আহতদের দেখতে গিয়ে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি চলছে l
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, পতনের কিছু দিন আগে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেখতে গিয়ে চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’ নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার প্রমাণ প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার শুনানি শেষে রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন অফিসের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানান তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতালে যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে চিকিৎসারত আহত রোগী ও তাদের স্বজনরা আমাদের জানিয়েছিলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার আগে একবার হাসপাতাল পরিদর্শন করতে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে বলেছিলেন, ‘নো ট্রিটমেন্ট, নো রিলিজ’। অর্থাৎ কর্তব্যরত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের কোনও চিকিৎসা না দিতে এবং কাউকে এখান থেকে বাইরে না যেতে দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।’

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘রোগীদের পাশাপাশি এই নির্দেশাবলির কথা সেখানকার ডাক্তাররাও আমাদেরকে জানিয়েছেন। এর তথ্য প্রমাণাদি আমাদের হাতে আছে, আমরা সেটাই আজ আদালতকে জানিয়েছি।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আমাদের সেসব সন্তানরা শহীদ হয়েছেন, তাদের মৃতদেহ প্রশাসনের নির্দেশে সুরতহাল করতে দেওয়া হয়নি, কাউকে কাউকে ডেথ সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়নি। এমনকি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে যাওয়ার পর যারা সেখানেই শহীদ হয়েছেন, তাদের ডেথ সার্টিফিকেটে গুলিতে মারা গেছে— এই কথাটিও লিখতে দেওয়া হয়নি। শ্বাসকষ্ট কিংবা জ্বরে মারা গেছে এ ধরনের কথা লিখতে বাধ্য করা হয়েছে। আন্দোলনে শহীদের লাশ দাফন করতে যাচ্ছে জানতে পারলে রাস্তায় পুলিশ তাদের পরিবারের ওপর হামলা-আক্রমণ করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আদালত আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, শহীদদের সুরতহাল প্রতিবেদন বা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য এবং কেন সেগুলো নেই। আমরা আদালতকে জানিয়েছি যে, সেই মুহূর্তে মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দ্রুত শহীদদের লাশ দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে। তাই এ কারণে তাদের কোনও পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি কোনও স্বাভাবিক বিষয় নয় বরং তা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি জাজ্বল্যমান প্রমাণ। এটিই প্রমাণ করে কী ধরনের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে জুলাই-আগস্টে হত্যাকাণ্ডগুলো চালানো হয়েছিল।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন নির্মমতার প্রমাণগুলো যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই ও ফরেনসিক করার পর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী মামলার প্রমাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে আদালতের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।




বাউফলে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ২

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ মো. বেল্লাল হোসেন (২১) ও ফয়সাল (১৮) নামে দুই যুবককে আটক করেছে। আটক বেল্লাল ওই ওয়ার্ডের মোতালেব মিয়ার ছেলে এবং ফয়সাল আকবার কাজীর ছেলে। জানা গেছে, বেল্লাল সম্প্রতি আলোচিত ব্যবসায়ী শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

শনিবার রাতে বেল্লাল ও ফয়সাল ভুক্তভোগীর ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করে। পরিবারের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা তা উপেক্ষা করে ভুক্তভোগীকে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে যায় এবং সেখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, “মেয়েকে মুখে গামছা দিয়ে হাত-পা বেঁধে তুলে নিয়ে গেছে। আমরা এই নৃশংস ঘটনার বিচার চাই।”

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার মো. বশার মৃধা বলেন, “বেল্লাল একজন কুখ্যাত অপরাধী। তিনি শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলার আসামি এবং সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ জানান, “শনিবার রাত ৩টার দিকে ভুক্তভোগীর পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “এ ঘটনায় মো. বেল্লাল হোসেন ও ফয়সালকে আটক করা হয়েছে। বেল্লাল আগে থেকেই শিবু বণিক অপহরণ ও ডাকাতি মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পুলিশ জনগণের, কোনো দলের নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ—এমনটাই জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট দল, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের জন্য নয়, এটি সব নাগরিকের। পুলিশও সেই নীতিতে বিশ্বাসী।”

রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজশাহীর সারদা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের (শিক্ষানবিস) প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সমাপনী কুচকাওয়াজে ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৩ জন এবং ৪০তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৫৭ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “পুলিশ কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে না, বরং তারা জনগণের স্বার্থে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে।” রাষ্ট্রের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আজ আপনাদের এক বছরব্যাপী মৌলিক প্রশিক্ষণের শেষ দিন। এখন থেকে আপনারা মেধাবী, চৌকস ও সুপ্রশিক্ষিত পুলিশ অফিসার হিসেবে মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তায় আপনারা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তার সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম ও বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) মো. মাসুদুর রহমান ভূঞা।

নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণ থানায় এসে যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। পুলিশ বাহিনীর গৌরব ধরে রাখতে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে। ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে আইনের ভিত্তিতে সকলকে সেবা দিতে পুলিশকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অনুষ্ঠানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং নবীন কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাসে ডাকাতির সময় কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি : পুলিশ সুপার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতির সময় কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, নারীদের কাছ থেকে কিছু স্বর্ণ-রূপা লুণ্ঠিত হয়েছে। দুষ্কৃতকারী ডাকাত দল নাকফুল কানের দুল নেওয়ার সময় নারীদের টাচে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেনি এটা আমরা জানতে পেরেছি। শ্লীলতাহানি বলা যেতে পরে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এসব কথা জানান।

তিনি বলেন, ডাকাতি ও নারী যাত্রীদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কর্তব্যে অবহেলার দায়ে মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার আতিকুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. শহিদুল ইসলাম (২৯), মো. সবুজ (৩০) ও মো. শরীফুজ্জামান (২৮)।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাভাবের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল, একটি ছুরি ও ২৯ হাজার ৩৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়। মামলা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সোর্স ব্যবহার করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী বাসে মির্জাপুর এলাকায় তিন ঘণ্টা ধরে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শ্লীলতাহানি করা হয় দুই নারীকে। পরে যাত্রীরা বাসটি আটকে নাটোরের বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের সহায়তা চায়। বাসযাত্রীদের হাতে আটক বাসচালক বাবলু, সুপারভাইজার মাহবুব ও হেলপার সুমনকে বড়াইগ্রাম থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাদেরকে ৫৪ ধারায় আদালতে তোলা হলে তারা জামিনে মুক্তি পান। বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘটনায় বাসের যাত্রী ওমর আলী বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন।




বাউফলে বিশেষ অভিযানে সাবেক কাউন্সিলর ও ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সাবেক পৌর কাউন্সিলর, ইউপি সদস্য ও এক ছাত্র সংগঠনের সাবেক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা বেল্লাল হোসেন, কালাইয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ফকরুল ইসলাম ফোরকান এবং সূর্যমনি ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড ছাত্র সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি ইমরান ব্যাপারী।

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২২ সালে বাউফল সদর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক সভায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলা করেন। তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

এদিকে, সাবেক চিফ হুইপ ও সাবেক সংসদ সদস্য (পটুয়াখালী-২) আ স ম ফিরোজ ভাটারা থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলে তাকেও এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মামলার প্রধান আসামি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “এই বিশেষ অভিযানের আওতায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাবেক গভর্নর আতিউর ও অর্থনীতিবিদ বারাকাতসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা




লেবুখালীতে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর দুমকি থানার পুলিশ বিশেষ অভিযানে লেবুখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমানকে (২৬) আটক করেছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টায় অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় লেবুখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক মো. আরিফুর রহমান উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কার্তিক পাশা গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. হারুন মোল্লা।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, উপজেলা বিএনপির অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আজ (বৃহস্পতিবার) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজির ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চাচার বিরুদ্ধে ভাতিজিকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রিয়া মনি (২০) গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। রিয়া মনি এক শিশু সন্তানের জননী। এ ঘটনা জানাজানি হলে তার স্বামী এখন স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। গত (৩০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটলেও সম্প্রীতি বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ডের গাববুনিয়া গ্রামের বাবার বাড়িতে চাচা মো. নাসির মোল্লা (৪৫) ও প্রতিবেশী যতীন্দ্র শীল (৫০) ভুক্তভোগী রিয়া মনিকে ঘরে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় রিয়া মনি বাধা দিলে অভিযুক্তরা তার হাত, পা, মুখ চেপে ধরে এবং পরিধেয় জামা কাপড় ছিড়ে ফেলে। তার সাথে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা করেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে। এসময় শিশু সন্তানের চিৎকার শুনে স্বজনরা ছুটে এলে অভিযুক্তরা ঘরের দরজা ভেঙে পালিয়ে যান।

এই বিষয়ে ভুক্তভোগী বলেন, অভিযুক্ত নাসির মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনার দিন ঘরের খাটে শিশু সন্তানকে দুগ্ধ পান করার সময় ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে নাসির মোল্লা ও যতীন্দ্র শীল দরজা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে,জোরপূর্বক ধর্ষণ চেষ্টা করে। ঘটনার পরে অভিযুক্ত নাসির মোল্লা ও তার সহযোগীরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। এছাড়া স্থানীয়ভাবে সালিশ মিমাংসা করার কথা বলে বিষয়টি এতদিন ধামাচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সালিশ মিমাংসা না করে কালক্ষেপণ করছে।

দাদি পিয়ারা বেগম বলেন, আমরা নাসির ও যতীন্দ্র শীলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এই ঘটনার পর নাতনির সংসারে অশান্তির ঝড় উঠেছে। সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না।

অভিযুক্ত নাসির মোল্লা বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিস বসার কথা স্বীকার করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি সমাধান হয়নি। অপর অভিযুক্ত যতীন্দ্র শীলের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, ঘটনার পর তিনি অন্যত্র চলে গেছেন।

ইউপি সদস্য হাফিজুর রহমান বলেন, স্থানীয়ভাবে সালিস হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু নাসির মোল্লা প্রথমে মানলেও পরে সালিসে উপস্থিত হয়নি।

অভিযোগের পর সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলতাফ হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছি। বিষয়টি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সত্যতা পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কুয়েটে নিষিদ্ধই থাকছে রাজনীতি, ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) নিষিদ্ধই থাকছে রাজনীতি। একইসঙ্গে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করতে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনসহ পাঁচটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৯৮তম (জরুরি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ও প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা স্বাক্ষরিত সিন্ডিকেট সভার কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।




নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৮ জন খালাস

নাইকোর সঙ্গে ‘অস্বচ্ছ’ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে করা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায় ও প্রক্রিয়া

খালেদা জিয়ার পক্ষে তার আইনজীবী মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন জিয়া আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে ছিলেন—

  • বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন,
  • জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহিদুল ইসলাম,
  • ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া,
  • সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সিএম ইউসুফ হোসেন,
  • সাবেক মুখ্যসচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী,
  • বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক,
  • নাইকো রিসোর্সেস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এদিন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম।

আদালত রায়ে উল্লেখ করেন, এ মামলার এক আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থাকলেও তা স্বেচ্ছাপ্রণোদিত ছিল না। দুদক আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় আদালত সবাইকে খালাস প্রদান করেছেন।

মামলার পটভূমি

২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর রাজধানীর তেজগাঁও থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৫ মে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ একই আদালত খালেদা জিয়াসহ ৮ আসামির অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে চার্জ গঠন করেন।

আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম রায়ের বিষয়ে বলেন, “আদালত এই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সব আসামিকেই খালাস দিয়েছেন। দুদক অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারায় এ রায় এসেছে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম