দুমকীতে মাদকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা এখন মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের অবাধ কেনাবেচায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকের কবলে পড়ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তারা নানা অপকর্মেও জড়িয়ে পড়ছে।

মাদকের বিস্তার ও প্রশাসনের শৈথিল্য

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে মাদক ব্যবসা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক কারবারিদের আটক করলেও তারা সহজেই জামিনে বেরিয়ে এসে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে দুমকী এখন অবৈধ মাদকের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।

যেসব এলাকায় মাদকের বিস্তার বেশি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। এর মধ্যে মুরাদিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজার, তালতলি বাজার, রাজাখালী বাজার, উত্তর শ্রীরামপুর, দুমকী থানা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে, লাল খাঁ ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক, আংগারিয়া বাজার, কদমতলা বাজার, লেবুখালি, পাংগাশিয়া ইউনিয়ন এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের অবাধ বেচাকেনা চলছে। এসব স্থানে কিশোর, তরুণ এবং মধ্যবয়সীরা মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়ার শঙ্কা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক জানান, মাদক সহজলভ্য হওয়ায় নতুন নতুন কিশোর-তরুণরা এতে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ শুধু সেবন করেই থেমে থাকছে না, মাদক কারবারিতেও যুক্ত হচ্ছে। ফলে সমাজ ও পরিবারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।” নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যেকোনো মূল্যে এটি নির্মূল করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অপারেশন ডেভিল হান্টে ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানী আটক

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নাটোরের সিংড়া থেকে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা গোলাম রাব্বানী রনি গ্রেপ্তার হয়েছেন অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে। তিনি সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

১২ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বিকালে সিংড়ায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিংড়া থানার ওসি আসমাউল হক এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রার্থী দাউদার মাহমুদের গণসংযোগে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ছিল।

গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এতে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৪ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোলাম রাব্বানী রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।




পটুয়াখালীতে আইনজীবীদের জামিন পেলেন ১১ জন

পটুয়াখালীতে আইনজীবী সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে করা মামলায় বিএনপিপন্থী ১১ আইনজীবী জামিন পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে তাঁরা জামিনের আবেদন করলে বিচারক মো. আশিকুর রহমান আপসের শর্তে তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ ও মামলা

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. রুহুল আমিন সিকদার। তিনি পটুয়াখালী ল ইয়ার্স কাউন্সিলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জামায়াত আইনজীবী ফোরামের সদস্য।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১১ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদানের সময় জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা সমিতির কার্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের আইনজীবীরা তাঁদের বাধা দেন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে, যেখানে বেশ কয়েকজন আহত হন। বাদীসহ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামিনপ্রাপ্তদের তালিকা

আদালত থেকে জামিন পাওয়া বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা হলেন—
১. শরীফ মো. সালাহউদ্দিন (৫০)
2. মো. মাহবুবুর রহমান সুজন (৩৯)
3. মো. মিজানুর রহমান (৪৮)
4. এস এম তৌফিক হোসেন (৪১)
5. মো. আরিফ হোসেন (৪৫)
6. মো. সাহাবুদ্দিন (৪৪)
7. মো. আরিফুর রহমান (৪৪)
8. মো. নাজমুল আহসান (৪৮)
9. মো. মজিবুল হক বিশ্বাস রানা (৪২)
10. মো. আবু জাফর খান (৫০)
11. মো. ইমরান হোসেন (৪০)

এছাড়া মামলায় আরও ৩৫-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

মামলার বাদী রুহুল আমিন জানান, তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেও শারীরিকভাবে সুস্থ নন। এ বিষয়ে দলীয় নেতারা অবগত আছেন।

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও অতিরিক্ত পিপি এ টি এম মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দুঃখজনক। আইনজীবীদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়া অতি উৎসাহী সিদ্ধান্ত। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা উচিত।”

এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট, আওয়ামী লীগ কর্মী গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানে আওয়ামী লীগ কর্মী আসাদুজ্জামান রাশেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসাদুজ্জামান রাশেদ রাঙ্গাবালীর ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের নয়াভাংগুনি গ্রামের আব্দুল বারেক চৌকিদারের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারৎ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযানের অংশ হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও দখলবাজি সংক্রান্ত একটি মামলায় রাশেদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাঙ্গাবালী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় ১৬৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল, যেখানে রাশেদ অজ্ঞাতনামা আসামি ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা হতে পারে, নাগরিকদের সতর্ক করলো যুক্তরাজ্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটি বাংলাদেশে অবস্থানরত ও আগত ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের মতে, বাংলাদেশে ব্রিটিশ নাগরিক ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যেখানে অনেক তরুণ প্রাণ হারান। সেই অস্থির পরিস্থিতির রেশ এখনও রয়ে গেছে, যা যুক্তরাজ্যকে তাদের নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিতে বাধ্য করেছে। ব্রিটিশ সরকারের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

বিশেষ করে গণপরিবহন ব্যবস্থায় হামলার আশঙ্কা বেশি বলে উল্লেখ করেছে যুক্তরাজ্য। এছাড়া জনসমাগমপূর্ণ এলাকা, ধর্মীয় উপাসনালয়, রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বিদেশীদের উপস্থিতি রয়েছে এমন স্থানগুলোতে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেশি থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে।

এছাড়া অপরাধ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রসঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরগুলোতে অপরাধের মাত্রা বেশি। ব্রিটিশ নাগরিকদের মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের ব্যাপারে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের ফলে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা কমে গিয়েছিল। তবে গত জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে হামলার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

যুক্তরাজ্যের কাউন্টার টেরোরিজম পুলিশ নিরাপত্তা বিশ্লেষণ করে নাগরিকদের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী হামলার পরিস্থিতিতে কী করণীয় তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কারণ যুক্তরাজ্যের এই সতর্কতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে




পটুয়াখালীতে সরকারি কম্বল ও ক্রীড়াসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে মামলা

পটুয়াখালীতে সরকারি কম্বল ও ক্রীড়াসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কানিজ সুলতানা হেলেন ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রিফাত কবির খান বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজ হোসেন তালুকদার ও পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহিন হোসেন তালুকদার। উল্লেখ্য, হেলেন পটুয়াখালী জেলা মহিলা লীগের সভাপতি।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা সরকারি ২,২০০ কম্বল ও ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ না করে নিজেদের বাসায় মজুত রাখেন।

বিষয়টি জানার পর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চন্দন কর ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা অভিযুক্তদের বাসায় যান, তবে সেখানে কম্বল ও ক্রীড়াসামগ্রী পাওয়া যায়নি। পরে খবর আসে, পৌরসভার ডাম্পিং জোনসংলগ্ন ছাইচ্চার খালের পাশে কিছু সামগ্রী ফেলে রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ২৫টি কম্বল, তিন জোড়া ক্রিকেট প্যাড ও দুটি হেলমেট জব্দ করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ বলেন, “বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক সহকারী কমিশনার রাজন কুমারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ




‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বহুল আলোচিত আয়নাঘর পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আয়নাঘর নামে খ্যাত ঢাকার তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা; যেগুলো পূর্বে নির্যাতন কক্ষ এবং গোপন কারাগার হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

আজ (বুধবার) প্রধান উপদেষ্টার উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি আয়নাঘর পরিদর্শন করতে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। সেদিন গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টাকে গুমের ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরেন কমিশনের সদস্যরা।

পোস্টের সঙ্গে আসিফ মাহমুদ সজীবের একটি ও আয়নাঘরের দুটি ছবিও জুড়ে দেন তিনি।

সুচিস্মিতা তিথি আরেক পোস্টে লেখেন, গত জুলাইয়ে সাদা পোশাকে তুলে নেওয়ার পর ডিজিএফআইয়ের এই টর্চারসেলে রাখা হয়েছিল নাহিদ ইসলামকে। আজ সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে কক্ষটি আইডেন্টিফাই করেন নাহিদ। এই কক্ষের একপাশে টয়লেট হিসেবে একটি বেসিনের মতো ছিল বলে জানান তিনি। ৫ আগস্টের পর এই সেলগুলোর মাঝের দেওয়াল ভেঙে ফেলা হয়, দেওয়াল রঙ করা হয়।

এই পোস্টের সঙ্গেও নাহিদ ইসলামের একটি ছবি ও আয়নাঘরের কিছু ছবি দেন তিনি।




ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে জুলাই অভ্যুত্থানে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে সাবেক সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নৃশংসতা চালিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাবেক সরকারের নৃশংসতা নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে হাইকমিশনার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই নৃশংস প্রতিক্রিয়া ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত কৌশল, যা জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল। বিক্ষোভ দমন করার কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে, তাদের সমন্বয় ও নির্দেশনায় শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ব্যাপক নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে।’

ভলকার তুর্ক বলেন, আমরা যে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেছি তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধও গঠন করতে পারে। জাতীয় নিরাময় এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য দায়বদ্ধতা এবং ন্যায়বিচার অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের অনুরোধে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় সেপ্টেম্বর মাসে একটি দল প্রেরণ করে, যার মধ্যে মানবাধিকার অনুসন্ধানকারী, একজন ফরেনসিক চিকিৎসক এবং একজন অস্ত্র বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাতে মরণঘাতী ঘটনাগুলোর বিষয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তথ্য অনুসন্ধান পরিচালনা করা হয়।

হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের জন্য এগিয়ে যাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো একটি বিস্তারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সময়ে সংঘটিত ভয়াবহ অন্যায়গুলোর সত্য উন্মোচন, নিরাময় এবং জবাবদিহিতার মুখোমুখি হওয়া, এবং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতার প্রতিকার করা এবং এর পুনরাবৃত্তি যাতে আর কখনও না ঘটতে পারে তা নিশ্চিত করা।

‘আমার কার্যালয় এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় জবাবদিহিতা এবং সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে,’ বলেও উল্লেখ করেন ভলকার তুর্ক।




পটুয়াখালীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফির গ্রামের বাড়ি দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে। মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ অভিযোগ করেন।

স্ট্যাটাসে কাফি লেখেন, “মধ্যরাতে আমার বাড়ির ঘর, রান্না-ঘর সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দিয়েছে। কোন দেশের জন্য, কাদের জন্য কথা বলছিলাম? যুদ্ধ করেছিলাম এবং করছি। কিন্তু নিরাপত্তা পাইনি।”

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, “রাত সোয়া ২টার দিকে আমাদের মোবাইলে কল আসে নুরুজ্জামান কাফির বাসায় আগুন লেগেছে। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। তবে ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়াতে দেইনি। কেউ হতাহত হয়নি।”

২০১৯ সাল থেকে কনটেন্ট তৈরি শুরু করেন কাফি। বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় ভিডিও বানিয়ে দেশের বিভিন্ন সমস্যা, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ জানান তিনি।

সম্প্রতি বইমেলায় তার লেখা বই প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এক ভিডিওতে এ প্রসঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করে কাফি বলেন, “আমার সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে। যেকোনো কিছু নিয়ে সমালোচনা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “একটি নাটকের ক্লিপ থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। বইমেলায় বান্ধবীর হাত ধরা নিয়েও বিতর্ক করা হচ্ছে। আমি ভুল বুঝতে পেরে সরিও বলেছি।”

এ ঘটনার পরপরই তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম