আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন হাতে এসেছে: চিফ প্রসিকিউটর

সাভারের আশুলিয়ায় ছয়টি লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি হাতে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। রবিবার (২৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, “আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। এছাড়া আরও তিন থেকে চারটি মামলার তদন্তের ফিনিশিং টাচ চলছে। আশা করছি, ঈদের পর-পরই এসব রিপোর্ট আমাদের হাতে আসবে। রিপোর্ট আসলেই আমরা পর্যালোচনা করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করব। এরপর চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হবে।”
এছাড়া, লাশ পোড়ানোর ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যার পর, পুলিশ ভ্যানে রেখে তাদের মরদেহে আগুন দেয়া হয়েছিল। হত্যার শিকার এক ব্যক্তি তখন জীবিত ছিলেন, তাকে পেট্রল ঢেলে জীবন্ত অবস্থায় আগুন দেয়া হয়।”
এদিকে, এই ঘটনায় গত ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দুইটি অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে একটি মামলা চলমান রয়েছে। গত ২৪ ডিসেম্বর সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এই মামলায় সাইফুল ইসলাম পলাতক থাকলেও, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, তৎকালীন ওসি এ এফ এম সায়েদ, ডিবি পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক ও কনস্টেবল মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এই ঘটনার সূচনা হয়। শিক্ষার্থীরা চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করলে, তা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক বড় রূপ নেয়। এ আন্দোলনকে দমন করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠিত করা হয়।
এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলমান রয়েছে এবং বিচার কার্যক্রম শেষ হলে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








