন্দ্র রয়েছে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাইলে র‍্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত মেনে নেবে।

মানবাধিকার সংস্থার সুপারিশ

এইচআরডব্লিউ বলেছে, বিভেদমূলক রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যেও ঢুকে গেছে। তাই স্বাধীন বেসামরিক তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সংস্থাটি আরও বলেছে, আটকের স্থানগুলোতে স্বাধীন পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কেউ আইন লঙ্ঘন করলে তাকে দায়ী করা হবে—এমন নীতিমালা তৈরি করা উচিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের দ্রুত তদন্ত নির্দেশ

সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে কুমিল্লায় যুবদল নেতা মো. তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আজ (১ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বিবৃতিতে সরকারের এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে কোনো ধরনের নির্যাতন ও হত্যার কঠোর নিন্দা জানায়। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের শীর্ষ মানবাধিকার কর্মীরা সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নিরাপত্তা বাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কুমিল্লায় গতকাল গভীর রাতে আহত অবস্থায় তৌহিদুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার ভোরে তার বাড়ি থেকে আটক করার পর তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হন।

তৌহিদুল ইসলামের মৃত্যুর বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং এই ঘটনায় দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া সংস্কারের জন্য সরকার ইতোমধ্যে একাধিক কমিশন গঠন করেছে। এসব কমিশনের বেশিরভাগই তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সরকার পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ, অপরাধ ব্যবস্থাপনা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমস্ত সুযোগ নির্মূল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ করবে। এই সংস্কার কর্মসূচি কার্যকর করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে প্রেস উইং জানায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় প্রয়োজন পৃথক প্রসিকিউশন ও কোর্ট সচিবালয় : প্রধান বিচারপতি

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি স্বতন্ত্র প্রসিকিউশন সার্ভিস গঠন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

রাজশাহীর গ্রান্ড রিভার ভিউ হোটেলে আয়োজিত ‘জুডিশিয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স অ্যান্ড এফিসিয়েন্সি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান বিচারপতি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউনাইটেড ন্যাশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচার বিভাগে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ও স্বচ্ছতা আনতে হলে স্বাধীন প্রসিকিউশন ব্যবস্থা অপরিহার্য। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা হলে বিচার বিভাগের নীতি নির্ধারণ, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বিচারকদের বদলি-প্রশাসনে স্বচ্ছতা আসবে।

সেমিনারে প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ তুলে ধরে বলেন, উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের নতুন অধ্যাদেশ, প্রসিকিউটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিচারকদের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “দুর্বল তদন্ত ও অপেশাদার প্রসিকিউশন ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা। এজন্য প্রসিকিউটরদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।”

প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, বিচার বিভাগকে কার্যকর ও স্বাধীন করতে হলে পৃথক সচিবালয় অপরিহার্য। সরকারের কাছে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং এটি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই সচিবালয় গঠিত হলে বাজেট বরাদ্দ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিচারকদের নিয়োগ-প্রশাসন আরও স্বচ্ছ হবে।

সেমিনারে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, প্রধান বিচারপতির ঘোষিত বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সেমিনারে অংশ নেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্রলীগ নেতা শোভন আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ছাত্রলীগ নেতা সালমান ফারসি শোভনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) জীব ও ভূ-বিজ্ঞান অনুষদ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচটায় পাবনার সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠ থেকে পাবনা সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানায়, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব চলছিল। শোভন বিকেলে বাইক নিয়ে এডওয়ার্ড কলেজে ঘুরতে যান। এ সময় কিছু ছেলে তাকে চিনতে পেরে আটক করে। তারা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পাবনা সদর থানায় ফোন দিয়ে জানায় নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে শিক্ষার্থীরা আটক করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে ওই ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করেন।

থানায় ছাত্রলীগ নেতা শোভনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেলে তিনি সরকারি এডওয়ার্ড কলেজে বাইক নিয়ে ঘুরতে যান৷ এ সময় শিবিরের এক নেতা তাকে ডাক দিয়ে কথা বলেন। কথা বলার সময় পেছন থেকে ১৫-২০ জন ছেলে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর পুলিশ ডেকে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় তারা।

এ বিষয়ে পাবনা শহর শিবিরের সভাপতি ফিরোজ হোসেন বলেন, এডওয়ার্ড কলেজে আমাদের প্রকাশনা উৎসব চলছিল। এ সময় মাঠে আমরা ঝামেলা দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাই। এরপর পুলিশ এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিবিরের কেউ জড়িত নয়। আমাদের প্রোগ্রামের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সেজন্য পুলিশকে ফোন দেওয়া হয়। তার ফোন ও বাইক কে নিয়ে গেছে সে বিষয়েও আমরা কিছু বলতে পারব না।




বাউফল ব্যবসায়ী অপহৃত এর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকার ৭৬ বছরের ব্যবসায়ী শিবানন্দ রায় বণিক (শিবু বণিক) অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটিও জব্দ করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ একটি দল শুক্রবার ঢাকা, গাজীপুর এবং বাউফল জেলার চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে।

আবদুল্লাহ আল নোমান (২২), বাউফল উপজেলার বড়ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা এবং অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী,

মো. কাওছার হোসেন (২৩), চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা,

মো. বেল্লাল হোসেন (২৫), মতলেব হাওলাদারের ছেলে।

অপহরণের ঘটনা:
৩ জানুয়ারি রাত সোয়া ১০টার দিকে, শিবু বণিকের দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে ৯ সদস্যের একটি ডাকাত দল ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট করে এবং ব্যবসায়ী শিবু বণিককে ট্রলারে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার:
অপহরণের দুই দিন পর ৫ জানুয়ারি রাতে বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ কচুয়া গ্রাম থেকে শিবু বণিককে উদ্ধার করে। একই সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে ৫টি দেশি অস্ত্র, ৭টি মুঠোফোন, ২ জোড়া জুতা এবং দেড় লাখ টাকা লুটের টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার মাসুদ শরীফ (২৪),

বাউফলের মিরাজ মৃধা (২০),

মো. জহির (২৭),

বিধান চন্দ্র মিস্ত্রি (২২),

ভোলার চর পাচুকিয়ার এক কিশোর।

পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অপহরণ ও ডাকাতি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। স্বল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পরিকল্পিতভাবে তারা শিবু বণিককে অপহরণ এবং দোকানে ডাকাতি করেছিলেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৯ সদস্যের ডাকাত দলের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিগগিরই বাকী আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৫ দিনের রিমান্ডে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ

রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দেবী রানী রায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলেও বিচারক শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে, গতকাল (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ ডাক অফিসের গলিতে তার বোনের বাসা থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান।

উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দফায় প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে লালমনিরহাটে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাঙ্গাবালীতে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা দুই লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সোনারচর, কলাগাছিয়া চর, চর আন্ডা, চর তপসি, তেতুলিয়া নদী, বুড়াগৌরঙ্গ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

অভিযানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের নির্দেশনায় মৎস্য বিভাগ ও রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় জনসম্মুখে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন

রাঙ্গাবালী উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন রাজু

রাঙ্গাবালী থানা এএসআই বিধান

অফিস সহকারী মো. নেছার উদ্দিন

এসএম জাহিদুল ইসলাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ জাল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম