আলীপুর মৎস্য বন্দরে ব্যবসায়ীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার আলীপুর মৎস্য বন্দরের পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় এক মৎস্য ব্যবসায়ীর ওপর ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার শেষ বিকেলে আকস্মিক এ হামলায় গুরুতর আহত হন স্থানীয় ব্যবসায়ী কামাল বেপারি (৩০)। শান্ত পরিবেশের মধ্যে এমন অপ্রত্যাশিত হামলায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত সকলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বিকেল ৫টার দিকে কামাল বেপারি ফেরিঘাটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসে নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। ঠিক সেই সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী দলবদ্ধভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে তারা এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছেন—ঘটনার আগে কোনো বিরোধ, বাকবিতণ্ডা কিংবা উত্তেজনা—কিছুই ছিল না। সবকিছু এত দ্রুত ঘটে যে দোকানে বসা কেউ প্রতিরোধ করার সুযোগও পাননি। তাদের দাবি, হামলাটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে তুলাতুলি ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথা, দেহ ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

আহত কামাল বেপারি জানান, তিনি নিয়মিত মতো চা পান করছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় আবু জাফর, হানিফ, রাসেলসহ কয়েকজন তার ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। তার দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা শত্রুতা নেই। তিনি ধারণা করছেন, কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির প্ররোচনায় এই আক্রমণ হতে পারে। তিনি আলীপুর মৎস্য বন্দরে ‘কামাল ফিস’ নামের ব্যবসার মালিক হিসেবেও পরিচিত।

অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।

কলাপাড়া হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পলি সাহা জানান, আহত কামালকে প্রথমে সেখানে আনা হলে তার মাথা, শরীর ও পায়ে একাধিক গুরুতর আঘাত পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেলে পাঠানো হয়।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ হালদার বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার পেছনে কারণ ও হামলাকারীদের উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। ব্যবসায়ী ও জেলেসহ অনেকেই এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর ইমরান হত্যা: পাঁচ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুরিয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামে নিহত যুবক ইমরানকে ঘিরে দীর্ঘ পাঁচ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মরদেহ উত্তোলনের সময় কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন ইমরানের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের প্রতিনিধি। সেই মুহূর্তে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ইমরানের মা মোসা. সাফিয়া বেগম। হাতে তসবি, ভেজা চোখ আর কাঁপা কণ্ঠে তিনি সন্তানের হত্যার বিচার চাইতে সাংবাদিক ও সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

মা সাফিয়া বেগম বলেন, তার ছেলে ঠিকাদারির ব্যবসায় লোকসানে পড়ায় আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল। মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে প্রতিবেশী কয়েকজন ইমরানকে সেদিন রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। শোকে কাতর মা জানান, টাকার অভাব ও শক্তির অভাব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাতে শৌলা গ্রামের পাশে ইমরানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত ইমরান বুতলবুনিয়া গ্রামের মো. সহিদ সিকদারের ছেলে। হত্যার কয়েক সপ্তাহ পর পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে সোমবার বিকেলে জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পটুয়াখালী মর্গে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের হিরণ আকন, জাকির মৃধা ও শামীম হোসেন মোটরসাইকেল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ইমরানকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং আগের একটি মামলার কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। সে আক্রোশ থেকেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের পরিবারের। নিহতের বাবা সহিদ সিকদার বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি হিরণ, নাজমুল, মোনাসেফসহ সাতজনের বিচার দাবি করেন।

ইমরানের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, মামলার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। বরং উল্টো তাদের বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি প্রলোভন দেখানো হচ্ছে খরচসহ তার বিয়ের ব্যয়ভার বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তিনি মনে করেন, তারা নির্দোষ হলে তদন্তের প্রতি আস্থা রেখে অপেক্ষা করতেন; বরং বারবার চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়া তিনি তদারকি করেন। সুরতহাল পর্যন্ত সবকিছু নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঁচ মাস ধরে চলে আসা হত্যার রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিবার এখন দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মহিপুরে অটোরিকশা ছিনতাই: আন্তঃজেলা চক্রের ৭ সদস্য গ্রেফতার

পটুয়াখালীর মহিপুরে পর্যটক সেজে অটোরিকশা চালককে ছুরিকাঘাত ও বোরাক অটোগাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তঃজেলা ছিনতাইচক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভোররাতের অন্ধকারে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনাটি শুধু স্থানীয় জনমনে আতঙ্কই ছড়ায়নি, বরং দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রমও উন্মোচিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল ও দুমকিসহ বিভিন্ন জেলার ছিনতাইচক্রের সদস্য। গ্রেফতাররা হলেন—মহিপুরের নাসির হাওলাদার, শাহীন হাওলাদার, বরগুনার জাকির হোসেন গাজী, বরিশালের লিটন আকন, পটুয়াখালী সদরের জসিম হাওলাদার, আবুল বাশার ও দুমকীর রাহাত হাওলাদার। তাদের মধ্যে রাহাতের বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধার হয় ছিনতাই করা চারটি বোরাক অটোগাড়ি, যেগুলো বিভিন্ন সময় ছিনতাই করে রাখা হয়েছিল।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৩টায় মহিপুরের লতাচাপলী ইউনিয়নের মম্বিপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ এলাকায় চালক মুছাকে টার্গেট করে চক্রটি। পর্যটকের পরিচয় দিয়ে গাড়ি ভাড়া নেওয়ার পর একাধিক ব্যক্তি মুছার ওপর হামলা চালায়। তাকে প্রচণ্ড মারধর ও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে তারা অটোগাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মুছাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনার পরপরই মহিপুর থানায় পেনাল কোড ৩৯৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখা ও মহিপুর থানা যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কল রেকর্ড ট্রেসিং, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মূল আসামিদের শনাক্ত করা হয়। পরদিনই পটুয়াখালী ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। গ্রেফতার নাসির আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী চালক মুছা জানান, তিনি তার বড় ভাইয়ের অটোগাড়িটি চালান। কুয়াকাটা চৌরাস্তায় অবস্থানকালে পর্যটকের পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তি তার নম্বর সংগ্রহ করে সূর্যোদয় দেখাতে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পরই তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় অটোগাড়ি ছিনতাই করে রং ও গঠন পরিবর্তন করে নতুনভাবে বিক্রি করত। এতে বহু চালক ক্ষতির শিকার হলেও অধিকাংশ ঘটনাই চক্রের সংগঠিত পরিকল্পনার কারণে গোপন থাকত।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, মামলার তদন্ত চলমান আছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযানে রয়েছে এবং এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জয়–পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বহুল আলোচিত এই মামলার বিচারিক অগ্রগতি দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ সকালে মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম। তিনি অভিযোগ করেন, আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত করা, বৈশ্বিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সংকটে ফেলে দেওয়া এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য–প্রমাণ উপস্থাপন করে তিনি ফরমাল চার্জ গ্রহণের আবেদন জানান।

প্রসিকিউশন জানায়, চব্বিশের জুলাই–আগস্টে তীব্র আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন শুধু তথ্যপ্রবাহ থামিয়েই দেয়নি, বরং সেই সময় সংঘটিত সহিংসতা, নিখোঁজ, আহত এবং হতাহতের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রেখে মানবতাবিরোধী অপরাধকে উসকে দিয়েছে। তাদের দাবি—এই সিদ্ধান্তে নীতিনির্ধারণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সরাসরি দায়ী, যা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।

আদালত প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত নথি, সাক্ষ্য এবং প্রাথমিক প্রমাণাদি মূল্যায়ন শেষে অভিযোগ আমলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন। এ সময় বিচারপতির বেঞ্চ উল্লেখ করেন, প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণের জন্য শুনানি অপরিহার্য।

অন্যদিকে, আইনি বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করছেন, এ মামলা দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি নজিরবহুল প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াতে পারে। রাষ্ট্র ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত কীভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে পরিণত হয়—এ মামলার মাধ্যমে তারও স্পষ্টতা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের বিদেশে অবস্থানের কারণে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিষয়টি ইন্টারন্যাশনাল লিগ্যাল সাপোর্ট সিস্টেমে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

মামলার পরবর্তী শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশন ও ডিফেন্সের বিস্তারিত যুক্তি শুনবেন। অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এ মামলা দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের চোখে অন্যতম আলোচিত আইনি ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী টোলপ্লাজায় বড় অভিযান, ট্রাকে মিললো তিন টন জাটকা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার টোল প্লাজা এলাকার প্রবেশমুখে ভোরের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত বিশেষ অভিযান। গোপন সংবাদের সূত্রে জানা যায়—অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জাটকা পরিবহন করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার সকাল ৮টার দিকে সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ট্রাক ভর্তি জাটকা।

পরে ওজন অনুযায়ী হিসাব করে দেখা যায়, জব্দ হওয়া জাটকার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৭০ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এতো বিপুল পরিমাণ মাছ একটি ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছিল রাজধানীমুখী রুটে। জাটকা পরিবহনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন চেষ্টা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে ট্রাকটি থামতেই চালক ও হেল্পার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি শুরু হলে ধরা পড়ে অবৈধ জাটকার পুরো চালান। নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হলেও ট্রাকটি সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাটকার মতো অমূল্য সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেন, পাচারকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। দেশের সমুদ্র ও নদী এলাকায় জাটকা রক্ষা অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে, নয়তো ইলিশের উৎপাদন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী উপজেলার এতিমখানা, সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন অভিযান নিয়মিত চলবে, এবং জাটকা পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে কুখ্যাত ভূমিদস্যু ফয়সাল পঞ্চায়েত আটক

পটুয়াখালীর বাউফলে দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখল ও নানা অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত-সমালোচিত মো. ফয়সাল পঞ্চায়েতকে (৪৫) আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার দিকে পটুয়াখালী ডিসি অফিসের ক্যান্টিন এলাকা থেকে ডিবি পুলিশের এএসআই রুবেল তাকে আটক করেন। আটক ফয়সালের বাড়ি কালাইয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে, বাবা ইউনুস মিয়া।

স্থানীয়দের দাবি, ফয়সাল পঞ্চায়েত দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চর এলাকায় ভূমি দখলের সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় তিনি একজন কুখ্যাত ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে থাকলেও পরে স্থানীয় বিএনপির কয়েক নেতার আশ্রয় নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে—তাদের হয়ে কৃষকদের বন্দোবস্তকৃত জমি জোরপূর্বক দখল করে একরপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করতেন তিনি। এসব কাজে সাবেক ইউএনও আমিনুল ইসলামও আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কালাইয়া, নাজিরপুর ও কেশবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ফয়সাল পঞ্চায়েতের নেতৃত্বে জমি দখলের ঘটনায় কৃষকরা বহুবার মানববন্ধন করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল তাকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে—বাউফল থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা ফোনে আরেক কর্মকর্তাকে তাকে ‘বিএনপি নেতা’ পরিচয় দিয়ে ছাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধও করেছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে এই অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হলে বহু কৃষক তাদের ন্যায্য জমি ফিরে পাবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুলনায় আদালত ফটকে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা আদালত এলাকায় দিনের আলোতেই সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ দু’টি হত্যাকাণ্ড। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত দুইজনই সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। তাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ফজলে রাব্বি রাজন এবং হাসিব। তারা সেদিন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সামনেও শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি যে নিছক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা পরিষ্কার। হামলাকারীদের ধরতে এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আদালত চত্বরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই আদালত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরোনো দ্বন্দ্ব কিংবা মামলাজনিত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আদালত ফটকের মতো নিরাপদ মেনে নেওয়া স্থানেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অটোরিকশা চালক হত্যা: মূল আসামি ইব্রাহিম তালুকদার গ্রেফতার

পটুয়াখালী সদর থানার আলোচিত অটোরিকশাচালক মোসারফ হোসেন হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ইব্রাহিম তালুকদারকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এ আসামিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি এলাকা থেকে একটি বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়। ঘটনার তদন্তে অগ্রগতি এনে র‌্যাবের এ অভিযান স্থানীয় মহলে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও ভয়াবহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা নিয়মিত অভিযানে কাজ করছে। বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের তৎপরতা জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। ওই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১১-এর যৌথ আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জালকুড়ি এলাকায় লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ইব্রাহিম তালুকদার পটুয়াখালী সদর উপজেলার তুষখালী এলাকার জালাল তালুকদারের ছেলে। দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থেকে এলাকা ছাড়লেও গোপন নজরদারির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা হয়। র‌্যাব জানায়, মোসারফ হত্যা মামলাটি শুরু থেকেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের সমন্বয়ে গ্রেফতারের এ সফলতা আসে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে মোসারফ হোসেন তার ঘরে অবস্থান করার সময় কয়েকজন দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে বাড়ির সিধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়িভাবে কোপাতে থাকে। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা এবং পরিবারের ওপর হামলাকারীদের নির্মমতা পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করেছিল।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ইব্রাহিম ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত ছিল এবং পরিকল্পনার নেপথ্যে কারা ছিল—তা উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ আরও জোরদার করা হবে।

গ্রেফতার ইব্রাহিমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের গ্রেফতারের অভিযানও চলমান রয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুনের মামলায় দুই ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ

যশোরের ঝিকরগাছায় চাচাতো ভাইকে হত্যার দায়ে আপন দু’ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জুয়েল অধিকারী এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের দু’ভাই ওসমান ও আলী হোসেন। তারা মৃত ছবেদ আলী সরদারের ছেলে।

রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ওসমানের স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে খালাস দেয়া হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি আজিজুল ইসলাম।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ছোট পোদাউলিয়া গ্রামের নুরুল হকের ছেলে কামরুল আমিনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই ওসমান ও আলী হোসেনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে জমিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে কামরুলের সঙ্গে ওসমান ও আলী হোসেনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওসমান ও আলী হোসেন ধারালো দা দিয়ে কামরুল আমিনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে কামরুলের বড় ভাইয়ের স্ত্রী আনোয়ারা, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী পারভীন ও ভাইপো আতাউর রহমানও জখম হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চারজনকেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কামরুল মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত কামরুলের বাবা রুহুল আমিন সরদার থানায় ওই তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ঝিকরগাছা থানার উপ-পরিদর্শক বনি ইসরাইল আদালতে চার্জশিট জমা দেন।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) উল্লিখিত দু’জনকে মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও দশ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

পিপি আজিজুল ইসলাম বলেন, সরকার পক্ষ রায়ে সন্তুষ্ট।

অন্যদিকে, আসামি পক্ষ ন্যায় বিচার পাননি দাবি করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।




‘বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক চাইলে, অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠাতে হবে’

বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রাখতে হলে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জুলাই গণহত্যাকারীদের বিচারের রায় কার্যকর এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জোটসঙ্গীদের বিচারের দাবিতে’ আয়োজিত গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গত ৫০ বছর ধরে ভারত বন্ধু রাষ্ট্রের নামে বাংলাদেশকে শোষণ করে গিয়েছে। তাদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তায় বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ চেপে বসেছিল। সেই ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে আবারও তাদের দেশে জায়গা দিয়ে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অব্যাহত রেখেছে। ভারত সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, বাংলাদেশের সাথে যদি সত্যিকার অর্থে সুসম্পর্ক চান, তাহলে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। আমরা আশা করবো, শেখ হাসিনাকে ফেরত দিয়ে বাংলাদেশের সাথে ভারত নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করবে।

তিনি আরও বলেন, আদালত শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলানোর রায় দিয়েছেন। আমরা ট্রাইব্যুনালের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু আজকে আমরা রাজপথে নেমেছি, এই রায় যেন অবিলম্বে দ্রুততার সাথে কার্যকর করা হয়। এই রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মজলুম জনতা ইনসাফ পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যত ধরনের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক তৎপরতা প্রয়োজন, এই অন্তর্বর্তী সরকার সেই তৎপরতা শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো নানা ধরনের তাৎপরতা শুরু করেছে উল্লেখ করে বলেন, আমরা আহ্বান জানাবো- বাংলাদেশের মানুষের সাথে প্রতারণা করে কেউ বিচারের ব্যাপারে আপস করবেন না। তাহলে বাংলাদেশের জনগণ আপনাদেরকে কোনোদিন ক্ষমা করবে না।

সমাবেশে সুস্পষ্ট তিনটি দাবির কথাও জানান এনসিপির আহ্বায়ক। সেগুলো হলো- শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত রায় কার্যকর করা, দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী দলগুলোকে বিচারের আওতায় আনা।

তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করছে। ঐকমত্য কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের সংলাপে জাতীয় পার্টি না থাকলেও নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণ একটি চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে, এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এনসিপি মাঠে থাকবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন নাহিদ।

অপরদিকে, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ বিগত দিনে পিলখানা, শাপলা ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে গণহত্যা চালিয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময় নির্বিচারে গুলি করে মানুষ মেরেছে। লাশ পুড়িয়ে ফেলেছে। আয়নাঘরে নির্যাতন করেছে। তাই তাদের বিচার করতে হবে। আমরা শেখ হাসিনার ফাঁসি কার্যকর দেখতে চাই।

এছাড়া, জাতীয় পার্টিকে দিয়ে কিছু আসন পাওয়ার চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদী শক্তি বলে মন্তব্য করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জানান, সিভিল সোসাইটির কিছু লোক আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও চৌদ্দ দল প্রসঙ্গে কথা বলছে। তারা মূলত ব্যাংক লুটেরা। এনসিপি থাকতে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।