আলীপুর মৎস্য বন্দরে ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর মৎস্য বন্দরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার শেষ বিকেলে আকস্মিক এ হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল বেপারি (৩০)। শান্ত পরিবেশের মধ্যে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেল ৫টার দিকে কামাল বেপারি ফেরিঘাটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তারা এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন—ঘটনার আগে কোনো বিরোধ, বাকবিতণ্ডা কিংবা উত্তেজনা—কিছুই ছিল না। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে দোকানে বসা কেউ প্রতিরোধ করার সুযোগও পাননি। তাদের দাবি, হামলাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।
হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তুলাতুলি ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথা, দেহ ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
আহত কামাল বেপারি জানান, তিনি নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় আবু জাফর, হানিফ, রাসেলসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তিনি ধারণা করছেন, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির প্ররোচনায় এই আক্রমণ হতে পারে। তিনি আলীপুর মৎস্য বন্দরে ‘কামাল ফিস’ নামের ব্যবসার মালিক হিসেবেও পরিচিত।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
কলাপাড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পলি সাহা জানান, আহত কামালকে প্রথমে সেখানে আনা হলে তার মাথা, শরীর ও পায়ে একাধিক গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ হালদার বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ঘটনার পেছনে কারণ ও হামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী ও জেলেসহ অনেকেই এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম






