মহিপুরে মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার পৌর গোঁজা এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন সুজন (৫০) নামে এক মোটরসাইকেল চালক। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোর ৫টার দিকে নিজ বাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সুজন কুয়াকাটায় পর্যটকদের পরিবহনের জন্য মোটরসাইকেল ভাড়া চালাতেন। প্রতিদিনের মতো তিনি গঙ্গামতিতে সূর্যোদয় দেখাতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হলে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে পর্যটকরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরিবারের লোকজন এসে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে দুপুর ১২টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এদিকে, হামলার কারণ ও দোষীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থল থেকে একটি জোড়া জুতা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মহিপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) অনিমেষ হালদার জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছে প্রসিকিউশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ; জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার মামলার খসড়া তদন্ত রিপোর্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে।

বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একাধিকবার অপরাধ প্রমাণে তথ্য প্রমাণ মিলেছে খসড়া তদন্ত রিপোর্টে। পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। চূড়ান্ত তালিকা পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তবে খসড়ার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফরমাল চার্জ গঠন প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

এদিকে, গত ২৭ মার্চ চিফ প্রসিকিউটর জানান, ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে পাঁচ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া প্রসিকিউশনের হাতে এসেছে। এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ঈদের পর ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

এর আগে গত ২ অক্টোবর বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুলে গণহত্যা ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের গুলিতে দশম শ্রেণির ছাত্র আনাস হত্যার ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের নামে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়।




পটুয়াখালীর কারাগারের ব্যারাকে কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ, তদন্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

পটুয়াখালী জেলা কারাগারের ব্যারাক থেকে শাজিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক কারারক্ষীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রোল কলের সময় শাজিদুল ইসলামকে না পাওয়ায় তার সহকর্মীরা খোঁজ শুরু করেন। পরে ব্যারাকে গিয়ে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। সন্দেহ হলে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে শাজিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সহকর্মীদের ধারণা, ঈদের ছুটির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় মানসিক চাপে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন, তা নিশ্চিত হতে তার সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।’

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি অবগত হয়েছি। তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় কারাগারের সহকর্মী, পরিবার এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্তের পরই তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

ট্যাগ: পটুয়াখালী, কারাগার, আত্মহত্যা, কারারক্ষী, আইনশৃঙ্খলা, তদন্ত, ঈদ ছুটি, বাংলাদেশ, Patuakhali, Jail, Investigation, News, Crime

আপনার নির্দেশনা অনুসারে কপিরাইট মুক্ত, আকর্ষণীয় শিরোনামসহ বিস্তারিত নিউজ প্রস্তুত করা হয়েছে। নিউজের শেষ অংশে আপনার দেওয়া তথ্য সংযোজন করা হয়েছে এবং সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বাংলা ও ইংরেজি ট্যাগ যুক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও পরিবর্তন চাইলে জানাতে পারেন।




মধ্যরাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত বেশ কয়েকজন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : খুলনায় সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় পুলিশ, নৌবাহিনীর সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) মধ্যরাতে নগরীর আরামবাগ এলাকার একটি বাড়ি ঘেরাও করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এসময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। যৌথ বাহিনীও গুলি করে। এ ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১১ জনকে আটক করেছে। এসময় ৫/৬টি পিস্তল ও বিপুল সংখ্যক গুলি জব্দ করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আজম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রথমে সংবাদ পাই সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থলে গোপন মিটিং করছে। পরে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের ঘেরাও করি। একইসঙ্গে যৌথ বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। যৌথ বাহিনীও এসে বাড়িটি ঘেরাও করে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ শুরু করে। সন্ত্রাসীরা কিছুক্ষণ পর পর গুলি করছিল। আমরাও গুলি করেছি। রাত ১২টার পর থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে আমাদের দুই পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন হয়েছেন, তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ১১ জন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদেরও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।




বাউফলে মারামারি মামলায় তরুণী সানজানা খান সিঁথি গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী জেলার বাউফলে একটি মারামারি মামলায় সানজানা খান সিঁথি (২৪) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৯ মার্চ) তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়। মামলার বাদি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক খলিলুর রহমান।

এটি একটি মারামারি মামলার ঘটনা হলেও সানজানা খান সিঁথি এজাহারভূক্ত আসামী না হলেও, অজ্ঞাত আসামী হিসেবে তাকে বাউফল থানার পুলিশ শুক্রবার বিকালে পৌর শহরের পাবলিক মাঠ সংলগ্ন তার বাবার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।

বাউফল থানার ওসি (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, সানজানা খান সিঁথিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে একটি মারামারি মামলায়। তিনি বাউফল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এবং তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগ করেন।

এছাড়া, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সিঁথি তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মানহানীকর পোস্ট দিয়ে আসছেন এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে চাঁদা না দেওয়ায় পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ

 টুয়াখালী জেলার বাউফলে চাঁদা না দেওয়ার কারণে এক পল্লীবিদ্যুৎ কর্মীকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাতে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের দেওপাশা গ্রামে। আহত ব্যক্তি হেলাল উদ্দিন হাওলাদার (৪৮), যিনি বরিশালের উজিরপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার হিসেবে কর্মরত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে দেওপাশা গ্রামের এনামুল গং হেলাল উদ্দিনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় এনামুল গংরা হেলাল উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি দোকানঘর ভাড়া দেয়া ব্যবসায়ী আনিস সিকদারকে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন।

ঘটনার রাতে হেলাল উদ্দিন তার বৃদ্ধ বাবা আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে চাচাতো ভাই মজনু হাওলাদারের বাসায় যাওয়ার সময় এনামুল গংরা আবারও চাঁদার টাকা দাবি করেন। এ সময় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে হেলাল উদ্দিনকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে হেলাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, “ঈদের বেতন-বোনাসের প্রায় আড়াই লাখ টাকা পকেটে ছিল, যা মারধর করে এনামুল গংরা ছিনিয়ে নিয়েছে।” তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনামুল হক বলেন, “আমার এবং হেলাল হাওলাদারের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জের ধরে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।”

বাউফল থানার ওসি কামাল হোসেন জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদ উপহার বিতরণ

পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে। জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলমের উদ্যোগে এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল কারাবন্দি জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়া।

এই উদ্যোগের আওতায়—
১৮০ জন পুরুষ বন্দিকে লুঙ্গি,
২৩ জন মহিলা বন্দিকে শাড়ি,
এক শিশুকে পোশাক দেওয়া হয়, যে তার মায়ের সঙ্গে কারাগারে অবস্থান করছে।
বিনোদনের জন্য বন্দিদের মাঝে একটি এলইডি টিভি সরবরাহ করা হয়।

জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন—
আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী।
যাদব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)।
মো. মেহেদী হাসান, প্রবেশন অফিসার।

তারা বন্দিদের মাঝে উপহার বিতরণ করেন ও তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

উপহার পেয়ে বন্দিরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত হয়েছেন। এক বন্দি বলেন—
“আমরা কখনো ভাবিনি, কারাগারের ভেতর থেকেও ঈদ উদযাপন করতে পারব।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন,
“এটি একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা বন্দিদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে।”

জেল সুপার মো. মাহবুবুল আলম বলেন,
“বন্দিরাও মানুষ, তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। এই উদ্যোগ তাদের সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”

সুশীল সমাজ মনে করে, এ ধরনের উদ্যোগ বন্দিদের মাঝে সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করবে ও তাদের মানসিকভাবে প্রফুল্ল রাখবে। এটি দেশের অন্যান্য কারাগারের জন্যও একটি অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

পটুয়াখালী জেলা কারাগারের এই ঈদ উপহার বিতরণ কার্যক্রম নিঃসন্দেহে দেশের কারাব্যবস্থার মানবিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে কলেজ শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলায় এক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

পটুয়াখালীর দুমকীতে কলেজ শিক্ষার্থীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় এক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিলুফার শীরিন এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুমকী থানার উপপরিদর্শক (তদন্ত) মো. রফিকুল ইসলাম গত ২২ মার্চ দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

আজ শুনানিতে অংশ নেন—

  • জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মজিবুর রহমান
  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. রুহুল আমিন সিকদার
  • রিমান্ড আবেদনের পক্ষে আরও ৮ জন আইনজীবী
  • আসামিদের পক্ষে আইনজীবী শামীম হোসেন জামিন আবেদন করেন

শুনানি শেষে আদালত ১৭ বছর বয়সী এক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

  • ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা ১৯ জুলাই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান
  • ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় বাবার কবর জিয়ারত করে ফেরার পথে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন শিক্ষার্থী
  • ধর্ষণের সময় নগ্ন ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়
  • ২০ মার্চ দুপুরে ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, যা সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে রুজু হয়।

গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পদক্ষেপ

  • ১৭ ও ১৯ বছর বয়সী দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
  • ২০ মার্চ প্রথম আসামি গ্রেপ্তার হলে বিক্ষোভ শুরু হয়।
  • ২১ মার্চ দ্বিতীয় আসামিকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
  • আসামিদের যশোর শিশু সংশোধনাগারে পাঠানো হয়

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি মো. রুহুল আমিন সিকদার রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে ডাকাত সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে গণপিটুনি, পরে মুক্তি

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে পাঁচ শ্রমিককে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ডাকাতির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় আজ বুধবার দুপুরে মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিলদি গ্রামের মো. ইয়াছিন মাঝি (৬৫) ও তার ছেলে আব্দুর রাজ্জাক মাঝি (৩০), একই উপজেলার বাংলাবাজার গ্রামের মো. রুবেল (২৯) ও মো. সিয়াম (২২) এবং দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর গ্রামের মো. রাকিব (১৯)।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নের কালিশুরী বন্দর এলাকায় স্থানীয়রা তাদের ডাকাত সন্দেহে আটক করে পিটুনি দেয়। এর আগে, পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সতর্ক অবস্থান নেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকরা পণ্য পরিবহনের কাজে একটি ট্রলারে করে ভোলা থেকে বাউফলের বগার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ডাকাতির গুজবে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা টর্চলাইট ও লাঠিসোঁটা হাতে রাস্তায় বের হয়ে আসেন। ট্রলারটি কালিশুরী এলাকায় পৌঁছালে “ডাকাত ডাকাত” বলে মাইকিং শুরু হয়। আতঙ্কে শ্রমিকরা ট্রলার নিয়ে স্থানীয় খালে আশ্রয় নেন। এতে সন্দেহ আরও বেড়ে যায় এবং তাদের ধরে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়।

বাউফলের মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী শংকর পাল বলেন, “ভোলার ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বাউফলের বগা ও কনকদিয়া থেকে মাটির পণ্য ক্রয় করেন। রাজ্জাক ও তার বাবা ইয়াছিন মাঝি বছরব্যাপী এই পণ্য সরবরাহের কাজ করেন। ঈদ ও তরমুজ মৌসুমে ব্যস্ততা থাকায় তারা রাতে বগায় পৌঁছাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটে।”

বাউফল থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, “আমরা তদন্ত করে নিশ্চিত হয়েছি, তারা সবাই শ্রমিক। তাই মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী শংকর পালের জিম্মায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সৌরভ বশার বুধবার (২৬ মার্চ) রাতে বাউফল থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ব্যবসায়ী সৌরভ বশার তাঁর পেট্রোলবাহী লরি (ঢাকা মেট্রো ঢ-৪২-০০২৫১) নিয়ে বাউফলের আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের সিদ্দিক বাজার এলাকায় পৌঁছান। এ সময় স্থানীয় খন্দকার এন্টারপ্রাইজের মালিক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক লিটন খন্দকার বাকিতে পেট্রোল চান। সৌরভ বশার তাতে অপারগতা প্রকাশ করলে ৫-৬ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি এসে বলেন, এলাকায় পেট্রোল বিক্রি করতে হলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে সৌরভ বশারের কাছ থেকে ৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ভর্তি একটি কালো ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাঁর লরিতে থাকা ৪০০ লিটারের দুই ব্যারেল পেট্রোল এবং ম্যাক্স-প্রো ব্র্যান্ডের ২৪টি মবিল জোরপূর্বক নামিয়ে রাখা হয়। বাধা দিতে গেলে সৌরভ বশারকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।

এসময় তাঁর সঙ্গে থাকা গাড়িচালক মো. নুর হোসেন (৩২) এবং সহকারী মো. জনি এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। পরে সৌরভ বশার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে লিটন খন্দকার বলেন, “আমি নিয়মিত সৌরভ বশারের কাছ থেকে পেট্রোল কিনি। ঘটনার দিনও দুই ব্যারেল পেট্রোল কিনেছি, তবে প্রতিটি ব্যারেলে ১২-১৪ লিটার করে কম ছিল। আমি এ নিয়ে আপত্তি জানালে সৌরভ বশার রেগে যান এবং আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তখন স্বেচ্ছাসেবক দলের ইউনিয়ন সভাপতি রিমন সিকদার এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে টাকা ছিনতাই বা পেট্রোল জোর করে নামিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এটি আমার সুনাম নষ্ট করার জন্য করা হয়েছে।”

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “সৌরভ বশার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম